পৃথিবী ও পরিবেশ

ভূমিকম্পের পূর্বাভাসঃ বর্তমান প্রেক্ষাপট

ভূমিকম্পে পৃথিবীর মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি যে, এই বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্র প্রচুর। অতীতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হয়েছে, এখন হচ্ছে এবং পরেও হবে। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস খুবই জনপ্রিয় এবং গবেষণার বড় একটি ক্ষেত্র। যদিও এ বিষয়ে গবেষণা করাটা বেশ জটিল আর অন্যান্য গবেষণার তুলনায় এই বিষয়ে গবেষণা প্রায় অপরিপক্বই বলা যায়। কিন্তু যতটুকু গবেষণাই হয়েছে তার মূল্য অনেক। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নিয়ে গবেষণার ফলাফল বেলাশেষে আমাদের আশার বাণীই শোনায়।

কিছু কিছু পূর্ব লক্ষণের কথা অবশ্য বিজ্ঞানীরা বলেন। যেমনঃ

1) Ground Uplift and Tilt, 2) Groundwater Fluctuation, 3) Chemical Changes in Groundwater, 4) Decrease of electrical resistivity of rocks.  এগুলো কমবেশি সবারই জানার কথা। এবার কয়েকটা ঘটনার কথা বলে ভূমিকম্পের পূর্বাভাসের কথা বলবো।

২০১১ সালের জাপানের তোহুকুতে যে ভূমিকম্প হয়েছিল তার সম্পর্কে সবার মনে থাকার কথা। ইতিহাসের ভয়ঙ্কর যে কয়েকটা ভূমিকম্প হয়েছে তার মধ্যে এটিকে উপরের দিকে স্থান দেয়া যায়। জাপানের একদম কাছাকছি স্থানে ছিল এর উৎপত্তিস্থল। এই ভূমিকম্পে ১৫ হাজার ৮৪৪ জন মারা যায়, ৩ হাজার ৪৫০ জনকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৩৫ বিলিয়ন ডলার।

আগ্রহোদ্দীপক ব্যাপার হচ্ছে এই ভূমিকম্প যে হবে তার কথা ১০ বছর আগে বিজ্ঞানীরা জানান দিয়ে রেখেছিলেন। সেই পূর্বাভাসে যে সময়, অবস্থান এবং ভূমিকম্পের তীব্রতার কথা বলা হয়েছিল তার ৭০ শতাংশ সঠিক ছিল। এমনকি এটি ঘটার আগের কয়েক দিন পরিবেশে বিভিন্ন রকম অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গেলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

M8-MSc নামক এলগরিদমের সাহায্যে এই পূর্বাভাসটি দেয়া হয় ২০০১ সালের মাঝামাঝি সময়ে। তখন বলা হয় ভূমিকম্পটি হনসু বা হোকায়দোর আশেপাশে হতে পারে। এখানে একটা কথা না বললেই নয়, M8-MSc এর আগের ২৫ বছর ৮ বা তার থেকে বেশি মাত্রার ভূমিকম্প পূর্বাভাসে ৭০% পর্যন্ত সফল। ২০১০ সালের চিলির ভূমিকম্পের কথাও জানান দেয় M8। এসব পরিসংখ্যান দেখেও ইচ্ছে করলে অনেক ক্ষতি এড়ানো যেত। International Journal of Disaster-এ ২০১২ সালে Risk Reduction বিষয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ হয় যেখানে একে বলা হয় “a missed opportunity for disaster preparedness”

পূর্বাভাসের এই বিষয়টি আসলে অনেক বড় একটা গবেষণার ক্ষেত্র। Chaos Theory, Statistical Physics, Joint Optimization এর মতো গাণিতিক পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয় এই ধরনের গবেষণাতে।

চিত্রঃ M8 and MSc alarm regions (তারকা চিহ্নিত স্থানটিই তোহুকু ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র। ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল ২০০১ সালে।)

এখন আরেকটু ভেতরে যাই। তোহুকু ভূমিকম্পের আগের কয়েকটা দিন আবহাওয়াতে অস্বাভাবিক তারতম্য দেখা যায়। ঐ স্থানেই তারতম্যগুলো হয়েছিল। যেমনঃ ১১ মার্চ ২০১১ তে ভূমিকম্পটি হয়। ৭ মার্চ ২০১১-তে ভূমিকম্পের এপিসেন্টারের কাছে infrared radiation এর হার অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। পাশাপাশি ইলেকট্রন ঘনত্বের পরিমাণও বেড়ে যেতে দেখা গেছে। মার্চের ৩ – ১১ তারিখ পর্যন্ত ইলেকট্রনের ঘনমাত্রার রেকর্ড দেখা হয়। দেখা গেছে, এই সময়টাতে ইলেকট্রন ঘনমাত্রার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল কিন্তু কম্পনটি হবার পর এটি কমে যায়।

২০০৮ সালে Applied Radiation and Isotopes নামক জার্নালে “Radon anomaly in soil gas as an earthquake precursor” – নামক প্রবন্ধ প্রকাশ হয়। এখানে দেখানো হয়, ভূমিকম্প হবার আগে মাটিতে এবং ভূগর্ভের পানিতে রেডন গ্যাসের পরিমাণ অনেক হারে বেড়ে যায়।

এই মাসে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নিয়ে প্রাথমিক কিছু কথাবার্তা হলো, পরবর্তী কোনো এক সংখ্যায় বিস্তারিত আলোচনা করার ইচ্ছা রেখে এখানেই শেষ করছি।

তথ্যসূত্র

  1. International Journal of Disaster Risk Reduction 1 (2012) 17–32
  2. Science (2011) 24: 557–564
  3. Applied Radiation and Isotopes 66 (2008) 1459–1466
   4. http://www.npa.go.jp/ archive/keibi/biki/higaijokyo_e.pdf
Comments

কপিরাইট © ২০১৬ জিরো টূ ইনফিনিটি। সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত। Powered by Bintel

.

To Top