বেলুন চালিত ইন্টারনেট

সমগ্র বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ অনলাইন সার্চ ইঞ্জিনে প্রবেশ করতে পারে না। তাদের কথা ভেবে গুগল নিয়ে এলো বেলুন-চালিত নেটওয়ার্ক যা দূরবর্তী এবং ইন্টারনেটের পরিধির বাইরে অবস্থিত অঞ্চলগুলোর জন্য উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করবে।

এই প্রজেক্টের সাথে জড়িত আছে বেশ কিছু টেলিযোগাযোগ কোম্পানি, যারা বেলুনগুলোর এলাকায় ফোর-জি বেতার সংকেত প্রেরণ করবে। প্রত্যেকটা বেলুন তখন একেকটা ক্ষুদ্রাকৃতির টাওয়ারের মতো কাজ করবে। এগুলো তাদের চারদিকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত ডিভাইসগুলোতে নেটওয়ার্ক প্রেরণ করবে।

ইতোমধ্যে নিউজিল্যান্ডে সফলভাবে প্রকল্পটির পরীক্ষাকার্য সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে এই প্রকল্প বিস্তারের মাধ্যমে দক্ষিণ গোলার্ধে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা। বেলুনগুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন উচ্চ তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলের অতিবেগুনী রশ্মিতেও টিকে থাকতে পারে।

featured image: goodtechgo.com

ঘর্ষণহীন হোভারবোর্ড

‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’ সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্রের আরেকটি ভবিষ্যৎবাণী সত্যি হতে যাচ্ছে। গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘লেক্সাস’ এমন একটি হোভারবোর্ড তৈরি করেছে, যা তড়িতচুম্বক ব্যবহার করে ভূমির ২.৫ থেকে ৫ সেন্টিমিটার উপরে থেকে ভাসাতে পারে।

তবে এখানে কিছু সমস্যা আছে। এই মুহূর্তে এটি একটি প্রোটোটাইপ হিসেবে আছে। বিক্রয়ের জন্য অবমুক্ত করা হয়নি। কেউ চাইলেই এই হোভারবোর্ড দিয়ে শূন্যে ভেসে ভেসে তার গন্তব্যে যেতে পারবে না। বোর্ডটা কেবলমাত্র বিশেষ চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের ওপর কাজ করবে এবং প্রতিবার একে বিশ মিনিটের জন্য ব্যবহার করা যাবে। তবে লেক্সাস যেহেতু দেখিয়েছে এটা সম্ভব, কে জানে ভবিষ্যতে হয়তো সত্যি সত্যি হোভারবোর্ড দিয়ে বাতাসে ভেসে নাটকীয় ভঙ্গীতে স্কুল-কলেজ-গন্তব্যে যেতে পারবে মানুষ!

লেক্সাসের হোভারবোর্ডের ভিতর রয়েছে আলাদা একটি কোর যা উপযুক্ত তাপমাত্রায় অতিপরিবাহী হিসেবে কাজ করে। এগুলো ক্রায়োস্ট্যাটসের মধ্যে অবস্থান করে। ক্রায়োস্ট্যাটস হচ্ছে তরল নাইট্রোজেনের আধার। এটা সুপারকন্ডাক্টর-গুলোকে তাদের উপযুক্ত তাপমাত্রায় উন্নীত হতে সাহায্য করে। তড়িচ্চুম্বকের মতো কাজ করার কারণে, সুপারকন্ডাক্টরগুলো একটি তড়িৎক্ষেত্র তৈরি করে যা ট্র্যাকের নিচে অবস্থানরত স্থায়ী চুম্বকে বাধা দেয়। বিপরীতমুখী দুই বলের সক্রিয়তার ফলে বোর্ডটি ভাসতে থাকে। এ অবস্থায় ২০০ কেজি পর্যন্ত ভর উত্তোলন করতে পারে এই হোভারবোর্ড। পানির নিচে চুম্বকের ট্র্যাক থাকলে হোভারবোর্ড পানির উপরেও কাজ করবে।

image source: autoevolution.com

প্রায় ২০ মিনিট পর তরল নাইট্রোজেন বাষ্পীভূত হয়ে যায়। যার কারণে সুপারকন্ডাক্টরগুলো উত্তপ্ত হয়ে যায়। ফলে হোভারবোর্ড আর ভেসে থাকতে পারে না।

এটা নিয়ে পরীক্ষা করার জন্য লেক্সাস স্পেনের বার্সেলোনায় একটি বিশেষ ‘হোভারপার্ক’ নির্মাণ করেছে যার তলদেশে চৌম্বকীয় ট্র্যাক রয়েছে।

featured image: eedesignit.com

 

পানির সুরক্ষায় প্লাস্টিকের বল

‘শেড বল’ পানিকে ময়লা-আবর্জনা, বন্যপ্রাণী ও অন্যান্য রাসায়নিক বিক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। লস এঞ্জেলস শহরে পানি নিরাপদ রাখার জন্য এদের ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় ৯৬ মিলিয়ন প্লাস্টিকের বল কাজে লাগানো হয়েছে সেখানে।

এত এত প্লাস্টিকের বল দিয়ে বোঝাই জলাধারগুলোকে দেখলে হয়তো বল দিয়ে বানানো বিশালাকৃতির একটা কূপ তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে হবে। এই শেড বলগুলো ক্ষতিকর রাসায়নিক বিক্রিয়া প্রতিরোধ করে সূর্যরশ্মিকে পানির নাগাল পাওয়া থেকে বাধা দেয়।

জলাধারগুলোর নিম্নদেশের পানিতে ব্রোমাইড এবং ক্লোরিন উভয় বিদ্যমান যেগুলো সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে এসে বিক্রিয়া করে ‘ব্রোমেট’ গঠন করে। ব্রোমেট একটি যৌগিক পদার্থ যা মানবদেহে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বলগুলো বাষ্পীভবন প্রতিরোধেও সাহায্য করার মাধ্যমে প্রতি বছর এক বিলিয়ন লিটার পানি সঞ্চয় করতে পারে।

featured image: inhabitat.com

শূন্যে শাক-সবজি চাষ

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের নভোচারীগণ মহাশূন্যে তাদের জন্মানো সবজির স্বাদ পরীক্ষা করে দেখেছেন। সবজি জন্মানোর এ পদ্ধতিতে লেটুস জন্মানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল কিছু বীজতলা, লাল, সবুজ ও নীল রঙের LED আর পানি। লাল আর নীল LED ব্যবহার করা হয়েছিল যেন তারা তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বিচ্ছুরিত করতে পারে। এটি উদ্ভিদের বৃদ্ধি সাধনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। সবুজ LED সেগুলোকে খাওয়ার জন্য আরো উপযোগী করে তুলতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

হয়তো একদিন মঙ্গলের দীর্ঘ অভিযানের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি পুষ্টিকর ও দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যের উৎস তৈরি করা যাবে।

featured image: gossipsociety.com

প্যারিডোলিয়াঃ এখানে ওখানে মানুষের মুখ

চাঁদে, বিকৃত আকৃতির সবজিতে, পোড়া টোস্টে মুখাবয়ব দেখার ঘটনা নতুন কিছু নয়। বার্লিন ভিত্তিক একটি সংঘ স্যাটেলাইট ইমেজারির মাধ্যমে পুরো গ্রহে এমন মানব-সদৃশ মুখাবয়বের জন্য অনুসন্ধান চালাচ্ছে। বেশির ভাগ মানুষ ‘প্যারিডোলিয়া’ শব্দটিই কখনো শুনেনি। কিন্তু প্রায় প্রত্যেকেরই এর সম্মুখীন হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে।

কেউ চাঁদের দিকে তাকিয়ে যদি দুইটি চোখ, একটি নাক ও একটি মুখ দেখতে পায় তবে সে ‘প্যারিডোলিয়া’ ব্যাপারটি অনুভব করতে পারবে। ওয়ার্ল্ড ইংলিশ ডিকশনারি অনুযায়ী, এটা হচ্ছে কোনো ছাঁচ বা অর্থ উপলব্ধি করার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ক্ষমতা। প্রকৃতপক্ষে যার সেখানে কোনো অস্তিত্ব নেই।

পূর্ব রাশিয়ার ম্যাগাডান প্রদেশের ল্যান্ডস্কেপে মুখমন্ডল

জার্মান ডিজাইন স্টুডিও প্যারিডোলিয়ার ব্যাপারে আরো খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিচ্ছে যেটা হয়তো এ নিয়ে করা বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে সিস্টেমেটিক প্রকল্প। তাদের ‘গুগল ফেসেস প্রোগ্রাম’ পরবর্তী কয়েকমাস গুগল ম্যাপে প্যারিডোলিয়ার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।

গুগল ফেসেস সম্পূর্ণ পৃথিবীকে বিভিন্ন কোণ থেকে কয়েকবার স্ক্যান করবে। এখনো পর্যন্ত প্রোগ্রামটি রাশিয়ার দূরবর্তী প্রদেশ ম্যাগাডানে একটি ভীতিজনক প্যারিডোলিয়ার সন্ধান পেয়েছে যা লোমশ নাসারন্ধ্রযুক্ত একটি মুখাবয়ব। এটি অ্যাশফোর্ড নামক স্থানে অবস্থিত।

আলাস্কার পর্বতের মধ্যেও এটি ম্যাঙ্গি প্রাণীর মুখ-সদৃশ প্যারিডোলিয়ার সন্ধান পেয়েছিল। তবে এমন অজায়গায় এসব মুখাবয়বের দেখা পাওয়ার ঘটনা এই প্রথমই ঘটেনি। এই সপ্তাহে, ইউএস ডিপার্টমেন্ট স্টোর ‘পেনি’ একটি কেটলি বিক্রি করে। সামাজিক সংবাদ মাধ্যম রেডিটে প্রকাশিত হওয়ার পর।


মাদার তেরেসা সদৃশ এই খাবারের আইটেমটির নাম ‘নান-বান’।

এই কেটলির মধ্যে থার্ড রেইকের নেতার চেহারার সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। গত বছর e-bay’তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের মতো দেখতে একটি চিকেন নাগেট ৮১০০ ডলার বিক্রি হয়েছিল। এক দশক আগে, ২০০০০ খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে ব্যাঙ্গালোরে গিয়েছিল যেখানে একটি চাপাতির মধ্যে আগুনে দগ্ধ যীশু খ্রিষ্টের প্রতিমা দেখা গিয়েছিল। কিছু দর্শনার্থী সেখানে প্রার্থনাও করেছিল।

একটি টাম্বলার সাইট আছে, যারা মূলত হিটলাদের সাথে সদৃশ আছে এমন জিনিস খুঁজে থাকে। ২০১১ সালে একটি সুন্দর সমতল বাড়ির ছবি প্রকাশ করেছিল যার ছাদের অংশটুকু ছিল একদম হিটলারের চুল আঁচড়ানোর ঢংয়ের অনুরূপ, আর এর দরজার ঢালাই ঠিক যেন হিটলারের চির পরিচিত গোঁফের স্মারক।

অ্যামেরিকান একটি ঘটনা। ডায়না ডায়জার নামে একজন মহিলা একবার স্যান্ডউইচ খেতে গিয়ে সেই স্যান্ডউইচের মধ্যে যিশু খ্রিস্টের মাতা ম্যারিকে দেখতে পান। প্রথমবার কামড় দাওয়ার পরে স্যান্ডউইচের মধ্যে ম্যারির প্রতিমা ভেসে ওঠে। স্যান্ডউইচের বাকি অংশ এক দশকেরও বেশি সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখে। ডায়জার বিক্রির জন্য স্যান্ডউইচটিকে e-bay’তে নিলামে তোলে যেখানে প্রায় ১.৭ মিলিয়ন আগ্রহী ব্যক্তির হিড়িক পড়ে যায়। স্যান্ডউইচটি শেষ পর্যন্ত ২৮০০০ ডলারে বিক্রি হয়।

ডায়না ডায়জার এবং তার পবিত্র স্যান্ডউইচ।

গুগল ফেসেস ডিজাইনার সেডরিক কাইফার এবং জুলিয়া লবও প্যারিডোলিয়া দ্বারা উৎসাহিত হয়েছিলেন। ১৯৭৬ সালে ভাইকিং ১ অরবিটারের তোলা বিখ্যাত ‘ফেস ইন মার্স’ দেখার পর এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন নিয়ে ঘাটাঘাটি করার পর তারা ভাবতে শুরু করেন কীভাবে প্যারিডোলিয়ার মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারটি একটি যন্ত্র দিয়ে জেনারেট করা যায়। তারা ভাবেননি তাদের প্রজেক্টটি খুব একটা সাড়া ফেলতে পারবে।

কিন্তু রাশিয়ান তান্দ্রায় এবং ব্রিটেনে তাদের তোলা মুখাবয়বের ছবিগুলো খুব দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছিল। কাইফার বলেন, এসব দেখে মনে হয় প্যারিডোলিয়ার সাথে আকর্ষণীয় কিছু ব্যাপার জড়িত।

চিত্রঃ ‘দ্যা ফেসেস ইন মার্স ১৯৭৬’ এর ছবি। পাশে সাম্প্রতিক কালের আরেকটি ছবি।

কিন্তু কেন মানুষ সেসব বস্তুর মধ্যে বিভিন্ন মুখাকৃতি দেখতে পায় যেগুলো প্রকৃতপক্ষে কোনো কিছুর দাগ বা প্রলেপ অথবা বিকৃত আকৃতির পাথর ছাড়া আর কিছুই না? এদের মধ্যে কিছু কিছু হলো বিবর্তনের পথে মানুষের ক্রমবিকাশের ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্য।

মানুষ জন্মগতভাবে মুখাবয়ব শনাক্ত করার ক্ষমতা পেয়ে থাকে। কয়েক মিনিট বয়সী একটা শিশু এমন কিছুর দিকে তার দৃষ্টি চালনা করবে যার মধ্যে মুখ-সদৃশ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। এমন কিছুর দিকে সে তাকাবে না যেখানে ঠিক একই বৈশিষ্ট্যসমূহ অবিন্যস্তভাবে থাকবে।

পরিচিত বা চেনা কিছু খোঁজার প্রবণতা এসেছে সেই আমাদের পূর্বপুরুষদের থেকেই। এক্ষেত্রে সর্বোত্তম উদাহরণ হতে পারে প্রস্তর যুগের মানব। ধরা যাক একটা ঝোপের পাশে দাঁড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে কোনো এক প্রস্তর যুগের মানুষ ভাবছে, ঝোপের ওপাশে খচমচে আওয়াজ সৃষ্টিকারী প্রাণীটি কি আসলে একটা বাঘ, নাকি অন্য কিছু?

আপনি বেঁচে যাবেন যদি আপনি ভেবে নেন যে ওখানে একটা খড়গ-দন্ত বাঘ রয়েছে এবং তাই তাড়াতাড়ি সেখান থেকে পালান। তা না করলে অন্যথায় আপনি সেই প্রাণীর দুপুরের খাবার হিসেবে পরিণত হতে পারেন।

চিত্রঃ পাতার মধ্যে মোনালিসা অথবা ভার্জিন মেরি, চকোলেটের মধ্যে ম্যাডোনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারিডোলিয়া হচ্ছে মস্তিষ্কের তথ্য প্রক্রিয়াকরণ সিস্টেমের প্রভাব। মস্তিষ্ক ক্রমাগতভাবে চক্রাকারে বিভিন্ন রেখা, আকৃতি, রঙ এবং পৃষ্ঠতলের মধ্য দিয়ে চলাচল করে। তবে অর্থ আরোপ করলে এদের অন্যরকম গুরুত্ব বোঝা যায়। যেমন দীর্ঘমেয়াদী কোনো শিক্ষা বা অভিজ্ঞতার সাথে এগুলো মিলানো। এই পূর্ব অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যাবার ফলই হচ্ছে প্যারিডোলিয়া।

চিত্রঃ গুয়াডালুপ রদ্রিগেজ টেক্সাসে একটি ক্যাফেটেরিয়া বেকিং ট্রে’র মধ্যে দেখতে পায় ভার্জিন মেরিকে।

প্যারিডোলিয়া মানুষের আশা-প্রত্যাশার ফলাফলও হতে পারে। টোস্টের মধ্যে যীশুকে দেখতে পাওয়াই বলে দেয় মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা সম্বন্ধীয় ব্যাপারগুলো নিয়ে কী ঘটছে। এটা হচ্ছে ইল্যুশনের একটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য, এটি খুব সহজে আপনার মনে একটা ব্যাপারকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে পারে।

কিন্তু কেন মানুষ এক টুকরো খাবারে পাওয়া মুখাবয়ব একটু দেখার জন্য তীর্থযাত্রা করে অথবা সেটা কিনার জন্য হাজার হাজার পাউন্ড খরচ করে? এর কারণ আধুনিক যুগের মানুষেরাও দৈব ঘটনায় বিশ্বাস রাখে। কেউ যদি দৈব ঘটনায় বিশ্বাস করে তাহলে প্যারাডলিয়া খুবই গুঢ় অর্থপূর্ণ হতে পারে। যার জন্য লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করা কোনো ব্যাপারই না।

তথ্যসূত্রঃ বিবিসি, http://www.bbc.com/news/magazine-22686500

নিজে নিজে কথা বলা পাগলামী নয়, প্রতিভা!

