পৃথিবী ও পরিবেশ

জীবন্ত শৈবালের বসতবাড়ি

প্রতিটি মানুষের আশা থাকে তার স্বপ্নের বাড়িটি হবে ঝকঝকে-তকতকে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। আর সেটি যে দেখতে অসাধারণ হতে হবে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ আগে মানুষ দর্শণধারী, পরে গুণবিচারী। বাইরের রঙটা হবে এমন যে, তা যে কারো মন কাড়তে বাধ্য। এর জন্য দরকার কত ঘষাঘষি, চুনকাম, ওয়েদার প্রটেকটিভ কোটিং, রং-বেরংয়ের প্রলেপসহ আরও কত কী! তার মনে আশা থাকে ঝড়বাদল, স্যাঁতস্যাঁতে পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে দিনের পর দিন বাড়িটি রূপ-রং ঝরাবে। কিন্তু সব আশায় গুড়েবালি দিয়ে কেউ যদি ইচ্ছা করেই ছত্রাক-শৈবাল লালন করে সেই বাড়ীর বারোটা বাজায়, তবে তাকে বদ্ধ উন্মাদ ছাড়া আর কিছুই বলা যাবে না। এমনই কিছু উন্মাদের কথা বলতেই আজকের এ লেখা।

এবার শুধু উন্মাদ বিজ্ঞানীরাই না, তাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন বিল্ডিং এক্সপার্ট এবং আর্কিটেক্টরাও, যারা অস্ট্রেলিয়াতে জীবন্ত শৈবাল নিয়ে বাড়ি বানাতে যাচ্ছেন, যেখানে এগুলোই বাড়ীর বহিরাবণ আবৃত করে রাখবে!

কিন্তু তার আগেই বলে রাখা দরকার, এটাই প্রথমবারের মতো পাগলামি না। এর আগেও একই কাজ হয়েছে। জার্মানির হামবুর্গে ২০১৩ সালে IBA (International Bar Association) একটি আন্তর্জাতিক ভবন প্রদর্শনীর আয়োজন করে যাতে প্রথমবারের মতো এ ধরনের ভবনের ধারণা উঠে আসে।

 

ভবনের সামনের দিকটায় সবুজ যে গ্লাসগুলো দেখা যাচ্ছে তাতে কিন্তু রয়েছে জীবন্ত শৈবাল। এ সবুজ রং নিয়ত পরিবর্তনশীল। শৈবালের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে এর রঙ হাল্কা সবুজ থেকে গাঢ় সবুজ হতে থাকে। একদম গাঢ় হয়ে গেলে কাচে ঘেরা মিডিয়ামকে সবুজ লাভার মতো মনে হয় যা থেকে ফুলকির মতো বুদবুদ অক্সিজেন নির্গত হয়।

সবুজ শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক ও পুষ্টি উপাদান নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং পানির সাথে বিক্রিয়ায় বায়োমাস ও তাপ তৈরি করে। এ বায়োমাসকে সংগ্রহ করে বায়োমাস রিঅ্যাক্টরে বিক্রিয়ার মাধ্যমে বায়োগ্যাস ও বায়ো অয়েল তৈরি করা হয়, যা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উল্লেখ্য, এ বায়োজ্বালানীর গুণগত মান যথেষ্ট উচ্চমানের। এ জ্বালানী থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ তৈরি করে বাড়ির ভিতরে প্রেরণ করা হয়। আর বিক্তিয়ার উৎপাদ হিসেবে তৈরি তাপকে ওয়াশ রুমের গরম পানির প্রবাহের জন্য ও ঘর গরম রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। দহনের ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাই অক্সাইডকে পুনরায় টিউবের মাধ্যমে কাঁচেঘেরা প্লান্টে পাঠানো হয়। আর পুরোনো শৈবালগুলা সংগ্রহ করে মানুষের এবং মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে শৈবাল থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ, সমস্ত বাড়ি যদি সোলার প্যানেল দিয়ে দ্বারা ঘিরে দেওয়া হতো, তবে তার থেকে কোনো অংশে কম হতো না।

এ যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে স্বনির্ভর বাড়ি তৈরির পথে মানুষের অগ্রযাত্রা কয়েক ধাপ এগিয়ে গেলো। শুধু বাড়ির সৌন্দর্যের জন্যই নয়, পরিবেশের উপর এ ধরনের বাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

তথ্যসূত্রঃ

thescienceexplorer.com/technology/living-algae-buildings-coming-soon-australia

 

Comments

কপিরাইট © ২০১৬ জিরো টূ ইনফিনিটি। সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত। Powered by Bintel

.

To Top