ঝাঁপ দিন (ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি) ব্ল্যাকহোলে

ব্ল্যাকহোল। মহাজাগতিক এক অন্ধকার দৈত্য। ব্ল্যাকহোলগুলো তৈরি হয় যখন অনেক ভরশালী কোনো তারকা তার সব জ্বালানী নিঃশেষ করে ফেলে এবং তার সব ভর একটা বিন্দুতে এসে সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। ব্ল্যাকহোল এমন এক মহাজাগতিক বস্তু যা তার আশেপাশের সবকিছুকে গিলে নেয়। এমনকি আলোকেও। আর এ কারণেই ব্ল্যাকহোল অদৃশ্য এক অন্ধকার জগৎ এবং এর ভেতরে কী আছে তা আমরা শুধু কল্পনায় করতে পারি।

কয়েক বছর আগে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আবিষ্কার করা লাইগোর বিজ্ঞানীরা খুব সম্প্রতি জানতে পেরেছেন যে, আমাদের মহাবিশ্বের ব্ল্যাকহোলগুলো আমাদের আগের ধারণার চেয়েও বেশি ভরসম্পন্ন এবং মহাবিশ্বে এদের সংখ্যাও আমাদের আগের ধারণার চেয়ে অনেক অনেক বেশি।

শিল্প এবং বিজ্ঞানের মিশেলে ব্ল্যাক হোলের একটি চিত্র; image source: resources.perimeterinstitute.ca

তবে আমরা কিন্তু এই রহস্যময় ব্ল্যাক হোলের ভেতরে কী আছে তা এখনো ঠিকমতো জানি না। এর কারণ ব্ল্যাকহোলের ধারণা মূলত আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বের উপর দাঁড়িয়ে আছে। আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব বলে মহাকর্ষ স্থান-কালের বক্রতার ফসল। আর সত্যিকার অর্থেই ব্ল্যাকহোলের ভেতরেও স্থান-কাল খুব মসৃণভাবে বেঁকে গেছে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে ব্ল্যাকহোলের কেন্দ্রে (সিঙ্গুলারিটিতে)।

যে তত্ত্বের উপর ভর করে এই ব্ল্যাকহোলের ধারণার জন্ম সেই ব্ল্যাকহোলের কেন্দ্রেই আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব ভেঙ্গে পড়ে। তার এই তত্ত্ব ব্ল্যাকহোলের কেন্দ্রে একদমই কাজ করে না। এটা এমন এক বিন্দু যেখানে কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব দুটোর একটা সন্নিবেশ ঘটাতে হবে। এই সন্নিবেশ ঘটানোর কাজটি এখনো পদার্থবিদদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এই বিন্দুতে কী ঘটে তা জানতে পারলে মহাকর্ষের কোয়ান্টাম প্রকৃতি সম্বন্ধে আমরা জানতে পারব।

ব্ল্যাকহোলকে আরো ভালোভাবে সাধারণ মানুষদের বোঝানোর জন্য, অনুভব করানোর জন্য এবং আরো ভালোভাবে এর চিত্রটা ফুটিয়ে তোলার জন্য খুব সম্প্রতি ব্যান্ডউইথ প্রোডাকশান নামের একটি কোম্পানি কোয়ান্টা ম্যাগাজিনের সাথে মিলিতভাবে এক জোড়া ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষের এক নিখুঁত সিমুলেশান তৈরি করেছে। এ সিমুলেশানে আপনি বিজ্ঞানী হিসেবে একটা আকাশযানে করে ব্ল্যাকহোলের ভেতর থেকে ঘুরে আসতে পারবেন। সংঘর্ষের পরে আকাশযানটি দুটো ব্ল্যাকহোলের মিলিত হওয়ার ফলে সৃষ্টি হওয়া ব্ল্যাকহোলের ভেতরে প্রবেশ করে।

পদার্থবিদ অ্যান্থনি অ্যাগুইরে এবং ডানকান ব্রাউন সিমুলেশানের মাধ্যমে এই ব্ল্যাকহোলটির ভেতরের পরিবেশ সৃষ্টিতে সাহায্য করেছেন। পদার্থবিদ অ্যান্ড্রু হ্যামিলটনের মতে এটিই এ যাবৎকালের সকল ব্ল্যাকহোল সিমুলেশানের মাঝে সবচেয়ে সঠিক চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। এই ভ্রমণে অংশ নেয়ার জন্য আপনাকে আইওএস অ্যাাপ স্টোর বা, গুগল প্লে স্টোর থেকে “ব্ল্যাক হোল ভিআর” অ্যাপটি আপনার ফোনে ডাউনলোড করতে হবে। ডাউনলোড হয়ে গেলে এবার অ্যাপটি ওপেন করুন, আপনার মোবাইলটি ভিআর হেডসেটে ঢোকান আর প্লে বাটনটি চাপুন। এবার ঝাঁপ দিন ব্ল্যাকহোলের রাজ্যে, ঘুরে আসুন ব্ল্যাক হোলের ভেতর থেকে। শুভ কামনা।

ফিচারড ইমেজঃ  quantamagazine.org

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *