লম্বাগলা জিরাফ

পাশ দিয়ে ছ’ফুট লম্বা কেউ হেঁটে গেলে আমরা গলা লম্বা করে তাকাই, আর বলি বাহ কত লম্বা! জিরাফ, ডাঙার সবচেয়ে লম্বা প্রাণী। বৈজ্ঞানিক নাম G. Camelopardalis। একটি জিরাফ প্রায় ১৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। আজকে এই জিরাফ নিয়েই কিছু ব্যতিক্রমী জিনিস দেখবো।

​​লম্বা গলায় রক্ত সঞ্চালনের জন্য জিরাফের হার্ট অনেক বড় এবং শক্তিশালী হয়ে থাকে। জিরাফের মাথায় দুই থেকে চারটি শিং দেখা যায়। যদিও বিজ্ঞানীরা একে শিং হিসাবে মানতে নারাজ। আসলে তরুণাস্থি দিয়ে মাথার ত্বকের উপরের এই শিং আসলেই cornual process of skull নয়।

জিরাফের দৃষ্টিশক্তি খুব প্রখর। ফলে বহুদূরের শত্রুকেও জিরাফ সহজেই দেখতে পারে। এছাড়া জিরাফ খুব জোরে দৌড়াতে পারে। আক্রমণের শিকার হলে জিরাফকে ঘণ্টায় প্রায় ৫৬ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে দেখা গেছে। জন্মের সময় একটি জিরাফ প্রায় ৬ ফুট লম্বা হয় এবং এর ওজন থাকে গড়ে ৬৮ কেজি। অনেক জিরাফের মাথায় দুইটি বা চারটি ভোঁতা শিং থাকে। জিরাফের জিভও খুব লম্বা। নিজের কান পরিষ্কারের জন্য জিরাফ তার প্রায় ২১ ইঞ্চি লম্বা জিভ ব্যবহার করে।

দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে বলে সিংহকেও সাবধানে থাকতে হয়। কারণ জিরাফের লাথির আঘাতে সিংহ মারাত্মক আহত হতে পারে। এছাড়া আক্রমণের ভয়ে জিরাফ কখনো বসে ঘুমায় না বা বিশ্রাম নেয় না। কারণ জিরাফের বসতে যেমন সময় লাগে প্রচুর, তেমনি বসা থেকে দাঁড়াতেও অনেক সময় নেয়। এছাড়া প্রকৃতিগতভাবেই জিরাফ লম্বা হওয়ায় বসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তবে দলগতভাবে থাকা অবস্থায় কিছু কিছু জিরাফ মাঝে মাঝে বসে বিশ্রাম নেয়। পানি খাওয়া, ঘুমানো কিংবা দিনের বেলা বিশ্রামের সময় অন্তত একটি জিরাফ আশেপাশে নজর রাখে শত্রুর উপস্থিতি জানানোর জন্য। খুব নিচু আওয়াজে এরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। এদের গলার আওয়াজ ২০ হার্জেরও নিচে। ফলে জিরাফের আওয়াজ মানুষ শুনতে পায় না। জিরাফ সাধারণত নিজেদের মধ্যে লড়াই করে না। তবে খেলাধুলা করার সময় কিংবা খুব বেশি রাগান্বিত হলে পুরুষ জিরাফরা মাঝেমধ্যে এক অন্যের সাথে লড়াই করে।

দীর্ঘ আকাশিয়া গাছের পাতাই এদের অন্যতম খাদ্য। অন্য প্রাণীরা অবশ্য এই লম্বা গাছের পাতা খেতেও পারে না। জিরাফের আরেকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা উটের মতো পানি না খেয়ে দীর্ঘদিন কাটিয়ে দিতে পারে। স্বাভাবিকভাবে একটানা সাতদিন পানি না খেলেও এদের কোনো সমস্যা হয় না। গাছের পাতায় যে পানি থাকে, তা দিয়েই তাদের চাহিদা মিটে যায়।

নাচতে জানে জিরাফ

নিজের দীর্ঘ ঘাড় ব্যবহার করে নাচ প্রদর্শন করে জিরাফ। জিরাফের এই নাচকে ইংরেজিতে বলা হয় নেকিং (necking)। নেক মানে ঘাড়। কিন্তু জিরাফের বেলায় আমরা বলতে পারি ঘাড়তেড়ামি! মানুষের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও আসলে দুই পুরুষ জিরাফের আধিপত্য ছড়ানোর লড়াই এটি। যাতে ঘাড়ই তাদের প্রধান ও একমাত্র অস্ত্র। লড়াইয়ে বিজয়ী পুরুষ জিরাফই স্ত্রী জিরাফের সংস্পর্শে আসতে পারে।

এত সুন্দর প্রাণী আজ বিলুপ্তির পথে। IUCN এর Red List এ নাম উঠে গেছে তার। আসুন আমরা পরিবেশের প্রতি একটু সচেতন হই। আর এই বর্ষায় অন্তত একটি করে গাছ লাগাই।

তথ্যসূত্রঃ

১। World Animal Science: Zoo Animal, Pub: Elsevier, Amsterdam-Lausanne- New York- Oxford-Shannon- Tokyo

২। https://en.wikipedia.org/wiki/Giraffe

৩। http://animals.sandiegozoo.org/animals/giraffe

৪। www.banglanews24.com/feature/news/357155

৫। IUCN Red book.

 

লম্বাগলা জিরাফ

পাশ দিয়ে ছ’ফুট লম্বা কেউ হেঁটে গেলে আমরা গলা লম্বা করে তাকাই, আর বলি বাহ কত লম্বা! জিরাফ, ডাঙার সবচেয়ে লম্বা প্রাণী। বৈজ্ঞানিক নাম G. Camelopardalis। একটি জিরাফ প্রায় ১৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। আজকে এই জিরাফ নিয়েই কিছু ব্যতিক্রমী জিনিস দেখবো।

​​লম্বা গলায় রক্ত সঞ্চালনের জন্য জিরাফের হার্ট অনেক বড় এবং শক্তিশালী হয়ে থাকে। জিরাফের মাথায় দুই থেকে চারটি শিং দেখা যায়। যদিও বিজ্ঞানীরা একে শিং হিসাবে মানতে নারাজ। আসলে তরুণাস্থি দিয়ে মাথার ত্বকের উপরের এই শিং আসলেই cornual process of skull নয়।

জিরাফের দৃষ্টিশক্তি খুব প্রখর। ফলে বহুদূরের শত্রুকেও জিরাফ সহজেই দেখতে পারে। এছাড়া জিরাফ খুব জোরে দৌড়াতে পারে। আক্রমণের শিকার হলে জিরাফকে ঘণ্টায় প্রায় ৫৬ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে দেখা গেছে। জন্মের সময় একটি জিরাফ প্রায় ৬ ফুট লম্বা হয় এবং এর ওজন থাকে গড়ে ৬৮ কেজি। অনেক জিরাফের মাথায় দুইটি বা চারটি ভোঁতা শিং থাকে। জিরাফের জিভও খুব লম্বা। নিজের কান পরিষ্কারের জন্য জিরাফ তার প্রায় ২১ ইঞ্চি লম্বা জিভ ব্যবহার করে।

দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে বলে সিংহকেও সাবধানে থাকতে হয়। কারণ জিরাফের লাথির আঘাতে সিংহ মারাত্মক আহত হতে পারে। এছাড়া আক্রমণের ভয়ে জিরাফ কখনো বসে ঘুমায় না বা বিশ্রাম নেয় না। কারণ জিরাফের বসতে যেমন সময় লাগে প্রচুর, তেমনি বসা থেকে দাঁড়াতেও অনেক সময় নেয়। এছাড়া প্রকৃতিগতভাবেই জিরাফ লম্বা হওয়ায় বসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তবে দলগতভাবে থাকা অবস্থায় কিছু কিছু জিরাফ মাঝে মাঝে বসে বিশ্রাম নেয়। পানি খাওয়া, ঘুমানো কিংবা দিনের বেলা বিশ্রামের সময় অন্তত একটি জিরাফ আশেপাশে নজর রাখে শত্রুর উপস্থিতি জানানোর জন্য। খুব নিচু আওয়াজে এরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। এদের গলার আওয়াজ ২০ হার্জেরও নিচে। ফলে জিরাফের আওয়াজ মানুষ শুনতে পায় না। জিরাফ সাধারণত নিজেদের মধ্যে লড়াই করে না। তবে খেলাধুলা করার সময় কিংবা খুব বেশি রাগান্বিত হলে পুরুষ জিরাফরা মাঝেমধ্যে এক অন্যের সাথে লড়াই করে।

দীর্ঘ আকাশিয়া গাছের পাতাই এদের অন্যতম খাদ্য। অন্য প্রাণীরা অবশ্য এই লম্বা গাছের পাতা খেতেও পারে না। জিরাফের আরেকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা উটের মতো পানি না খেয়ে দীর্ঘদিন কাটিয়ে দিতে পারে। স্বাভাবিকভাবে একটানা সাতদিন পানি না খেলেও এদের কোনো সমস্যা হয় না। গাছের পাতায় যে পানি থাকে, তা দিয়েই তাদের চাহিদা মিটে যায়।

নাচতে জানে জিরাফ

নিজের দীর্ঘ ঘাড় ব্যবহার করে নাচ প্রদর্শন করে জিরাফ। জিরাফের এই নাচকে ইংরেজিতে বলা হয় নেকিং (necking)। নেক মানে ঘাড়। কিন্তু জিরাফের বেলায় আমরা বলতে পারি ঘাড়তেড়ামি! মানুষের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও আসলে দুই পুরুষ জিরাফের আধিপত্য ছড়ানোর লড়াই এটি। যাতে ঘাড়ই তাদের প্রধান ও একমাত্র অস্ত্র। লড়াইয়ে বিজয়ী পুরুষ জিরাফই স্ত্রী জিরাফের সংস্পর্শে আসতে পারে।

এত সুন্দর প্রাণী আজ বিলুপ্তির পথে। IUCN এর Red List এ নাম উঠে গেছে তার। আসুন আমরা পরিবেশের প্রতি একটু সচেতন হই। আর এই বর্ষায় অন্তত একটি করে গাছ লাগাই।

তথ্যসূত্রঃ

১। World Animal Science: Zoo Animal, Pub: Elsevier, Amsterdam-Lausanne- New York- Oxford-Shannon- Tokyo

২। https://en.wikipedia.org/wiki/Giraffe

৩। http://animals.sandiegozoo.org/animals/giraffe

৪। www.banglanews24.com/feature/news/357155

৫। IUCN Red book.

 

পাখি বিজ্ঞানী সালিম আলি ও ভারতবর্ষে পাখিচর্চা

হিমালয়ের পাদদেশে ছোট্ট এক বালক মনের সুখে পাখি শিকার করতো এয়ারগান দিয়ে। একদিন তার গুলিতে ঘায়েল হয়েছিল এক আজব ধরনের চড়ুই পাখি। এর মাংস হালাল (বৈধ) কিনা তা জানার জন্য সোজা চলে গেলো চাচা আমিরুদ্দিনের কাছে। তখন ১৯০৮ সাল। আমিরুদ্দিন ছিলেন বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির আদি সদস্যদের একজন। তিনি বালকটিকে পাঠিয়ে দিলেন সোসাইটির সেক্রেটারি ওয়াল্টার স্যামুয়েল মিলার্ডের কাছে। মিলার্ডের অমায়িক ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে গেল বালকটি। এখানে উপলব্ধি করতে পেরেছে ছোট বলে নেই কোনো অবহেলা। সেইসাথে প্রথম দর্শনেই পাখিটির ঠিকুজি জানা হয়ে গেল- হলুদ কণ্ঠী চড়ুই (Petronia xanthocollis)

শুধু তা-ই নয়, সেক্রেটারি সাহেব তার বিশাল সংগ্রহশালা উম্মুক্ত করে কৌতূহলী বালককে দেখালেন নানা ধরনের চড়ুই পাখির স্টাফ করা মৃতদেহ। খুলে গেলো বালকের মনের দরজা, শুরু হলো এক নতুন যুগের। খামোখা এয়ার গান দিয়ে গুলি করে বেড়ানো বালকটি ঝুঁকে পড়লো পাখি এবং প্রকৃতি নিয়ে বিশদভাবে জানতে।

বালকটি আর কেউ নয়। ১৮৯৬ সালের ১২ নভেম্বর ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম নেয়া বিখ্যাত পক্ষীবিদ এবং প্রকৃতিপ্রেমী সালিম মঈজুদ্দীন আব্দুল আলী বা সংক্ষেপে সালিম আলী।

মিলার্ড সালিমকে পাখি সম্পর্কিত কিছু বই ধার দেন। তার মধ্যে কমন বার্ডস অব বোম্বে ছিল অন্যতম। সালিমকে পাখির একটি সংগ্রহ সৃষ্টির জন্য তিনি উৎসাহ দেন আর কীভাবে পাখির চামড়া ছাড়াতে হয় ও সংরক্ষণ করতে হয় সে ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। মিলার্ড ছোট্ট সালিমের সাথে নরম্যান বয়েড কিনিয়ারের পরিচয় করিয়ে দেন। কিনিয়ার ছিলেন বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির সর্বপ্রথম বেতনভুক্ত কিউরেটর।

চিত্রঃ সালিম আলী

ভারতীয় পাখিদের তুলে ধরতে সালিম আলি ব্যবহার করেছিলেন তার লেখনী ও বক্তৃতার মঞ্চ। সালিম আলি প্রথম তুলে আনলেন ভারতবর্ষের পক্ষীচর্চার ইতিহাস। সারা পৃথিবী জানলো ভারতবর্ষেও পাখি নিয়ে গবেষণা হয়।চড়ুইয়ের সেই ঘটনাটিই তার পক্ষীবিদ হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা রাখে। জীবনের প্রথম দিকে তিনি শিকার সম্পর্কিত বইপত্র পড়তেন এবং ঐ সময় তার ঝোঁক ছিল শিকারের দিকেই। তার আশেপাশের এলাকায় প্রায়ই শিকার প্রতিযোগিতা হতো। তার শিকারের অন্যতম সহচর ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা, যিনি নিজে খুব ভাল শিকারী ছিলেন।

মুঘল আমলের আগে পাখিদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনার বিক্ষিপ্ত চেষ্টা হলেও সেগুলো তেমন নির্ভরযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক চেষ্টা শুরু হয় মহামতি বাবরকে দিয়ে। সালিম আলির মতে, প্রচলিত ধারণাকে আশ্রয় করে পাখির বর্ণনা তৈরি করতেন না সম্রাট বাবর। তার আলাদা একটি দৃষ্টিভঙ্গীর প্রয়োগ করতেন তিনি। একটি উদাহরণ দেয়া যাক। শীতকালে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মোনাল ফিজ্যান্ট (Monal pheasant) নেমে আসে পাহাড়ের পাদদেশে। উড়ার পথে ফিজ্যান্টের দল যদি কোনো আঙুর ক্ষেতের উপর দিয়ে যায়, তখন চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়ে যায় সেখানেই।

বাবর লিখছেন “এসব কথার সত্যতা সৃষ্টিকর্তাই জানেন। আমি বুঝি যে এর মাংস বেশ সুস্বাদু।” এসব উদ্ভট কথায় যে বাবরের আস্থা নেই এটি তারই দৃষ্টান্ত। তবে মুঘল সম্রাটদের মধ্যে পাখি সম্পর্কিত জ্ঞানের ভাণ্ডার গড়ে তুলেছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীর। তার সম্পর্কে বলা হয়, সম্রাট না হয়ে তিনি যদি কোনো ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের প্রধান হতেন তাহলে হয়তো অনেক বেশি সুখী হতেন। এমনই ছিল তার পাখিপ্রেম।

রাজসভায় তিনি স্থান দিয়েছিলেন বিখ্যাত চিত্রকর ওস্তাদ মনসুরকে। তার কাজ ছিল নতুন নতুন পাখির ছবি আঁকা। জাহাঙ্গীরের আগ্রহ জানতো তার সাম্রাজ্যের সবাই। এমনকি বিদেশীরাও জানতো। তাই নজরানা হিসাবে তারা নিয়ে আসতো এলাকার বিশেষ প্রজাতির পাখি। সেগুলো সম্রাটের হাতে পৌঁছনো মাত্রই তিনি মনসুরকে নির্দেশ দিতেন পাখির নিখুঁত ছবি আঁকতে। সৌভাগ্যক্রমে, এর মধ্যে বেশ কিছু ছবি আজও সংরক্ষিত রয়েছে। কলকাতার ভারতীয় যাদুঘরেও রয়েছে এগুলোর নমুনা।

ছবির পাশাপাশি পাখির চেহারা, বাসস্থান এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ তৈরি করতেন জাহাঙ্গীর। সেসব বর্ণনা ধরা রয়েছে তার স্মৃতিকথায়। ১৬২৪ পর্যন্ত চলে জাহাঙ্গীরের স্মৃতিকথা রচনা। এ সময়ের মধ্যে কত যে পাখির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন তা ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়। সালিম আলি জানিয়েছেন, তার দরবারে বিখ্যাত ডোডো পাখিও পৌঁছেছিল। তবে সেটি ১৬২৪ সালের পরে। ফলে সেটির ছবি থাকলেও স্মৃতিকথায় তার উল্লেখ নেই।

চিত্রঃ সম্রাট জাহাঙ্গীর।

জাহাঙ্গীরের সাম্রাজ্য বা আরো পরে মুঘল সাম্রাজ্য ধ্বংস হবার পরে সম্রাটের সংগৃহীত বহু নমুনা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্লভ পাখি নিয়ে একরকম লুটের খেলা চলছিল সেখানে। যিনি পাখির নমুনা চুরি করছেন, তিনি হয়তো জানেনও না তার গুরুত্ব। লুটেরাদের দলে অবশ্যই ছিল ব্রিটিশরা।

তবে তাদের অপরাধের পাশাপাশি গুনপনাও কিছু কম ছিল না। ব্রিটিশ রাজপুরুষদের অনেকেরই আগ্রহ ছিল পাখিদের সম্পর্কে তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলায়। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ভারতে প্রথম পাখি সম্বন্ধীয় বৈজ্ঞানিক সংকলন তৈরী করেছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক জার্ডন। ১৮৬২ এবং ১৮৬৪ সালে তিনি প্রকাশ করেন ‘বার্ডস অফ ইন্ডিয়া’র দুটি খন্ড। এর পরে যে ঘাটতি ছিল তা পূরণ করেন দুজন ভারতীয় ব্যক্তি- সালিম আলি এবং সিডনি ডিলো রিপলে। দশ খন্ডে তারা প্রকাশ করেন ‘হ্যান্ডবুক অব দ্য বার্ডস অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তান’। প্রকাশকাল ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৩। এতগুলো খণ্ড প্রকাশের পরও যে বিষয়টি সালিম আলিকে চির অতৃপ্ত রেখেছিল তা হলো পাখিদের স্থানীয় নামের নির্ভরযোগ্য তালিকা সম্পূর্ণ করতে না পারা।

পাখির মতোই আরেকটি জিনিস ভালবাসতেন সালিম আলী- মোটরসাইকেল। সময়টা ১৯৫০ সাল। সুইডেনের আপসালাতে বসেছে পক্ষীবিদদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। প্রথম অধিবেশন শুরু হতে তেমন দেরি নেই। সকলে পৌঁছে গিয়েছে। একজন ভারতীয় অবশ্য তখনও পৌঁছায়নি। কোথাও আটকে গেলেন

নাকি? অনুপস্থিত থাকবেন? এমন ভাবনা যখন ঘুরছে আয়োজকদের মনে, তখন হঠাৎ মোটরসাইকেলের গর্জন। একটা সানবীম মডেল ব্রেক কষে দাঁড়াল সভাঘরের বাইরে। নামলেন সেই ভারতীয়। মুহূর্তের মধ্যে খবর চাউর হয়ে গেল যে ভারত থেকে সোজা বাইকে করে আপসালা পৌঁছেছেন এক ভারতীয় পক্ষীবিদ! তিনিই আমদের সালিম আলি, চুয়ান্ন বছর বয়সে ফিল্মি হিরোর মতো বাইকে করে আবির্ভূত হতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই যাঁর। এতটাই আকর্ষণ মোটরবাইকের প্রতি যে একটা মডেল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি তিনি। শুধু হার্লে-ডেভিডসনেরই তিন রকম মডেল ছিল তার কাছে।

চিত্রঃ মোটর বাইকে করে ঘুরে বেরিয়েছেন অনেক দেশ।
 

 

এছাড়াও একটা করে ডগলাস, স্কট, নিউ হাডসন এবং জেনিথ মোটরবাইক চালিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। অবশ্য সানবীমের গল্পটা পুরোপুরি সত্যি নয়। ভারত থেকে গোটা পথ ঐ বাইকে পাড়ি দেননি তিনি। বম্বে থেকে জাহাজে করে ইউরোপে আনান বাইকটা, উদ্দেশ্য ছিল সম্মেলনের আগে সেটাতে করে ইউরোপ চক্কর দেওয়া। এ কাজ করতে গিয়ে ফ্রান্সে ছোটখাটো দুর্ঘটনায় পড়লেন, জার্মানীর মসৃন, বাঁধানো রাস্তায় আছাড়ও খেলেন বেশ কয়েকবার। তাতে কী? ভালবাসার জন্য কত কিছু করা যায়, হাত-পায়ে চোট তো সামান্য ব্যাপার।

সিরিয়াস বিজ্ঞান সালিম আলীকে টানেনি কোনোদিন। পরিণত বয়সে একবার তিনি প্রতিষ্ঠিত পক্ষীবিদ রিপলেকে বেশ রাগ করেই লিখেন, পক্ষীচর্চার সবটাই যদি কাঠ-কঠিন নামকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তিনি ছেড়েই দেবেন বিষয়টি। অরণ্যে পাখিদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ অধ্যয়ন ছেড়ে তিনি এধরনের ট্যাক্সোনমির যুদ্ধ করতে আগ্রহী নন।

মজার কথা, প্রাণিবিজ্ঞানে সালিম আলির প্রশিক্ষণ মাত্র ১ বছরের। ১৯১৭ সালে দুটো কলেজে একসাথে ভর্তি হন। একটিতে পড়াশোনার বিষয় ছিল আইন ও হিসাবশাস্ত্র, আর অন্যটিতে প্রাণিবিজ্ঞান। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান রেভারেন্ড ব্ল্যাটার এবং শিক্ষক প্রফেসর মুল্লানের উৎসাহে ১৯১৭ সালে প্রাণিবিদ্যার উপরে বি.এস.সি পাশ করেন।

নিজের আত্মজীবনী ‘দ্য ফল অফ আ স্প্যারো’তে ৩ বছরের স্মৃতির কথায় বলেছেন পাহাড়ি ঝর্ণার উচ্ছলতায় নানা ধরনের রঙচঙে বার্মিজ পাখি দেখার অভিজ্ঞতা। যদিও তার দূরবীন ছিল না তখনো। মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রবাস জীবনের দীর্ঘ ৬০ বছর পরও সালিম আলী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পাখিগুলো কোনো স্থানের, কোনো গাছের কোনো ডালে কীভাবে বসেছিল তা মনে করতে পারেন! বার্মার সেই চমৎকার

বাড়িতে স্ত্রী তাহমিনার সাথে নতুন জীবন শুরু হয় তার। সাথে যোগ দেয় বার্মিজ রূপালি ফেজ্যান্ট পাখির সংগ্রহ করা ডিম ফুটিয়ে বের হওয়া ছানা, বনবিড়াল, গাছ-ছুঁচো, উড়ন্ত লিমার ও পাকরা ধনেশ। তাহমিনা এবং সালিম একসাথে কিন্ডারগার্টেনে পড়তেন শিশুকালে। পরবর্তীতে তাহমিনা বাবার সাথে অনেক বছর বিলেতে কাটিয়ে ভারতবর্ষে ফেরেন। অনেকটা পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয় ১৯১৮ সালের ডিসেম্বরে।

সালিমের বয়স তখন ২২। স্ত্রী সম্পর্কে উজ্জল স্মৃতিচারণ করছেন তিনি- তাহমিনা ভালবাসতেন বই, কবিতা, প্রকৃতিতে হাঁটতে, ফুল এবং বাগানের পরিচর্যা করতে। স্বামীর কাজের সময় পাখি নিয়ে আসলেই উৎসাহী হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

প্রাণীদের সমীক্ষার সাথে মূলত যুক্ত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে বাবুই পাখির সামাজিক জীবন সম্পর্কে তার গবেষণা ও মুক্ত ভাবনা স্পষ্টতার দিক দিয়ে জুলিয়ান হাক্সলির গবেষণার সঙ্গে তুলনীয়। জীবনে পুরোটা সময় পাখি নিয়ে গবেষণা করেছেন ভারত, পাকিস্তান, বার্মা, বিলেতসহ নানা দেশে। এসব করতে করতে ১৯৮৭ সালে ৯১ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

পেয়েছেন ভারতবর্ষের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদকসহ The Birdman of India খেতাব। তার নামে নামকরণ করা হয়েছে রক কোয়েল (Perdicula argoondah salimalii), Finn’s Weaver (Ploceus megarhynchus salimalii)। বিশ্বের বিরলতম বাদুড়দের একটির নামকরণও করা হয়েছে তার নামে (Latidens salimalii)। তার স্ত্রী তাহমিনার নামে নামকরন করা হয়েছে একটি কাঠঠোকরার (Dinopium benghalense tehminae)। জম্মু-কাশ্মীরে তার নামে ন্যাশনাল পার্কের নামকরণও করা হয়েছে। তবে এসব কিছু ছাপিয়ে সালিম আলী আছেন হাজার হাজার পাখিপ্রেমীর হৃদয়ে।

