আপনার ‘মল’ আপনাকে কী বলছে শুনেছেন কি?

চলুন, আজকে আপনার ‘ইয়ে’র সম্পর্কে কিছু জেনে নেয়া যাক। প্রতিদিন কম করে হলেও একবার ‘ইয়ে’র সাথে আপনার দেখা হয়। কিন্তু সমস্যা হলো বেশির ভাগ মানুষই তার ‘ইয়ে’কে ভালো মতো দেখে না। আর দেখবেই বা কেন? ‘ইয়ে’ তো আর অনন্য সুন্দর কিছু না যে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকতে হবে। ‘ইয়ে’ হলো স্টুল (Stool), শুদ্ধ বাংলা ভাষায় যাকে বলে ‘মল’।

দেখতে খারাপ হলেও এ স্টুলই আপনাকে জানিয়ে দিতে পারে আপনার শরীরের কলকব্জার কোনোটি বিদ্রোহ করল কিনা। শরীরের অবস্থা সম্পর্কে জানার শর্টকাট উপায়। কীভাবে বুঝবেন? খুব সোজা, স্টুলেও কালার দেখে বোঝা যায় ঠিক কোথায় সমস্যা হচ্ছে। তাই বলে একগাদা লাল শাক খেয়ে ভাববেন না, ‘ইয়া আল্লাহ, লাল স্টুল! আমি তো গেছি।’ এ লেখায় আপনি দুটো জিনিস শিখতে পারবেন- (১) স্টুলের বিভিন্ন রঙ দিয়ে আসলে কী বুঝায় এবং (২) স্টুল ত্যাগ করার সঠিক পজিশন কী।

রঙ বেরঙ এর দুনিয়া

হালকা বাদামিঃ দারুণ! আপনি সুস্থ আছেন। অধিকাংশ মানুষের ধারণা স্টুলের স্বাভাবিক রঙ বুঝি হলুদ। এটা একেবারেই ভুল ধারণা। স্টুলের স্বাভাবিক রঙ হালকা বাদামি। আর এ রংয়ের জন্য দায়ী বিলিরুবিন। স্বাভাবিক স্টুলে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ হয় না।

সবুজঃ এটা একইসাথে দুটো জিনিস বোঝাচ্ছে। হয় আপনি খুব বেশি পরিমাণে সবুজ শাক সবজি খাচ্ছেন যার কারণে বাদামি স্টুল হয়ে গেছে সবুজ, অথবা যদি শাক সবজি খাওয়া ছাড়াই স্টুল সবুজ হয় তাহলে বুঝতে হবে শরীরে কোথাও গড়বড় আছে। আপনি যে খাবার খাচ্ছেন সেটা ঠিকমতো পরিপাক হচ্ছে না। যা খাচ্ছেন সেটি খুব দ্রুত স্টুলে পরিণত হচ্ছে।

image source: mamanatural.com

যেমন ধরুন, কোনো খাবার খেয়ে ঠিকমতো পরিপাক হয়ে স্টুল হতে সময় লাগে ২ মিনিট যার ভেতর ১ মিনিট সে থাকে বৃহদান্ত্রে। কোনো কারণে যদি অন্ত্র তাকে ১ মিনিট ধরে রাখতে অস্বীকার করে এবং পরের ধাপে পাঠিয়ে দেয় তাহলেই আপনার স্টুল হয়ে যাবে সবুজ। জিনিসটা খুব একটা ভালো না, কারণ আমাদের বেশির ভাগ পুষ্টি এ স্তরে শোষিত হয়।

হলুদঃ কখনো খেয়াল করেছেন কিনা, এ ধরনের হলুদ স্টুলে বাজে গন্ধ বেশি হয়! যারা মোটাসোটা, তাদের দেহে অধিক পরিমাণ চর্বি জমে আছে। সাধারণত তাদের স্টুল হলুদ হবার প্রবণতা থাকে। আর এ বিচ্ছিরি রকমের হলুদ স্টুল দিয়ে বোঝায়, আপনার শরীরে চর্বির শোষণে গোলমাল হয়েছে। জন্ডিস হলেও স্টুল ক্যাটকেটে হলুদ হয়ে যায়।

কালোঃ টানা কিছু দিন আঠালো কালো স্টুল হচ্ছে? এখনই ডাক্তারের কাছে দৌড় দিন। এ জিনিস খুব একটা ভালো না। কারণ কালো স্টুল ইঙ্গিত করে আলসার বা ক্যান্সারের কারণে আপনার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তবে মাঝে মাঝে কিছু ড্রাগ,ভিটামিন সাপ্লিমেন্টও স্টুলের কালো রঙয়ের জন্য দায়ী।

সাদাঃ স্টুলের সাধারণ রঙের জন্য যে দায়ী উপাদান বিলিরুবিন ঠিকমতো খাবারের সাথে মিশতে পারছে না। সাদা রংয়ের স্টুল দিয়ে বোঝায়, বিলিরুবিন আসার জন্য যে নালীকা আছে সেটায় কোনো বাধার সৃষ্টি হয়েছে। তাই বেশ কিছুদিন সাদাটে ধূসর কিংবা সাদা স্টুল দেখলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যান।

লাল/উজ্জ্বল লালঃ কালো স্টুলের মতো আরেকটি বাজে ও বিপজ্জনক স্টুলের রঙ হলো লাল। এর মানে হলো আপনার পায়ুপথ বা পরিপাকতন্ত্রের কোথাও রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যদি কখনো দেখেন স্টুল লাল দেখাচ্ছে বা স্টুলের সাথে রক্ত যাচ্ছে, তাহলে এক মিনিটও দেরি না করে সাথে সাথেই ডাক্তারের কাছে চলে যাবেন।
ত্যাগ

রংয়ের ব্যাপার তো গেলো। এবার আসি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কীভাবে মল ত্যাগ করবেন সেই আলোচনায়। প্রশ্ন করতে পারেন ‘আরে, এটা আর এমন কী ব্যাপার?’ সত্যি কথা হচ্ছে, এটা আসলে অনেক কিছু। কমোড আমাদের দেশে দুই ধরনের হয়ে থাকে, নিচু কমোড ও হাই কমোড।

আমাদের দেশে বেশিরভাগ মানুষ নিচু কমোডেই অভ্যস্ত। তাদের নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই, কারণ এভাবে বসার পজিশনই সবচেয়ে ভালো। কিছুটা পা ভাঁজ করে বসার ফলে যে কোণ তৈরি হয় সেটি মলনালী থেকে স্টুল বের হবার জন্য আদর্শ। কিন্তু যারা হাই কমোডে বসে মল ত্যাগ করতে পছন্দ করেন তারা এবার একটু চোখ ফেরান।

হাই কমোডে বসে মল ত্যাগ করা অনেকটা চেয়ারে বসে থাকার মতো। কেউ যখন চেয়ারে বসে থাকে তখন পায়ুপথের স্ফিংটারগুলো একটি বাকানো লুপ তৈরি করে যা পায়ু ছিদ্রকে ওপরের দিকে চাপ দেয়। সোজা ভাষায় স্টুলটিকে রেকটামের ভেতরে সুন্দর করে ধরে রাখে।

কেউ মল ত্যাগ করছে কিন্তু তার স্ফিংটার যতটুকু রিল্যাক্স হবার দরকার ছিল ঠিক ততটুকু হতে পারছে না। এ পজিশন ঠিক স্বাস্থ্যসম্মত নয়। কারণ মল বের হবার জন্য যতটুকু জায়গা দরকার ততটুকু পাচ্ছে না।

যারা অসুস্থ, নিচু কমোডে বসতে সমস্যা তাদের বেলায় তাহলে কী হবে? একটা উপায় আছে। মল ত্যাগের সময় পায়ের নিচে উঁচু কিছু দিয়ে রাখতে পারেন। এতে বসার পজিশন ঠিক সেভাবেই থাকবে যেটা মল ত্যাগের জন্য সবচেয়ে ভালো।

সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানেই শেষ করছি।

featured image: factinate.com