চাঁদের যত নাম

রাতের আকাশে তাকালে আমরা বেশীরভাগ সময় একটি বস্তু কে দেখতে পাই। আর তা হল হল চাঁদ। ব্ল্যাক মুন, ব্লু মুন, ব্লাড মুন, সুপারমুন- এরকম অনেক চাঁদের নাম আমরা শুনে থাকি বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু এই নামকরণের কারণ কি? এদের মধ্যে পার্থক্য কি? চলুন জেনে নেওয়া যাক। তার আগে আমাদের একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চাঁদের এই নামকরণ এর ক্ষেত্রে বিশাল কোনো মহাকাশীয় তাৎপর্য নেই। বরং এই নামকরণ এর পিছনে অবদান রয়েছে চাঁদের অবস্থান এবং গেগ্রিয়ান  ক্যালেন্ডারের।

ব্ল্যাক মুন

ব্ল্যাক মুন একাধিক অর্থ বহন করে। সাধারণত মাসের ২য় নতুন চাঁদ কে ব্ল্যাক মুন বলা হয়। চাঁদ বেশ কিছু ধাপের মধ্যে দিয়ে একটি পূর্ণ চন্দ্র কলা সম্পন্ন করে এবং পূর্ণিমাতে চাঁদের পুরো গোলক দৃশ্যমান হয়। নতুন চাঁদের শুরুতে চাঁদের এই গোলকের কোনো অংশই দেখা যায় না, কারণ সূর্যের আলো চাঁদের দূরবর্তী অংশে পড়ে এবং ফলাফল হিসাবে চাঁদের অন্ধকার অংশ পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকে। তিনি আরো বলেন, যদি কোন মাসে নতুন কোন চাঁদ দেখা না দেয় তাহলে সেটাকেও ব্ল্যাক মুন বলা যায়। কার্‌ চন্দ্র কলা ২৯.৫ দিনের, আর এই ক্ষেত্রে কোন সময় সম্ভবনা থাকে যে ফেব্রুয়ারি মাসে কোন নতুন চাঁদ বা পূর্নিমা দেখা যাবে না। অনেক বিজ্ঞানী আবার অমাবস্যাকেই ব্ল্যাক মুন বলে থাকেন।

ব্ল্যাক মুন; image source: blogs.discovermagazine

 

ব্লু মুন

ব্লু মুন এর নাম দেখে বিভ্রান্ত হয়ে মনে করবেন না যে চাঁদের রঙ নীল হয়ে যায়। বরং একমাসে যদি দুইবার পূর্ন চাঁদ বা পুর্নিমা হয় তবে দ্বিতীয় বার যেই পুর্নিমা হয় তাকেই বলা হয় ব্লু মুন। ব্লু মুন কিন্তু দেখতে একটু বড়ও লাগে।  সাধারণত বছরে ১২ টি পুর্নিমা হয়। তবে এমনও হয় যে কোন মাসে তিনটি পুর্নিমা হয়। এটি গড়ে প্রায় ২.৭ বছর পর পর হয়। গত ২১শে মে ২০১৬ এবং ৩১ শে জানুয়ারি ২০১৮ তে ব্লু মুন হয়েছিল। পরবর্তী ব্লু মন দেখা যাবে ২০১৮ সালে ৩১ শে মার্চে।

ব্লু মুন; image source: hellogiggles.com

 

ব্লাড মুন

ব্লাড মুন দেখা যায় পূর্ন চন্দ্রগ্রহণের সময়। চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মধ্যে চলে আসে। ফলে চাঁদে সূর্যের আলো যেতে পারে না। কিন্তু আলো একেবারে পৌঁছায় না এমনাটাও কিন্তু হয় না। কিছু আলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের ধার ঘেঁষে চাঁদে যেয়ে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমন্ডল ঘেঁষে আলো যাওয়ার সময় পৃথিবী নীল বর্ণ জাতীয় রঙ বেশীরভাগ শোষণ করে নেয়। অবশিষ্ট থাকে কমলা, এবং লালচে আলো।  এই আলোই চাঁদে পৌছানোর পর চাঁদ লাল বর্ণ ধারণ করে। ফলে চাঁদ কিছুটা লাল দেখায়। রেড মুন নিয়ে আছে দেশে দেশে কুসংস্কার। অনেক মনে করেন রেড মুন হচ্ছে পৃথিবী ধ্বংসের সংকেত। আবার অনেকের কাছে রেড মুন মানেই অশুভ শক্তির উদয়। কিছু কিছু হলিউড মুভিতে কাল্পনিক প্রানী ওয়ারউলফ এর জন্য এই ব্লাড মুনকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখানো হয়। যদিও বিজ্ঞান কখনোই এইসব কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না, কিন্তু তবুও মানুষের মধ্যে এগুলো যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।

ব্লাড মুন; image source: nasa.gov

 

সুপারমুন

চাঁদ যখন পৃথিবীর খুব কাছাকাছি চলে আসে এবং সেই অবস্থায় পুর্নিমা হয় তখন তাকে বলা হয় সুপারমুন। সাধারণ মানুষের চোখে একটু বড় লাগে বলেই এই নামকরণ করা হয়েছে। পৃথিবী থেকে চাঁদের  গড় দূরত্ব ৩,৮৫,০০০ কিলমিটার। কিন্তু সুপারমুনের সময় তা ৫০,২০০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসে।

সুপারমুন এবং মাইক্রোমুন এর মধ্যে পার্থক্য; image source: moon.nasa.gov

মাইক্রোমুন

মাইক্রোমুন হচ্ছে সুপারমুন এর ঠিক উল্টো। সুপারমুন এর সময় চাঁদ যেমন পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি চলে আসে, তেমনি মাইক্রোমুন এর সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে সবচাইতে দূরে অবস্থান করে। গড় দূরত্ব ৩,৮৫,০০০ কিলোমিটার হলেও মাইক্রোমুন এর সময় তা বেড়ে ৪০৫,৬৯৬ কিলোমিটারে তা পৌঁছায়। ফলে চাঁদ স্বাভাবিক এর চাইতে একটু ছোটো লাগে দেখেতে। যদিও মাইক্রোমুন খালি চোখে অতটা বোঝা যায় না।

গত ৩১ শে জানুয়ারি ২০১৮ তে তিনটি মহাজাগতিক ঘটনা একই সাথে ঘটে। পূর্ন চন্দ্রগ্রহন, ব্লাড মুন এবং ব্লু মুন। এরকম মহাজাগতিক ঘটনা সচরাচর ঘটে না। অনুরুপ মহাজগতিক ঘটনা এর পূর্বে প্রায় ১৫০ বছর আগে হয়েছিল। তাই এবার যারা এটি দেখতে পারেননি তাদের জন্য ব্যাপারটি না দেখা হতাশারই বটে।

featured image: pbs.org

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *