in

বইয়ের গন্ধের খোঁজে

বইয়ের পোকাদের কাছে বইয়ের গন্ধ একধরনের মাদকতার সৃষ্টি করে। কোথা থেকে আসে এ গন্ধ? কেনই বা এ গন্ধের আবির্ভাব ঘটে?  নতুন ও পুরাতন উভয় প্রকার বই থেকেই কয়েক ধরনের উদ্বায়ী পদার্থ নির্গত হয়। এসব পদার্থ বা উপাদানগুলোর উৎস আবার ভিন্ন ভিন্ন। কোনো কোনোটির উৎস হিসেবে থাকে বিযোজিত পদার্থ আবার কোনো কোনোটির উৎস হিসেবে থাকে বইয়ে ব্যবহৃত কালি বা বইয়ের পৃষ্ঠার ধরণ।

বইয়ের পৃষ্ঠায় থাকা সেলুলোজের ক্রমান্বয়িক ভাঙন সম্পন্ন হয় এবং লিগনিনের উপস্থিতিতে আরো কিছু জৈব উপাদা তৈরি হয়। কাগজের ধরণ এবং আয়ুর উপর নির্ভর করে এসব জৈব উপাদানগুলো ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় তৈরি হয়। বেশি পুরাতন বইয়ে লিগনিনের উপস্থিতি যেকোনো নতুন বই থেকে বেশি থাকবে।

নীচে কিছু যৌগের নাম এবং তাদের ভূমিকা তুলে ধরা হলোঃ

১. টলুইন- মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।

২. ভ্যানিলিন- ভ্যানিলা ফ্লেভারের গন্ধ প্রদান করে থাকে। কেক বা আইস্ক্রিমের মাঝে যেরকম ফ্লেভার থাকে সেরকম।

৩. ২-ইথাইল হেক্সানল- যা গাছপালা বা তৃণ জাতীয় গন্ধ প্রদান করে।

৪. ইথাইল বেনজিন- এটিও মিষ্টি জাতীয় গন্ধের জন্য দায়ী।

৫. বেনজালডিহাইড-  বাদাম জাতীয় গন্ধের জন্য দায়ী।

৬. ফারফিউরাল- এটি এক ধরনের হেটারো সাইক্লিক যৌগ। পৃষ্ঠায় বাদাম জাতীয় গন্ধ প্রদান করে।

নতুন বইগুলোর গন্ধ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। বইতে ব্যবহৃত আঠা, কালি ও পৃষ্ঠা তৈরির উপাদানের উপর নির্ভর করে তার থেকে আসা গন্ধ কেমন হবে।

এখনকার আঠা সাধারণত কো-পলিমার ধাঁচের উপাদান দ্বারা তৈরি। যেমন- ভিনাইল অ্যাসিটেট ইথাইলিন। কাগজ যখন বানানো হয় তখন প্রত্যাশিত গুণগত মান সম্পন্ন কাগজ পাবার উদ্দেশ্যে কাগজের মণ্ডে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত করা হয়। এসব যৌগের মাঝে কোনো কোনোটির আবার নিজস্ব কোনো গন্ধ নেই। কিন্তু এই যৌগগুলো অন্যন্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে উদ্বায়ী পদার্থের নিঃসরণ ঘটাতে পারে।

ভিনাইল অ্যাসিটেট ইথাইলিন নামের একটি যৌগ আঠাতে ব্যবহার করা হয়। রাবারের শিট বা ম্যাট তৈরিতেও এগুলো ব্যবহৃত হয়। কালি ও কাগজ তৈরিতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র

http://www.compoundchem.com/infographics/

https://en.wikipedia.org/wiki/Ethylene-vinyl_acetate

 

প্রজেক্ট সীলঃ সমুদ্রের বুকে মানবসৃষ্ট সুনামী

রোবটের চোখঃ স্পৃহা