আপেল খাচ্ছেন নাকি এর উপর দেয়া মোম খাচ্ছেন?

কখনো লক্ষ্য করেছেন কিনা ফলের দোকানে একটু আলোতে আপেলগুলো যেন চকচক করছে বলে মনে হয়। কিংবা কাপড়ে হালকাভাবে আপেল ঘষে দেখলে তা আরো চকচক করে দেখতে। তাহলে আপেলের ভেতরে কি এমন কোনো পদার্থ লুকিয়ে আছে যা চকচক করার জন্য দায়ী কিংবা আপেলকে খাওয়ার জন্য আমাদের আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দেয়?

আসলে পদার্থটি আপেলের ভেতরে নয় বরং আপেলের বাইরে অবস্থান করে। শুধু আপেলই নয়, আরো অনেক ধরনের শাক সবজিতেও এই পদার্থটি উপস্থিত থাকে। যেমন শসা, তাল ইত্যাদি। পদার্থটি হচ্ছে মোম! প্রাকৃতিকভাবেই আপেল সহ বেশ কিছু সবজি মোম উৎপন্ন করে থাকে। বাইরের আর্দ্র আবহাওয়া থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য এর প্রয়োজন। এছাড়া এদের ত্বকে ছত্রাকের উপস্থিতিও থাকে একই কারণে। মোমের উপস্থিতি না থাকলে পানি ধরে না রাখতে পেরে আপেল শুকিয়ে যেত।

বাংলাদেশে আপেল উৎপাদিত হয় না। দূর দূরান্তের দেশ থেকে এদেশে আপেল আসে। দূর থেকে এখানে আপেল আসতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। ভ্রমণপথে আপেলগুলো এত দিন যাবৎ টিকে থাকে কীভাবে? ফরমালিন ব্যবহারের কথা নিশ্চয় মাথায় আসছে? আমাদের দেশে না হয় ফরমালিনের যাচ্ছেতাই ব্যবহার হয় কিন্তু অন্যান্য ফরমালিনের এমন অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সম্ভব নয়। তাহলে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে তারা আপেলকে কয়েক মাসব্যাপী এমনকি বছর ব্যাপীও সংরক্ষণ করে?

আপেলের ত্বকে প্রাকৃতিকভাবেই মোম উৎপন্ন হয়। আপেল উৎপাদনে পর তা সংগ্রহ করে ধুয়ে রাখা হয়, যেন এর গায়ে লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। তখন আপেলের গায়ে যে প্রাকৃতিক মোম ছিল তার উপস্থিতি অনেকংশে কমে যায়।

এর জন্য কৃত্রিমভাবে মৌমাছি, এমনকি গুবরে পোকা থেকে প্রাপ্ত মোম আবার অনেক সময় পেট্রোলিয়াম জাতীয় মোম আপেলের আস্তরণ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। এতে করে আপেল যেমন দেখতে আরো আকর্ষণীয় ঠেকে ক্রেতার নিকট, ঠিক তেমনি পচন হতেও রক্ষা পায়। কেননা ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীবের বংশবিস্তারের উত্তম মাধ্যম হচ্ছে ভেজা বা স্যাঁতস্যাঁতে স্থান। মোম দিয়ে আপেলকে আবৃত করে রাখলে আপেল বাইরের দিক দিয়ে আর্দ্র অবস্থা থেকে তথা বিভিন্ন অণুজীবের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়।

মজার ব্যাপার হলো আপেলের উপর মোমের এমন প্রলেপ দেবার পদ্ধতি বেশ পুরনো। সেই ১৯২০ সাল হতে প্রচলিত এ প্রক্রিয়া। ১ কেজি মোম দিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার আপেলেকে মোমের কোট পরানো সম্ভব। US Food And Administration-এ মোমকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বীকৃতি দেবার পরেও প্রশ্ন থেকেই যায়।

আপেল + মোম খাওয়া কতটুকু স্বাস্থ্যকর?

স্বাস্থ্যবিদদের মতে, মোম খাওয়া স্বাস্থ্য জন্য অবশ্যই সম্মত নয়। এর প্রতিকারের জন্য আপেলকে পানি বা ভিনেগার দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নতুবা ছিলে খাওয়া উচিত। তবে আপেলের ত্বকের ঠিক নিচেই অনেক প্রয়োজনীয় ভিটামিন থাকে। তাই ভালো হয় যদি কেবল আপেলের পাতলা ত্বকটুকুই সাবধানে চিরে ফেলে দেয়া যায়।

তথ্যসূত্র

http://www.whfoods.com

http://www.ndtv.com

featured image: stepbystep.com

শরতের পাতার রঙের রসায়ন

শরতের আগমনের সাথে সাথেই গাছের পাতার রঙের মধ্যে বিচিত্রতা দেখা যায়। এ বিচিত্রতা যদিও আমাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে চোখে পড়ে, কিন্তু এর মধ্যে যে রসায়নের খেলা চলে তা নিয়ে আমরা হয়তো খুব কমই মাথা ঘামাই।

পাতায় বিভিন্ন রঙ প্রদানকারী যৌগ সম্পর্কে জানার আগে করার আগে প্রাথমিক অবস্থায় এদের উৎপত্তি বিষয়ে জেনে নেই। এ উদ্দেশ্যে যে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বন্ধনের উদ্ভব ঘটে। শরতের পাতার রঙ পরিবর্তনের পিছনে একক ও দ্বি-বন্ধনের মিশ্রিণ এবং কনজুগেশন বন্ধনেরও ভূমিকা আছে। কজুগেশন বন্ধনের কারণে পাতায় বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘের দৃশ্যমান আলো শোষিত হতে পারে। চোখে আপতিত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ভিন্নতার কারণে পাতার রঙেও ভিন্নতা দেখা যায়।

ক্লোরোফিল

পাতার সবুজ রঙের জন্য দায়ী ক্লোরোফিল নামের উপাদানটি। পাতার কোষের ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরে থাকে এ ক্লোরোফিল, যা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। ক্লোরোফিল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন উষ্ণ তাপমাত্রা এবং সূর্যালোক।

গ্রীষ্ম শেষ হবার সাথে সাথে যেহেতু উষ্ণতা ও সূর্যালোক উভয়ই প্রতিকূলে যেতে থাকে তাই তখন ক্লোরোফিল উৎপাদনের হারও কমতে থাকে। অন্যদিকে পাতার মাঝে সঞ্চিত ক্লোরোফিল বিয়োজিত হতে থাকে। এ অবস্থায় পাতার রঙ সবুজ থেকে পরিবর্তিত হয়ে আদি হলদেটে রূপ ধারণ করে।

ক্যারোটিনয়েড ও ফ্যাভিনয়েড

রাসায়নিক যৌগের পরিবারের মধ্যে ক্যারোটিনয়েড ও ফ্যাভিনয়েড বিশাল স্থান দখল করে আছে। এরা লাল ও হলুদ রঙের জন্য দায়ী। ক্যারোটিনয়েড এবং ফ্যাভিনয়েড ক্লোরোফিলের সাথে উপস্থিত থাকে। এমনকি এমনকি গ্রীষ্মেও। তবে গ্রীষ্মে ক্লোরোফিল উৎপাদন অপেক্ষাকৃত বেশি ঘটে থাকে বিধায় পাতার মাঝে এদের প্রভাব দেখা যায় না। ফলে পাতা সবুজ দেখায়।

তবে শরতের আগমনের সাথে সাথে আবার ক্যারোটিনয়েড ও ফ্যাভিনয়েডের উপস্থিতি প্রকট হতে থাকে ফলে হলুদ রঙের উদ্ভব ঘটে। এদের মাঝে ক্যারোটিনয়েড লাল আর ফ্যাভিনয়েড কমলা রঙের আবির্ভাব ঘটায়। শরত শেষ হবার সাথে সাথে ক্যারোটিনয়েড ও ফ্যাভিনয়েডের উপস্থিতি কমতে থাকে।

ক্যারোটিনয়েডের আরো কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে বিটা-ক্যারোটিন (গাজরে থাকে), লুটেইন (ডিমের কুসুমের হলুদ রঙের জন্য দায়ী), লাইকোপিন (টমেটোর টকটকে লাল রঙের জন্য দায়ী)।

অ্যান্থোসায়ানিন

ফ্যাভিনয়েড শ্রেণীরই অন্তর্ভুক্ত অ্যান্থোসায়ানিন। কিন্তু ফ্যাভিনয়েডের মতো অ্যান্থোসায়ানিন সারা বছর জুড়ে পাতার মধ্যে থাকে না। বেলা নামার সাথে সাথে পাতার মাঝে অবশিষ্ট শর্করা সূর্যালোকের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যান্থোসায়ানিনের উৎপাদন ঘটায়।

যদিও পাতার মধ্যে অ্যান্থোসায়ানিনের প্রকৃত ভূমিকা জানা যায়নি, ধারণা করা হয় অ্যান্থোসায়ানিন আলোক নিরাপত্তার কাজ করে থাকে। অর্থাৎ পাতাকে অতিরিক্ত সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করে। আর পাতাকে রঙ দানের ক্ষেত্রে অ্যান্থোসায়ানিন লাল, বেগুনি ও অন্যান্য মিশ্রিত রঙের আবির্ভাব ঘটিয়ে থাকে। পাতার রসের মধ্যে অম্লের উপস্থিতির কারণেও রঙের আবির্ভাবের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ কম্পাউন্ড কেমিস্ট্রি, http://www.compoundchem.com/2014/09/11/autumnleaves/

featured image: turningstar.com

পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা অণু

সম্প্রতি এমআইটির পদার্থবিদরা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ঠাণ্ডা ও স্থিতিশীল অণুটির সন্ধান পেয়েছেন। এ উদ্দেশ্যে সোডিয়াম-পটাশিয়াম গ্যাসকে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা করে এর তাপমাত্রা প্রায় ০ কেলভিনে (-২৭৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস) নামিয়ে আনা হয়েছিল।

ইতিপূর্বে রাসায়নিকভাবে অস্থিতিশীল মৌলসমূহ শীতল করে স্থিতিশীল করার যে রেকর্ড তৈরি করা হয়েছিল এ উদ্ভাবনটি সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বিজ্ঞানদের এমন ঠাণ্ডা অণু তৈরি করার মূল উদ্দেশ্য হলো অণুসমূহের উত্তেজিত অবস্থা এবং তাদের কোয়ান্টাম সিস্টেম ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা।

অণুদের উত্তেজিত অবস্থায় গবেষকেরা ‘সুপার ফ্লুইড ক্রিস্টাল’ অবস্থা পর্যবেক্ষণের আশা করছেন। সুপার ফ্লুইড ক্রিস্টাল অবস্থাকে তারা এমন এক অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন যখন কোনো ঘর্ষণ বল ক্রিয়া করবে না। এ অবস্থা যদিও দেখা যায়নি তবে ধারণা করা হচ্ছে তারা সেটি দেখতে পারবেন।

অন্যদিকে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা অণু কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া ক্রিপ্টোগ্রাফিতে কোয়ান্টাম কম্পিউটেশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং একটি সাধারণ কম্পিউটারে কোনো সমস্যার সমাধান করতে যে অত্যাধিক লম্বা সময় লাগতো তা এক্ষেত্রে আর লাগবে না।

এ পরীক্ষায় এক সেট লেজার ব্যবহার করেন সোডিয়াম এবং পটশিয়াম অণুগুলোকে আলাদা আলাদাভাবে ঠাণ্ডা করে একটি জালে ফেলার জন্য। এরপর সেখানে চৌম্বকক্ষেত্র সৃষ্টি করা হয় যাতে করে অণুগুলোর মধ্যে দূর্বল বন্ধন তৈরি হয়। অণুগুলোর মধ্য থেকে তাপ শুষে নেওয়ার জন্য আরেক সেট লেজার ব্যবহার করা হয়েছিল। পরীক্ষার পরবর্তী ধাপ হিসেবে গবেষকদের পরিকল্পনা আছে যেন অণুসমূহের এই ঠাণ্ডা বেশি সময় ঠিকে থাকে।

তথ্যসূত্রঃ লাইভ সায়েন্স

featured image: thechronicleherald.ca

বইয়ের গন্ধের খোঁজে

বইয়ের পোকাদের কাছে বইয়ের গন্ধ একধরনের মাদকতার সৃষ্টি করে। কোথা থেকে আসে এ গন্ধ? কেনই বা এ গন্ধের আবির্ভাব ঘটে?  নতুন ও পুরাতন উভয় প্রকার বই থেকেই কয়েক ধরনের উদ্বায়ী পদার্থ নির্গত হয়। এসব পদার্থ বা উপাদানগুলোর উৎস আবার ভিন্ন ভিন্ন। কোনো কোনোটির উৎস হিসেবে থাকে বিযোজিত পদার্থ আবার কোনো কোনোটির উৎস হিসেবে থাকে বইয়ে ব্যবহৃত কালি বা বইয়ের পৃষ্ঠার ধরণ।

বইয়ের পৃষ্ঠায় থাকা সেলুলোজের ক্রমান্বয়িক ভাঙন সম্পন্ন হয় এবং লিগনিনের উপস্থিতিতে আরো কিছু জৈব উপাদা তৈরি হয়। কাগজের ধরণ এবং আয়ুর উপর নির্ভর করে এসব জৈব উপাদানগুলো ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় তৈরি হয়। বেশি পুরাতন বইয়ে লিগনিনের উপস্থিতি যেকোনো নতুন বই থেকে বেশি থাকবে।

নীচে কিছু যৌগের নাম এবং তাদের ভূমিকা তুলে ধরা হলোঃ

১. টলুইন- মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।

২. ভ্যানিলিন- ভ্যানিলা ফ্লেভারের গন্ধ প্রদান করে থাকে। কেক বা আইস্ক্রিমের মাঝে যেরকম ফ্লেভার থাকে সেরকম।

৩. ২-ইথাইল হেক্সানল- যা গাছপালা বা তৃণ জাতীয় গন্ধ প্রদান করে।

৪. ইথাইল বেনজিন- এটিও মিষ্টি জাতীয় গন্ধের জন্য দায়ী।

৫. বেনজালডিহাইড-  বাদাম জাতীয় গন্ধের জন্য দায়ী।

৬. ফারফিউরাল- এটি এক ধরনের হেটারো সাইক্লিক যৌগ। পৃষ্ঠায় বাদাম জাতীয় গন্ধ প্রদান করে।

নতুন বইগুলোর গন্ধ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। বইতে ব্যবহৃত আঠা, কালি ও পৃষ্ঠা তৈরির উপাদানের উপর নির্ভর করে তার থেকে আসা গন্ধ কেমন হবে।

এখনকার আঠা সাধারণত কো-পলিমার ধাঁচের উপাদান দ্বারা তৈরি। যেমন- ভিনাইল অ্যাসিটেট ইথাইলিন। কাগজ যখন বানানো হয় তখন প্রত্যাশিত গুণগত মান সম্পন্ন কাগজ পাবার উদ্দেশ্যে কাগজের মণ্ডে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত করা হয়। এসব যৌগের মাঝে কোনো কোনোটির আবার নিজস্ব কোনো গন্ধ নেই। কিন্তু এই যৌগগুলো অন্যন্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে উদ্বায়ী পদার্থের নিঃসরণ ঘটাতে পারে।

ভিনাইল অ্যাসিটেট ইথাইলিন নামের একটি যৌগ আঠাতে ব্যবহার করা হয়। রাবারের শিট বা ম্যাট তৈরিতেও এগুলো ব্যবহৃত হয়। কালি ও কাগজ তৈরিতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র

http://www.compoundchem.com/infographics/

https://en.wikipedia.org/wiki/Ethylene-vinyl_acetate

 

আপেলের ত্বকে মোম!

কখনো লক্ষ্য করেছেন কিনা ফলের দোকানে একটু আলোতে আপেলগুলো যেন চকচক করছে বলে মনে হয়।কিংবা কাপড়ে হালকাভাবে আপেল ঘষে দেখলে তা আরো চকচক করে দেখতে। তাহলে আপেলের ভেতরে কি এমন কোনো পদার্থ লুকিয়ে আছে যা চকচক করার জন্য দায়ী কিংবা আপেলকে খাওয়ার জন্য আমাদের আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দেয়?

