in

সুপার হিউম্যান তৈরির অমানবিক এক্সপেরিমেন্ট

গত শতাব্দীতে জীববিজ্ঞান এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে যে পরিমাণ উন্নতি সাধিত হয়েছে তা বিগত কয়েক হাজার বছরের উন্নতি থেকেও বেশি। মানবসভ্যতাকে এখন রোগ-মহামারীর ভয়ে বিলীন হতে হয় হয় না। এমনকি এমন বিলীন হয়ে যাওয়া নিয়ে ভয়ও পেতে হয় না। বিজ্ঞান উন্নত হয়েছে, অবশ্যই এটা ভালো দিক।

তবে কখনো কখনো ভালোর মাঝেও খারাপ থাকে। চিকিৎসা ও জীববিজ্ঞানের প্রয়োজনে মানুষকে বহুবার বৈজ্ঞানিক এক্সপেরিমেন্টের গিনিপিগ হিসেবে করা হয়েছে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে অনেকবারই মানবিকতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে মানুষকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় অতিমানব বানানোর প্রচেষ্টা করা হয়েছে। অমানবিকভাবে করা এমন কিছু এক্সপেরিমেন্টের কথাই বলবো এখানে।

যুদ্ধবাজ জেনারেলদের সবসময় চাই নতুন নতুন অস্ত্র। যে অস্ত্র প্রতিপক্ষ থেকে নিজেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে। ১ম বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগ পর্যন্ত বিশ্ব অনেকগুলো যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছে। যতই দূরপাল্লার মিসাইল বা বিমান নির্মাণ করা হোক না কেন ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধের জন্য পদাতিক বাহিনী লাগবেই। যদি সৈন্যদের শারীরিকভাবে একটু উন্নত করা যায় তাহলে হয়তো যুদ্ধের অঙ্ক বদলে যাবে। আর এসব ভেবেই অতিমানব তৈরির প্রচেষ্টা চালানো হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বার্থে মানবদেহের উপর এক্সপেরিমেন্ট সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে। কিন্তু গত শতাব্দীতে মানুষকে গিনিপিগ বানিয়ে পরীক্ষা চালানোর উদাহারণ অনেক বেশি। বেশিরভাগ মানুষই জানতো না তাদের উপর কী পরীক্ষা চালানো হবে। এদের মধ্যে কেউ কেউ জানলেও তাদের অধিকার বলে কিছু ছিল না। কারণ তারা ছিল প্রতিপক্ষ শিবিরে আবদ্ধ যুদ্ধবন্দী।

নাৎসি জার্মানদের এক্সপেরিমেন্ট

১৯৪১ সালে জার্মানরা হাইপোথার্মিয়া প্রতিরোধ নিয়ে কয়েকটি এক্সপেরিমেন্ট করে। হাইপোথার্মিয়ার ফলে দেহে কোন ধরনের পরিবর্তন সম্পন্ন হয় তা বুঝতে বন্দীদেরকে হিমাংকের নীচে ৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখা হতো। এই পরীক্ষায় প্রায় সবাই মারা যায়।

১৯৪২ – ১৯৪৫ সালের সময়কালে আরো একটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। দাচু কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে ১২ শত বন্দীকে ম্যালেরিয়ার দ্বারা সংক্রমিত করা হয়। তাদের তৈরিকৃত ওষুধ কেমন কার্যকর তা জানতেই পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছিল ম্যালেরিয়ার জীবাণু। এক্ষেত্রেও প্রায় অর্ধেক বন্দী মারা যায়।

ড. জোসেফ মেঙ্গেল নামে একজন গবেষক জেনেটিক যমজদের মধ্যে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য খুঁজতে একটি এক্সপেরিমেন্ট করেন। চোখে রঙ প্রবেশ করানো, দুজন আলাদা যমজ দিয়ে যুক্ত যমজ তৈরি ইত্যাদি। যমজদের উপর এক্সপেরিমেন্ট শেষে সরাসরি হৃদপিণ্ডে ক্লোরোফর্ম প্রবেশ করিয়ে হত্যা করা হতো।

আরেক গবেষক ড. কার্ল কুবার্কের নেতৃত্বে ৩০০ জন নারী বন্দীর দেহে কৃত্তিমভাবে অজ্ঞাত শুক্রাণু প্রবেশ করানো হয়। এই পরীক্ষায় নারীদেরকে জানানো হতো তাদের গর্ভে পশু বেড়ে উঠছে। এই প্রজেক্ট সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। তবে পরে তাদেরকে যে হত্যা করা হতো তা জানা যায়।

চিত্রঃ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে জার্মানদের এক্সপেরিমেন্ট।


ইউনিট ৭৩১ রাভেনবার্ক কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে হাড়, স্নায়ু, পেশী ইত্যাদি পুনরুৎপাদন এবং প্রতিস্থাপন করার উদ্দেশ্যে বন্দীদের শরীর থেকে এই অঙ্গগুলো আলাদা করা হতো। আর এই কাজ করা হতো কোনো ব্যথানাশক ছাড়াই। এই পরীক্ষার কোনো ব্যক্তি সুস্থ তো হতে পারেইনি বরং বেশিরভাগই মারা যায়। এছাড়া নাৎসিরা মানব চর্বি থেকে সাবান তৈরির চেষ্টাও করেছিল।

এটি জাপানিদের কেমিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল অস্ত্র নিয়ে গবেষণার প্রজেক্ট। জাপানের হারবিন শহরে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত এটি চলে। সেখানে বন্দী হওয়া রুশ ও চাইনিজরা ছিল এখানকার সাবজেক্ট।

জীবিত ও সম্পূর্ণ জাগ্রত অবস্থায় বন্দীর শরীর থেকে মস্তিষ্ক, চোখ, যকৃত, কিডনি খুলে নেয়া হতো। এসব কাজে নেতৃত্ব দিতো জাপানি সার্জন কিন ইয়ুশা। তার ধারণা ছিল শতভাগ অক্ষত ও কার্যকর অঙ্গ পেতে হলে জীবিত শরীর থেকে অঙ্গ খুলে নিতে হবে।

ভ্যাকসিন পরীক্ষা করার জন্য বন্দীদের শরীরে রোগ প্রবেশ করানো ছিল ইউনিট ৭৩১ এর একটি রুটিনবদ্ধ কাজ। প্লেগ, এনথ্রাক্স, কলেরা ইত্যাদির জীবাণুবাহী বোমা ফেলে ৪ লক্ষ চাইনিজকে হত্যার অভিযোগ আছে ইউনিট ৭৩১ এর বিরুদ্ধে। বিপজ্জনক জীবাণু অস্ত্র নিয়ে কাজ করার সময় ১ হাজার ৭০০ জন জাপানির মৃত্যুও হয়। Unit 731 Laboratory Of The Devil নামে একটি সিনেমা আছে। সেখানে ইউনিট ৭৩১ এর ভয়াবহতা ও নির্মমতা তুলে ধরা হয়েছে।

চিত্রঃ অজ্ঞাত ক্যাম্পে জাপানিদের এক্সপেরিমেন্ট। পেছনে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ পর্যবেক্ষণ করছেন।

প্রজেক্ট এম কে আলট্রা

নাৎসিদের কাছ থেকে জব্দ করা নথির উপর ভিত্তি করে ১৯৫০ সালে প্রজেক্ট এম কে আলট্রা শুরু হয় এবং ১৯৬০ পর্যন্ত এটি চলে। উত্তর কোরিয়াতে বন্দী মার্কিন সৈন্যদের উপর সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চীনের চালানো এক্সপেরিমেন্ট সিআইএকে উদ্বুদ্ধ করে। মানবতার বিরুদ্ধে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করার আরেকটি জ্বলন্ত উদাহরণ এই প্রজেক্ট। প্রজেক্টের উদ্দেশ্য ছিল হিপনোসিস ও মন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাপক পরিসরে পরীক্ষা করা। এমন গুপ্তচর তৈরি করা যারা নিজেরাও জানে না যে তারা আসলে গুপ্তচর।

এম কে আলট্রার আরেকটি সফল অধ্যায় ছিল ‘ট্রুথ সিরাম’ তৈরি করা। ট্রুথ সিরাম কেন্দ্রীয় স্নায়ুকে দুর্বল করে দেয় এবং মস্তিষ্ক তার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। ফলে অনেকটা নিজের অজান্তেই জেরার সময় সত্য বলতে বাধ্য হয়।

চিত্রঃ ট্রুথ সিরামের উপাদান অ্যামোবারবিটাল।

এম কে আলট্রা সমালোচিত হবার কারণ হলো কর্তৃপক্ষরা পরীক্ষাধীন ব্যক্তির উপর এল.এস.ডি ড্রাগ ব্যবহার করে। এল.এস.ডি স্নায়ুতে ক্ষণিক সময়ের জন্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতো। ব্যক্তির অজান্তেই এগুলো প্রয়োগ করা হতো। এল.এস.ডি ছাড়াও বারবিচুরেট-৪, আমফেটামিন-৪, টেমাজিপাম (অজ্ঞাত ড্রাগ) ব্যবহার করা হতো। বারবিচুরেট-৪ দিয়ে ঘুম পাড়ানোর পরে আমফেটামিন-৪ প্রয়োগ করা হতো বলে পরীক্ষাধীন ব্যক্তি তন্দ্রাভাবে নিজের অবচেতন মনে সব নির্দেশ গ্রহণ করতো।

