উষ্ণতম গ্রহ বুধ নয় শুক্র

সূর্যের সবচেয়ে নিকটে থাকা সত্ত্বেও বুধ সৌরজগতের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রহ নয়। কারণ বুধের কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। ফলে সূর্যের বিকিরণ ধরে রাখতে পারে না। অন্যদিকে এর পরের গ্রহ শুক্রে বায়ুমণ্ডল আছে এবং তাতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য থেকে নির্গত তাপ বেশি পরিমাণে শোষণ করে নিতে পারে।

featured image: astrobob.areavoices.com

 

সৌরজগতের শীতলতম স্থান

সূর্যের অনেক নিকটে থাকা সত্ত্বেও সৌরজগতের সবচেয়ে শীতলতম স্থান চাঁদে অবস্থিত। এমনকি সবচেয়ে দূরে অবস্থিত প্লুটোতেও নয়। চাঁদের একটা অংশে কখনোই সূর্যের আলো পৌঁছায় না। যার কারণে সে স্থানে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম। হিমাংকের নীচে প্রায় ৪০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট। এমনকি সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধের অনেক অংশেও কখনো সূর্যের আলো যেতে পারে না। ফলে বলে সেখানেও তাপমাত্রা অনেক কম থাকে।

featured image: wired.jp

যেভাবে হতে পারে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের সমাপ্তি

দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে নাসার প্রেরিত হাবল স্পেস টেলিস্কোপ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে চলছে। নিঃসন্দেহে ২৬ বছর অনেক বড় একটা সময়। ২৬ বছর ধরে একটা যন্ত্র ঠিকঠাক মতো কাজ করে যাওয়াও খুব ইতিবাচক একটা লক্ষণ। তবে এটাও সত্য যে অন্যান্য যন্ত্রের মতো হাবল টেলিস্কোপও চিরস্থায়ী নয়। অনেকদিন ধরে টিকে আছে মানে এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শীঘ্রই এর ভগ্নদশা চলে আসছে। সময় থাকতে আগেভাগেই কিছু একটা করা উচিত।

স্পেস শাটল ডিসকভারির মাধ্যমে ১৯৯০ সালের ২৪ এপ্রিল হাবল টেলিস্কোপকে মহাকাশে প্রেরণ করা হয়। কেন একটা টেলিস্কোপকে মহাকাশে প্রেরণ করতে হবে? অনেকদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা অনুভব করে আসছিলেন ভূপৃষ্ঠে স্থাপিত টেলিস্কোপের মাধ্যমে পাওয়া চিত্র অনেক ত্রুটিপূর্ণ। কারণ বায়ুমণ্ডল দূষিত। মহাকাশের পরিষ্কার ছবি পাওয়া যায় না।

১৯৪৬ সালের দিকে লাইম্যান স্পিটজার নামে একজন বিজ্ঞানী পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে একটি টেলিস্কোপ স্থাপনের সম্ভাব্যতা ও তার সুবিধাদির কথা বর্ণনা করে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। তখন থেকে বায়ুমণ্ডলের বাইরে টেলিস্কোপ স্থাপনের ব্যাপারটি জোর পায়। কিন্তু প্রযুক্তি অনুকূলে হয় না। অনেকদিন পরে ১৯৯০ সালে এই চাহিদা বাস্তবে রূপ নিলো, হাবল বায়ুমণ্ডলের বাইরে স্থাপিত হলো।

চিত্রঃ উৎক্ষেপণ মুহূর্তে হাবল টেলিস্কোপ

কক্ষপথে স্থাপনের পর থেকেই হাবল মহাকাশ সম্বন্ধে একের পর এক অসাধারণ তথ্য ও প্রমাণাদি দিয়ে যাচ্ছিল। মাঝে একটি সমস্যা হয়েছিল, ছবি ঝাপসা আসছিল। পরে ১৯৯৩ সালে মহাকাশচারীদের নিয়ে টিম গঠন করে এর ত্রুটি সংশোধন করা হয়। সংশোধনের পাশাপাশি আরো উন্নতও করা হয়। এই টেলিস্কোপকে ব্যবহার করে মহাকাশ ও জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান সম্বন্ধীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করা হয়েছিল। এর মাঝে আছে মহাবিশ্বের প্রসারণের প্রমাণ, গ্যালাক্সির কেন্দ্রে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব ইত্যাদি।

সময়ের সাথে সাথে যেন এটিও বয়স্ক হয়ে গেছে। এই কিংবদন্তীর সমাপ্তি নিয়েও ভাবনা চিন্তা করার সময় চলে এসেছে। হাবল টেলিস্কোপকে অপারেট করার দল আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্যক্ত করেছেন যে, হাবল ২০২০ সাল পর্যন্ত ত্রুটিহীনভাবেই সেবা দিয়ে যাবে। এমনকি ২০২০ সালের পরেও আরো বেশ কয়েক বছর ভালোভাবে সেবা দেবার সম্ভাবনা আছে।

এ মুহূর্তে হাবল কেমন অবস্থানে আছে? অল্প স্বল্প ত্রুটি বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে? হাবল মিশন অফিসের প্রধান কেন সেমব্যাচ জানিয়েছিলেন, হাবল এখন চমৎকার অবস্থায় আছে। নিকট ভবিষ্যতে হাবলের কোনো সমস্যা হবে বলেও তিনি মনে করেন না।

কীসের এদিক সেদিক হতে পারে?

  • নিয়ন্ত্রণের কৌশলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। হাবলের তিনটি নিয়ন্ত্রণ বোর্ড আছে। তিনটিই আগের প্রযুক্তির। এখনকার প্রেক্ষিতে বলা যায় এগুলোর সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে।
  • নিয়ন্ত্রণ সেন্সরগুলো ঠিকমতো অপরিবর্তিত থাকতে হয়, কিন্তু এরা উচ্চ বিকিরণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চিত্রঃ কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ
  • তবে আশার কথা হচ্ছে এটা নিয়ে ভাবার আরো অনেক সময় আছে। কম করে হলেও আরো ২০২০ সাল পর্যন্ত ভালোভাবে কাজ করবে হাবল টেলিস্কোপ। যদি এর কোনো রক্ষণাবেক্ষণ করা না হয় তাহলেও এর ধ্বংস হতে অন্তত ২০৩০ সাল নাগাদ অপেক্ষা করতে হবে।
  • রি-একশন হুইল ঠিকঠাকমতো কাজ না করলে হাবল তার উপজোগীতা হারাবে। হাবলের চারটি রি-একশন হুইল আছে। কাজ চালানোর জন্য কমপক্ষে তিনটি হুইল সক্রিয় থাকতে হয়। হাবলের একটি হুইল নষ্ট হয়ে গেলে আর কোনো বিকল্প থাকবে না। তখন অকেজো হবার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এখানে উল্লেখ করে রাখা উচিত যে ২০০৯ সালে নাসার প্রেরিত কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ তার কার্যকারিতা হারিয়েছিল হুইল নষ্ট হয়ে যাবার জন্যই। ২০১৩ সালে এর চারটির মাঝে দুটি হুইল নষ্ট হয়ে যায়। (তবে কেপলার একেবারেই অকেজো হয়ে যায়নি, K2 নামে নতুন একটি মিশনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কেপলারকে।)
  • কম্পিউটার ও প্রোগ্রাম সংক্রান্ত কোনো ত্রুটির ফলেও হাবলের সমাপ্তি ঘটতে পারে। সমস্ত সিস্টেমের সাথে যুক্ত আছে এমন কোনো প্যানেলে ত্রুটি দেখা দিলে টেলিস্কোপের পুরো সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিবে। এর ফলে হাবল ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে। এমনটা হওয়া খুব দুর্লভ কিছু নয়। তবে কর্তৃপক্ষ আশার কথা জানাচ্ছেন, হাবলের বেলায় এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা একদমই কম।
  • হাবল পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে ৫৬৮ কিলোমিটার উপরে থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণের কারণে এই দূরত্বের পরিমাণ কমছে। এভাবে দূরত্ব কমতে থাকলে এবং নিজের ক্ষতি করতে থাকলে ভাবতে হয় এটি আর কতদিন সুস্থ ও বৈজ্ঞানিকভাবে উৎপাদনশীল থাকবে? এই অবস্থায় দুটি কাজ করা যেতে পারে। প্রথমটা হচ্ছে প্রথাগত উপায়ে হাবলকে আরো নিচে নামিয়ে কোনো সমুদ্রের মাঝে নামিয়ে ফেলা। দ্বিতীয়ত বিশেষ পদ্ধতিতে একে আরো উপরের স্তরে পৌঁছে দেয়া।

  • হাবল টেলিস্কোপকে নিয়ে যদি কোনো চিন্তাই করা না হয়, কোনো খোঁজ-খবর নেয়া না হয় তাহলে একদিন এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রবল ঘর্ষণে ধ্বংস হয়ে যাবে। এই পদ্ধতিতে একে শেষ হয়ে যেতে দিলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন কিছু বিশেষজ্ঞ।
  • তাই হাবলকে উপরে পাঠালে কিংবা নিয়ন্ত্রিত উপায়ে নীচে নামিয়ে আনলেই হবে ভালো একটা সমাধান। কিন্তু দুইটা উপায়ের যেটাই করা হোক না কেন তাতে একটা স্পেস মিশনের দরকার হবে। কিন্তু এখনকার প্রযুক্তির তুলনায় পুরাতন এই টেলিস্কোপটিকে আবারো অনেক ব্যয় ও ঝামেলা করে উপরের স্তরে পাঠানো হবে নাকি এই অর্থ, সময় ও শ্রম নতুন কোনো একটি স্পেস টেলিস্কোপের পেছনে দেয়া হবে তাও ভাবার বিষয়।

পাশাপাশি হাবলকে নিয়ে অন্যান্য বিকল্প চিন্তাভাবনাও করা হচ্ছে। নাসার প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট জেমস ওয়েবার স্পেস টেলিস্কোপ (JWST)-র সাথে হাবলের সমাবেশ ঘটানোর কথাও বলা হচ্ছে। জেমস ওয়েবার টেলিস্কোপ ছবি তুলবে অবলোহিত (Infrared) আলোকের চোখ দিয়ে, আর হাবল ছবি তুলে দৃশ্যমান আলোকের চোখ দিয়ে।

দৃশ্যমান আলোতে তোলা ছবি ও অবলোহিত আলোতে তোলে ছবি পরস্পর তুলনা করলে অনেক ব্যতিক্রমী তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে হাবলের কিংবা জেমস ওয়েবারের একার তোলা ছবি থেকে উভয়ের তোলা ছবির সম্মিলিত রূপ অধিক পরিমাণ সঠিক তথ্য বহন করবে।

তথ্যসূত্র-স্পেস ডট কম, জিরো টু ইনফিনিটি (এপ্রিল ২০১৫) ও নাসা

২০ ফুট লম্বা ফিতাকৃমি

চীনের মধ্যাঞ্চলে সাধারণত ফিতাকৃমির সংক্রমণ হয় না। পরিবেশগত কারণেই হয়তোবা এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে এর উৎপাত কম। কিন্তু ২০১৬ সালের শুরুর দিকে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটে। ডাক্তাররা এক ব্যক্তির অন্ত্রে খুঁজে পান ২০ ফুট লম্বা এক ফিতাকৃমি। একে তো ঐ অঞ্চলে এধরনের সংক্রমণ কম তার উপর এত বেশি লম্বা হওয়াতে অবাক হয়ে যায় সবাই। দুই বছর ধরে এই কৃমিটি বাস করছিল ঐ লোকের দেহে।

image source: express.co.uk

জানা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি কাঁচা মাংস খেতে ভালোবাসেতেন, নিয়মিতই খেতেন সেদ্ধ না করা মাংস। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুই বছর ধরে লেগেই থাকে অসুস্থতা। বমি হতো, ক্ষুধামন্দা লেগে থাকতো, খেতে ইচ্ছে করতো না, পায়ুপথে ব্যথা করতো, শরীর দুর্বল লাগতো, আর ধীরে ধীরে ওজন কমতো। এক পর্যায়ে তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

ডাক্তার তার মলের নমুনা পরীক্ষা করে দেখতে পান তাতে ফিতাকৃমির ডিমের অস্তিত্ব আছে। এধরনের কৃমি দেহে থাকলে দেহের সকল শক্তি শুষে নেয়। খাদ্য খেলে সেসবের পুষ্টি শরীরে না গিয়ে যায় ঐ কৃমির পেটে। অসুস্থ হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক এক্ষেত্রে। সব দেখে ডাক্তার কৃমিনাশকের চিকিৎসা দিলেন। ওষুধ খাবার পর মাত্র ৩ ঘণ্টা পর বেরিয়ে আসে ২০ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা ফিতাকৃমি।

image source: sites.google.com

এই ঘটনার খবর এবং কৃমির আদি-অন্ত প্রকাশিত হয় দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ। কৃমিটির বৈজ্ঞানিক নাম Taenia saginata

তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

featured image: medicaldaily.com

আমিনা গুরিব-ফাকিম

ভারত মহাসাগরের দ্বীপ-রাষ্ট্র মরিশাসে জন্ম তার। গাছের প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ। আগ্রহ বায়োডাইভার্সিটি নিয়ে। এ্যারোমেটিক এবং মেডিসিনাল হার্ব কিংবা ফুল নিয়ে কাজ করতেন। এগুলোর বৈশিষ্ট্য জানার জন্য কখনো কখনো চলে যেতেন কবিরাজদের কাছে। বাওবাব গাছ তার সবচে প্রিয়। এতো এতো কাজে ব্যবহার হয় এ গাছ!

আমিনা ভাবতো, আমরা গাছদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারি। বেনজয়িনের কথাই ধরা যাক। তারা কত চতুর, পাতার আকার পরিবর্তনের পাশাপাশি আকৃতিও পরিবর্তন করে ফেলতে পারে। গাছেরা হলো জীববিজ্ঞানের জীবন্ত গবেষণাগার। পরবর্তীতে তিনিই একসময় মরিশাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তখন জীববিজ্ঞানের জন্য অনেক কর্মকাণ্ড করেন।

featured image: dw.com

ছোট্ট দেশ ভ্যাটিকান সিটি’র সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ভ্যাটিকান সিটি একটি প্রাচীরবেষ্টিত ছোট শহর, যার চারিদিকে ইতালির রাজধানী রোম পরিবেষ্টন করে আছে। আয়তন এবং জনসংখ্যা উভয় বিচারেই এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম স্বাধীন রাষ্ট্র। এর আয়তন মাত্র ৪৪ হেক্টর যা মোটামুটি আধা বর্গকিলোমিটারের সমান। জনসংখ্যা মোটামুটি ৮০০ জনের মতো। যার মধ্যে কেবল ৪৫০ জনের নাগরিকত্ব রয়েছে। অবশিষ্ট ৩৫০ জনের কেবলমাত্র সেখানে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি রয়েছে।

 

ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত হাতের ছাপ

এটি আট বছর বয়সী একটি শিশুর ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত হাতের ছাপ। পেট্রিডিশে ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধির পুষ্টিকর মাধ্যমে হাতের ছাপ থেকে বংশবিস্তারের মাধ্যমে ব্যাক্টেরিয়ার এ মানচিত্র তৈরি হয়েছে।

image source: boredpanda.com

নিচের ডানদিকের বৃত্তাকার কলোনীটি Bacillus জাতীয় ব্যাক্টেরিয়ায় তৈরি। রঙ্গীন কলোনীগুলো Serratia অথবা Micrococcus কিংবা yeast। এগুলো পরিবেশে এবং চামড়ায় সহজপ্রাপ্য। সাদা ছোট কলোনীগুলো Staphylococcus হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল যা একইভাবে হাতের চামড়ায় বিদ্যমান থাকে। বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তর্জনীর মাঝের অনুজীবগুলো বহিরাগত জীবাণু।
source: bigganpotrika

featured image: wattafact.com

নর্থ ক্যারোলিনার জমে যাওয়া কুমিরের বিখ্যাত ছবি

ছবিতে নর্থ ক্যারোলিনায় একটি জমে জাওয়া জলাভুমিতে বরফের স্তরের উপর একটি কুমিরের মাথা বের হয়ে জমে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সরীসৃপ, উভচর এর শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী। এদের বৈশিষ্ট্য হলো পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে সাথে এদের তাপমাত্রার হ্রাস-বৃ্দ্ধি ঘটে। পরিবেশের তাপমাত্রা কমে গেলে এদের বিপাকীয় কার্যক্রম ধীর হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে খুবই কমে যায়। তবে পুরোপুরি বন্ধ হয় না।

image source: theepochtimes.com

কুমিরের নাকটি বরফের উপরে রয়েছে যার মাধ্যমে এরা শ্বসন চালিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ার নাম ব্রুমেশন (brumation)। কিছু প্রজাতির কুমির চার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে। তবে বরফে জমে থাকা অবস্থায় এরা মোটামুটি সপ্তাহখানেক টিকে থাকতে পারে।

source: bigganpotrika.com

featured image: foxnews.com

জেফ বেজোসঃ অ্যামাজন ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা

জেফ বেজোস। পড়াশোনা করেছিলেন ইলেকট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। চাকরি বাদ দিয়ে অনলাইন বইয়ের দোকান হিসেবে শুরু করেন amazon.com, তারপর একে একে নতুন নতুন সংযোজন এবং কাস্টোমারের কাছে নিজের কোম্পানি আর ওয়েবসাইটের পরিচিতি বাড়ানো। সেখান থেকেই তিনি আজ ছয় অঙ্কের বেতন হাঁকান আর মালিক হয়েছেন ১০৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের।

image source: blog.creativewebo.com

featured image: afr.com

বন্দী হবে গ্রহাণু

গ্রহাণুদেরকে একসময় মহাকাশের ভিলেন হিসেবে দেখা হতো। জ্যোতির্বিদরা দূর নক্ষত্র বা গ্যালাক্সির কোনো ছবি তুলতে গেলে সেখানে প্রায় সময় ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কোনো এক গ্রহাণু। এদের যন্ত্রণায় নির্ভুল ছবি পাওয়া যায় না। অন্যদিকে গ্রহাণুরা পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে পৃথিবীর প্রাণিজগতের জন্য বিশাল হুমকি হতে পারে। পৃথিবীতে প্রতাপের সাথে দাপিয়ে বেড়ানো ডায়নোসরদের সমস্ত প্রজাতি তো বিলুপ্ত হয়ে গেছে পৃথিবীতে গ্রহাণুর আছড়ে পড়ার কারণেই।

কিন্তু সময় এখন পাল্টেছে। গ্রহাণু হতে পারে মহাকাশ গবেষণার চমকপ্রদ এক বিষয়। আমাদের সৌরজগতের উৎপত্তি বিকাশ ও বিবর্তনের অনেক তথ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে গ্রহাণু নিয়ে গবেষণা-বিশ্লেষণ করলে। ভবিষ্যতের মহাকাশ বাণিজ্যের এক উল্লেখযোগ্য উপাদান হবার সম্ভাবনা আছে এই গ্রহাণুর।

image source: cnet.com

জাপানের হায়াবুসা মহাকাশযান ২০১০ সালে একটি গ্রহাণু থেকে কিছু পরিমাণ ধূলিকণা নিয়ে ফিরে এসেছিল। নাসা এর চেয়েও বড় এক প্ল্যান করেছিল। একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে গ্রহাণু থেকে বড় আকারের নুড়ি নিয়ে আসা ছিল এ প্ল্যানের অংশ। কিন্তু পরবর্তীতে এই প্রজেক্টে নাসার পর্যাপ্ত পরিমাণ বাজেট হয়নি, যার কারণে এটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু তারপরেও গ্রহাণুকে ধরা, এতে অনুসন্ধান ও গবেষণা করার যথেষ্ট ভালো কারণ আছে। নাসা এর পেছনে সময় ও লোকবল দিয়ে খাটছেও।

কীভাবে করা হবে এ কাজ

প্রথমে নাসা কর্তৃপক্ষ রাসায়নিক জ্বালানী সম্বলিত একটি রকেটের সাহায্যে একটি রোবটিক মহাকাশযান প্রেরণ করবে। পাশাপাশি থাকবে খুবই কার্যকর একটি ইলেকট্রিক প্রপালশন সিস্টেম। এই সিস্টেম প্রয়োজনের সময় মহাকাশযানকে উপযুক্ত স্থানে বয়ে নিতে পারবে। সূক্ষ্মভাবে মহাকাশযানকে গ্রহাণুর পৃষ্ঠে অবতরণ করিয়ে সেখান থেকে উপযুক্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কয়েক টন ওজনের একটি নুড়ি তুলে আনবে।

এই নুড়ি তুলে আনতে রোবটিক হাত ব্যবহার করা হবে। ভরের দিক থেকে স্বল্প হবার কারণে গ্রহাণুর অভিকর্ষীয় টান কম। অভিকর্ষীয় টান কম বলে গ্রহাণুর পৃষ্ঠে এই কাজটা করতে কষ্টকর হবে। তবে আশার কথা যে গ্রহাণুর অভিকর্ষ বল কম হলেও একদমই শূন্য নয়। চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।

এরপর নুড়িটিকে সযত্নে চাঁদের কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। সম্ভব হলে পৃথিবীতে নিয়ে আসবে। একবার সফলভাবে চাঁদের কক্ষপথে স্থাপন করা গেলে পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা সহজেই ছোটখাটো মিশন নিয়ে এটি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা গবেষণা করতে পারবে।

কেন প্রয়োজন

আজকের যুগে পর্যটকরা যেমন বার্লিন, প্যারিস, কক্সবাজার, সুন্দরবন ঘুরে বেড়ায় তেমনই এমন এক সময় আসবে যখন এক গ্রহ থেকে আরেক গ্রহে যাওয়াও কক্সবাজার-সুন্দরবনের মতোই মামুলি ব্যাপার হয়ে যাবে। এমন ধরনের অল্প দূরত্বের বা অধিক দূরত্বের মহাকাশ ভ্রমণে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হচ্ছে পানি।

পৃথিবীতে প্রচুর পানি থাকলেও সৌরজগতের অভ্যন্তরে কিংবা নাক্ষত্রিক ভ্রমণে যথেষ্ট পরিমাণ পানি উড্ডয়নের সময় মহাকাশযানের সাথে করে নিয়ে যাওয়া যায় না। প্রকৌশলগত কিছু সমস্যা আছে তাতে। বেশি পানি নিলে ওজন বেড়ে যাবে, যা মহাকাশযানকে স্বল্প সময়ে উড়িয়ে নিয়ে যেতে বাধার সৃষ্টি করবে।

জ্বালানীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বেশি জ্বালানী নিলে বেশি পথ ভ্রমণ করা যাবে, আবার খুব বেশি নিলে ভর বেড়ে যাবে যা প্রাথমিক মুক্তিবেগ কাটিয়ে উড্ডয়নে সমস্যা করবে কিংবা উড়িয়ে নিতে সমস্যা করবে।

image source: theweek.com

এ সমস্যার মোটামুটি একটি সমাধান দিতে পারে গ্রহাণু। গ্রহাণুগুলোতে প্রচুর পানি বরফায়িত অবস্থায় থাকে। গ্রহাণুর জ্ঞাতি ভাই ধূমকেতু তো সবটাই বরফ। বর্তমানে মহাকাশে প্রতি কেজি পানি বহনে খরচ পড়ে ১০ হাজার ডলার। গ্রহাণু থেকে পানি ব্যবহার করলে খরচের পরিমাণ কমে যাবে দশ গুণ। প্রতি কেজি পানি বহন করতে লাগবে ১ হাজার ডলার।

চিত্রঃ এভাবেই নুড়ির বড় খণ্ডকে নিয়ে আসা হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে চাঁদের পৃষ্ঠেও বরফ আছে। কিন্তু চাঁদে বরফ থাকলেও তা থেকে বরফ মুক্ত করে কক্ষপথে নিয়ে আসা যথেষ্ট জটিল কাজ। চাঁদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে সহজে করা যাবে গ্রহাণু থেকে পানি সংগ্রহের কাজ।

একটি গবেষণায় দুই জন বিজ্ঞানী দেখিয়েছেন সৌরজগতে অনেক অনেক গ্রহাণু আছে যারা পানি বহন করে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য এগুলো যথেষ্ট। এদের মাঝে অনেক গ্রহাণুই আছে যাদের কাছে সহজে পৌঁছা সম্ভব।  এসব গ্রহাণু থেকে বরফ সংগ্রহ করে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে উপযুক্ত স্থানে নিয়ে আসা এবং সৌরশক্তি বা যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহার করে তাদের গলিয়ে পানিতে রূপান্তর করা প্রকৌশলগত দিক থেকে অসম্ভব কিছু না।

যথেষ্ট পরিমাণ প্রযুক্তিগত উন্নতি লাভ করলে গ্রহাণু থেকে মহাকাশযানের জ্বালানীও সংগ্রহ করা যেতে পারে। ওজন বহনের সীমাবদ্ধতার কারণে মহাকাশযানগুলো বেশি জ্বালানী নিতে পারে না, সেক্ষেত্রে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে গ্রহাণু। গ্রহাণুর বরফকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যাবে অক্সিজেন আর হাইড্রোজেন।

অক্সিজেন জ্বলতে সাহায্য করে আর হাইড্রোজেন ব্যবহার করা যেতে পারে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ক হিসেবে। যা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। যদিও হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া মানুষের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রক্রিয়াটা অনেক চ্যালেঞ্জিং। উল্লেখ্য সূর্যের সমস্ত শক্তি তৈরি হচ্ছে হাইড্রোজেনের নিউক্লীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমেই।

অন্যদিকে  মানুষের জন্য অক্সিজেন কতটা মূল্যবান তা না বললেও চলে। পৃথিবীতে অক্সিজেন অহরহ ও সহজলভ্য হলেও মহাকাশযানে তা সহজলভ্য নয়। পৃথিবীতে যেমন না চাইলেও অক্সিজেনের সাগরে ভেসে থাকা যায় মহাকাশযানে এমন সুবিধা নেই। তাই এখানে মানবিক প্রয়োজনেও গ্রহাণু তথা অক্সিজেন খুব কাজে আসতে পারে।

আরো বেশি কাল্পনিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করলে চলে আসে মহাকাশে কলোনি তৈরির কথা। হাইটেক সায়েন্স ফিকশন। পৃথিবী দূষিত হয়ে গেছে তাই পৃথিবী থেকে বাইরে থাকতে হচ্ছে- এমন পরিস্থিতিতে মানুষের পক্ষে কলোনি তৈরি করা লাগতে পারে। আর কলোনি তৈরি করতে হলে অবশ্যই মাল মশলা লাগবে। এসব ইট পাথর কাঁচামালের যোগান দিতে পারে গ্রহাণুরা। হাজার হাজার বছর আগে থেকেই তৈরি হয়ে আছে ভবিষ্যতে আমাদেরকে সেবা দেবার জন্য।

তবে এখানে সমস্যা কিছু সমস্যা আছে। এই ধরনের মিশন প্রচুর ঝুঁকিপূর্ণ। ছোটখাটো একসিডেন্টে বড় ধরণের মূল্য দিতে হবে। তার উপর গ্রহাণু শিকারে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে প্রকৌশল ও প্রযুক্তির দিক থেকে আরো উন্নত হতে হবে পৃথিবীকে। পৃথিবীবাসী হিসেবে এমন একটা দিনের আশা করছি যেখানে মানুষ বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-প্রকৌশলে এমন উন্নতি লাভ করবে যে গ্রহাণু শিকার করা একটা মামুলী ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

তথ্যসূত্র: IFLScience, University of Glasgow, NASA

বিজ্ঞানী পরিচিতিঃ বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা জনকদের মধ্যে একজন। তিনি বিবিধ বিষয়ে দক্ষ ছিলেন। ফ্রাঙ্কলিন একাধারে একজন লেখক, চিত্রশিল্পী, রাজনীতিবিদ, রাজনীতিক, বিজ্ঞানী, সঙ্গীতজ্ঞ, উদ্ভাবক, রাষ্ট্রপ্রধান, কৌতুকবিদ, গণআন্দোলনকারী এবং কূটনীতিক। বিজ্ঞান বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে তার অবদানসমূহ বেশ উল্লেখযোগ্য। তিনি তড়িৎ সংক্রান্ত বিবিধ বিষয়ে তার অবদান রাখেন। তিনি বজ্রনিরোধক দন্ড, বাইফোকাল লেন্স, ফ্রাঙ্কলিনের চুলা, অডোমিটার, ফ্রাঙ্কলিন হারমোনিকা ইত্যাদি উদ্ভাবন করেন।

featured image: nps.gov

নীল আর্মস্ট্রংদের বাংলাদেশ সফর

চন্দ্রজয় হয়েছিল ১৯৬৯ সালে। সে বছরই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে সফরে এসেছিলেন চন্দ্রবিজয়ীরা। তেজগাঁও বিমানবন্দরে মানুষের ঢল নেমেছিল সেদিন। সে ঢলের ছবি এটি।

featured image: ibtimes.co.uk

বিজ্ঞানী পরিচিতিঃ স্টিফেন হকিং

মাত্র ২১ বছর বয়সে শারীরিক অক্ষমতা ধরা পড়ে। সে সময় ডাক্তাররা তার আয়ু নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন ২ বছর। ত্রিশ বছর বয়সের আগেই তার নড়াচড়া করার ক্ষমতা অনেকাংশ রহিত হয়ে যায়। হয়ে পড়েন স্থবির। শেষ পর্যন্ত কেবল হাতের একটি আঙ্গুল নাড়ানোর ক্ষমতা ছাড়া সর্বতভাবে অচল হয়ে যান। সে অবস্থায় নিজের দৃঢ় মনোবল আর প্রত্যয় দিয়ে হয়েছেন জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানী, হয়ছেন একজন সর্বজন নন্দিত বক্তা। তার লেখা বই বিক্রি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। তিনি বিখ্যাত কসমোলজিস্ট স্টিফেন হকিং।

courtesy: bigganpotrika.com

featured image: sciencemag.org

ডি ব্রগলীর কণা-তরঙ্গ দ্বৈততাঃ কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ইতিহাসে এক বিরাট লাফ

লুই ডি ব্রগলী ভৌতবিজ্ঞানের জগতে যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গী প্রদান করে গেছেন, তা যদি আমাদের বর্তমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে প্রকাশ করা হতো, তবে শিরোনামটা বোধহয় এমনই হতো। পুরো পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রচলিত, প্রতিষ্ঠিত, বারংবার পরীক্ষিত ও প্রমাণিত তত্ত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে নতুন তত্ত্ব প্রদানের ঘটনা খুব কমবারই ঘটেছে।

আর যখনই তা ঘটেছে, তা হয়েছে যুগান্তকারী। কিন্তু, ডি ব্রগলী ছিলেন আরো একধাপ এগিয়ে। তিনি যুগান্তকারী তত্ত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে আরেক যুগান্তকারী তত্ত্ব প্রদান করেছিলেন। কণা-তরঙ্গ দ্বৈততার রূপকার লুই ডি ব্রগলী কী করেছিলেন তা জেনে নেয়া যাক।

পরমাণুর বস্ত্রহরণের যে বিপ্লব উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে শুরু হয়েছিল, তাতে ১৯৯৮ সালে জে জে থমসন তার পরমাণুর মডেল প্রস্তাব করেন এবং বলেন, পরমাণুতে একটি ধনাত্বক চার্জিত পাত্রের মাঝে ঋণাত্বক চার্জিত ইলেকট্রন বিক্ষিপ্তভাবে থাকে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে জাপানি পদার্থবিদ হ্যানতারো নাগাওকা সর্বপ্রথম “কক্ষীয়” পরমাণুর ধারণা দেন। ইলেকট্রনগুলো পরমাণুতে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না থেকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রদিক্ষণ করে, এই কথা তিনিই সর্বপ্রথম বলেন।

তবে তার তত্ত্বে নিউক্লিয়াসের ধারণা অনুপস্থিত থাকায় তা বিপ্লব সৃষ্টি করতে পারেনি। কিছুদিনের মাঝেই নাগাওকার অনুরূপ তত্ত্ব প্রদান করে এবং নিউক্লিয়াসের ধারণা দিয়ে বিপ্লব সৃষ্টি করেন বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড। [1]

রাদারফোর্ডের মডেল অনেক ঘটনার সফল ব্যাখ্যা দিলেও চিরায়ত বলবিদ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল কিছুদিনের মাঝেই বাতিল হয়ে যায়। কারণ চিরায়ত বলবিদ্যারই অন্যতম অনুষঙ্গ “ম্যাক্সওয়েলের তাড়িতচৌম্বকীয় তত্ত্ব” রাদারফোর্ডের মডেলে প্রয়োগ করলে, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলে পরমাণুর স্থায়ীত্বের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।

এরপর ১৯১৩ সালে গুরু রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে বাঁচানোর জন্য নীলস বোর পরমাণুর অভ্যন্তরে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রয়োগ করেন। এতদিনের প্রতিষ্ঠিত তাড়িতচৌম্বকের নিয়মগুলিকেও তিনি হেসে উড়িয়ে দেন। বলে দেন, ওসব নিয়ম পরমাণুর অভ্যন্তরে খাটবেনা। চারিদিকে ধন্য ধন্য রব উঠে যায়।

চিত্রঃ শনি গ্রহকে ধনাত্বক আধান ও শনির বলয়কে ইলেকট্রনের কক্ষপথ ধারণা করে সর্বপ্রথম কক্ষীয় পরমাণুর ধারণা দেন বিজ্ঞানী হ্যানতারো নাগাওকা।

কিন্তু, এই ধন্য ধন্য রব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বর্ণালীর মিহিগড়ন(Fine structure), জিম্যান ক্রিয়া, স্টার্ক ক্রিয়া ইত্যাদি ব্যাখ্যায় অপারগ হওয়ার পর বোর পরমাণু মডেলকে বিদায় নেবার জন্য তৈরি হতে হয়। তারপরেও ১৯১৬ সালে ইলেকট্রনকে কণা ধরে কক্ষীয় পরমাণুতে শেষবারের মত হাত দিতে মঞ্চে আসেন বিজ্ঞানী আর্নল্ড সমারফিল্ড।

সমারফিল্ড নতুন দুইটা কোয়ান্টাম সংখ্যা যোগ করলেও তার পক্ষে কক্ষীয় পরমাণুর ধারণা বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।[2] কক্ষীয় পরমাণুর সব আয়োজন ভন্ডুল করে দিয়েছিলেন বিজ্ঞানী লুই ডি ব্রগলী।

লুই ডি ব্রগলী আসলে যে কাজ করেছিলেন তা এতটাই প্রথাবিরোধী ও সাধারণ চিন্তাবিরোধী ছিল যে, তার গবেষণাপত্র অনুমোদনের জন্য যে ৩ জন অধ্যাপক দায়িত্বে ছিলেন, তারা সেই গবেষণাপত্রের কিছুই বুঝতে পারেন নি।

তার গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের নিকট পাঠানো হলে আইনস্টাইন তা স্বীকৃত দেন এবং আইনস্টাইনের স্বীকৃতি লাভের পর লুই ডি ব্রগলী পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।[3] লুই ডি ব্রগলীর কাজটি বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে কয়েক শতাব্দী পূর্বে, ‘আলো কি কণা? নাকি তরঙ্গ?’ বিষয়ক ঐতিহাসিক বিতর্কে।

আইজ্যাক নিউটন বললেন আলো হলো কণা, তার সমসাময়িক ক্রিশ্চিয়ান হাইগেন তা মানলেন না, বললেন আলো তরঙ্গ। টমাস ইয়াং তো তার বিখ্যাত দ্বিচিড় পরীক্ষার মাধ্যমে আলোর ব্যতিচার ঘটিয়ে সুস্পষ্ট দেখিয়ে দিলেন যে, আলো তরঙ্গ। বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েলও কিছু ধারণা সংস্কার করে তরঙ্গ পথের অনুসারী হলেন। আবার আলোক তড়িৎ ক্রিয়া সম্পর্কিত পরীক্ষার মাধ্যমে হার্জ প্রমাণ করলেন আলো হলো কণা।

বিতর্কের যখন এই অবস্থা, তখন সব পথ – সব মত উপেক্ষা করলেন মহামতি আলবার্ট আইনস্টাইন ও ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক। প্ল্যাঙ্ক ফিরিয়ে আনলেন আলোর কণা তত্ত্বকে, তবে সংস্কার করে। বলা যেতে পারে আলোর কণা তত্ত্বকে বাদ দিয়ে প্যাকেট তত্ত্ব চালু করলেন, যা আমরা আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব বলে জানি। আইনস্টাইন তা মেনে নিয়ে বললেন, আলোর তরঙ্গমুখ অসংখ্য কণা দ্বারা গঠিত বলে কল্পনা করা যায়। অর্থাৎ, আইনস্টাইন নিয়ে আসলেন আলোক তরঙ্গের কণাধর্ম। এই তত্ত্বটিই বিজ্ঞানী মহলে “The particle nature of light wave” নামে পরিচিত। [4]

আলো কণা নাকি তরঙ্গ বিতর্কের এই অবস্থায় মঞ্চে প্রবেশ করলেন ডি ব্রগলী। তিনি ভাবলেন, তরঙ্গের কণাধর্ম যদি থেকে থাকে তবে কি কণারও তরঙ্গধর্ম থাকতে পারে? প্রথমেই তিনি এই ধারণা প্রকাশ করেন নি। পরমাণুর মাঝে ইলেকট্রনকে তিনি কোনো কণা কল্পনা না করে স্থির তরঙ্গরূপে কল্পনা করলেন। ব্রগলী বললেন, পরমাণুতে ইলেকট্রনের আবদ্ধ যাত্রাপথের পরিধির মান হবে, ইলেকট্রনের সাথে জড়িত সেই স্থির তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যর পূর্ণগুণিতক।

এর ফলে হিসাব করে যা পাওয়া গেল, তা পরীক্ষালব্ধ মানের সাথে একদম মিলে যায়। আবার বোর তার পরমাণু মডেলে যে তথ্যগুলি স্বীকার্য হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন, সেটার একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ডি ব্রগলীর অনুমান থেকে পাওয়া গেছিল। বড় কথা হল ইলেকট্রনকে তরঙ্গরূপে চলমান ধরলে তাড়িতচৌম্বকের নিয়মগুলি অস্বীকার করা লাগেনা।

রাদারফোর্ড ও বোর যেভাবে বলেছিলেন যে, ওসব নিয়ম খাটবে না, তা ডি ব্রগলীকে বলতে হয়নি। কারণ চার্জিত কণা শক্তি বিকিরণ করে মন্দনপ্রাপ্ত হলেও তরঙ্গের ক্ষেত্রে শক্তি বিকিরণ করে তার বেগ মন্দনপ্রাপ্ত হয় না। তাই স্থির তরঙ্গের এই মডেল তাড়িতচৌম্বকের নিয়মে আক্রোশ থেকেও মুক্ত ছিল।

চিত্রঃ কণা-তরঙ্গ দ্বৈততার রূপকার বিজ্ঞানী “লুইস ভিক্টর পিয়্যেরে রেইমন্ড ৭ম ডিউক ডি ব্রগলী”

ইলেকট্রনে এমন একটি স্থিরতরঙ্গ জড়িয়ে দিয়ে সফলতা লাভের পর ডি ব্রগলী চলে গেলেন যেকোনো বস্তুতে। বললেন, আমাদের সাথে এমনকি সবকিছুর সাথেই নাকি একটা তরঙ্গ আছে। প্রতিটি জড়বস্তুতে জড়িত এই তরঙ্গকে ডি ব্রগলীর তরঙ্গ বা বস্তু তরঙ্গ বা ম্যাটার ওয়েভ বলা হয়। ডি ব্রগলীর এই বক্তব্য শোনার পর থেকে দর্শনবাদী আর প্রমাণবাদীরা চিৎকার করে উঠলেন, প্রমাণ চাই! প্রমাণ চাই! বলে।

ডি ব্রগলী অঙ্ক কষে দেখালেন যে, যেকোনো গতিশীল বস্তুতে এই স্থিরতরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্যর মান অত্যন্ত ক্ষুদ্র। এই তরঙ্গদৈর্ঘ্যর মান হচ্ছে h/p. যেখানে h হচ্ছে প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক এবং p হচ্ছে গতিশীল বস্তুটির ভরবেগ। এখানে ব্যবহৃত প্ল্যাঙ্কের ধ্রুবক h এর মান অত্যন্ত ক্ষুদ্র। তাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা যা দেখি, যা নিয়ে চলাফেরা করি তাতে এই তরঙ্গদৈর্ঘ্যর মান এতই ছোট যে, জাগতিক কোনো যন্ত্রের সাহায্যে তা পরিমাপ করা সম্ভব না। তাহলে কি পরবর্তীতে ডি ব্রগলীর তত্ত্ব প্রমাণিত হয়নি?

অবশ্যই প্রমাণিত হয়েছে। অণু-পরমাণুর ক্ষুদ্র জগতে তাদের তরঙ্গদৈর্ঘ্যর মান তাদের সাপেক্ষে বৃহৎ হওয়ায় তা অনুভূতিগ্রাহ্য হয়। ডি ব্রগলী তার তত্ত্বের একটি প্রমাণ প্রস্তাব করেছিলেন। তরঙ্গের ধর্ম হচ্ছে সরু ছিদ্র বা তীক্ষ্ণ ধারের পাশ দিয়ে যাবার সময় তরঙ্গের অভিমুখ কিছুটা বিচ্যুত হয়ে যায়। তরঙ্গের এই ধর্মের নাম অপবর্তন। এটা শুধু তরঙ্গের ক্ষেত্রেই হয়, কণাদের ক্ষেত্রে এরকম হয় না। ডি ব্রগলী তাই ইলেকট্রনকে সরু কোনো ছিদ্রের মধ্য দিয়ে পাঠিয়ে তার অপবর্তন হয় কি না তা দেখতে চেয়েছিলেন।

যদি অপবর্তন ঘটে তবে ইলেকট্রন তরঙ্গ; না ঘটলে ইলেকট্রন একটি কণা। এর কিছুদিনের মাঝেই বিজ্ঞানী এলেসার বিভিন্ন কেলাসের অতি ক্ষুদ্র ছিদ্রের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন পাঠিয়ে অপবর্তন পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেও তিনি পরীক্ষা করতে পারেন নি। শেষে ১৯২৭ সালে ডেভিসন ও লেস্টার জারমার এবং স্বতন্ত্রভাবে জর্জ পেজেট থমসন এই পরীক্ষা করে দেখলেন ইলেকট্রন সত্যি সত্যিই অপবর্তিত হচ্ছে। অর্থাৎ ইলেকট্রনেরও তরঙ্গধর্ম রয়েছে এবং ডি ব্রগলীর কথাও সঠিক![5]

আইনস্টাইন বলেছিলেন, তরঙ্গ কণার ন্যায় আচরণ করতে পারে। ডি ব্রগলী পরে বললেন, কণাও তরঙ্গের ন্যায় আচরণ করতে পারে। অর্থাৎ কণা-তরঙ্গের দ্বৈতাদ্বৈত রূপ ডি ব্রগলীই প্রথম সার্থকভাবে তুলে ধরেছিলেন। কোয়ান্টাম বলবিদ্যার ভিত্তি মজবুতকরণে তার এই সাহসী পদক্ষেপের তাৎপর্য বিশাল।

চিত্রঃ কণা-তরঙ্গ দ্বৈততার পরীক্ষামূলক প্রমাণ দানকারী বিজ্ঞানী ক্লিনটন ডেভিসন(বামে) ও লেস্টার জারমার(ডানে)

ইতিহাস অনেক রসিক। স্যার জে জে থমসন ইলেকট্রন নামক কণা আবিস্কার করেছিলেন এবং গ্যাসের তড়িৎ পরিবাহীতার উপর উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। আবার তারই পুত্র জে পি থমসন ইলেকট্রনকে তরঙ্গ প্রমাণ করে ডেভিসনের সাথে যৌথভাবে ১৯৩৭ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ইলেকট্রনকে কণা প্রমাণকারী পিতা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ১৯০৬ সালে,[6] ৩০ বছর পর পুত্র নোবেল পুরস্কার পেলেন ইলেকট্রনের তরঙ্গধর্ম প্রমাণ করে।[7]

চিত্রঃ লুইস ডি ব্রগলীর তত্ত্ব অনুসারে সংশোধিত নীলস বোরের পরমাণুর মডেলের চেহারা, এটি তরঙ্গ বলবিদ্যা পরমাণু মডেল বলেও পরিচিত।

লুই ডি ব্রগলীও বাদ যাননি! ১৯২৭ সালে প্রমাণিত হবার পরপরই ১৯২৯ সালে পদার্থবিজ্ঞানে তিনি নোবেল লাভ করেন।[8] কণা আর তরঙ্গের মাঝের সকল বিভেদ দূর করে কণা-তরঙ্গকে মিলেমিশে একাকার করে দিয়ে গেছেন লুই ডি ব্রগলী। সাথে সাথে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ইতিহাসে ডি ব্রগলী নিজেও একাকার হয়ে গেছেন।

তথ্যসূত্রঃ

[1] 22-23, Atomic model- Nagaoka’s Saturnian Model, Compendium of Quantum Physics, Book 2009. (http://www.link.springer.com)

[2] ৩য় অধ্যায়-উৎকেন্দ্রিক সমারফিল্ড, কণা-কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ-লেখকঃ রেজা এলিয়েন, রোদেলা প্রকাশনী

[3] ৪র্থ অধ্যায়-দ্বৈততার রূপকার, কণা-কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ-লেখকঃ রেজা এলিয়েন, রোদেলা প্রকাশনী

[4] http://www.reference.com/science/meant-dual-wave-particle-nature-light-52b1a5ca6b8c8e5c

[5] http://www.en.wikipedia./wiki/Davisson-Germer_experiment

[6] http://www.nobelprize.org/nobel_prizes/physics/laureates/1906

[7] http://www.nobelprize.org/nobel_prizes/physics/laureates/1937

[8] http://www.nobelprize.org/nobel_prizes/physics/laureates/1929

feature image: sciencenews.org

পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ফেলনা জিনিস

এটা সাধারণ একটা মাথার খুলি হতে পারে, কিন্তু যদি বলি এটা পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ফেলনা জিনিস তাহলে? অবাক হলেও সত্য। পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ফেলনা বস্তুটি হচ্ছে এই খুলিটি যার মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলার! কেন? কারণ এটি সাধারণ কোনো খুলি নয়, এটির নাম Damien Hirst diamond skull।

image source: vimeo.com

নাম দেখেই বুঝতে পারছেন হীরার কথা। এটি তৈরি করেন Damien Hirst নামক একজন শিল্পী। তিনি এই অষ্টাদশ শতাব্দীর মাথার খুলিতে যুক্ত করেন প্লাটিনাম আর ৮৬০১ টি হীরক খণ্ড। যার মধ্যে একটি গোলাপি বর্ণের হীরাও রয়েছে যেটি মাত্র ৫২ ক্যারেটের। এই খুলিটির দেখা পেতে হলে আপনাকে পাড়ি জমাতে হবে লন্ডনের White Cube gallery-তে।