আসলে পদার্থটি আপেলের ভেতরেনয়বরং আপেলের বাইরে অবস্থান করে। শুধু আপেলই নয়, আরো অনেক ধরনের শাক সবজিতেও এই পদার্থটি উপস্থিত থাকে।যেমন শসা, তাল ইত্যাদি। পদার্থটি হচ্ছে মোম! প্রাকৃতিকভাবেই আপেল সহ বেশ কিছু সবজি মোম উৎপন্ন করে থাকে। বাইরের আর্দ্র আবহাওয়া থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য এর প্রয়োজন। এছাড়াএদের ত্বকেছত্রাকের উপস্থিতিও থাকে একই কারণে। মোমের উপস্থিতি না থাকলে পানি ধরে না রাখতে পেরে আপেল শুকিয়ে যেত।

আপেলের ত্বকে মোম

বাংলাদেশে আপেল উৎপাদিত হয় না।দূর দূরান্তের দেশ থেকে এদেশে আপেল আসে। দূর থেকে এখানে আপেল আসতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। ভ্রমণপথে আপেলগুলো এত দিন যাবৎ টিকে থাকে কীভাবে? ফরমালিন ব্যবহারের কথা নিশ্চয় মাথায় আসছে? আমাদের দেশে না হয় ফরমালিনের যাচ্ছেতাই ব্যবহার হয় কিন্তু অন্যান্য ফরমালিনের এমন অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সম্ভব নয়। তাহলে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে তারা আপেলকে কয়েক মাসব্যাপী এমনকি বছর ব্যাপীও সংরক্ষণ করে?

আপেলের ত্বকে প্রাকৃতিকভাবেই মোম উৎপন্ন হয়। আপেল উৎপাদনে পর তা সংগ্রহ করে ধুয়ে রাখা হয়, যেন এর গায়ে লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। তখন আপেলের গায়ে যে প্রাকৃতিক মোম ছিল তার উপস্থিতি অনেকংশে কমে যায়। এর জন্য কৃত্রিমভাবে মৌমাছি, এমনকি গুবরে পোকা থেকে প্রাপ্ত মোম আবার অনেক সময় পেট্রোলিয়াম জাতীয় মোম আপেলের আস্তরণ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। এতে করে আপেল যেমন দেখতে আরো আকর্ষণীয় ঠেকে ক্রেতার নিকট, ঠিক তেমনি পচন হতেও রক্ষা পায়। কেননা ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীবের বংশবিস্তারের উত্তম মাধ্যম হচ্ছে ভেজা বা স্যাঁতস্যাঁতে স্থান। মোম দিয়ে আপেলকে আবৃত করে রাখলে আপেল বাইরের দিক দিয়ে আর্দ্র অবস্থা থেকে তথা বিভিন্ন অণুজীবের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়।

মজার ব্যাপার হলো আপেলের উপর মোমের এমন প্রলেপ দেবার পদ্ধতি বেশ পুরনো। সেই ১৯২০ সাল হতে প্রচলিত এ প্রক্রিয়া। ১ কেজি মোম দিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার আপেলেকে মোমের কোট পরানো সম্ভব। US Food And Administration-এ মোমকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বীকৃতি দেবার পরেওপ্রশ্ন থেকেই যায়।

আপেল + মোম খাওয়া কতটুকু স্বাস্থ্যকর?

স্বাস্থ্যবিদদের মতে, মোম খাওয়া স্বাস্থ্য জন্য অবশ্যই সম্মত নয়। এর প্রতিকারের জন্য আপেলকেপানি বা ভিনেগার দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নতুবা ছিলে খাওয়া উচিত। তবে আপেলের ত্বকের ঠিক নিচেই অনেক প্রয়োজনীয় ভিটামিন থাকে। তাই ভালো হয় যদি কেবল আপেলের পাতলা ত্বকটুকুই সাবধানে চিরে ফেলে দেয়া যায়।

তথ্যসূত্র

http://www.whfoods.com

http://www.ndtv.com

বইয়ের গন্ধের খোঁজে

বইয়ের পোকাদের কাছে বইয়ের গন্ধ একধরনের মাদকতার সৃষ্টি করে। কোথা থেকে আসে এ গন্ধ? কেনই বা এ গন্ধের আবির্ভাব ঘটে?  নতুন ও পুরাতন উভয় প্রকার বই থেকেই কয়েক ধরনের উদ্বায়ী পদার্থ নির্গত হয়। এসব পদার্থ বা উপাদানগুলোর উৎস আবার ভিন্ন ভিন্ন। কোনো কোনোটির উৎস হিসেবে থাকে বিযোজিত পদার্থ আবার কোনো কোনোটির উৎস হিসেবে থাকে বইয়ে ব্যবহৃত কালি বা বইয়ের পৃষ্ঠার ধরণ।

বইয়ের পৃষ্ঠায় থাকা সেলুলোজের ক্রমান্বয়িক ভাঙন সম্পন্ন হয় এবং লিগনিনের উপস্থিতিতে আরো কিছু জৈব উপাদা তৈরি হয়। কাগজের ধরণ এবং আয়ুর উপর নির্ভর করে এসব জৈব উপাদানগুলো ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় তৈরি হয়। বেশি পুরাতন বইয়ে লিগনিনের উপস্থিতি যেকোনো নতুন বই থেকে বেশি থাকবে।

নীচে কিছু যৌগের নাম এবং তাদের ভূমিকা তুলে ধরা হলোঃ

১. টলুইন- মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।

২. ভ্যানিলিন- ভ্যানিলা ফ্লেভারের গন্ধ প্রদান করে থাকে। কেক বা আইস্ক্রিমের মাঝে যেরকম ফ্লেভার থাকে সেরকম।

৩. ২-ইথাইল হেক্সানল- যা গাছপালা বা তৃণ জাতীয় গন্ধ প্রদান করে।

৪. ইথাইল বেনজিন- এটিও মিষ্টি জাতীয় গন্ধের জন্য দায়ী।

৫. বেনজালডিহাইড-  বাদাম জাতীয় গন্ধের জন্য দায়ী।

৬. ফারফিউরাল- এটি এক ধরনের হেটারো সাইক্লিক যৌগ। পৃষ্ঠায় বাদাম জাতীয় গন্ধ প্রদান করে।

নতুন বইগুলোর গন্ধ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। বইতে ব্যবহৃত আঠা, কালি ও পৃষ্ঠা তৈরির উপাদানের উপর নির্ভর করে তার থেকে আসা গন্ধ কেমন হবে।

এখনকার আঠা সাধারণত কো-পলিমার ধাঁচের উপাদান দ্বারা তৈরি। যেমন- ভিনাইল অ্যাসিটেট ইথাইলিন। কাগজ যখন বানানো হয় তখন প্রত্যাশিত গুণগত মান সম্পন্ন কাগজ পাবার উদ্দেশ্যে কাগজের মণ্ডে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত করা হয়। এসব যৌগের মাঝে কোনো কোনোটির আবার নিজস্ব কোনো গন্ধ নেই। কিন্তু এই যৌগগুলো অন্যন্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে উদ্বায়ী পদার্থের নিঃসরণ ঘটাতে পারে।

ভিনাইল অ্যাসিটেট ইথাইলিন নামের একটি যৌগ আঠাতে ব্যবহার করা হয়। রাবারের শিট বা ম্যাট তৈরিতেও এগুলো ব্যবহৃত হয়। কালি ও কাগজ তৈরিতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র

http://www.compoundchem.com/infographics/

https://en.wikipedia.org/wiki/Ethylene-vinyl_acetate

 

আপেলের ত্বকে মোম!

কখনো লক্ষ্য করেছেন কিনা ফলের দোকানে একটু আলোতে আপেলগুলো যেন চকচক করছে বলে মনে হয়।কিংবা কাপড়ে হালকাভাবে আপেল ঘষে দেখলে তা আরো চকচক করে দেখতে। তাহলে আপেলের ভেতরে কি এমন কোনো পদার্থ লুকিয়ে আছে যা চকচক করার জন্য দায়ী কিংবা আপেলকে খাওয়ার জন্য আমাদের আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দেয়?

আসলে পদার্থটি আপেলের ভেতরেনয়বরং আপেলের বাইরে অবস্থান করে। শুধু আপেলই নয়, আরো অনেক ধরনের শাক সবজিতেও এই পদার্থটি উপস্থিত থাকে।যেমন শসা, তাল ইত্যাদি। পদার্থটি হচ্ছে মোম! প্রাকৃতিকভাবেই আপেল সহ বেশ কিছু সবজি মোম উৎপন্ন করে থাকে। বাইরের আর্দ্র আবহাওয়া থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য এর প্রয়োজন। এছাড়াএদের ত্বকেছত্রাকের উপস্থিতিও থাকে একই কারণে। মোমের উপস্থিতি না থাকলে পানি ধরে না রাখতে পেরে আপেল শুকিয়ে যেত।

আপেলের ত্বকে মোম

বাংলাদেশে আপেল উৎপাদিত হয় না।দূর দূরান্তের দেশ থেকে এদেশে আপেল আসে। দূর থেকে এখানে আপেল আসতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। ভ্রমণপথে আপেলগুলো এত দিন যাবৎ টিকে থাকে কীভাবে? ফরমালিন ব্যবহারের কথা নিশ্চয় মাথায় আসছে? আমাদের দেশে না হয় ফরমালিনের যাচ্ছেতাই ব্যবহার হয় কিন্তু অন্যান্য ফরমালিনের এমন অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সম্ভব নয়। তাহলে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে তারা আপেলকে কয়েক মাসব্যাপী এমনকি বছর ব্যাপীও সংরক্ষণ করে?

আপেলের ত্বকে প্রাকৃতিকভাবেই মোম উৎপন্ন হয়। আপেল উৎপাদনে পর তা সংগ্রহ করে ধুয়ে রাখা হয়, যেন এর গায়ে লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। তখন আপেলের গায়ে যে প্রাকৃতিক মোম ছিল তার উপস্থিতি অনেকংশে কমে যায়। এর জন্য কৃত্রিমভাবে মৌমাছি, এমনকি গুবরে পোকা থেকে প্রাপ্ত মোম আবার অনেক সময় পেট্রোলিয়াম জাতীয় মোম আপেলের আস্তরণ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। এতে করে আপেল যেমন দেখতে আরো আকর্ষণীয় ঠেকে ক্রেতার নিকট, ঠিক তেমনি পচন হতেও রক্ষা পায়। কেননা ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীবের বংশবিস্তারের উত্তম মাধ্যম হচ্ছে ভেজা বা স্যাঁতস্যাঁতে স্থান। মোম দিয়ে আপেলকে আবৃত করে রাখলে আপেল বাইরের দিক দিয়ে আর্দ্র অবস্থা থেকে তথা বিভিন্ন অণুজীবের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়।

মজার ব্যাপার হলো আপেলের উপর মোমের এমন প্রলেপ দেবার পদ্ধতি বেশ পুরনো। সেই ১৯২০ সাল হতে প্রচলিত এ প্রক্রিয়া। ১ কেজি মোম দিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার আপেলেকে মোমের কোট পরানো সম্ভব। US Food And Administration-এ মোমকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বীকৃতি দেবার পরেওপ্রশ্ন থেকেই যায়।

আপেল + মোম খাওয়া কতটুকু স্বাস্থ্যকর?

স্বাস্থ্যবিদদের মতে, মোম খাওয়া স্বাস্থ্য জন্য অবশ্যই সম্মত নয়। এর প্রতিকারের জন্য আপেলকেপানি বা ভিনেগার দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নতুবা ছিলে খাওয়া উচিত। তবে আপেলের ত্বকের ঠিক নিচেই অনেক প্রয়োজনীয় ভিটামিন থাকে। তাই ভালো হয় যদি কেবল আপেলের পাতলা ত্বকটুকুই সাবধানে চিরে ফেলে দেয়া যায়।

তথ্যসূত্র

http://www.whfoods.com

http://www.ndtv.com