ডিসকভারি চ্যানেলে প্রচারিত Deception with Keith Barry অনুষ্ঠানটি যারা দেখেছেন তারা নিশ্চয় হিপনোসিস সম্বন্ধে ধারণা রাখেন। এর একটি পর্বে দেখানো হয় ঘুম থেকে উঠার পর একজন মানুষ মনে করতে পারে না যে সে ঘুমের মাঝে উঠে চুরি করতে গিয়েছিল। ইউটিউবে সার্চ করলেও এ নিয়ে অনেক ভিডিও পাবেন যেখানে লাইভ শোতে হিপনোসিস করা হয়।

জেসন বর্ন মুভিতে দেখা যায় একজন স্মৃতিভ্রষ্ট সিআইএ এজেন্ট তার পূর্বপরিচয় সম্পূর্ণ ভুলে হত্যার মিশনে নিয়োজিত হয়। বাস্তবেও হয়তো এমনটা সম্ভব করে ফেলেছিল সিআইএ।

চিত্রঃ মিডিয়াতে এমকে আলট্রা সংক্রান্ত খবর।

গর্ভবতী নারীর উপর তেজস্ক্রিয় পরীক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যানডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮২৯ জন গর্ভবতী মহিলাকে শিশুর বিকাশ বৃদ্ধির ভিটামিন-পানীয় বলে তেজস্ক্রিয় পানীয় খাওয়ানো হয়। ডিম্বকবাহী গর্ভফুলে কত তাড়াতাড়ি তেজস্ক্রিয়তা প্রভাব ফেলে এটা পর্যবেক্ষণ করা ছিল এর উদ্দেশ্য। লিউকোমিয়া এবং ক্যানসারে ৭ টি শিশু নিশ্চিতভাবে মারা যায়। বেঁচে থাকা শিশু ও মা উভয়কেই অনেক রোগের শিকার হতে হয় পরবর্তী জীবনে। প্রতিপক্ষের ভবিষ্যৎ শিশুদের পঙ্গু করা যায় কিনা এরকম ভাবনা থেকেই এই এক্সপেরিমেন্ট করা হয়।

চিত্রঃ তেজস্ক্রিয়তা প্রদান করা হচ্ছে।

গুয়েতমালা সিফিলিস পরীক্ষা

১৯৪৬ – ৪৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়েতেমালা সরকারের সম্মতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে জেলখানার বন্দী, সৈন্য, পতিতা এবং মানসিক রোগীদের মধ্যে সিফিলিস ছড়ানো হয়। শুধুমাত্র অ্যান্টিবায়েটিক দিয়ে তাদের চিকিৎসা করা হয় এবং অফিশিয়ালি ৩০ জনের মৃত্যু হয়। ধারণা করা হয় প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি।

অতিমানব তৈরির উচ্চাভিলাস

ফিকশন বা ভিডিও গেমে অহরহ দেখা যায় এমন সুপারহিউম্যান যে একাই হাজার জনের কাজ করতে পারে। সামরিক দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা এমন সৈন্য তৈরি করা যারা অন্তত ১২০ ঘণ্টা নির্ঘুম থাকতে পারবে, নিজের ভরের চেয়ে বেশি ভর বহন করে অলিম্পিক অ্যাথলেটদের সমান গতিতে দৌড়াতে পারবে, অনেকদিন খাবার গ্রহণ না করে সঞ্চিত ফ্যাট থেকে শক্তি নিতে পারবে এবং আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেহের প্রত্যঙ্গ নিজেই পুনরুৎপাদন করতে পারবে।

অতিমানব বা সুপার-হিউম্যান তৈরি কল্পকাহিনীতে যতটা সহজ বাস্তবে ঠিক ততটাই কঠিন। অন্তত আগামী ১০০ বছরের জন্য তা আকাশ কুসুম কল্পনা। যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্যে মানব জিন মডিফায়িং গবেষণা নিষিদ্ধ। কিন্তু ডিফেন্স এডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি (DARPA) সুপার-সোলজার বা অতি ক্ষমতাধর সৈনিক তৈরির কাজ করে যাচ্ছে।

এই প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু যান্ত্রিক কংকালতন্ত্রের সফল পরীক্ষা করেছে যা এখনই যুদ্ধে ব্যবহার উপযোগী। যান্ত্রিক কংকালতন্ত্র এমন একটি কাঠামো যা মানবদেহের হাড়ের সমান্তরালে থেকে বাড়তি শক্তি যোগাবে।

পক্ষাঘাতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য অ্যালুমিনিয়াম আর কার্বন ফাইবারের মিশ্রণে তৈরি যান্ত্রিক কংকালতন্ত্র বাজারে এসেছে। মানবদেহের জন্য কৃত্তিম হাত-পা অনেক আগেই তৈরি হয়েছে। এখন এগুলোর মাঝে মস্তিষ্ক থেকে ডিজিটাল সিগন্যাল গ্রহণ করে মস্তিষ্কের নির্দেশমতো চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি আসতেও সম্ভবত খুব দেরি নেই।