‘আত্মকথন’ অর্থাৎ একা একা কথা বলার কারণে অনেকের নামের সাথেই ‘পাগল’ তকমাটা পাকাপাকীভাবে জুড়ে যায়। অনেকেই হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, কিছু মানুষ মাঝে মাঝে শূন্যে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে একা একা আপনমনে বিড়বিড় করে যাচ্ছে। আলবার্ট আইনস্টাইনও কিন্তু নিজের সাথে কথা বলতেন। এমন অদ্ভুত স্বভাবের যেসব মানুষ দেখলেই তাদের পাগলের তালিকায় ফেলে দেয়া হয়, তাদের জন্য একটা সুখবর আছে। একা একা কথা বলা সম্পূর্ণ স্বাভাবিকতার লক্ষণ না হলেও এটা একটা প্রতিভা!

‘দ্য কোয়ার্টারলি জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজি’তে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সুইগলি এবং গ্যারি লুপ্‌য়্যা মনে করেন, একা একা কথা বলা প্রকৃতপক্ষে উপকারী। তারা এর কিছু উপকারিতা সম্পর্কে বলেছেন, এগুলোর সামান্য আলোকপাত করছি।

নিজের সাথে কথা বলার ফলে মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়

যখন কোনো মানুষ একটা কিছু চিন্তা করে এবং আপনমনেই বিড়বিড় করে, তখন তার চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়, যার ফলে স্মৃতি অধিকতর কর্মক্ষম হয়। চিন্তা করা এবং চিন্তার বিষয়বস্তু আপনমনে বিড়বিড় করা- এই অনবরত চর্চার কারণে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজ করার সামর্থ্য বাড়ে যা ব্যক্তিকে প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন হতে সাহায্য করে।

image source: slate.com

এ অভ্যাস প্রয়োজনীয় বস্তু দ্রুত খুঁজে পেতে সাহায্য করে

গবেষণা চালানোর সময় মনোবিজ্ঞানীরা কিছু মানুষকে বলেছিলেন সুপার মার্কেট থেকে দুটি জিনিস নিয়ে আসতে। পরীক্ষার প্রথম ধাপে তারা অংশগ্রহণকারীদের বলেছিলেন মার্কেটে নির্দেশিত জিনিসগুলো খোঁজার সময় তারা যেন মুখ দিয়ে কোনো শব্দ না করে নীরবে খুঁজতে থাকে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে তাদেরকে বলেছিলেন খোঁজার সময় তারা যেন আওয়াজ করে জিনিসগুলোর নাম বলতে থাকে। এর ফলাফল, দ্বিতীয়বারে তারা প্রথমবারের চেয়ে কম সময়ের মধ্যে জিনিসগুলো খুঁজে পেয়েছিল।

এই গবেষণা আরো বলে ‘আত্ম-কথন’ ব্যক্তিকে তার চিন্তাভাবনার সুষ্ঠু বিন্যাস ঘটাতে সাহায্য করে। একজন মানুষ সারাদিন অজস্র বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে। নিজের সাথে কথা বলার ফলে একজন একটা নির্দিষ্ট ব্যাপারে স্পষ্টভাবে চিন্তা করতে পারে এবং গুরুত্ব অনুযায়ী চিন্তাভাবনাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, এ অভ্যাস ব্যক্তিকে তার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে। প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং সুবিন্যস্ত চিন্তাভাবনা একজন মানুষকে তার পরিকল্পিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

image source: ngozionwukwe.blogspot.com/

তাহলে এখন বলা যায়, ‘আত্মকথক’দের আসলে পাগল বলা উচিত নয়। যাদের এমন অভ্যাস আছে, তাদের মন খারাপ করার কিছু নেই। তার উপরে এটা তো ‘প্রতিভা’ বলে সনদ দিচ্ছে!

featured image: krxmedia.com