সালিম আলি তার সারা জীবনই নিজেকে দেখেছেন একজন শখের পক্ষীবিদ হিসেবে। অথচ শখের বাইরে থেকে তিনিই তৈরি করেছেন পেশাদারিত্বের সুউচ্চ মান। বিজ্ঞানী মাধব গ্যাডগিলের মতে, তার পর্যবেক্ষণের কৌশল ছিল মুঘল সম্রাট বাবর ও জাহাঙ্গীরের মতো- দ্রুত ধারণা তৈরি করা, কিন্তু যুক্তিনিষ্ঠতা বজায় রাখা। হয়তো আবেগের

বশে কোথাও কোথাও তিনি কিঞ্চিৎ সরে গিয়েছেন যুক্তির নিগড় থেকে। তবে তার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় ছিল পাখিদের সংরক্ষণ।

তথ্যসূত্র

১। পাখিপ্রাণ সালিম আলি, মানস প্রতিম দাস।

২। The fall of a sparrow by Salim Ali.

৩। http://www.famousscientists.org/salim-ali/

৪। http://www.sachalayatan.com/tareqanu/49314

৫। http://www.univnotes.com/2016/10/life-history-of-salim-ali.html

৬। https://en.wikipedia.org/wiki/Salim_Ali

বিপদে বিশাল বপু হাতি

হাতি তার বিশাল বপু নিয়ে সবচেয়ে বড় স্থলচর প্রাণীর অবস্থান দখল করে আছে। হাতির আছে ইয়া বড় মাথা আর খুবই ছোট ঘাড়। আছে কুলার মতো কান আরমোটা থামের মতো চারটি পা। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ হলো শুঁড় আর দাঁত। সেসব নিয়েই আজকের প্রাণীজগতের আয়োজন।

আগেকার সময়ে হাতি আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেব্যবহৃতহতো। মুঘল সম্রাটদের সকলেই হাতির পিঠে ভ্রমণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। কালের বিবর্তনে শুধু সার্কাসেই পোষা হাতির দেখা মেলে।

হাতি Prboscidae বর্গভুক্ত Elephantidae গোত্রের প্রাণী । সারা পৃথিবীতে অনেক প্রজাতির হাতি দেখা যায়।তাদেরকে মোটা দাগে এশিয়ান আর আফ্রিকান দুই ভাগে ভাগ করা যায় । আমরা যে হাতি দেখি তা ভারতীয় হাতি(Elephas maximus)

দুই মহাদেশের হাতির আকার ও গঠনে বিস্তর পার্থক্য । এশিয় হাতি লম্বায় গড়ে আট থেকে দশ ফুট আর আফ্রিকান হাতি বারো তেরো ফুট লম্বা হয় । এশিয় হাতিদের কান ছোট ছোট এবং শুঁড়ের উপর খাঁজ থাকে না ।  এশিয় হাতির কান বড় সন্দেহ নাই, তবে আফ্রিকান হাতির কানের আড়ালে অনায়াসেই আপনাকে আড়াল করে রাখা যাবে।আফ্রিকান হাতির রঙ কুচকুচে কালো আর চোখগুলোও তুলনামূলকভাবে বড়।

এরা  ছোট ঘাড়ের জন্য মাথা নুইয়ে খেতে পারে না। এজন্য প্রকৃতি দিয়েছে লম্বা শুঁড়।মজার একটা তথ্য জানাই, হাতির পাগুলোর পরিধি মেপে দ্বিগুণ করলেই পাওয়া যাবে এর উচ্চতা । এ যাবত পাওয়া সবচেয়ে বড় হাতি বুশ হাতি।এদের পাওয়া যায় আফ্রিকার গহীন বনে।

শুঁড়

হাতির শরীরের অদ্ভুত এক অঙ্গ শুঁড়। এদের নাক বড় হয়ে শুঁড়েপরিণত হয়। নমনীয় এই অঙ্গটির শেষ প্রান্তে নাকসদৃশ ছিদ্র রয়েছে, যার সাহায্যে চলে শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ। শুঁড়ের শেষ প্রান্তে আঙ্গুলের মতো অভিক্ষেপের সাহায্যে এরা ছোট খাট জিনিস সহজে ধরতে পারে। শুঁড় দিয়ে পানি শুষে মুখে দেয় আর গরমের সময় গায়ে ছিটায় ফোয়ারার মতো। ভারী জিনিস বহন করা,মানুষকে সালাম করা,খাবার প্রক্রিয়াজাত করে মুখে পুরে দেয়া সহ সকল কাজের কাজী এই শুঁড়।

দাঁত

হাতির দুইটি ছেদন দাঁত আছে।এগুলো মুখ থেকে বাইরে বেরিয়ে থাকে। বড় আকারের দাঁত আত্নরক্ষার অন্যতম অবলম্বন। এশিয়হাতির দাঁত দুই থেকে পাঁচ ফুট লম্বা আর ওজনে ২০ কেজির মতো হয়। আফ্রিকান হাতির দাঁত আরো বড়। এগুলো ছাড়াও হাতির আরো ৪৮টি দাঁত আছে। হাতিরা সবগুলো দাঁতএকবারে কাজে লাগায় না। প্রথমে পিছনের দাঁতগুলো ব্যবহার করে।ক্ষয়ে গেলেব্যবহার করতে শুরু করে সামনের দাঁতগুলো। একদম বৃদ্ধ বয়সে কাজে লাগায় সামনের পেষণ দাঁতগুলো। এলো ভীষণ মজবুত আর খুব উপকারী। যে কোনো কিছু নিমিষেপিষে ফেলতে পারে। কিন্তু এই দাঁতগুলোই হাতিদের জন্য আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা এগুলো মানুষের বাজারেঅনেক দামী।দাঁতের লোভে চোরাশিকারিরা হত্যা করেছে লক্ষ লক্ষ হাতি।

মেজাজ মর্জি

হাতি সামাজিক প্রাণী। খুবই শান্ত প্রকৃতির। বিপদে না পড়লে কাউকে ঘাঁটায় না।বাচ্চাদের নিয়ে দলবদ্ধভাবেবসবাস করে। ৩০থেকে ৬০ জন মিলে একটি দল গঠন করে থাকে বুনো হাতিরা। দলপতি থাকে একটিনারী হাতি। সবাই দলপতির কথা মেনে চলে। বিপদে সবাইকে সাহায্য করায় হাতিরা অনুকরণীয় আদর্শ।হাঁটে ঘণ্টায় ৪ মাইল বেগে। তবে দরকার

চিত্রঃ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস২০১৬ উপলক্ষে হাতি নিধনের জন্য প্রতিবাদ হিসেবে ১৫ টন মূল্যবান হাঁতির দাঁত বা আইভরি আগুনে পুড়িয়েছেন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা।

পড়লে ৩০-৪০ মাইল বেগেও ছুটতে পারে।পুরুষ হাতি শুধু প্রজনন মৌসুমে স্ত্রী হাতির দলে যোগ দেয়। প্রায়চার থেকে পাঁচ বছর পর পর স্ত্রী হাতি একটিমাত্র বাচ্চা প্রসব করে থাকে এবংপুরো জীবদ্দশায় ১০ থেকে ১২টি বাচ্চা জন্ম দেয়। মানব সমাজের দাইয়ের মতোই হাতিদেরসাহায্য করে দলের আরো কয়েকটি স্ত্রী হাতি।

চিত্রঃ চিড়িয়াখানায় সদ্য জন্ম নেয়া হাতি শাবক।

বাংলাদেশের বুনো হাতি

একটি হাতি ৬০ থেকে ৭০ বছরপর্যন্ত বাঁচে। গর্ভ-ধারণকাল ১৮ থেকে ২০মাস।এরালতাপাতা, বাকল, ফলমূল ইত্যাদি খায়। কলাগাছ ভারতীয় হাতিরখুব প্রিয় খাবার। দিনে প্রায় ৩০০কেজির মতো খাবার সাবাড় করতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ হাতি।হাতিদেরদৃষ্টিশক্তি কমকিন্তু ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তিপ্রবল।

বাংলাদেশের মধুপুর গড় থেকে শুরু করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, পার্বত্যচট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালী এলাকায় একসময় হাতির অবাধ বিচরণ ছিল।বাসস্থান ধ্বংস, বন উজাড়, জনসংখ্যার চাপ, সংরক্ষণের অভাব, খাদ্যের অভাব ওচলাচলের পথে বাধার কারণে বাংলাদেশে হাতির অবস্থা সঙ্গীন। গত ১১ বছরে বাংলাদেশে মানুষের হাতে ৬২টি হাতি মারা পড়েছে। এই হিসাববন বিভাগের। এর আগের হিসাব বন বিভাগের কাছে নেই। তিন বছর ধরে মানুষের হাতেহাতির মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।বর্তমানেঅল্পকিছু হাতি শুধু চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের চিরহরিৎ বনে টিকে আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পুরুষ হাতিদের ডাকা হয় ‘মাকনা’ নামে। আইইউসিএন বাংলাদেশের এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বন্যঅবস্থায় হাতির সংখ্যা মাত্র ২৫০টি।

হাতিযখনবিপদে

বিশালকায় হাতির চারপাশে দরকার বিশাল বনভূমি। কিন্তু আজ মানুষেরবিবেকহীন

উন্নয়নকাজের কারণে তাদের টিকে থাকাকঠিন হয়ে পড়েছে। আকারে বড় হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে হাতি।প্রায়ই পত্রিকায় দেখা যায়, বন্য হাতিগুলো লোকালয়ে ঢুকে মানুষের ঘরবাড়িক্ষতি করছে। ফসল নষ্ট করছে।এই কারণে হাতি নিধন তো চলছেই, পাশাপাশি দাঁত, চামড়া ও মাংসের জন্য প্রতিবছর গোপনে বন্য হাতি নিধন অব্যাহতআছে।

হাতি রক্ষার ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাংলাদেশ থেকে অচিরেই হারিয়ে যাবে এইপ্রাণী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় হাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া হাতিকে বলা হয় আমব্রেলা স্পিসিস। কারণএকটি হাতি বনে ছাতার মতো কাজকরে। হাতি যদি বেঁচে থাকে, তাহলে বনও টিকে থাকবে। একটি বনটিকে থাকা মানে হাজার হাজার জীববৈচিত্র্যেরভারসাম্য ঠিক থাকা। গণ্ডার, বারশিঙ্গা, বুনো মহিষ, গোলাপি মাথার পাতিহাঁসপ্রভৃতি প্রাণী দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হাতি যেন সে পথ না ধরে, সে জন্যআমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

তথ্যসূত্র

১.http://savetheelephants.org/about-elephants/

২.https://en.wikipedia.org/wiki/Elephant

৩.http://www.banglamail24.com/news/2015/03/04/id/164774

৪.World Animal Science: Zoo Animal, Pub: Elsevier, Amsterdam-Lausanne- New York- Oxford-Shannon- Tokyo

পাখি বিজ্ঞানী সালিম আলি ও ভারতবর্ষে পাখিচর্চা

হিমালয়ের পাদদেশে ছোট্ট এক বালক মনের সুখে পাখি শিকার করতো এয়ারগান দিয়ে। একদিন তার গুলিতে ঘায়েল হয়েছিল এক আজব ধরনের চড়ুই পাখি। এর মাংস হালাল (বৈধ) কিনা তা জানার জন্য সোজা চলে গেলো চাচা আমিরুদ্দিনের কাছে। তখন ১৯০৮ সাল। আমিরুদ্দিন ছিলেন বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির আদি সদস্যদের একজন। তিনি বালকটিকে পাঠিয়ে দিলেন সোসাইটির সেক্রেটারি ওয়াল্টার স্যামুয়েল মিলার্ডের কাছে। মিলার্ডের অমায়িক ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে গেল বালকটি। এখানে উপলব্ধি করতে পেরেছে ছোট বলে নেই কোনো অবহেলা। সেইসাথে প্রথম দর্শনেই পাখিটির ঠিকুজি জানা হয়ে গেল- হলুদ কণ্ঠী চড়ুই (Petronia xanthocollis)

শুধু তা-ই নয়, সেক্রেটারি সাহেব তার বিশাল সংগ্রহশালা উম্মুক্ত করে কৌতূহলী বালককে দেখালেন নানা ধরনের চড়ুই পাখির স্টাফ করা মৃতদেহ। খুলে গেলো বালকের মনের দরজা, শুরু হলো এক নতুন যুগের। খামোখা এয়ার গান দিয়ে গুলি করে বেড়ানো বালকটি ঝুঁকে পড়লো পাখি এবং প্রকৃতি নিয়ে বিশদভাবে জানতে।

বালকটি আর কেউ নয়। ১৮৯৬ সালের ১২ নভেম্বর ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম নেয়া বিখ্যাত পক্ষীবিদ এবং প্রকৃতিপ্রেমী সালিম মঈজুদ্দীন আব্দুল আলী বা সংক্ষেপে সালিম আলী।

মিলার্ড সালিমকে পাখি সম্পর্কিত কিছু বই ধার দেন। তার মধ্যে কমন বার্ডস অব বোম্বে ছিল অন্যতম। সালিমকে পাখির একটি সংগ্রহ সৃষ্টির জন্য তিনি উৎসাহ দেন আর কীভাবে পাখির চামড়া ছাড়াতে হয় ও সংরক্ষণ করতে হয় সে ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। মিলার্ড ছোট্ট সালিমের সাথে নরম্যান বয়েড কিনিয়ারের পরিচয় করিয়ে দেন। কিনিয়ার ছিলেন বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির সর্বপ্রথম বেতনভুক্ত কিউরেটর।

চিত্রঃ সালিম আলী

ভারতীয় পাখিদের তুলে ধরতে সালিম আলি ব্যবহার করেছিলেন তার লেখনী ও বক্তৃতার মঞ্চ। সালিম আলি প্রথম তুলে আনলেন ভারতবর্ষের পক্ষীচর্চার ইতিহাস। সারা পৃথিবী জানলো ভারতবর্ষেও পাখি নিয়ে গবেষণা হয়।চড়ুইয়ের সেই ঘটনাটিই তার পক্ষীবিদ হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা রাখে। জীবনের প্রথম দিকে তিনি শিকার সম্পর্কিত বইপত্র পড়তেন এবং ঐ সময় তার ঝোঁক ছিল শিকারের দিকেই। তার আশেপাশের এলাকায় প্রায়ই শিকার প্রতিযোগিতা হতো। তার শিকারের অন্যতম সহচর ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা, যিনি নিজে খুব ভাল শিকারী ছিলেন।

মুঘল আমলের আগে পাখিদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনার বিক্ষিপ্ত চেষ্টা হলেও সেগুলো তেমন নির্ভরযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক চেষ্টা শুরু হয় মহামতি বাবরকে দিয়ে। সালিম আলির মতে, প্রচলিত ধারণাকে আশ্রয় করে পাখির বর্ণনা তৈরি করতেন না সম্রাট বাবর। তার আলাদা একটি দৃষ্টিভঙ্গীর প্রয়োগ করতেন তিনি। একটি উদাহরণ দেয়া যাক। শীতকালে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মোনাল ফিজ্যান্ট (Monal pheasant) নেমে আসে পাহাড়ের পাদদেশে। উড়ার পথে ফিজ্যান্টের দল যদি কোনো আঙুর ক্ষেতের উপর দিয়ে যায়, তখন চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়ে যায় সেখানেই।

বাবর লিখছেন “এসব কথার সত্যতা সৃষ্টিকর্তাই জানেন। আমি বুঝি যে এর মাংস বেশ সুস্বাদু।” এসব উদ্ভট কথায় যে বাবরের আস্থা নেই এটি তারই দৃষ্টান্ত। তবে মুঘল সম্রাটদের মধ্যে পাখি সম্পর্কিত জ্ঞানের ভাণ্ডার গড়ে তুলেছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীর। তার সম্পর্কে বলা হয়, সম্রাট না হয়ে তিনি যদি কোনো ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের প্রধান হতেন তাহলে হয়তো অনেক বেশি সুখী হতেন। এমনই ছিল তার পাখিপ্রেম।

রাজসভায় তিনি স্থান দিয়েছিলেন বিখ্যাত চিত্রকর ওস্তাদ মনসুরকে। তার কাজ ছিল নতুন নতুন পাখির ছবি আঁকা। জাহাঙ্গীরের আগ্রহ জানতো তার সাম্রাজ্যের সবাই। এমনকি বিদেশীরাও জানতো। তাই নজরানা হিসাবে তারা নিয়ে আসতো এলাকার বিশেষ প্রজাতির পাখি। সেগুলো সম্রাটের হাতে পৌঁছনো মাত্রই তিনি মনসুরকে নির্দেশ দিতেন পাখির নিখুঁত ছবি আঁকতে। সৌভাগ্যক্রমে, এর মধ্যে বেশ কিছু ছবি আজও সংরক্ষিত রয়েছে। কলকাতার ভারতীয় যাদুঘরেও রয়েছে এগুলোর নমুনা।

ছবির পাশাপাশি পাখির চেহারা, বাসস্থান এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ তৈরি করতেন জাহাঙ্গীর। সেসব বর্ণনা ধরা রয়েছে তার স্মৃতিকথায়। ১৬২৪ পর্যন্ত চলে জাহাঙ্গীরের স্মৃতিকথা রচনা। এ সময়ের মধ্যে কত যে পাখির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন তা ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়। সালিম আলি জানিয়েছেন, তার দরবারে বিখ্যাত ডোডো পাখিও পৌঁছেছিল। তবে সেটি ১৬২৪ সালের পরে। ফলে সেটির ছবি থাকলেও স্মৃতিকথায় তার উল্লেখ নেই।

চিত্রঃ সম্রাট জাহাঙ্গীর।

জাহাঙ্গীরের সাম্রাজ্য বা আরো পরে মুঘল সাম্রাজ্য ধ্বংস হবার পরে সম্রাটের সংগৃহীত বহু নমুনা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্লভ পাখি নিয়ে একরকম লুটের খেলা চলছিল সেখানে। যিনি পাখির নমুনা চুরি করছেন, তিনি হয়তো জানেনও না তার গুরুত্ব। লুটেরাদের দলে অবশ্যই ছিল ব্রিটিশরা।

তবে তাদের অপরাধের পাশাপাশি গুনপনাও কিছু কম ছিল না। ব্রিটিশ রাজপুরুষদের অনেকেরই আগ্রহ ছিল পাখিদের সম্পর্কে তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলায়। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ভারতে প্রথম পাখি সম্বন্ধীয় বৈজ্ঞানিক সংকলন তৈরী করেছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক জার্ডন। ১৮৬২ এবং ১৮৬৪ সালে তিনি প্রকাশ করেন ‘বার্ডস অফ ইন্ডিয়া’র দুটি খন্ড। এর পরে যে ঘাটতি ছিল তা পূরণ করেন দুজন ভারতীয় ব্যক্তি- সালিম আলি এবং সিডনি ডিলো রিপলে। দশ খন্ডে তারা প্রকাশ করেন ‘হ্যান্ডবুক অব দ্য বার্ডস অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তান’। প্রকাশকাল ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৩। এতগুলো খণ্ড প্রকাশের পরও যে বিষয়টি সালিম আলিকে চির অতৃপ্ত রেখেছিল তা হলো পাখিদের স্থানীয় নামের নির্ভরযোগ্য তালিকা সম্পূর্ণ করতে না পারা।

পাখির মতোই আরেকটি জিনিস ভালবাসতেন সালিম আলী- মোটরসাইকেল। সময়টা ১৯৫০ সাল। সুইডেনের আপসালাতে বসেছে পক্ষীবিদদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। প্রথম অধিবেশন শুরু হতে তেমন দেরি নেই। সকলে পৌঁছে গিয়েছে। একজন ভারতীয় অবশ্য তখনও পৌঁছায়নি। কোথাও আটকে গেলেন

নাকি? অনুপস্থিত থাকবেন? এমন ভাবনা যখন ঘুরছে আয়োজকদের মনে, তখন হঠাৎ মোটরসাইকেলের গর্জন। একটা সানবীম মডেল ব্রেক কষে দাঁড়াল সভাঘরের বাইরে। নামলেন সেই ভারতীয়। মুহূর্তের মধ্যে খবর চাউর হয়ে গেল যে ভারত থেকে সোজা বাইকে করে আপসালা পৌঁছেছেন এক ভারতীয় পক্ষীবিদ! তিনিই আমদের সালিম আলি, চুয়ান্ন বছর বয়সে ফিল্মি হিরোর মতো বাইকে করে আবির্ভূত হতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই যাঁর। এতটাই আকর্ষণ মোটরবাইকের প্রতি যে একটা মডেল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি তিনি। শুধু হার্লে-ডেভিডসনেরই তিন রকম মডেল ছিল তার কাছে।

চিত্রঃ মোটর বাইকে করে ঘুরে বেরিয়েছেন অনেক দেশ।
 

 

এছাড়াও একটা করে ডগলাস, স্কট, নিউ হাডসন এবং জেনিথ মোটরবাইক চালিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। অবশ্য সানবীমের গল্পটা পুরোপুরি সত্যি নয়। ভারত থেকে গোটা পথ ঐ বাইকে পাড়ি দেননি তিনি। বম্বে থেকে জাহাজে করে ইউরোপে আনান বাইকটা, উদ্দেশ্য ছিল সম্মেলনের আগে সেটাতে করে ইউরোপ চক্কর দেওয়া। এ কাজ করতে গিয়ে ফ্রান্সে ছোটখাটো দুর্ঘটনায় পড়লেন, জার্মানীর মসৃন, বাঁধানো রাস্তায় আছাড়ও খেলেন বেশ কয়েকবার। তাতে কী? ভালবাসার জন্য কত কিছু করা যায়, হাত-পায়ে চোট তো সামান্য ব্যাপার।

সিরিয়াস বিজ্ঞান সালিম আলীকে টানেনি কোনোদিন। পরিণত বয়সে একবার তিনি প্রতিষ্ঠিত পক্ষীবিদ রিপলেকে বেশ রাগ করেই লিখেন, পক্ষীচর্চার সবটাই যদি কাঠ-কঠিন নামকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তিনি ছেড়েই দেবেন বিষয়টি। অরণ্যে পাখিদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ অধ্যয়ন ছেড়ে তিনি এধরনের ট্যাক্সোনমির যুদ্ধ করতে আগ্রহী নন।

মজার কথা, প্রাণিবিজ্ঞানে সালিম আলির প্রশিক্ষণ মাত্র ১ বছরের। ১৯১৭ সালে দুটো কলেজে একসাথে ভর্তি হন। একটিতে পড়াশোনার বিষয় ছিল আইন ও হিসাবশাস্ত্র, আর অন্যটিতে প্রাণিবিজ্ঞান। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান রেভারেন্ড ব্ল্যাটার এবং শিক্ষক প্রফেসর মুল্লানের উৎসাহে ১৯১৭ সালে প্রাণিবিদ্যার উপরে বি.এস.সি পাশ করেন।

নিজের আত্মজীবনী ‘দ্য ফল অফ আ স্প্যারো’তে ৩ বছরের স্মৃতির কথায় বলেছেন পাহাড়ি ঝর্ণার উচ্ছলতায় নানা ধরনের রঙচঙে বার্মিজ পাখি দেখার অভিজ্ঞতা। যদিও তার দূরবীন ছিল না তখনো। মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রবাস জীবনের দীর্ঘ ৬০ বছর পরও সালিম আলী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পাখিগুলো কোনো স্থানের, কোনো গাছের কোনো ডালে কীভাবে বসেছিল তা মনে করতে পারেন! বার্মার সেই চমৎকার

বাড়িতে স্ত্রী তাহমিনার সাথে নতুন জীবন শুরু হয় তার। সাথে যোগ দেয় বার্মিজ রূপালি ফেজ্যান্ট পাখির সংগ্রহ করা ডিম ফুটিয়ে বের হওয়া ছানা, বনবিড়াল, গাছ-ছুঁচো, উড়ন্ত লিমার ও পাকরা ধনেশ। তাহমিনা এবং সালিম একসাথে কিন্ডারগার্টেনে পড়তেন শিশুকালে। পরবর্তীতে তাহমিনা বাবার সাথে অনেক বছর বিলেতে কাটিয়ে ভারতবর্ষে ফেরেন। অনেকটা পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয় ১৯১৮ সালের ডিসেম্বরে।

সালিমের বয়স তখন ২২। স্ত্রী সম্পর্কে উজ্জল স্মৃতিচারণ করছেন তিনি- তাহমিনা ভালবাসতেন বই, কবিতা, প্রকৃতিতে হাঁটতে, ফুল এবং বাগানের পরিচর্যা করতে। স্বামীর কাজের সময় পাখি নিয়ে আসলেই উৎসাহী হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

প্রাণীদের সমীক্ষার সাথে মূলত যুক্ত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে বাবুই পাখির সামাজিক জীবন সম্পর্কে তার গবেষণা ও মুক্ত ভাবনা স্পষ্টতার দিক দিয়ে জুলিয়ান হাক্সলির গবেষণার সঙ্গে তুলনীয়। জীবনে পুরোটা সময় পাখি নিয়ে গবেষণা করেছেন ভারত, পাকিস্তান, বার্মা, বিলেতসহ নানা দেশে। এসব করতে করতে ১৯৮৭ সালে ৯১ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

পেয়েছেন ভারতবর্ষের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদকসহ The Birdman of India খেতাব। তার নামে নামকরণ করা হয়েছে রক কোয়েল (Perdicula argoondah salimalii), Finn’s Weaver (Ploceus megarhynchus salimalii)। বিশ্বের বিরলতম বাদুড়দের একটির নামকরণও করা হয়েছে তার নামে (Latidens salimalii)। তার স্ত্রী তাহমিনার নামে নামকরন করা হয়েছে একটি কাঠঠোকরার (Dinopium benghalense tehminae)। জম্মু-কাশ্মীরে তার নামে ন্যাশনাল পার্কের নামকরণও করা হয়েছে। তবে এসব কিছু ছাপিয়ে সালিম আলী আছেন হাজার হাজার পাখিপ্রেমীর হৃদয়ে।

সালিম আলি তার সারা জীবনই নিজেকে দেখেছেন একজন শখের পক্ষীবিদ হিসেবে। অথচ শখের বাইরে থেকে তিনিই তৈরি করেছেন পেশাদারিত্বের সুউচ্চ মান। বিজ্ঞানী মাধব গ্যাডগিলের মতে, তার পর্যবেক্ষণের কৌশল ছিল মুঘল সম্রাট বাবর ও জাহাঙ্গীরের মতো- দ্রুত ধারণা তৈরি করা, কিন্তু যুক্তিনিষ্ঠতা বজায় রাখা। হয়তো আবেগের

বশে কোথাও কোথাও তিনি কিঞ্চিৎ সরে গিয়েছেন যুক্তির নিগড় থেকে। তবে তার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় ছিল পাখিদের সংরক্ষণ।

তথ্যসূত্র

১। পাখিপ্রাণ সালিম আলি, মানস প্রতিম দাস।

২। The fall of a sparrow by Salim Ali.

৩। http://www.famousscientists.org/salim-ali/

৪। http://www.sachalayatan.com/tareqanu/49314

৫। http://www.univnotes.com/2016/10/life-history-of-salim-ali.html

৬। https://en.wikipedia.org/wiki/Salim_Ali

লম্বাগলা জিরাফ

পাশ দিয়ে ছ’ফুট লম্বা কেউ হেঁটে গেলে আমরা গলা লম্বা করে তাকাই, আর বলি বাহ কত লম্বা! জিরাফ, ডাঙার সবচেয়ে লম্বা প্রাণী। বৈজ্ঞানিক নাম G. Camelopardalis। একটি জিরাফ প্রায় ১৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। আজকে এই জিরাফ নিয়েই কিছু ব্যতিক্রমী জিনিস দেখবো।

​​লম্বা গলায় রক্ত সঞ্চালনের জন্য জিরাফের হার্ট অনেক বড় এবং শক্তিশালী হয়ে থাকে। জিরাফের মাথায় দুই থেকে চারটি শিং দেখা যায়। যদিও বিজ্ঞানীরা একে শিং হিসাবে মানতে নারাজ। আসলে তরুণাস্থি দিয়ে মাথার ত্বকের উপরের এই শিং আসলেই cornual process of skull নয়।

জিরাফের দৃষ্টিশক্তি খুব প্রখর। ফলে বহুদূরের শত্রুকেও জিরাফ সহজেই দেখতে পারে। এছাড়া জিরাফ খুব জোরে দৌড়াতে পারে। আক্রমণের শিকার হলে জিরাফকে ঘণ্টায় প্রায় ৫৬ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে দেখা গেছে। জন্মের সময় একটি জিরাফ প্রায় ৬ ফুট লম্বা হয় এবং এর ওজন থাকে গড়ে ৬৮ কেজি। অনেক জিরাফের মাথায় দুইটি বা চারটি ভোঁতা শিং থাকে। জিরাফের জিভও খুব লম্বা। নিজের কান পরিষ্কারের জন্য জিরাফ তার প্রায় ২১ ইঞ্চি লম্বা জিভ ব্যবহার করে।

দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে বলে সিংহকেও সাবধানে থাকতে হয়। কারণ জিরাফের লাথির আঘাতে সিংহ মারাত্মক আহত হতে পারে। এছাড়া আক্রমণের ভয়ে জিরাফ কখনো বসে ঘুমায় না বা বিশ্রাম নেয় না। কারণ জিরাফের বসতে যেমন সময় লাগে প্রচুর, তেমনি বসা থেকে দাঁড়াতেও অনেক সময় নেয়। এছাড়া প্রকৃতিগতভাবেই জিরাফ লম্বা হওয়ায় বসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তবে দলগতভাবে থাকা অবস্থায় কিছু কিছু জিরাফ মাঝে মাঝে বসে বিশ্রাম নেয়। পানি খাওয়া, ঘুমানো কিংবা দিনের বেলা বিশ্রামের সময় অন্তত একটি জিরাফ আশেপাশে নজর রাখে শত্রুর উপস্থিতি জানানোর জন্য। খুব নিচু আওয়াজে এরা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। এদের গলার আওয়াজ ২০ হার্জেরও নিচে। ফলে জিরাফের আওয়াজ মানুষ শুনতে পায় না। জিরাফ সাধারণত নিজেদের মধ্যে লড়াই করে না। তবে খেলাধুলা করার সময় কিংবা খুব বেশি রাগান্বিত হলে পুরুষ জিরাফরা মাঝেমধ্যে এক অন্যের সাথে লড়াই করে।

দীর্ঘ আকাশিয়া গাছের পাতাই এদের অন্যতম খাদ্য। অন্য প্রাণীরা অবশ্য এই লম্বা গাছের পাতা খেতেও পারে না। জিরাফের আরেকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা উটের মতো পানি না খেয়ে দীর্ঘদিন কাটিয়ে দিতে পারে। স্বাভাবিকভাবে একটানা সাতদিন পানি না খেলেও এদের কোনো সমস্যা হয় না। গাছের পাতায় যে পানি থাকে, তা দিয়েই তাদের চাহিদা মিটে যায়।

নাচতে জানে জিরাফ

নিজের দীর্ঘ ঘাড় ব্যবহার করে নাচ প্রদর্শন করে জিরাফ। জিরাফের এই নাচকে ইংরেজিতে বলা হয় নেকিং (necking)। নেক মানে ঘাড়। কিন্তু জিরাফের বেলায় আমরা বলতে পারি ঘাড়তেড়ামি! মানুষের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও আসলে দুই পুরুষ জিরাফের আধিপত্য ছড়ানোর লড়াই এটি। যাতে ঘাড়ই তাদের প্রধান ও একমাত্র অস্ত্র। লড়াইয়ে বিজয়ী পুরুষ জিরাফই স্ত্রী জিরাফের সংস্পর্শে আসতে পারে।

এত সুন্দর প্রাণী আজ বিলুপ্তির পথে। IUCN এর Red List এ নাম উঠে গেছে তার। আসুন আমরা পরিবেশের প্রতি একটু সচেতন হই। আর এই বর্ষায় অন্তত একটি করে গাছ লাগাই।

তথ্যসূত্রঃ

১। World Animal Science: Zoo Animal, Pub: Elsevier, Amsterdam-Lausanne- New York- Oxford-Shannon- Tokyo

২। https://en.wikipedia.org/wiki/Giraffe

৩। http://animals.sandiegozoo.org/animals/giraffe

৪। www.banglanews24.com/feature/news/357155

৫। IUCN Red book.

 

বিপদে বিশাল বপু হাতি

হাতি তার বিশাল বপু নিয়ে সবচেয়ে বড় স্থলচর প্রাণীর অবস্থান দখল করে আছে। হাতির আছে ইয়া বড় মাথা আর খুবই ছোট ঘাড়। আছে কুলার মতো কান আরমোটা থামের মতো চারটি পা। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ হলো শুঁড় আর দাঁত। সেসব নিয়েই আজকের প্রাণীজগতের আয়োজন।

আগেকার সময়ে হাতি আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেব্যবহৃতহতো। মুঘল সম্রাটদের সকলেই হাতির পিঠে ভ্রমণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। কালের বিবর্তনে শুধু সার্কাসেই পোষা হাতির দেখা মেলে।

হাতি Prboscidae বর্গভুক্ত Elephantidae গোত্রের প্রাণী । সারা পৃথিবীতে অনেক প্রজাতির হাতি দেখা যায়।তাদেরকে মোটা দাগে এশিয়ান আর আফ্রিকান দুই ভাগে ভাগ করা যায় । আমরা যে হাতি দেখি তা ভারতীয় হাতি(Elephas maximus)

দুই মহাদেশের হাতির আকার ও গঠনে বিস্তর পার্থক্য । এশিয় হাতি লম্বায় গড়ে আট থেকে দশ ফুট আর আফ্রিকান হাতি বারো তেরো ফুট লম্বা হয় । এশিয় হাতিদের কান ছোট ছোট এবং শুঁড়ের উপর খাঁজ থাকে না ।  এশিয় হাতির কান বড় সন্দেহ নাই, তবে আফ্রিকান হাতির কানের আড়ালে অনায়াসেই আপনাকে আড়াল করে রাখা যাবে।আফ্রিকান হাতির রঙ কুচকুচে কালো আর চোখগুলোও তুলনামূলকভাবে বড়।

এরা  ছোট ঘাড়ের জন্য মাথা নুইয়ে খেতে পারে না। এজন্য প্রকৃতি দিয়েছে লম্বা শুঁড়।মজার একটা তথ্য জানাই, হাতির পাগুলোর পরিধি মেপে দ্বিগুণ করলেই পাওয়া যাবে এর উচ্চতা । এ যাবত পাওয়া সবচেয়ে বড় হাতি বুশ হাতি।এদের পাওয়া যায় আফ্রিকার গহীন বনে।

শুঁড়

হাতির শরীরের অদ্ভুত এক অঙ্গ শুঁড়। এদের নাক বড় হয়ে শুঁড়েপরিণত হয়। নমনীয় এই অঙ্গটির শেষ প্রান্তে নাকসদৃশ ছিদ্র রয়েছে, যার সাহায্যে চলে শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ। শুঁড়ের শেষ প্রান্তে আঙ্গুলের মতো অভিক্ষেপের সাহায্যে এরা ছোট খাট জিনিস সহজে ধরতে পারে। শুঁড় দিয়ে পানি শুষে মুখে দেয় আর গরমের সময় গায়ে ছিটায় ফোয়ারার মতো। ভারী জিনিস বহন করা,মানুষকে সালাম করা,খাবার প্রক্রিয়াজাত করে মুখে পুরে দেয়া সহ সকল কাজের কাজী এই শুঁড়।

দাঁত

হাতির দুইটি ছেদন দাঁত আছে।এগুলো মুখ থেকে বাইরে বেরিয়ে থাকে। বড় আকারের দাঁত আত্নরক্ষার অন্যতম অবলম্বন। এশিয়হাতির দাঁত দুই থেকে পাঁচ ফুট লম্বা আর ওজনে ২০ কেজির মতো হয়। আফ্রিকান হাতির দাঁত আরো বড়। এগুলো ছাড়াও হাতির আরো ৪৮টি দাঁত আছে। হাতিরা সবগুলো দাঁতএকবারে কাজে লাগায় না। প্রথমে পিছনের দাঁতগুলো ব্যবহার করে।ক্ষয়ে গেলেব্যবহার করতে শুরু করে সামনের দাঁতগুলো। একদম বৃদ্ধ বয়সে কাজে লাগায় সামনের পেষণ দাঁতগুলো। এলো ভীষণ মজবুত আর খুব উপকারী। যে কোনো কিছু নিমিষেপিষে ফেলতে পারে। কিন্তু এই দাঁতগুলোই হাতিদের জন্য আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা এগুলো মানুষের বাজারেঅনেক দামী।দাঁতের লোভে চোরাশিকারিরা হত্যা করেছে লক্ষ লক্ষ হাতি।

মেজাজ মর্জি

হাতি সামাজিক প্রাণী। খুবই শান্ত প্রকৃতির। বিপদে না পড়লে কাউকে ঘাঁটায় না।বাচ্চাদের নিয়ে দলবদ্ধভাবেবসবাস করে। ৩০থেকে ৬০ জন মিলে একটি দল গঠন করে থাকে বুনো হাতিরা। দলপতি থাকে একটিনারী হাতি। সবাই দলপতির কথা মেনে চলে। বিপদে সবাইকে সাহায্য করায় হাতিরা অনুকরণীয় আদর্শ।হাঁটে ঘণ্টায় ৪ মাইল বেগে। তবে দরকার

চিত্রঃ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস২০১৬ উপলক্ষে হাতি নিধনের জন্য প্রতিবাদ হিসেবে ১৫ টন মূল্যবান হাঁতির দাঁত বা আইভরি আগুনে পুড়িয়েছেন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা।

পড়লে ৩০-৪০ মাইল বেগেও ছুটতে পারে।পুরুষ হাতি শুধু প্রজনন মৌসুমে স্ত্রী হাতির দলে যোগ দেয়। প্রায়চার থেকে পাঁচ বছর পর পর স্ত্রী হাতি একটিমাত্র বাচ্চা প্রসব করে থাকে এবংপুরো জীবদ্দশায় ১০ থেকে ১২টি বাচ্চা জন্ম দেয়। মানব সমাজের দাইয়ের মতোই হাতিদেরসাহায্য করে দলের আরো কয়েকটি স্ত্রী হাতি।

চিত্রঃ চিড়িয়াখানায় সদ্য জন্ম নেয়া হাতি শাবক।

বাংলাদেশের বুনো হাতি

একটি হাতি ৬০ থেকে ৭০ বছরপর্যন্ত বাঁচে। গর্ভ-ধারণকাল ১৮ থেকে ২০মাস।এরালতাপাতা, বাকল, ফলমূল ইত্যাদি খায়। কলাগাছ ভারতীয় হাতিরখুব প্রিয় খাবার। দিনে প্রায় ৩০০কেজির মতো খাবার সাবাড় করতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ হাতি।হাতিদেরদৃষ্টিশক্তি কমকিন্তু ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তিপ্রবল।

বাংলাদেশের মধুপুর গড় থেকে শুরু করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, পার্বত্যচট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালী এলাকায় একসময় হাতির অবাধ বিচরণ ছিল।বাসস্থান ধ্বংস, বন উজাড়, জনসংখ্যার চাপ, সংরক্ষণের অভাব, খাদ্যের অভাব ওচলাচলের পথে বাধার কারণে বাংলাদেশে হাতির অবস্থা সঙ্গীন। গত ১১ বছরে বাংলাদেশে মানুষের হাতে ৬২টি হাতি মারা পড়েছে। এই হিসাববন বিভাগের। এর আগের হিসাব বন বিভাগের কাছে নেই। তিন বছর ধরে মানুষের হাতেহাতির মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।বর্তমানেঅল্পকিছু হাতি শুধু চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের চিরহরিৎ বনে টিকে আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পুরুষ হাতিদের ডাকা হয় ‘মাকনা’ নামে। আইইউসিএন বাংলাদেশের এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বন্যঅবস্থায় হাতির সংখ্যা মাত্র ২৫০টি।

হাতিযখনবিপদে

বিশালকায় হাতির চারপাশে দরকার বিশাল বনভূমি। কিন্তু আজ মানুষেরবিবেকহীন

উন্নয়নকাজের কারণে তাদের টিকে থাকাকঠিন হয়ে পড়েছে। আকারে বড় হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে হাতি।প্রায়ই পত্রিকায় দেখা যায়, বন্য হাতিগুলো লোকালয়ে ঢুকে মানুষের ঘরবাড়িক্ষতি করছে। ফসল নষ্ট করছে।এই কারণে হাতি নিধন তো চলছেই, পাশাপাশি দাঁত, চামড়া ও মাংসের জন্য প্রতিবছর গোপনে বন্য হাতি নিধন অব্যাহতআছে।

হাতি রক্ষার ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাংলাদেশ থেকে অচিরেই হারিয়ে যাবে এইপ্রাণী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় হাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া হাতিকে বলা হয় আমব্রেলা স্পিসিস। কারণএকটি হাতি বনে ছাতার মতো কাজকরে। হাতি যদি বেঁচে থাকে, তাহলে বনও টিকে থাকবে। একটি বনটিকে থাকা মানে হাজার হাজার জীববৈচিত্র্যেরভারসাম্য ঠিক থাকা। গণ্ডার, বারশিঙ্গা, বুনো মহিষ, গোলাপি মাথার পাতিহাঁসপ্রভৃতি প্রাণী দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হাতি যেন সে পথ না ধরে, সে জন্যআমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

তথ্যসূত্র

১.http://savetheelephants.org/about-elephants/

২.https://en.wikipedia.org/wiki/Elephant

৩.http://www.banglamail24.com/news/2015/03/04/id/164774

৪.World Animal Science: Zoo Animal, Pub: Elsevier, Amsterdam-Lausanne- New York- Oxford-Shannon- Tokyo