৮১ বছর বয়স্ক নারীর স্মার্টফোন অ্যাপ তৈরি

বয়স তাঁর ৮১ বছর। যে বয়সে চলতে গেলেও অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে, সে বয়সে জাপানি এই নারী একটি স্মার্টফোন অ্যাপ বানিয়ে দেখিয়েছেন। তার নাম মাসাকো ওয়াকামিয়া। তিনি অ্যাপলের জন্য একটি গেম তৈরি করেছেন। গেমটির নাম নাম দিয়েছেন ‘হিনাদান’।

CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন “আমাদের আঙুলের নড়াচড়ার গতি তরুণদের তুলনায় কম হওয়ায় বিভিন্ন গেমে তাদের সঙ্গে খুব সহজেই আমরা হেরে যাই।” বৃদ্ধদের জন্য উপযোগী অ্যাপ তৈরি করার জন্য কিছু মানুষের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাদের কেউই আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তাই নিজেই খেটেখুটে একটা এপ বানিয়ে ফেলেন।

অ্যাপটি সম্পর্কে মাসাকো বলেন “আমি একটি মজার অ্যাপ তৈরি করতে চেয়েছিলাম, যাতে বয়স্ক ব্যক্তিরা স্মার্টফোনের প্রতি আগ্রহী হয়। আর এটি বানাতে আমার প্রায় আধা বছর লেগেছে।”

ওয়াকামিয়া ৬০ বছর বয়স থেকে কম্পিউটার ব্যবহার করছেন। পারিবারিক জটিলতা ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে কম্পিউটার শেখা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সহজ ছিল না। নতুনদের প্রতি তার পরামর্শ “তোমাকে পেশাদার হয়তো হতে হবে না, কিন্তু সৃজনশীল হতে হবে।”

featured image: riarumi.com

রোবটেরও কি মানুষের মত অধিকার থাকা উচিত নয়?

সায়েন্স ফিকশন সিনেমায় প্রায়ই দেখে থাকি, রোবট নিজ থেকে চিন্তা করতে পারছে এবং বুদ্ধি খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। কখনো মানুষের উপকার করছে আবার কখনো সংগ্রাম করছে মানুষের বিরুদ্ধে। যদি এমন হয় যে, বাস্তব জগতেও রোবট এভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে পারে, নিজেই নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাহলে কেমন জটিলতার জন্ম হবে?

ইতিমধ্যে গত বছর ইউরেপিয়ান পার্লামেন্টে এই বিষয়ে সভা বসেছিল। সেখানে রোবটের ব্যাপারে আইনি ধারা প্রণয়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যে আইনের সাহায্যে বুদ্ধিদীপ্ত রোবট বা “ইলেকট্রনিক ব্যক্তি”কে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। যত দিন যাচ্ছে রোবটগুলো উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। এগুলো এখন আর স্রেফ একটি যন্ত্র বা মেশিন নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন হওয়া সাধারণ যন্ত্রের চেয়েও উপরের কাতারে উঠে এসেছে রোবট।

সাধারণ রোবটে কোনো কারিগরি ত্রুটি থাকলে সেটার দায়ভার সেই রোবটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উপর বর্তায়। কিন্তু যেসব রোবট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন, আশেপাশের পরিবেশ-পরিস্থিতি থেকে তথ্য নিয়ে নিজে সেটার সাথে মানিয়ে চলতে পারে বা পরিস্থিতি মোতাবেক নিজ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে পারে; তাদের দ্বারা কোনো ক্ষতি হলে সেটার দায় কে নেবে?

শুধু প্রোগ্রামিং সফটওয়্যারের উপর দোষ চাপানো যাবে না। কারণ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কারণে প্রোগ্রামিং এখন দুর্বোদ্ধ ও জটিল রূপ ধারণ করেছে। যেখানে একটি রোবট নিজে বুদ্ধি খাটিয়ে ত্রুটিপূর্ণ বা ক্ষতিকর কিছু করে বসছে সেখানে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে দোষারোপ করা অন্যায়।

আর ঠিক এখানেই রোবটকে শুধুই একটি যন্ত্র হিসেবে না ভেবে ‘ইলেকট্রনিক ব্যক্তি’ হিসেবে বিচার করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। যেখানে রোবটের এরকম কার্যকলাপের জন্য দায়ী থাকবে রোবটটির মালিক ও রোবট নিজে।

image source: express.co.uk

উন্নত কম্পিউটারের জনক অ্যালান টিউরিং অনেক আগেই এক ধরনের টেস্ট করার প্রস্তাব রেখেছিলেন যেখানে একজন মেধাবী ব্যক্তি ও বুদ্ধিদীপ্ত কম্পিউটারকে মুখোমুখি অবস্থানে রাখা হবে এবং দেখা হবে কম্পিউটারটি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়া ও পাল্টা প্রশ্ন করার মাধ্যমে মানুষটিকে বোকা বানিয়ে ফেলতে পারে কিনা। তখনকার সময় এরকম টেস্ট করার পরিকল্পনা অলীক কল্পনা মনে হলেও আজকের দিনে এটা আর অলীক কল্পনা নয়।

ইতিমধ্যে এমন কিছু কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরি হয়েছে যেগুলো ভিডিও ফাইলে নিজ থেকে শব্দ সংযোজন করতে পারে এবং সেই শব্দ এতটাই নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত হয় যে যেকোনো মানুষ বোকা বনে যেতে বাধ্য।

একটি রোবট তৈরি হয়েছে যেটা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ক্যাপচা সমাধান করতে পারে নিমিষেই। আরেকটি রোবট আছে যেটা মানুষের হাতের লেখা হুবহু নকল করতে পারে। পোকার খেলায় পৃথিবীর কয়েকজন সেরা খেলোয়াড়কে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এরকম রোবটও আছে। ভাবা যায়?

এখানেই শেষ নয়, সামনে রোবটগুলোকে এমনভাবে প্রোগ্রামিং করা হবে যেগুলো ব্যথা, বেদনা পর্যন্ত অনুভব করতে পারবে। আর এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে রোবটকে নিছকই যন্ত্র হিসেবে গণণা করা যে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে, সেটা বলাই বাহুল্য।

দক্ষিণ কোরিয়ার পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউই-সুয়েন বলেছেন, ২০৩০ সাল নাগাদ মানুষ রোবটের দুনিয়ার বাস করতে শুরু করবে। জাপানের অর্থমন্ত্রানালয় ইতিমধ্যে রোবট পরিচালনার ব্যাপারে রাষ্ট্রীয়ভাবে নীতিমালা প্রণয়ণ করে ফেলেছে।

এখন প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, রোবটকে যদি যন্ত্র হিসেবে না ধরা হয় তাহলে কি ব্যক্তি হিসেবে ধরা হবে? রাষ্ট্রে তাদের পদমর্যাদা কী হবে? রোবট যদি সত্যিকার অর্থেই মানুষের মতো বুদ্ধিদীপ্ত ও সাবলীল হয়ে ‘ইলেকট্রনিক ব্যক্তি’ হিসেবে গড়ে ওঠে সেক্ষেত্রে হয়তো তারা মানুষের মতো বিভিন্ন অধিকার পাবে। যেমন, অর্থ উপার্জন করা, নিজের খুশিমতো চাকরি নেয়া ও ছেড়ে দেয়া, ট্যাক্স দেয়া, কর্মঘণ্টা অনুযায়ী কাজ করা, আইনি সহায়তা পাওয়া ইত্যাদি।

এ ব্যাপারে ইউরেপিয়ান পার্লামেন্টে ভোট অনুষ্ঠিত হবার কথা। ভোটের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, অদূর ভবিষ্যতে এরকম রোবোটাধিকারের ফলে সমগ্র আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি কম্পিউটার বিজ্ঞান ও ইন্স্যুরেন্স পলিসিতেও প্রচুর জটিলতা সৃষ্টি হতে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র

https://theconversation.com/robot-rights-at-what-point-should-an-intelligent-machine-be-considered-a-person-72410

featured image: sciencenewsforstudents.org

টেকসই এবং সাশ্রয়ী ব্যাটারী তৈরিতে নতুন পদার্থের সন্ধান

শক্তির চাহিদা উত্তরোত্তর লাফিয়ে বেড়ে চলেছে বিশ্বব্যাপী। প্রযুক্তি, প্রযুক্তিপণ্য এসব কেবল সামগ্রিক চাহিদার অংশ এখন। শক্তির চাহিদা মেটাতে গবেষকদের ঘাম ছুটে যাচ্ছে চাহিদার গতির সাথে পাল্লা দিয়ে আবিষ্কারে ডুব দিতে। শক্তির মোবিলিটির উপর সাথে ব্যাটারির সম্পর্ক সবচেয়ে জোরালো।

সুইজারল্যান্ডের ইটিএচ জুরিখ (ETH Zurich) এবং একই দেশের বস্তু বিজ্ঞানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এম্পার গবেষণায় বিজ্ঞানীরা টেকসই ব্যাটারি আবিষ্কারের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এমন অজৈব উপাদান যা কিনা আবার সাশ্রয়ীও হবে। গবেষকরা দুটি নতুন পদার্থ শনাক্ত করতে পেরেছেন যা অ্যালুমিনিয়ামের ব্যাটারির উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে। প্রথমটি হল একটি ক্ষয়-রোধী পদার্থ; দ্বিতীয়টি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের পদার্থ যা ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের জন্য যা প্রযুক্তিগত প্রয়োজনের সাথে খাপ খাওয়াতে পারবে।

সক্রিয় তড়িৎবিশ্লেষ্য প্রবাহী পদার্থ

অ্যালুমিনিয়াম ব্যাটারিতে তড়িৎবিশ্লেষ্য প্রবাহী পদার্থ অধিক সক্রিয়তা প্রদর্শন করে। আর স্টেইনলেস স্টিলের ক্ষয়ও ঘটায়, এমনকি দেখা গেছে সোনা এবং প্লাটিনামের ক্ষেত্রেও ক্ষয় করে। বিজ্ঞানীরা তাই ব্যাটারির এই পরিবাহী অংশের জন্য ক্ষয় প্রতিরোধী পদার্থ সন্ধান করছেন। টাইটেনিয়াম নাইট্রাইড (TiN) যা কিনা সিরামিক বা চীনামাটির এক ধরনের পদার্থ। দেখা গেছে, এটি যথেষ্ঠ পরিবাহিতা প্রদর্শন করে। যেহেতু টাইটেনিয়াম এবং নাইট্রোজেন দুটোরই যথেষ্ট প্রাচুর্যতা রয়েছে তাই উৎপাদনেও খরচের দিক থেকে সাশ্রয়ী হবে।

ছবিঃ টাইটেনিয়াম নাইট্রাইড খুলে দিতে পারে টেকসই ব্যাটারির নতুন দুয়ার; Source: mechatronicsly.com

কভালেঙ্কোর দল সফলভাবে গবেষণাগারে টাইটেনিয়াম নাইট্রাইডের তৈরি পরিবাহী অংশ দিয়ে অ্যালুমিনিয়াম ব্যাটারি তৈরি করেছে। এই পদার্থটি খুব সহজেই পাতলা স্তরের আকারে উৎপাদন করা যায়। আবার অন্যান্য পদার্থের উপর সহজে পলিমার ফয়েলের মত আবরণ বা প্রলেপ সৃষ্টি করা যায়। কভেলেঙ্কো মনে করেন, পরিবাহী পদার্থ প্রচলিত বা সুলভ ধাতুগুলো থেকেই উৎপাদন করা সম্ভব। টাইটেনিয়াম নাইট্রাইড যে কেবল অ্যালুমিনিয়াম ব্যাটারির ক্ষেত্রেই কাজে লাগবে তা নয়, এটি ম্যাগনেসিয়াম বা সোডিয়াম ব্যাটারি এমনকি উচ্চ ভোল্টেজের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

গ্রাফাইটের বিকল্প

দ্বিতীয় নতুন পদার্থটি ব্যবহার করা যাবে অ্যালুমিনিয়াম ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের ইলেক্ট্রোড বা তড়িৎদ্বার হিসেবে। সাধারণত যে ব্যাটারির ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি সেটির ধনাত্মক তড়িৎদ্বার সাধারণত হয় গ্রাফাইটের। কভেলেঙ্কোর দল বের করেছেন পলিপাইরিন (Polypyrene) নামের এক পদার্থ যা মূলত হাইড্রোকার্বনের জাত পলিমার।গ্রাফাইটের চেয়ে ব্যাটারিতে এটি অধিক শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সক্ষম। পরীক্ষণ থেকে পাওয়া যায় এই পদার্থের নমুনায় এর আণবিক শিকল বিশৃঙ্খল দশায় থাকে। এই আণবিক শিকলগুলোর মাঝে প্রচুর ফাঁকা জায়গা থেকে যায়। ফলে ফাঁকা জায়গার ফায়দা নিয়ে আগের চেয়ে বড়সড় আয়ন তড়িৎবিশ্লেষ্য প্রবাহী হিসেবে প্রবেশ করানো যাবে। এতে তড়িৎদ্বারও সহজে আহিত হবে।

পলিপাইরিনের (Polypyrene) আণবিক গঠন; Source: Phys.org

পলিপাইরিন ধারণকৃত তড়িৎদ্বারের অন্যতম সুবিধা হল এটিকে সুবিধামত ব্যবহার করতে পারা। বিশেষায়িত ব্যবহারিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটিকে গ্রাফাইটের চেয়ে অধিক সুবিধামত পরিবর্তন করে নেয়া যাবে। কারণ, গ্রাফাইটকে ধাতু হিসেবে ব্যবহার করা ছাড়া বিকল্প থাকে না।

যেহেতু টাইটেনিয়াম নাইট্রাইড এবং পলিপাইরিন উভয়ই নমনীয় পদার্থ তাই এদের কারণে উপযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ছে ব্যাটারি প্রযুক্তিতে। অর্থাৎ থলের মত করেও ব্যাটারি তৈরি সম্ভব।

শক্তি রূপান্তরে ব্যাটারি

সৌরশক্তি এবং বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। কিন্তু, যখন সূর্যের আলো থাকবে না– যেমন, রাতে বা কুয়াশাচ্ছন্ন, মেঘমেদুর দিনে এবং বায়ুপ্রবাহ যথেষ্ট হবে না, সে পরিস্থিতিতে নতুন প্রযুক্তির চাহিদা উঁকি দিবেই। তখন ব্যাটারি প্রযুক্তি হতে পারে একটি সমাধান শক্তি সঞ্চয় করে ব্যবহারের জন্য। তবে অবশ্যই সাশ্রয়ী, সহনশীল পর্যায়ের হতে হবে সে প্রযুক্তি। বর্তমানে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির জনপ্রিয়তা রয়েছে একই সাথে হালকা অথচ কার্যকরী মাত্রায় শক্তি সংরক্ষণে করতে পারায়। কিন্তু লিথিয়াম প্রকৃতিতে সুলভ না, একারণে এটি বেশ ব্যয়বহুল। দ্বিতীয়ত বড় স্কেলে লিথিয়াম পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারকও। তৃতীয়ত, এ বিরল মৌল খনি থেকে নিষ্কাশন করাও সহজ না যতটা সহজ অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বা সোডিয়াম।

লিথিয়াম ব্যতিরেকে বাকি তিন মৌলভিত্তিক ব্যাটারি প্রযুক্তিই ভবিষ্যতের সম্ভাবনার দুয়ার বলে ভাবা হচ্ছে। ভবিষ্যতের সাথে ফারাক হল এ জাতীয় ব্যাটারি এখনো গবেষণা পর্যায়ে রয়েছে। শিল্পকারখানার দখল এখনো নিতে পারে নি। সে ফারাক হয়তো শীঘ্রই ঘুঁচে যাবে শক্তি গবেষণার প্রচেষ্টায়।

 

Phys.org অবলম্বনে।

টেলিফোনের আবিষ্কারক গ্রাহাম বেল

অ্যালেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক। টেলিফোনের অন্যতম আবিষ্কারক হিসেবে তিনি সবচেয়ে পরিচিত। তাকে বোবাদের পিতা তথা দ্য ফাদার অফ দ্য ডিফ নামে ডাকা হতো। তার বাবা, দাদা এবং ভাই সবাই একক অভিনয় ও বক্তৃতার কাজে জড়িত ছিলেন এবং তার মা ও স্ত্রী উভয়েই ছিলেন বোবা।

এ কারণেই বোবাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তিনি অনেক গবেষণা করেছেন। টেলিফোন উদ্ভাবনের আগে থেকেই তিনি শ্রবণ ও কথন সংশ্লিষ্ট গবেষণা নিয়োজিত ছিলেন। ১৮৭৬ সালে তাকেই টেলিফোনের প্রথম মার্কিন পেটেন্টের সম্মানে ভূষিত করা হয়।

image source: asd-hs.wikispaces.com

featured image: hollowverse.com

ভয়েজার মহাকাশযানের আদি-অন্ত

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে অবস্থান করেই শত আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিন্তু মানুষের প্রেরিত কোনো বস্তু সেই তুলনায় খুব অল্প দূরত্বই অতিক্রম করতে পেরেছে। মানুষের প্রেরিত কোনো বস্তুর মাঝে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে মহাকাশযান ভয়েজার-১ ও ভয়েজার-২। এ দুটি যান সৌরজগতের সীমানা শেষ করে এখন অনন্ত নক্ষত্রবীথির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

ভয়েজার আজ সৌরজগতের সীমানা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শুরুতে এর উদ্দেশ্য একদমই এরকম ছিল না। বৃহস্পতি ও শনি গ্রহ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভয়েজার-১ কে আগস্ট ১৯৭৭ সালে ও ভয়েজার-২ কে একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে উৎক্ষেপণ করা হয়।

মার্চ ১৯৭৯ সালে ভয়েজার-১ বৃহস্পতি গ্রহ ও নভেম্বর ১৯৮০ সালে শনি গ্রহ অতিক্রম করে। জুলাই ১৯৭৯ সালে ভয়েজার-২ বৃহস্পতি গ্রহ ও আগস্ট ১৯৮১ সালে শনি গ্রহ অতিক্রম করে। পরবর্তীতে এটি প্রথম মহাকাশযান হিসেবে ১৯৮৬ সালের জানুয়ারিতে ইউরেনাস এবং ১৯৮৯ সালের আগস্টে নেপচুন পর্যবেক্ষণ করে।

মিশন দুটির সাফল্যও অনেক। এ পর্যন্ত তাদের যাত্রাপথে ২৫ টি নতুন উপগ্রহ শনাক্ত করেছে, বৃহস্পতির চাঁদে আগ্নেয়গিরি আবিষ্কার করেছে, চারটি গ্রহের (বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন) বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক ও ভূত্বাত্তিক গঠনের বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেছে এবং সূর্য হতে নির্গত চার্জিত কণা যা সোলার উইন্ড নামে পরিচিত, সেটির বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেছে। এসকল তথ্য আমাদের নতুন ধারণা দেয়।

এতো সাফল্যের পরও সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যটি এখনো আসেনি। সেটি হলো ভিন গ্রহের প্রাণীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা। ১৯৯০ সালে ভয়েজার-১ ও ভয়েজার-২ কে সৌরজগতের বাইরের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন মিশনে যুক্ত করা হয়। দুটি মহাকাশযানকে দুই ভিন্ন দিকে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য আমরা যেন সৌরজগতের বাইরের বিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারি এবং যদি কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর সন্ধান পাওয়া যায় তাহলে তাদেরকে যেন আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে জানাতে পারি।

দুটো মহাকাশযানের ভেতরেই স্বর্ণের ডিস্কের ভেতর সুরক্ষিত গ্রামোফোন রেকর্ড আছে। এতে বাংলা সহ ৫৪ টি ভাষায় শুভেচ্ছা, বিভিন্ন সংষ্কৃতির ভিন্ন ভিন্ন যুগের কিছু গানের নমুনা এবং পৃথিবীতে সৃষ্ট প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট শব্দ অন্তর্ভূক্ত করা আছে। এছাড়াও ১১৭ টি ছবি সংযুক্ত আছে যেখানে পৃথিবী সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেয়া আছে। এই ডিস্কে কিছু ইলেকট্রনিক তথ্যও দেয়া আছে যেন উন্নত প্রযুক্তির প্রাণী থাকলে তারা সেগুলোকে ডায়াগ্রাম ও ছবিতে রূপান্তর করতে পারে।

চিত্রঃ ভয়েজারে স্বর্ণের আবরণ; image source: smithsonianmag.com

ডিস্কগুলো স্বর্ণের প্রলেপ যুক্ত এলুমিনিয়ামের আবরণে সুরক্ষিত। মহাকাশের ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ডের আঘাতে যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য এই ব্যবস্থা। এছাড়াও আবরণের ভেতর ও বাইরে রেকর্ড বাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডায়াগ্রাম অংকিত আছে। বাইরের ডায়াগ্রাম সময়ের সাথে ক্ষয় হয়ে যেতে পারে, তাই এই ব্যবস্থা। চাইলে ভয়েজারে প্রদত্ত ছবি ও রেকর্ডগুলো সকলেই দেখতে ও শুনতে পারবে। তার জন্য এই ঠিকানায় যেতে হবে http://voyager.jpl.nasa.gov/

১৯৯৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারিতে ভয়েজার-১ সূর্য হতে ১০.৪ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। এটি মানুষের তৈরি কোনো বস্তুর জন্য প্রথম অতিক্রান্ত সর্বোচ্চ দূরত্ব। মগায়াজিনটি হাতে নিয়ে আমরা ১ থেকে ৩ বলার সাথে সাথে ভয়েজার-১ প্রায় ৫২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ফেলছে।

এটি সূর্যের সাপেক্ষে সেকেন্ডে প্রায় ১৭.৩ কিলোমিটার গতিতে ছুটছে। সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে ভয়েজার-২ সূর্য হতে প্রায় ১৬.৮২ বিলিয়ন কিলোমিটার এবং ভয়েজার-১ প্রায় ২০.৪১ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। সৌরজগৎ থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারিতে পৌছাতে ভয়েজার-১ এর ৭০ হাজার বছর সময় লাগবে!

সৌরজগতে যতদূর পর্যন্ত সূর্যের প্রভাব আছে সেই অঞ্চলকে বলা হয় Heliosphere। এই অঞ্চল প্লুটোর কক্ষপথ থেকেও আরো দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে নাসা ঘোষণা করে, ভয়েজার-১ Heliosphere থেকে বের হয়ে গেছে। সেই থেকে এটি আমাদের সৌরজগতের সীমানা পেরিয়ে অনন্ত নক্ষত্রবীথির পাণে ধাবমান। মানবজাতির জন্য এটি অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

তথ্যসূত্র

  1. http://voyager.jpl.nasa.gov/
  2. http://www.heavens-above.com
  3. http://en.wikipedia.org/wiki/Heliosphere

featured image: irishtimes.com

স্মার্ট আয়না

সাজগোজ পছন্দ করে না এমন মেয়ে খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। সাজপ্রেমীদের জন্য সুখবর। বিজ্ঞানীরা নিয়ে এসেছেন HiMirror নামের স্মার্ট আয়না। গোলাপী স্ক্রীনের এই আয়নাতে থাকছে ১৪ ইঞ্চির এলসিডি ডিসপ্লে ও রিং ফ্ল্যাশ সমৃদ্ধ ক্যামেরা।

প্রতিদিন এই ক্যামেরা দ্বারা ছবি তোলার মাধ্যমে ত্বকের বলিরেখা, কালো স্পট, কালো বৃত্ত এবং সেই অনুযায়ী বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রদানকৃত পরামর্শ আপনাকে দেয়া হবে। আর প্রতি সময়ের ত্বকের ছবি তুলে আপনাকে পূর্বের ও বর্তমানের চেহারার তফাৎ এবং কি কি পরামর্শ কখন নিতে হবে সেই আপডেটও থাকছে। আর এই অত্যাধুনিক আয়নাটির দাম পড়বে মাত্র ১৮৯ ডলার !!

তথ্যসূত্রঃ Engadget

featured image: medium.com

বিভিন্ন গোপন গোয়েন্দা যন্ত্রের কাহিনী

“The number one benefit of information technology is that it empowers people to do what they want to do. It lets people be creative. It lets people be productive. It lets people learn things they didn’t think they could learn before, and so in a sense it is all about potential.”- Steve Ballmer

তথ্য-প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরতে মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ বলমারের উক্তিটির জুড়ি খুঁজে পাওয়া আসলেই ভার। কেননা তথ্য ছাড়া আজকের দিনে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও চলতে পারি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রাত্যহিক কাজকর্ম সেরেই কেউ বসেন পেপারের পাতা উল্টাতে, কেউ স্মার্টফোনের স্ক্রিন স্লাইড করতে, কেউ আবার টেলিভিশন চালু করে রিমোট কন্ট্রোলের বাটনে ঝড় তুলতে। উপরে উল্লেখিত তিন শ্রেণির মানুষের সবার উদ্দেশ্যই এক- ‘তথ্য জানা’।

চা বানাবেন? তাহলে আগে আপনাকে জানতে হবে চায়ের পাতি ঘরে আছে কিনা সেই তথ্য। ভাত খাবেন? তাহলে আগে খোঁজ নিন চালের ড্রামে চাল আছে কিনা সেদিকে। গোসল করবেন? তাহলে আগে জানতে হবে পানির ট্যাংকিতে পানি আছে কিনা সেই খবরটি। এগুলো তো দৈনন্দিন জীবনের খুব সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত দরকারি কিছু তথ্যের নমুনা।

এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য, খেলাধুলা, পড়াশোনা, গবেষণাসহ জীবনের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে তথ্য ছাড়া আমরা চলতে পারবো। ভালো কিংবা মন্দ যা-ই হোক না কেন, এতক্ষণ ধরে তথ্যের এতসব উপযোগিতা তুলে ধরার পর একে যদি দ্বিতীয় অক্সিজেন বলা হয়, তাহলে কি খুব বেশি কিছু বলা হয়ে যাবে?

এবার আসুন পরবর্তী প্রশ্নে- ‘আসলেই কি পৃথিবীর সব তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত?’ না-বোধক উত্তর দিতে কেউ এক মুহুর্তের জন্যও দেরি করবে না। এটাই তো স্বাভাবিক, তাই না? পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্রের অত্যন্ত গোপনীয় কিছু ব্যাপার স্যাপার আছে যা গুটিকতক আস্থাভাজন লোক ছাড়া আর কারো কাছেই প্রকাশ করা হবে না।

একটি কোমল পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কখনোই চাইবে না যে তার পানীয় বানানোর রেসিপি সবাই জেনে যাক। সারা পৃথিবীতে অসংখ্য গুপ্ত সংঘ আছে, আছে নানা অপরাধী চক্রও। তারাও কোনোদিন চায় না তাদের ভেতরের তথ্য কোনোদিন বাইরে পাচার হয়ে যাক। অর্থাৎ জায়গামতো সবাই নিজেদের গোপনীয়তা রক্ষায় শতভাগ সচেষ্ট।

কিন্তু তাই বলে কি গোপন তথ্য ফাঁস হওয়া কখনো থেমেছে? অবশ্যই না। হাল আমলের জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, এডওয়ার্ড স্নোডেনরা আমাদের সামনে রয়েছেন এর জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে। এছাড়া ইতিহাসের পাতা উল্টালেও এমন শত শত মানুষের নাম খুঁজে পাওয়া যাবে যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে শত্রুর আঙিনায় ঘুরে বেড়িয়েছেন ছদ্মবেশে, খুঁজেছেন কিছু অত্যন্ত দরকারি তথ্য।

কেউ সফল হয়ে জীবন নিয়ে ফেরত আসতে পেরেছেন, কেউবা ব্যর্থ হয়ে শত্রুর হাতে ধরা পড়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নিজের জীবনটিই বিলিয়ে দিয়েছেন। আমাদের আজকের আলোচনা এ গোপন তথ্যানুসন্ধান নিয়েই। গোপন তথ্যানুসন্ধানের নানা কৌশলের ইতিহাস দিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের পুরো লেখাটি।

বেলী বাস্টার

গত শতকের পঞ্চাশ-ষাটের দশকে বেলী বাস্টার নামের এ যন্ত্রটি ব্যবহার করতো সিআইএ। দেয়াল ছিদ্র করে তাতে গোপনে শত্রুপক্ষের কথাবার্তা শোনার জন্য কোনো ডিভাইস রেখে দেয়াই ছিলো এর মূল উদ্দেশ্য। পুরো যন্ত্রটি ঠিকমতো জোড়া লাগানোর পর এর ড্রিল বিটের অপর প্রান্ত পেটের সাথে সজোরে চেপে হাত দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেয়াল ছিদ্র করার কাজটি সারা হতো।

লেটার রিমুভার

ধরুন, শত্রুপক্ষের খামে আটকানো একটি চিঠি সৌভাগ্যক্রমে আপনার হাতে এসে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আপনি চাইবেন চিঠিটি পড়ে দেখতে। একইসাথে আপনার শত্রু যেন ব্যাপারটি বুঝতে না পারে এটাও আপনি চাইবেন। তো এজন্য আপনাকে চিঠিটি এমনভাবে বের করতে হবে যেন চিঠিও বেরোয়, আবার খামেরও কোনো ক্ষতি না হয়।

এমন কাজ সারার জন্যই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহার করা হতো সরু লেটার রিমুভার। খামের একেবারে উপরের কোনা, যেখানে আঠা খুব কমই লাগানো হয়, সেখান দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হতো ডিভাইসটি। তারপর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চিঠিকে পেঁচিয়ে ফেলা হতো এর সাথে। তারপরই ধীরে ধীরে বের করে আনা হতো আকাঙ্ক্ষিত চিঠি।

স্টেরিওস্কোপ

স্টেরিওস্কোপ (Stereoscopy) শব্দটি এসেছে দুটি গ্রীক শব্দ স্টেরিওস (দৃঢ়) ও স্কোপিও (দেখা) থেকে। এ পদ্ধতিতে একজন দর্শকের বাম ও ডান চোখের জন্য একই ছবি কিছুটা আলাদাভাবে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ দুটো দ্বিমাত্রিক ছবিকে আমাদের মস্তিষ্ক তখন প্রক্রিয়াজাত করে ত্রিমাত্রিক ছবি দেখার অনুভূতি দেয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রপক্ষ নানা স্টেরিওস্কোপিক ছবি দেখেই শত্রুপক্ষের সম্পর্কে ধারণা নিতো। এজন্য প্রথমে তারা এরোপ্লেন থেকে শত্রুর এলাকার নানা ছবি তুলে আনতো। তারপর এসব স্টেরিওস্কোপের সাহায্যে সেসব ছবির ত্রিমাত্রিক ধারণা নেয়ার চেষ্টা করতেন ছবি বিশ্লেষকেরা।

ড্রাগনফ্লাই ইনসেক্টোথপ্টার

ঘরের ভেতর একটি ফড়িং কিংবা প্রজাপতি উড়ে বেড়ালে আপনি কি কিছু মনে করবেন? অবশ্যই না। বরং এক নজর সেদিকে চোখ বুলিয়ে আবার নিজের কাজে মন দিবে অধিকাংশ মানুষ। কিন্তু এ প্রাণীটি যদি জৈবিক না হয়ে যান্ত্রিক হয়? যদি সে জৈবিক প্রাণীর ছদ্মবেশে আপনার উপরই নজরদারি করতে থাকে তাহলে কেমন হবে?

ছবিতে আসলে এমনই একটি ইউএভি (আনম্যান্‌ড এরিয়াল ভেহিকল) দেখানো হয়েছে। ১৯৭০ সালের দিকে সিআইএ’র রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ থেকে বানানো হয়েছিলো ফড়িংয়ের মতো দেখতে এ ডিভাইসটি যা নানা তথ্য সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হতো।

মাইক্রোডট ক্যামেরা

গোপনে ছবি তোলার নানা কৌশল বিভিন্ন অ্যাকশন বা থ্রিলার সিনেমায় দেখেছি। এরই এক বাস্তব উদাহরণ হলো এই মাইক্রোডট ক্যামেরা। কোনো ছবি কিংবা টেক্সটকে আকারে অনেক ছোট করে কোনো ছোট ডিস্কে ধারণ করার কৌশলকে বলা হয় মাইক্রোডট।

মাইক্রোডটগুলো সাধারণত বৃত্তাকার এবং ১ মিলিমিটার ব্যাসের হয়ে থাকে। তবে চাহিদামতো এর আকার কিংবা আকৃতি পরিবর্তন করা যায়। গত শতাব্দীতে চলা কোল্ড ওয়্যারের সময় বিবিন্ন গোপন তথ্যের আদান-প্রদানের কাজে এটি ব্যবহার করা হতো। হাতের আংটি, ফাঁপা কয়েন ইত্যাদি নানা জায়গায় মাইক্রোডট লুকিয়ে রাখা যেতো।

ম্যাচবক্স ক্যামেরা

হাতে একটি ম্যাচবক্স নিয়ে যদি আপনি ঘোরাঘুরি করেন, তাহলে অধিকাংশ মানুষই ভাববে আপনি হয়তো সিগারেট ধরাতে যাচ্ছেন। ম্যাচবক্সের ভেতর যে দেশলাইয়ের কাঠি ছাড়া অন্য কিছুও থাকতে পারে এটা কেউ চিন্তাই করবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকার ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির নাম ছিলো ‘অফিস অফ স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেস (ওএসএস)’। একে বর্তমানের সিআইএ’র পূর্বপুরুষও বলা যেতে পারে।

এ ওএসএস-এর জন্যই ইস্টম্যান কোডাক কোম্পানি তৈরি করেছিলো এসব ম্যাচবক্স ক্যামেরা। এগুলোর ভেতরে দেশলাইয়ের কাঠির বদলে ভরা থাকতো আস্ত ক্যামেরা। আর একজন গোয়েন্দা যে দেশে যাচ্ছেন, তিনি সেই দেশের প্রচলিত কোনো ম্যাচের মোড়ক এর গায়ে লাগিয়ে নিলেই কাজ হয়ে যেতো। তখন কেউ আর সন্দেহের অবকাশ পেতো না যে লোকটি সিগারেটে আগুন ধরাচ্ছে নাকি তার দেশের নিরাপত্তায় আগুন জ্বালাচ্ছে!

ডেড ড্রপ স্পাইক

মনে করুন, কোনো একটি এলাকায় কিছু গোপন তথ্য সংগ্রহের জন্য দুজন ব্যক্তিকে পাঠানো হয়েছে। তারা যদি একসাথে কোথাও দেখা করেন তাহলে শত্রুপক্ষ সন্দেহ করার অবকাশ পেয়ে যাবে। কিন্তু এমনটা হতে দেয়া যাবে না। আবার মাঝে মাঝে তাদের নিজেদের মাঝে কিছু তথ্যের বিনিময়ও দরকার। কিন্তু তা এমনভাবে করতে হবে যাতে কেউ বিন্দুমাত্র সন্দেহও করতে না পারে।

এমন পরিস্থিতির জন্য আসলে বানানো হয়েছিলো এ ডেড ড্রপ স্পাইক। এর ভেতরের ফাঁপা জায়গায় দরকারি তথ্য ভরে তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা জায়গায় মাটিতে পুঁতে রেখে যেতো এক এজেন্ট। পরে অন্যজন এসে সুবিধামতো তা তুলে নিয়ে যা বোঝার বুঝে নিতো।

পিজিয়ন ক্যামেরা

নামটা দেখেই ভ্রু কিছুটা কুঁচকে গেছে, তাই না? ভাবছেন কবুতর দিয়ে আবার ছবি তোলানো হতো নাকি অতীতে? আসলে আপনি যা ভাবছেন তার আংশিক সত্য, আংশিক আপনার অজানা যা এখন আপনাকে জানাবো। আসলে ছবিগুলো তোলার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো কবুতরকে। ১৯০৭ সালে জার্মান ওষুধ প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতা জুলিয়াস নিউব্রোনার এর উদ্ভাবন করেন।

কোনো পোষা কবুতরের গায়ে ছোট ও হালকা এ ক্যামেরাগুলো লাগিয়ে সেটিকে উড়িয়ে দেয়া হতো। ছবি তোলার জন্য ছিল সেলফ টাইম ডিলে মেকানিজম। ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর আপনাআপনিই ছবি উঠতে থাকতো, কবুতরটির কাজ ছিল শুধু জায়গামতো উড়ে যাওয়া। তবে প্রযুক্তির অগ্রসরতা একসময় এ কৌশলকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়।

সেই সাথে কবুতরগুলোকে ঠিকমতো ট্রেনিং দেয়া, বাড়তি একটি জিনিস নিয়ে উড়তে অভ্যস্ত করানো, জায়গামতো সে আসলেই যাবে কিনা, তার গতি ইত্যাদি নানা বিষয় কবুতর দিয়ে শত্রুপক্ষের উপর নজরদারিকে বেশ কঠিন করে তুলেছিল।

গোপন সংকেত দেখানো আয়না

এবার আপনাকে একটি প্রশ্ন করি। একজন মহিলাকে যদি আপনার সামনে ব্যাগ থেকে ছোট আয়না বের করেনিজের চেহারা সাজাতে দেখেন, তাহলে আপনি কী ভাববেন? নিশ্চয়ই আপনি কিছুটা বিরক্ত হয়ে উত্তর দিবেন, “আরে ভাই, এত ভাবার কী আছে? উনার সাজার ইচ্ছা হইছে, তাই আয়না বের করে সাজতেছে। আর কী?”

আসলে ঘটনার মোড় লুকিয়ে আছে এখানেই। কারণ নারী এজেন্টদের জন্য এমন আয়নাও ছিল (হয়তো এখনো আছে) যা দিয়ে সবার সামনে তিনি হয়তো সাজগোজ করতেন। কিন্তু আসলে সেটি থাকতো বিশেষ এক ধরনের আয়না যা একটু বিশেষ কোণে ধরলে ভেসে উঠতো তার মিশনের গোপন কোনো কোড! সেখান থেকে সহজেই পরবর্তী নির্দেশনা নিতে পারতেন তিনি।

পালিয়ে যাবার মানচিত্র

সিল্কের উপর প্রিন্ট করা এই মানচিত্রগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল একজন এজেন্টের পালিয়ে যাবার পথ চিনিয়ে দেয়া। তবে কাপড়ের উপর আঁকা বলে একজন চাইলে কৌশল হিসেবে এটিকে গায়ে জড়িয়ে কিংবা ভাঁজ করে রাখতে পারতেন। পানিরোধী রং দিয়ে এটি আঁকা হতো বলে যদি এজেন্টকে সাঁতরানো লাগতো, তাহলেও ভয়ের কিছু ছিল না। চুপচাপ জলাশয়ের অন্য পাড়ে গিয়ে শুকিয়ে নিলেই চলতো।

ফাঁপা কয়েন

বাইরে থেকে এ কয়েনটিকে নিরেট মনে হলেও আসলে এটি ফাঁপা! এর ভেতরে করে সহজেই কোনো ফিল্ম বা মেসেজ বিনিময় করা যেতো।

মিনক্স ক্যামেরা

লাটভিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ওয়াল্টার জ্যাপ ১৯৩৭ সালে এ ক্যামেরাটির ডিজাইন করেন। খুব সহজেই একে হাতের তালুর ভেতর লুকিয়ে রাখা যেতো। এর সাহায্যে তোলা ছবিগুলোর মানও ছিল বেশ ভালো। ফলে গোয়ান্দাগিরির কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরাগুলোর মাঝে এটিই শীর্ষস্থান দখল করে আছে।

অনাহূত অতিথি দূরীকরণ

নিজের বাড়িতে অন্যের ছড়ি ঘোরানো কেউই সহ্য করতে পারে না। আর সেটা যদি হয় কোনো এলাকা বা দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন, তাহলে তো কথাই নেই। অবৈধভাবে যেন একজন মানুষও কোনো বিশেষ স্থানে ঢুকে পড়তে না পারে এজন্য নিরাপত্তা রক্ষা বাহিনীর প্রচেষ্টার অন্ত নেই।

ছবিতে দেখানো ডিভাইসটি এমন কাজেই ব্যবহার করা হতো। মেটে রঙের বলে সহজে কারো চোখে ধরাও পড়ে না এটি। ভূ-কম্পনের সাহায্য নিয়ে তিনশ মিটার দূর থেকে এটি মানুষসহ অন্যান্য যেকোনো কিছুর আগমনকে শনাক্ত করতে পারতো। ছোট ব্যাটারি দিয়ে চালিত এ ডিভাইসে থাকতো বিল্ট-ইন এন্টেনা। এটি কোড করা পালসের সাহায্যে কোনো তথ্য পাঠাতে পারতো।

সিগারেট ক্যারিয়ারে ক্যামেরা

যাদের ধূমপানের অভ্যাস আছে, তাদের অনেকেই কেবল দোকানে কিনতে পাওয়া প্যাকেটের উপর নির্ভর করেন না। বরং নিজের খুশি মতো বাজার থেকে কিনে নেন চমৎকার কোনো বক্স। কোথাও যখন কেউ সেই বক্স থেকে সিগারেট বের করে, তখন কেউ ঐ বক্সের দিকে ওভাবে তাকায়ও না। আর এ জিনিসটি মাথায় রেখেই ছোট এ ক্যামেরাটি বানানো হয়েছিল সুইজারল্যান্ডে। একে সহজেই সিগারেটের বক্সে লুকিয়ে রাখা যেতো।

বোতামে লুকোনো ক্যামেরা

কোট-টাই পরে যখন আপনি সবার সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়ান, তখন সবাই কিন্তু আপনার কাপড়ের রং-মান এসবই খেয়াল করে ঠিকমতো। কাউকে শোনা যায় না বোতামের দিকে তাকিয়ে থেকে সেটির ভালো-মন্দ বিচার করতে।

এ বিষয়টি খেয়াল করেই বিচিত্র এক কৌশল অবলম্বন করেছিল কেজিবি। গত শতকের সত্তরের দশকে তারা অ্যাজাক্স নামের বোতামের ভেতর লুকানো এ ক্যামেরার ডিজাইন করে। ক্যামেরার লেন্স থাকতো ডানদিকের মাঝের বোতামে। যখনই সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়তো, তখনই একজন গোয়ান্দা তার পকেটে থাকা ক্যামেরার শাটারে চাপ দিতেন। সাথে সাথে উঠে যেতো ছবি। কেউই বুঝতে পারতো না!

জুতার নিচে ট্রান্সমিটার

গোপন তথ্য সংগ্রহের কৌশল যে আসলে শরীরের সম্ভাব্য সব জায়গাকেই ব্যবহার করেছে এ জুতাটি তার এক চমৎকার দৃষ্টান্ত। ১৯৬০-৭০ সালের দিকে আমেরিকান কূটনীতিকদের উপর নজর রাখতে এটি ব্যবহার করতো রোমানিয়ার সিক্রেট সার্ভিস।

কূটনীতিকেরা সাধারণত স্থানীয় বাজার থেকে জিনিসপত্র কিনে ব্যবহার করতেন না। নিজেদের দেশ থেকেই দরকারি বিভিন্ন জিনিস নিয়ে আসতে তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। রোমানিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা সেগুলো পোস্ট অফিসে আটক করে আগে সেখানে ছবিতে দেখানো উপায়ে ট্রান্সমিটার লাগিয়ে তারপর ছাড়পত্র দিতো। এরপর সেই কূটনীতিকের যাবতীয় আলাপ-আলোচনা সহজেই তারা রেকর্ড করে রাখতে পারতেন!

বিষ্ঠার ভেতরেও ট্রান্সমিটার

রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময় যখন গরু-ছাগল, কুকুর-বিড়াল ইত্যাদি নানা প্রাণীর মল আমাদের চোখের সামনে পড়ে, তখন সাবধানে পা সরিয়ে হেঁটে যাই আমরা সবাই। দুর্গন্ধময় ওসব জিনিস কে ঘাঁটাতে যাবে? এজন্যই সিআইএ মলের মতো দেখতে এই ট্রান্সমিটারটি ডিজাইন করেছিল যেন কেউ এটা নাড়াতে আগ্রহী না হয়।

শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোতে আগেই এগুলো রেখে আসা হতো। এরপর এগুলো সিগনাল পাঠাতো আকাশে থাকা পাইলটদের। সেখান থেকেই এ সিগনাল অনুসরণ করে তারা বোম নিক্ষেপ করে আবার নির্বিঘ্নে ফেরত যেতো।

ঘড়ির ভেতর ক্যামেরা

শার্টের বোতাম, হাতের তালু আর সিগারেটের বক্সে যদি ক্যামেরা রাখা যায়, তাহলে দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ঘড়িই বা বাদ যাবে কেন? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির এক এজেন্টের কাছে এমন ঘড়ি পাওয়া গিয়েছিল। এর মূল সমস্যা হলো আন্দাজের উপর ভিত্তি করে ছবি তুলতে হতো। কারণ চোখ রেখে যার বা যে জিনিসের ছবি তোলা হচ্ছে সেটি দেখার ব্যবস্থা এতে রাখা হয়নি। একেকটি ফিল্মে আটটি করে ছবি তোলা যেতো।

গাছের ভেতর বাগ

এখন যে গোপন তথ্য চুরির পদ্ধতি বলতে যাচ্ছি সেটা বেশ চমৎকার। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের শুরুর দিককার কথা। আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন একটি কৃত্রিম কাটা গাছের মতো অংশে একটি বাগ লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন। এরপর এটিকে তারা মস্কোর বাইরে এক গাছপালা ঘেরা জায়গায় এমনভাবে স্থাপন করলেন যেন সহজেই একটি সোভিয়েত মিসাইল সিস্টেমের রাডার ও কমিউনিকেশন সিগনালের উপর তারা নজরদারি করতে পারেন!

প্রাপ্ত সিগনালগুলো এখানে সংরক্ষণ করে পরে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমেরিকায় পাঠানো হতো। এর উপরের স্বচ্ছ কাঁচের ভেতর দিয়ে সূর্যালোক প্রবেশ করে ভেতরের সোলার ব্যাটারিগুলো চার্জের ব্যবস্থা করতো। এতকিছু করেও অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। কেজিবি একসময় ঠিকই বাগটির অস্তিত্ব শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

ফাউন্টেন পেন

ক্যামেরা নিয়ে আজ বোধহয় বেশি কথা হয়ে যাচ্ছে, তাই না? কিন্তু কী করবো বলুন? কারণ এ ক্যামেরা লুকোনোর পদ্ধতিগুলোই যে ছিল বেশ চমৎকার।

সত্তরের দশকের শেষের দিকে ফাউন্টেন পেনের ভেতর ট্রোপেল লেন্স লুকিয়ে রাখার কৌশল নেয় সিআইএ। বিভিন্ন দলিলপত্র কিংবা যন্ত্রের ছবি গোপনে তুলতেই একে কাজে লাগানো হতো। যেমন- এখানে যে ফাউন্টেন পেনটি দেখা যাচ্ছে সেটি ব্যবহার করতেন আলেকজান্ডার ওগোরোদনিক, যার কোড নেম ছিল ট্রাইগন। তিনি ছিলেন একজন সিনিয়র সোভিয়েত কূটনীতিক। সিআইএ তাকে হাত করে নিয়েছিল।

ওগোরোদনিক শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তিনি কেজিবির হাতে ধরা পড়ে যান। অবশ্য কেজিবি তার কাছ থেকে কোনো তথ্য আদায় করতে পারেনি। এর আগেই তিনি সিআইএর কাছ থেকে পাওয়া পয়জন পিল খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

আপাতত বিদায় নিচ্ছি গোপনীয়তার জগত থেকে। পরবর্তী কোনো লেখায় আশা করি গোপনীয়তায় ভরপুর অন্য কোনো জগতের গল্প নিয়ে সবার সামনে আবার হাজির হবো।

featured image: dreamstime.com

সবচেয়ে বড় রেডিও টেলিস্কোপ

প্রায় পাঁচ বছর ধরে ১৮০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যায়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেডিও টেলিস্কোপটি তৈরি করেছে চীন, যার নাম দেয়া হয়েছে Five-hundred-meter Aperture Spherical Telescope (FAST).৪,৬০০টি ত্রিভুজাকৃতির প্যানেলবিশিষ্ট এ টেলিস্কোপের ব্যাস ৫০০ মিটার। ২০১১ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের গুইঝাও প্রদেশের পিংটাং কাউন্টিতে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল।

১৯৯৪ সালে সর্বপ্রথম এ টেলিস্কোপটি নির্মাণের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের জুলাইয়ে National Development and Reform Commission (NDRC) এর অনুমোদন দেয়। কাজ শুরু করার জন্য ঐ এলাকার প্রায় ৯,০০০ বাসিন্দাকে স্থানান্তরিত করা হয়।

featured image: space.com

 

বুরানঃ একটি রুশ রূপকথা

সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা হামলা থেকে এবার বুঝি আর রক্ষা পাওয়া যাবে না। মার্কিনীরা এমন এক মহাকাশযান তৈরি করছে যা মহাকাশে গিয়ে প্রায় অক্ষত অবস্থায় আবার ফিরে আসতে পারে। এবং এটি পারমাণবিক বোমা বহনেও সক্ষম। মার্কিনীরা যানটার নাম দিয়েছে ‘স্পেস শাটল’।

স্নায়ুযুদ্ধে টিকে থাকতে হলে এখন সোভিয়েতদেরও চাই এমন একটি যান যেটা কাজ করবে ঠিক মার্কিনীদের মহাকাশযানের মতো কিংবা তার থেকেও বেশি। স্নায়ুযুদ্ধের সময় এভাবেই শুরু হয় পুনরায় ব্যাবহারযোগ্য মহাকাশযান বানানোর প্রতিযোগিতা। ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ সালে সোভিয়েত কেন্দ্রীয় কমিউনিস্ট পার্টির এক ডিক্রির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ‘বুরান-এনারগিয়া’ প্রজেক্ট।

চিত্রঃ মার্কিন স্পেস শাটল (বামে) ও রাশিয়ান বুরান (ডানে)।

সোভিয়েত রকেট বিজ্ঞানীরা ঠিক মার্কিনীদের মতোই একটি যান প্রস্তুত করতে থাকেন। তবে এটি আরো উন্নত সংস্করণ। বুরানকে মোট ১০ জন নভোচারী বহনের ক্ষমতা সম্পন্ন করে প্রস্থুত করা হয়। এর ওজন বহন ক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়। এটি ৩০ টন পরিমাণ ভর নিয়ে মহাকাশে যেতে পারত এবং ফিরে আসতে পারত ২০ টন নিয়ে। এর গায়ে তাপ নিরোধক প্রায় ৩৮০০০ টি টাইলস বসানো ছিল।কাজাখাস্থানের বৈকনুর কসমোড্রামের এক গোপন কারখানায় শুরু হয় এই প্রজেক্ট। রুশ ভাষায় বুরান শব্দের অর্থ ‘তুষার ঝড়’। মূল যান প্রস্তুত করার দায়িত্ব পায় সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন রকেট প্রস্তুতকারক কোম্পানি RKK Energia। প্রস্তুতকারক দলের প্রধান ছিলেন রকেট বিশেষজ্ঞ ‘গ্লেভ লোজিনো-লোজিনস্কি’, যিনি এর আগে ‘স্পাইরাল’ প্রজেক্টে কাজ করেছিলেন। তার সাথে যুক্ত হয় ১২০০ প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ এবং সোভিয়েত সরকারের প্রায় ১০০ মিনিস্ট্রি। বাজেট ধরা হয় প্রায় ১৪.৫ বিলিয়ন রুবল।

যে বৈশিষ্ট্যটি বুরানকে মার্কিন স্পেস শাটল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করেছিল তা হলো, প্রকৌশলীরা একে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা সম্পন্ন করে প্রস্তুত করেন। মানুষ্যবিহীন অবস্থায় মহাকাশে গিয়ে আবার ফিরে আসতে পারবে।

১৫ নভেম্বর ১৯৮৮ সালে বুরান তার প্রথম উড্ডয়ন সম্পন্ন করে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে। মহাকাশে গিয়ে পৃথিবীকে ২০৬ মিনিটে দুইবার প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে ফিরে আসে। ২০১০ সাল পর্যন্ত বুরান ছিল একমাত্র মনুষ্যবিহীন মহাকাশযান যেটি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছিল। বুরানের এই কীর্তি সোভিয়েত নেতাদের গোপনীয়তার কারণে দীর্ঘদিন পৃথিবীর মানুষ জানতে পারেনি।

এর কিছুদিন পরই সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ে, পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে অন্য অনেক প্রজেক্টের মতো ‘বুরান’ প্রজেক্টও বন্ধ হয়ে যায়। ৩০ জুন ১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলেতসিন আনুষ্ঠানিকভাবে বুরান প্রজেক্টের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

এই প্রজেক্টে বুরানের কিছু প্রোটোটাইপ তৈরি হয়, যাদের একটির নাম ‘পিচকা’, এর কাজ ৯৭% সম্পন্ন হবার পর বন্ধ হয়ে যায়। আরেকটি প্রোটোটাইপ ‘বৈকাল’, এর ৫০% কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। এটি দীর্ঘদিন ধরে অনেক অবহেলায় একটি পুরনো গাড়ির গেরেজে পড়ে ছিল। মস্কোর ম্যাক্সিম গোর্কি পার্কের দর্শকরা সকাল-বিকাল দেখে তাদের স্বপ্নের করুণ অবস্থা। এখানেও রাখা আছে বুরানের একটি প্রোটোটাইপ। পর্যাপ্ত দেখভালের অভাবে যেটি ধ্বংসপ্রায়।

প্রায় ১৫ বিলিয়ন রুবল বাজেটের এই প্রজেক্টের কোনো মেটারিয়ালই পরবর্তীতে কোথাও ব্যবহার করা হয়নি। রুশ মহাকাশ একাডেমির বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ঝিলকিয়ানভের কণ্ঠে নিদারুণ হতাশা ফুটে ওঠে- “Buran was made to shine in Space, but finally it died on Earth”।

বুরান গল্পের শুরু হয় ১৫ ই নভেম্বরের এক রৌদ্দোজ্বল দিনে। এই গল্প শেষ হয় ১২ ই মে ২০০২ সালের এক বৃষ্টিভেজা দিনে। কিছু কর্মী কাজাখাস্থান কসমোড্রামের হ্যাজ্ঞার ১১২ মেরামত করছিল যেখানে রয়েছে বুরান ১.০১। একমাত্র এই মডেলটিই পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছিল। মেরামতের এক পর্যায়ে হ্যাজ্ঞারটির ছাদ ধ্বসে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় ৭ কর্মীর মৃত্যু হয়। পাশাপাশি মৃত্যু হয় এক রঙিন স্বপ্নের। জন্ম হয় নতুন এক রুশ রুপকথার, যার নায়ক এক নিসঃজ্ঞ মহাকাশযান।

তথ্যসূত্র

  1. http://www.russianspaceweb.com/buran.html
  2. http://www.buran.ru/htm/molniya.htm
  3. https://en.wikipedia.org/wiki/Buran_programme
  4. http://www.buran.ru/htm/techno.htm

featured image: pinterest.com

কচ্ছপকে বাঁচাতে থ্রি-ডি প্রিন্টের খোলস

ছবির কচ্ছপটির বসবাস ব্রাজিলে। এক দাবানলে খোলসের অনেকটাই পুড়ে গিয়েছিল। এরপর টানা ৪৫ দিন না খেয়ে, নিউমোনিয়ায় ভুগে বেচারার অবস্থা যখন মৃতপ্রায়, তখনই তাকে খুঁজে পায় স্বেচ্ছাসেবক দল ‘এনিমেল অ্যাভেঞ্জার্স’ এর সদস্যরা। নিজেদের উদ্যোগে তারা কচ্ছপটির জন্য থ্রি-ডি প্রিন্ট করা খোলস বানাতে নেমে পড়ে। প্রতিটি অংশ আলাদা আলাদা করে বানানো হলে এরপর সেগুলো জুড়ে দিয়ে রঙ করে দেয়া হয়। উল্লেখ্য এটিই বিশ্বের প্রথম কচ্ছপ যার থ্রি-ডি প্রিন্ট করা খোলস রয়েছে।

featured image: all3dp.com

 

বেলুন চালিত ইন্টারনেট

সমগ্র বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ অনলাইন সার্চ ইঞ্জিনে প্রবেশ করতে পারে না। তাদের কথা ভেবে গুগল নিয়ে এলো বেলুন-চালিত নেটওয়ার্ক যা দূরবর্তী এবং ইন্টারনেটের পরিধির বাইরে অবস্থিত অঞ্চলগুলোর জন্য উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করবে।

এই প্রজেক্টের সাথে জড়িত আছে বেশ কিছু টেলিযোগাযোগ কোম্পানি, যারা বেলুনগুলোর এলাকায় ফোর-জি বেতার সংকেত প্রেরণ করবে। প্রত্যেকটা বেলুন তখন একেকটা ক্ষুদ্রাকৃতির টাওয়ারের মতো কাজ করবে। এগুলো তাদের চারদিকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত ডিভাইসগুলোতে নেটওয়ার্ক প্রেরণ করবে।

ইতোমধ্যে নিউজিল্যান্ডে সফলভাবে প্রকল্পটির পরীক্ষাকার্য সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে এই প্রকল্প বিস্তারের মাধ্যমে দক্ষিণ গোলার্ধে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা। বেলুনগুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন উচ্চ তাপমাত্রা ও বায়ুমণ্ডলের অতিবেগুনী রশ্মিতেও টিকে থাকতে পারে।

featured image: goodtechgo.com

ঘর্ষণহীন হোভারবোর্ড

‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’ সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্রের আরেকটি ভবিষ্যৎবাণী সত্যি হতে যাচ্ছে। গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘লেক্সাস’ এমন একটি হোভারবোর্ড তৈরি করেছে, যা তড়িতচুম্বক ব্যবহার করে ভূমির ২.৫ থেকে ৫ সেন্টিমিটার উপরে থেকে ভাসাতে পারে।

তবে এখানে কিছু সমস্যা আছে। এই মুহূর্তে এটি একটি প্রোটোটাইপ হিসেবে আছে। বিক্রয়ের জন্য অবমুক্ত করা হয়নি। কেউ চাইলেই এই হোভারবোর্ড দিয়ে শূন্যে ভেসে ভেসে তার গন্তব্যে যেতে পারবে না। বোর্ডটা কেবলমাত্র বিশেষ চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের ওপর কাজ করবে এবং প্রতিবার একে বিশ মিনিটের জন্য ব্যবহার করা যাবে। তবে লেক্সাস যেহেতু দেখিয়েছে এটা সম্ভব, কে জানে ভবিষ্যতে হয়তো সত্যি সত্যি হোভারবোর্ড দিয়ে বাতাসে ভেসে নাটকীয় ভঙ্গীতে স্কুল-কলেজ-গন্তব্যে যেতে পারবে মানুষ!

লেক্সাসের হোভারবোর্ডের ভিতর রয়েছে আলাদা একটি কোর যা উপযুক্ত তাপমাত্রায় অতিপরিবাহী হিসেবে কাজ করে। এগুলো ক্রায়োস্ট্যাটসের মধ্যে অবস্থান করে। ক্রায়োস্ট্যাটস হচ্ছে তরল নাইট্রোজেনের আধার। এটা সুপারকন্ডাক্টর-গুলোকে তাদের উপযুক্ত তাপমাত্রায় উন্নীত হতে সাহায্য করে। তড়িচ্চুম্বকের মতো কাজ করার কারণে, সুপারকন্ডাক্টরগুলো একটি তড়িৎক্ষেত্র তৈরি করে যা ট্র্যাকের নিচে অবস্থানরত স্থায়ী চুম্বকে বাধা দেয়। বিপরীতমুখী দুই বলের সক্রিয়তার ফলে বোর্ডটি ভাসতে থাকে। এ অবস্থায় ২০০ কেজি পর্যন্ত ভর উত্তোলন করতে পারে এই হোভারবোর্ড। পানির নিচে চুম্বকের ট্র্যাক থাকলে হোভারবোর্ড পানির উপরেও কাজ করবে।

image source: autoevolution.com

প্রায় ২০ মিনিট পর তরল নাইট্রোজেন বাষ্পীভূত হয়ে যায়। যার কারণে সুপারকন্ডাক্টরগুলো উত্তপ্ত হয়ে যায়। ফলে হোভারবোর্ড আর ভেসে থাকতে পারে না।

এটা নিয়ে পরীক্ষা করার জন্য লেক্সাস স্পেনের বার্সেলোনায় একটি বিশেষ ‘হোভারপার্ক’ নির্মাণ করেছে যার তলদেশে চৌম্বকীয় ট্র্যাক রয়েছে।

featured image: eedesignit.com

 

শূন্যে শাক-সবজি চাষ

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের নভোচারীগণ মহাশূন্যে তাদের জন্মানো সবজির স্বাদ পরীক্ষা করে দেখেছেন। সবজি জন্মানোর এ পদ্ধতিতে লেটুস জন্মানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল কিছু বীজতলা, লাল, সবুজ ও নীল রঙের LED আর পানি। লাল আর নীল LED ব্যবহার করা হয়েছিল যেন তারা তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বিচ্ছুরিত করতে পারে। এটি উদ্ভিদের বৃদ্ধি সাধনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। সবুজ LED সেগুলোকে খাওয়ার জন্য আরো উপযোগী করে তুলতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

হয়তো একদিন মঙ্গলের দীর্ঘ অভিযানের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি পুষ্টিকর ও দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যের উৎস তৈরি করা যাবে।

featured image: gossipsociety.com

পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র বাতি

গ্রাফিন, কার্বনের এক প্রকার রূপভেদ যা ইস্পাতের চেয়ে শক্তিশালী আর তামার চেয়ে বেশি পরিবাহী। গ্রাফিনের বিস্ময়ের তালিকায় যুক্ত হয়েছে তার আলোক তৈরি করার ক্ষমতা। গবেষকরা আলোক নিঃসরক গ্রাফিন ট্রানজিস্টর তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। ফিলামেন্ট বাল্বগুলো যেরকম কাজ করে এগুলোও সেরকমই কাজ করে।

প্রকৌশলী ও পদার্থবিজ্ঞানীরা অনেকদিন ধরেই এমন এমন একটা কিছু খুঁজছিলেন যা আলো নিঃসরণ করবে এবং যার আকৃতি হবে অনেক ক্ষুদ্র। এই ধরনের ক্ষুদ্র আলোক নিঃসরকদের খুব সহজেই ইলেকট্রনিক চিপের মাঝে স্থাপন করা যাবে। এই ধরনের নিঃসরকদের বলা হবে ‘ফোটনিক সার্কিট (Photonic circuit)’। কোয়ান্টাম কম্পিউটার সহ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনেক ন্যানো যন্ত্রপাতির বেলায় এই ধরনের ‘বাল্ব’ খুব কাজে আসবে।

কিন্তু এই ধরনের ক্ষুদ্র বাল্ব নির্মাণে কিছু সমস্যার দেখা দেয়। প্রথমত এত ক্ষুদ্র আকৃতির বাল্ব নির্মাণ করা খুব চ্যালেঞ্জিং দ্বিতীয়ত তাপমাত্রা সমস্যা। প্রকৌশল বিদ্যায় কোনো বস্তু হতে তখনই আলোক নিঃসৃত হয় যখন বস্তুটি প্রচণ্ড পরিমাণ উত্তপ্ত হয়। ক্ষুদ্র বস্তুতে এত উত্তাপ প্রদান করলে বস্তুটি গলে যাবে যা বড় ধরনের সমস্যা।

গ্রাফিন যেহেতু ইস্পাতের চেয়ে শক্তিশালী, তামার চেয়ে বেশি পরিবাহী ও তাপ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন তাই গ্রাফিন এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে। সেই লক্ষে বিজ্ঞানীরা কাজে নেমে পড়লেন এবং সফলও হলেন। তারা জানান গ্রাফিনের এই জিনিসটি উদ্ভাবনের ফলে খুব ক্ষুদ্র স্কেলে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার প্রতিবন্ধকতা দূর হবে।

বাস্তব জীবনেও প্রচুর উপকার বয়ে আনতে পারে এই উদ্ভাবন। যেমন নিত্যদিনের ব্যবহার করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ক্ষুদ্র চিপ ব্যবহার করতে হয়। এটি এই ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলে সমস্ত মানবজাতির উপকারে আসবে। বিজ্ঞানীদের এই প্রচেষ্টা হয়তো ক্ষুদ্র স্কেলের গবেষণা তথা ন্যানো প্রযুক্তিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তথ্যসূত্রঃ লাইভ সায়েন্স

featured image: nyerogep.co

অটোকী সাইফার- গোপন বার্তা আদান-প্রদান এবং ‘কী’ না জেনেও তা ভাঙ্গার কৌশল

আজ থেকে প্রায় পাঁচশ বছর আগেকার কথা। ইতালীয় আইনজ্ঞ ফাজিও কার্দানো ও চিয়ারা মিচেরির ভালোবাসার ফলস্বরুপ ১৫০১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর অধিবাসীদের তালিকায় নাম যোগ হয় এক ছেলের, বাবার নামের সাথে মিলিয়ে যার নাম রাখা হয় জিরোলামো কার্দানো। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, জিরোলামো তার বাবা-মায়ের বৈধ সন্তান ছিল না। জন্মগত এ অবৈধতা তার বাকি জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও বিরুপ প্রভাব ফেলেছে বিভিন্নভাবে।

মানুষের ভেতরে যদি আসলেই কোনো গুণ থাকে তাহলে একদিন যে তা ঠিকই প্রকাশ পায়, মানুষের জন্ম নয় বরং কর্মই যে অমর করে রাখে, বাকি জীবন জুড়ে এ কথাগুলোর বাস্তব প্রমাণই দিয়ে গেছেন জিরোলামো কার্দানো।

রেনেসাঁ যুগের সেরা গণিতবিদ বলে স্বীকৃত কার্দানো ছিলেন একাধারে একজন গণিতবিদ, চিকিৎসক, জীববিজ্ঞানী, পদার্থবিজ্ঞানী, রসায়নবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, জ্যোতিষী, দার্শনিক, লেখক ও জুয়াড়ি! পরবর্তী সময়ে তার কাজের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন ব্লেইজ প্যাসকেল, পিয়েরে দ্য ফার্মা, আইজ্যাক নিউটন, গটফ্রেড লিবনিজ, মারিয়া অ্যাগনেসি, জোসেফ লুইস ল্যাগ্রাঞ্জ ও কার্ল ফ্রেডরিখ গাউসের মতো মানুষেরা।

অনাগত ভবিষ্যতের বুকে নিজের নামটি খোঁদাই করে রাখতে মানুষের প্রচেষ্টার কোনো অন্ত নেই। জিরোলামো কার্দানোও ছিলেন এমনই একজন। জীবদ্দশায় মোট ২৪২ টি বই লিখেছিলেন তিনি! এর মাঝে ১৩১ টি বই তাঁর জীবিত অবস্থাতেই প্রকাশিত হয়। বাকি ১১১ টি পান্ডুলিপিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। দুই শতাধিক বইয়ে তিনি কী নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তা জিজ্ঞেস না করে বরং কী নিয়ে আলোচনা করেননি তা জিজ্ঞেস করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যোতিষশাস্ত্র, দাবা, পদার্থবিজ্ঞান, জুয়া, আত্মার অমরত্ম, সক্রেটিসের ভাবধারা, রত্ন, বিষ, বাতাস, পানি, পুষ্টিবিদ্যা, স্বপ্ন, মূত্র, দাঁত, সঙ্গীত, নীতিশাস্ত্র ইত্যাদি বহুবিধ বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেছেন তিনি।

মজার ব্যাপার হলো, আমাদের আজকের আলোচ্য ক্রিপ্টোলজির অটোকী সাইফার (Autokey Cipher) নিয়ে কিন্তু কার্দানোর আলাদা কোনো বই নেই। তার সর্বাধিক বিক্রিত দুটি বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ে তিনি ক্রিপ্টোলজি সম্বন্ধে অল্প বিস্তর আলোচনা করেছিলেন অবশ্য।

এর মাঝে প্রথমটি ছিল De Subtilitate। এ বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৫৫০ সালে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে কার্দানোর চমৎকার উপস্থাপনা পাঠক সমাজকে সহজেই আকৃষ্ট করতে পেরেছিল। বইটির সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাই ছয় বছর পর তিনি বের করেন এর দ্বিতীয় খন্ড- De Rerum Varietate। বিপুল জনপ্রিয়তার ফলে দুটি বই-ই বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয় এবং নকল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে গোটা ইউরোপ জুড়ে।

অটোকী সাইফারকে অটোক্লেভ (Autoclave) সাইফারও বলা হয়ে থাকে। এ সাইফারে Key বানানো হয় Plain Text এর উপর ভিত্তি করে অর্থাৎ অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলতে থাকে এর Key। এজন্য Key-এর আগে Auto বসিয়ে সাইফারটির নাম হয়েছে Autokey সাইফার। এ সাইফারের সাহায্যে কোনো মেসেজকে এনক্রিপ্ট করতে আমাদের দরকার একটি টেবুলা রেক্টা (Tabula Recta) টেবিল।

এনক্রিপশন

ধরা যাক, আমরা যে মেসেজটি এনক্রিপ্ট করবো সেটি হলো- “To be prepared is half the victory”। এটি মিগুয়েল ডি সার্ভেন্টেসের উক্তি। ধরে নিই, আমাদের Key হলো Miguel। যেহেতু অটোকী সাইফারে আমাদের দরকার Keystream, তাই Plain Text এর সাথে Keystream-কে সাজাতে হবে নিচের মতো করেঃ

ভালো করে একবার Keystream সাজানোর পদ্ধতিটি দেখুন। প্রথমে আমি Key Miguel লিখেছি। এরপর থেকে Plain Text এর মেসেজটিই হুবহু লিখে গিয়েছি। এভাবে Plain Text এর শেষ পর্যন্ত Keystream লিখে যেতে হবে। এখানে Key নিজে বারবার না এসে Plain Text-ই Keystream এ রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে।

এবার আসা যাক দ্বিতীয় ধাপে। এখন আমাদের টেবুলা রেক্টার সাহায্য লাগবে। পাশের চিত্র দ্রষ্টব্য। আমরা প্রথম যে বর্ণটি এনক্রিপ্ট করবো তা হলো ‘t’। তাহলে টেবুলা রেক্টার একেবারে উপরের সারি থেকে (গাঢ় কাল অক্ষর) প্রথমেই t এর নিচে থাকা Keystream ‘m’ কে খুঁজে বের করতে হবে। তারপর একেবারে বামের কলাম থেকে (গাঢ় কালো অক্ষর) Plaintext ‘t’ কে খুঁজতে হবে।

m ও t থেকে যদি আমরা যথাক্রমে উপর থেকে নিচে এবং বাম থেকে ডানে এগোই তাহলে তারা পরস্পরকে F এ ছেদ করবে। অর্থাৎ F হলো t এর এনক্রিপ্ট করা রূপ।

এবার আসা যাক Plaintext এর ২য় বর্ণ ‘o’তে। এর নিচে থাকা Keystream হলো ‘i’। এবারও আগের মতোই টেবুলা রেক্টার সবার উপরের সারি থেকে i এবং একেবারে বামপাশের কলাম থেকে o-কে খুঁজে বের করতে হবে। তারপর I থেকে নিচে এবং o থেকে ডানে এগোতে থাকলে একসময় তারা পরস্পরকে W-এ ছেদ করবে। অর্থাৎ W হলো o এর এনক্রিপ্ট করা রূপ।

এভাবে Plain Text এর বাকি বর্ণগুলোকেও টেবুলা রেক্টা ও Keystream এর সাহায্যে এনক্রিপ্ট করা যাবে। পুরো মেসেজটি এনক্রিপ্ট করলে তাহলে আমরা পাচ্ছিঃ

ডিক্রিপশন

ধরা যাক, আমাদের কাছে এনক্রিপ্ট করা একটি মেসেজ এসেছে যেখানে লেখা আছে- BIOXJZA BG FSZK”। প্রেরক আমাদের জানিয়েছে, এ মেসেজের Key হলো ‘Game’। এবার মেসেজটি ডিক্রিপ্ট করে মূল মেসেজ বের করাই আমাদের লক্ষ্য। প্রথমেই তাহলে আগের মতো করে একটি টেবিলে Keystream ও Cipher Text সাজিয়ে নেয়া যাক। যেহেতু আমরা Keystream-এর কেবল ‘game’ অংশটুকু জানি, তাই বাকি ঘরগুলো ফাঁকা রাখতে হবে।

এখন আবারো যেতে হবে টেবুলা রেক্টার কাছে। Cipher Text এ আমাদের প্রথম বর্ণ ‘B’। অন্যদিকে Keystream-এ প্রথম বর্ণ ‘g’। টেবুলা রেক্টার একেবারে উপরের সারি থেকে প্রথমে তাই g-কে খুঁজে বের করতে হবে। এরপর g-এর কলাম ধরে নিচে নামতে হবে যতক্ষণ না B-কে পাওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ। B পাওয়া গেলে এরপর সেখান থেকে একেবারে বামের কলামে যে বর্ণটি আমরা পাবো সেটিই হবে B এর ডিক্রিপ্ট করা বর্ণ। এক্ষেত্রে এটি V। নিচের চিত্রে পুরো ব্যাপারটি দেখানো হয়েছে।

যেহেতু আমরা Plain Text এর একটি বর্ণ পেয়েছি তাই টেবিলকে নিচের মতো করে আপডেট করে নিতে হবে। এনক্রিপশনের সময় আমরা দেখেছিলাম, Keystream এ Key এর পর থেকেই Plain Text শুরু হচ্ছে। এবারও তাই ‘game’ এর পরই এসেছে ‘V’।

এবার আসা যাক Cipher Text এর দ্বিতীয় বর্ণ I এর কাছে। এক্ষেত্রে Keystream হলো ‘a’। তাহলে আগের মতো করেই প্রথমে টেবুলা রেক্টার উপরের সারি থেকে ‘a’ খুঁজে সেখান থেকে নিচে নেমে ‘I’ কে বের করতে হবে। I থেকে একেবারে বামের কলামে গেলে আমরা পাবো এর ডিক্রিপ্ট করা রূপ। এক্ষেত্রে সেটি ‘I’।

আবারো আগের মতো করে টেবিলকে নিচের মতো করে আপডেট করতে হবেঃ

এভাবে Cipher Text এর বাকি বর্ণগুলোকেও Keystream আর টেবুলা রেক্টার সাহায্যে ডিক্রিপ্ট করলে আমরা মূল মেসেজটি পেয়ে যাবো।

গল্প করতে করতে কখন যে আপনাকে একজন পলিম্যাথের আবিষ্কার করা একটি সাইফার সিস্টেম শিখে নিলাম তা নিজেও খেয়াল করিনি! তবে ঠান্ডা মাথায় পুরো পদ্ধতিটুকু যদি আপনি পড়ে থাকেন, তাহলে নিঃসন্দেহে মাথা খাটানোর অনেক কিছুই আছে এখানে।

দুর্গে ফাটল

এতক্ষণ ধরে অটোকী সাইফার নিয়ে পড়ার পর যে কেউই মেনে নিতে বাধ্য যে এ সাইফারটি বেশ সুরক্ষিত। কিন্তু সুরক্ষিত এ দুর্গের কি কোনো ফাটল নেই? অবশ্যই আছে। এবার সেই ফাটলেই সাথেই পরিচিত হওয়া যাক।

অটোকী সাইফারের Keystream বানানো হয় Plain Text কে ব্যবহার করে। Plain Text এ কোনো বহুল ব্যবহৃত শব্দ আসতেই পারে; যেমন- AND, THE ইত্যাদি। এ শব্দগুলোকে ক্লু হিসেবে ব্যবহার করেই পুরো অটোকী সিস্টেমকে ডিক্রিপ্ট করা সম্ভব।

ধরে নিচ্ছি, আমাদের কাছে একটি একটি মেসেজ এসেছে যাতে লেখা আছে PKBNEOAMMHGLRXTRSGUEWX। আমাদেরকে এটাও বলে দেয়া হয়েছে যে, এখানে অটোকী সাইফার ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু Key জানা না থাকায় আমরা Plain Text পর্যন্ত যেতে পারছি না। কাজে এগোনোর স্বার্থে ধরে নিই, Plain Text এ ‘THE’ শব্দটি অন্তত একবার হলেও এসেছে। তাহলে ‘THE’ Keystream-এও এসেছে ধরে নিয়ে এগোনো যাক।

Keystream এর প্রতিটি ঘরে THE বসালে আমাদের হাতে থাকে Keystream ও Cipher Text। তখন একটু আগেই আলোচনা করা ডিক্রিপশনের নিয়মটি অনুসরণ করলে আমরা নিচের টেবিলটি পাবোঃ

Keystream এ THE এর অবস্থান সামনে-পেছনে নিয়ে আমরা নিচের আরো দু’ধরনের বিন্যাস পেতে পারি।

এখন এ তিনটি টেবিল ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা যাক। আমরা মূলত এখন ঘোরাঘুরি করবো Plain Text এর ঘরগুলোতে। সেখানে কোনো অর্থপূর্ণ শব্দাংশ খুঁজে বের করাই আমাদের লক্ষ্য।

যেমন- ২য় টেবিলের ‘ihw’ কিংবা ৩য় টেবিলের ‘skt’ একেবারেই নিরর্থক। কিন্তু ৩য় টেবিলেরই ‘tac’ কিংবা ‘ako’ এর কোনো শব্দাংশ হবার সম্ভাবনাকে একেবারে নাকচ করে দেয়া যায় না। আমরা তাই ‘tac’ নিয়ে এগোবো। যেহেতু অটোকী সাইফারে একই জিনিস Plain Text ও Keystream এ থাকে, তাই আমাদের আলোচ্য THE ও tac এ দু’জায়গায়ই আছে বলে ধরে নিচ্ছি।

প্রথমে মনে করি, আমাদের অজানা Key এর দৈর্ঘ্য ৪ অর্থাৎ এটি ৪টি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত। তাহলে Plain Text এ থাকা the এর t থেকে Keystream এর THE এর T ৪ বর্ণ পরিমাণ দূরে থাকবে। একই কথা বলা যাবে tac এর ক্ষেত্রেও।

Plain Text ও Keystream এর ঘরগুলো যথাক্রমে ‘the’, ‘tac’, ‘THE’ ও ‘TAC’ দিয়ে পূরণ করার পর যে ঘরগুলো বাকি থাকবে সেগুলোকে পূর্বে আলোচনা করা এনক্রিপশন-ডিক্রিপশনের পদ্ধতিতে টেবুলা রেক্টার সাহায্যে ভরাট করতে হবে। যে ঘরগুলো এভাবে ভরাট করতে হবে, পরবর্তী টেবিলে সেগুলো ডিম্বাকৃতির বক্সের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।

এখান থেকে পাওয়া ‘yxr’ Plain Text শব্দাংশ হিসেবে গ্রহণযোগ্য না। তাই নিচের টেবিল দুটোতে যথাক্রমে ৫ ও ৬ বর্ণবিশিষ্ট Key ধরে এগোনো হয়েছে। এ টেবিল দুটোতেও যে ঘরগুলো ফাঁকা থাকবে তা টেবুলা রেক্টা দিয়ে পূরণ করতে হবে।

উপরের টেবিল দুটি থেকেও আমরা কোনো গ্রহণযোগ্য শব্দাংশ (‘etp’ ও ‘arq’) পেলাম না। তাই এখন আমরা ‘tac’ বাদ দিয়ে এখন ‘ako’ দিয়ে এগোতে থাকবো। তাহলে আবার এ অংশের শুরুতে আলোচনা করা তিনটি টেবিলের মাঝে তৃতীয়টির শরণাপন্ন হতে হবে। Key এর দৈর্ঘ্য এক এক করে বৃদ্ধি করে এগোনো যাক।

প্রথমে Key এর দৈর্ঘ্য ৪। তখন Plain Text হিসেবে পাওয়া ‘uui’ কোনো গ্রহণযোগ্য শব্দাংশ হতে পারে না। তবে Keystream অংশে থাকা ‘NEN’ এর সেই সম্ভাবনা আছে।

অনুসন্ধান চলতে থাকুক আগের মতোই। নিচের টেবিল দুটিতে Key এর দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ৫ ও ৬।

শেষের টেবিলের Keystream এ পাওয়া ‘TAC’ ও Plain Text এ পাওয়া ‘wn’ দুটোরই অর্থপূর্ণ শব্দাংশ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন আগের মতোই এগোতে হবে আমাদের। যেহেতু ‘TAC’ Keystream এ আছে, সুতরাং এটি Plain Text-এও থাকবে। সেক্ষেত্রে আমরা নিচের টেবিলটি পাবো। এ টেবিলে কিন্তু ঠিক আগের টেবিলের তথ্যগুলোই আছে। ফলে এখানেও Key এর দৈর্ঘ্য ৬-ই থাকছে।

দুর্গের ফাটল এতক্ষণে ধরা দিতে শুরু করেছে। আমরা ধরেছিলাম, Keystream এ Key এর দৈর্ঘ্য ৬। উপরের টেবিলের Keystream এ ‘INC’ দখল করেছে যথাক্রমে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম স্থান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ‘INC’ এর সামনে-পেছনে বর্ণ বসিয়ে একে ৬ বর্ণের একটি Key-তেই রূপান্তর করা সম্ভব! কীভাবে?

‘Prince’ কিংবা ‘Flinch’ এর মতো শব্দ যে ঠিকই আছে ইংরেজী শব্দের ভান্ডারে! রাজপুত্র অর্থাৎ Prince কে দিয়েই তাহলে সম্ভাব্য জয়যাত্রা শুরু করা যাক। Key হিসেবে Prince লেখার পর এর উপরের Plain Text এর ফাঁকা জায়গাগুলো টেবুলা রেক্টার সাহায্য নিয়ে পূরণ করা হয়েছে।

কী আনন্দ! আরেকটি অর্থপূর্ণ শব্দ পেয়ে গেলাম আমরা, ‘attack’! আক্রমণ আরো জোরদার করা দরকার এখন। দূর্গের দেয়াল ভেঙে পড়তে বুঝি আর বেশি দেরি নেই আমার ক্লান্ত সৈনিকেরা। ঐ তো দেয়ালের পাথরগুলো এক এক করে খসে পড়ছে। যেহেতু Key পাওয়া গেছে, তাহলে এখন Plain Text কে Keystream এ বসানো শুরু করতে পারি আমরা। এভাবে PRINCE এর পর ATTACK আসলে নিচের টেবিলটি পাবো আমরা।

এভাবে Plain Text এর ফাঁকা জায়গাগুলো টেবুলা রেক্টার সাহায্যে এবং Keystream এর ফাঁকা জায়গাগুলো আবার Plain Text এর সাহায্যে ভরাট করলেই একসময় আমরা পেয়ে যাবো আমাদের কাঙ্ক্ষিত মেসেজ- ‘attack at the break of dawn’।

মারহাবা, মারহাবা! শত্রুপক্ষের দুর্গ একেবারেই ভেঙে পড়েছে। অনেক মাথা খাটিয়ে বিজয়ের সন্ধান পেলাম আমরা অবশেষে।

প্রকৃতপক্ষে অটোকী সাইফারের Key জানা না থাকলেও কীভাবে তার মর্মোদ্ধার করা যায় তার খুব সহজ উদাহরণ ছিল এটি। এখানে এমন একটি মেসেজই দেয়া হয়েছে যাতে ‘THE’ শব্দটি ছিল। বাস্তবে কিন্তু অনেক শব্দ ঘাটাঘাটি করে পরেই পাওয়া যেতে পারে কাঙ্ক্ষিত শব্দটি!

আবার আমরা কিন্তু ‘tac’ দিয়ে কাজ না হবার পরপরই সোজাসুজি ‘ako’-তে চলে এসেছি। বাস্তব জগতের সমস্যা এতটা সহজ হবে এমন আশা করা বৃথা! Key হিসেবে আমরা এ উদাহরণে পেয়েছি Prince যা একটি শব্দ। কিন্তু তথ্যের সুরক্ষার জন্য কেউই প্রকৃতপক্ষে চেনা-পরিচিত কোনো শব্দ ব্যবহার করবে না। বরং অর্থহীন কোনোকিছু এক্ষেত্রে বেশি সুরক্ষা দিবে।

ক্রিপ্টোলজির নিয়মিত পাঠকেরা আজকের এ লেখার মাধ্যমে অনেক উঁচু কোনো পাহাড়কে ছোঁয়ার আনন্দ পেয়েছেন বলেই আমার বিশ্বাস। সাথেই থাকুন, কারণ সামনে আসছে আরো অসাধারণ সব সাইফার, অসাধারণ অনেক ঐতিহাসিক কাহিনী যার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অ্যাডভেঞ্চার।

featured image: disneydude-94.deviantart.com