২০১৫ সালে ব্রিটিশ গবেষকরা আশা প্রকাশ করেন আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে তারা মানুষের জিন মডিফাই করে গর্ভাবস্থায় অন্ধত্ব প্রতিরোধ করতে পারবেন। ২০১৬ তে চাইনিজ গবেষকরা ২১৩ টি নিষিক্ত মানব ডিম্বাণুর সাথে জিনোমের মডিফাই করতে পেরেছেন যা এইচ.আই.ভির সাথে লড়াই করতে সক্ষম। গবেষক স্টিভ শু এর মতে জেনেটিক্যালি মডিফাই করা অতিমানবের আইকিউ লেভেল ১০০০ বা তার বেশিও হতে পারে। উল্লেখ্য আইনস্টাইনের আইকিউ স্কোর ছিল ১৬০।

বর্তমানে অহরহ দেখা যাচ্ছে শস্যের জিন মডিফাই করে তাদের আরো বেশি উৎপাদনশীল করা হচ্ছে এবং পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে দ্রুত খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষের সাথে তাহলে এমন করতে সমস্যাটা কোথায়?

একটি শস্যের প্রজাতিকে নতুনভাবে মডিফাই করতে ঐ প্রজাতির হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে পরীক্ষা করা হয় কিন্তু আমরা কি মানুষকেও এভাবে পরীক্ষা করবো? ধরা যাক কৃত্রিম জরায়ু এবং সেখানে স্থাপন করা ভ্রূণে পুষ্টি প্রদানের প্রযুক্তি রপ্ত করা হয়ে গেছে। একটি মানুষকে এভাবে জন্ম দিলে তার পরিচয় কী হবে বা পরীক্ষার পর তাদের কী করা হবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নেই।

The Island সিনেমায় দেখা যায় পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের ক্লোন করা হয়েছে একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে। জেনেটিকভাবে তাদের এতই মডিফাই করা হয়েছে যে তারা শুধু খাওয়া ঘুম এবং কতৃপক্ষের বলা একটি তথাকথিত দ্বীপে যাওয়ার জন্য বেঁচে থাকে। In Time সিনেমায় দেখা যায় জেনেটিকালি মডিফাই করে মানুষের আয়ু ২৫ বছর করা হয়েছে।

আরেকটি বড় সমস্যা থেকে যায়। যদি কোনোভাবে মাতৃহীন মডিফাই করা মানুষ বানানো সম্ভব হয়, তাহলে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য তাকে কয়েক প্রজন্ম অপেক্ষা করতে হবে। তখন হয়তো The Island সিনেমার কাহিনীর মতো একেকটি প্রজন্মকে মাটি চাপা দিতে হবে আর সেই সাথে মানবিকতাকেও।

বর্তমানে রপ্ত করা জেনেটিক্স, বায়োকেমিস্ট্রি, ন্যানোটেকনোলজি দিয়ে মানুষের বেশ কিছু

রোগ নির্মূল, শারীরিক অক্ষমতা দূর, অঙ্গ পুনঃনির্মাণ সম্ভব হবে। তবে জেনেটিক্যালি মডিফাই করা অতিমানব এখনো কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু প্রচেষ্টা থেমে থাকবে না এবং আগের প্রজেক্টগুলোর মতো অসংখ্য নিরীহ মানুষকে সবার অগোচরে শিকার হতে হবে এটা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায়। বিজ্ঞানের উন্নতি অবশ্যই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিৎ কিন্তু ল্যাবরেটরির বাইরে সমস্ত মনুষ্যত্বকে বলিদান করে নয়।

তথ্যসূত্রঃ

  1. Doctors from Hell by vivien spitz
  2. Nuremberg: Evil on Trial
  3. Unit731: Japan’s Secret Biological Warfare in WWII
  4. MKULTRA: the CIA’s Secret Program in Human Experimentation and behavior Modification by GEORGE ENDREWS
  5. http://creepypasta.wikia.com/wiki/The_Russian_Sleep_Experiment
  6. https://en.wikipedia.org/wiki/Project_MKUltra
  7. http://bestpsychologydegrees.com/30-most-disturbing-human-experiments-in-history/
  8. http://theatlantic.com/international/archive/2015/09/military-technology-pentagon-robots/406786/
  9. http://sciencealert.com/scientists-genetically-modify-an-embryo-for-only-the-second-time-ever

featured image: collective-evolution.com

পৃথিবীর কেন্দ্রে বৃহদায়তন ধাতব বস্তু

কীভাবে এলো পেট্রোলিয়াম জেলী?