in

নিদ্রাহীনতা দূর করে যেসব খাদ্য

ঘুম হলো শান্তির বাহন। ক্লান্তি দূর হয়ে প্রশান্তি ফিরে আসে এই ঘুমে। ঘুম স্মৃতিশক্তি ও মেধাশক্তি বাড়ায়। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের সকল কোষ ও কার্যক্রম ঠিক রাখে। সারাদিনের ক্লান্তিকর খাটুনি বা মানসিক পরিশ্রমের অবসান ঘটে ঘুমের মাধ্যমে। সুস্থতা ও সুন্দর জীবনের জন্য ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বর্তমানে নানা কারণে নিদ্রাহীনতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। হতাশা, দুশ্চিন্তা সহ নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক জটিলতার অন্যতম কারন নিদ্রাহীনতা। ফলে পারিবারিক ও সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তাই ঘুমের সমস্যা সমাধানের কিছু উপকারি টিপস নিয়ে এই আয়োজন।

যে সমস্ত উপাদান ঘুমের জন্য সহায়ক তা হলো-

ম্যাগনেশিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ

Natural-Sleep-Aids-to-Help-You-Fall-Asleep-Faster
TATIANA AYAZO/RD.COM

ঘুমের সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধানে ম্যাগনেশিয়ামের ভূমিকা অপরিসীম। ম্যাগনেশিয়াম পেশির সংকোচন এবং রিলাক্সেশনে বড় ভূমিকা পালন করে। এক গবেষণায় দেখা যায়, ম্যাগনেশিয়াম ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণ বাড়াতে সাহায্য করে। কম ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণের সাথে নিদ্রাহীনতার সম্পর্ক বিদ্যমান। যারা সারা রাত জেগে থাকে, ঘুমাতে পারে না তাদের জন্য কার্যকরী উপায় হলো ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো। ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণ বাড়ালে ঘুম না আসা ও নির্ঘুম রাত কাটানোর সমস্যা দূরীভূত হবে। তাছাড়া নিয়মিত পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণ করলে রেস্টলেসনেস লেগ সিন্ড্রোমের মতো সমস্যাও অনেকটা কমবে।

ক্যালশিয়াম গ্রহণ

দই বানিয়ে ফেলুন। এটি আপনার ভালো বন্ধু হবে। উপকারি ব্যাকটেরিয়ায় ভরপুর ক্যালসিয়ামপূর্ণ খাবার ঘুমাতে সাহায্য করে। এই মিনারেল ব্রেনকে ট্রিপ্টোফ্যান অ্যামাইনো অ্যাসিড ব্যবহারে সহায়তা করে মেলাটোনিন হরমোন উৎপন্ন করে। অপর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের কারণে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কম হয় ফলে ঘুমের ঘাটতি দেখা যায়। ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সম্পন্ন খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভিটামিন ডি গ্রহণ

ভিটামিন ডি এর ঘাটতি হলে ঘুমের গুণগত মান ও পরিমাণ কমে যায়। পাশাপাশি দিনের ক্লান্তি ও তন্দ্রাভাব বৃদ্ধি পায়। এক বিশেষজ্ঞের মতে, এই উপাদানের ঘাটতির সাথে মেজাজের ভারসাম্যহীনতার সম্পর্ক আছে ফলে তা ডিপ্রেশন বাড়ায় এবং পরবর্তীতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় ও নিদ্রাহীনতার জন্ম দেয়।

ভিটামিন সি

Natural-Sleep-Aids-to-Help-You-Fall-Asleep-Faster
TATIANA AYAZO/RD.COM

ভিটামিন সি আপনার শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাটকে মেটাবলাইজ করে। কিন্তু এটাও যে আপনার ঘুমের উপকার করে তা কি জানেন? বিজ্ঞানী ওয়েড-এর মতে, ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা যায় রক্তে বেশি মাত্রায় ভিটামিন সি থাকলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের ক্ষরণ কম হয় এবং দ্রুত স্ট্রেস কাটিয়ে প্রশান্তি দিতে পারে। যেহেতু বেশি মাত্রায় কর্টিসল নিদ্রাহীনতার জন্ম দেয় তাই পর্যাপ্ত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।

আয়রন

শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোমের (আরএলএস) ঝুঁকি বাড়ে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরো বেশি। আরএলএসের অন্যতম লক্ষণ হল ঘুমাতে না পারা ও নির্ঘুম থাকা। খাবারের সাথে আয়রন বেশি খেলে আর এল এস হওয়ার সম্ভাবনা কমে এবং ঘুম ভালো হয়।

মাছ

মাছ খাওয়া ঘুমের পক্ষে ভালো কাজ করে। শুধু তাই নয়, রাতে মাছ খেলে আপনার মেধাশক্তি বৃদ্ধিতেও কাজ করে। গবেষণায় দেখা যায়, মাছ খাওয়ার সাথে ভালো ঘুম, মেধাশক্তি ও আইকিউ-এর একটি ইতিবাচক সম্পর্ক আছে।

চেরি ফলের জুস

চেরি ফলের জুস ঘুমের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন এক গ্লাস চেরি ফলের জুস খেলে অন্তত ৫০ মিনিট বেশি ঘুম হয়। ঘুমের গুণগত মানও বৃদ্ধি পায়। যেকোন জুস খাওয়ানো যেতে পারে এক্ষেত্রে।

রিবোফ্লাভিন

রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি২ গ্রহণের ফলে প্রস্রাবের রঙ উজ্জ্বল হলদে আকার ধারণ করে। রিবোফ্লাভিন আপনার ঘুমে যথেষ্ট সহযোগীতা করে। রিবোফ্লাভিন সমৃদ্ধ গরু ও খাসির কলিজা এবং পর্যাপ্ত দুধ খেলে ঘুমের প্রশান্তি ফিরে আসবে।

অশ্বগন্ধা

Natural-Sleep-Aids-to-Help-You-Fall-Asleep-Faster
TATIANA AYAZO/RD.COM

ইন্ডিয়া সহ অনান্য দেশে হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক মেডিসিন হিসাবে অশ্বগন্ধার বেশ সুনাম রয়েছে। এটাকে নিদ্রাহীনতার উপযুক্ত ওষুধ মনে করেন হার্বাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা। এতে ম্যাজিকের গতিতে ফল পাওয়া যায়। পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা ক্লিনিক্যাল প্রমাণ দিয়ে অশ্বগন্ধার এমন ঘুম বৃদ্ধির ক্ষমতা আছে বলে সমর্থন দিয়েছেন।

তাজা আখের রস

তাজা আখের রসে যে পরিমাণ অক্টাকোসানল উপাদান আছে যা উন্নত ঘুমের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অথচ প্রস্তুতকৃত চিনিতে এ ধরনের উপাদান নেই। সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, আখের রসের মধ্যে সবুজের মাঝে যে সাদা আবরণ থাকে তা অক্টাকোসানলের উত্তম উৎস। এই উপদান ঘুম বৃদ্ধিতে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে। এটা আপনার শরীরের স্ট্রেস   কমিয়ে  ঘুমাতে সাহায্য করে।

মৌরি

সাধারণ চিকিৎসায় ও মায়েদের স্বাস্থ্য রক্ষায় মৌরির ব্যবহার অতুলনীয়। এটি গর্ভবতী মায়েদের বাচ্চা প্রসবকালীন সমস্যা সমাধান করার পাশাপশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। অন্য গবেষণায় প্রমাণিত যে, মৌরি ঘুমের ঘাটতি পূরণে এবং নিদ্রাহীনতায় টনিকের মত কাজ করে।

তথ্যসূত্র: রিডার ডাইজেস্ট

সঙ্গীর হাতে হাত রেখে কমে যেতে পারে শরীরের ব্যথা

নতুন পর্যবেক্ষণ বলছে প্রক্সিমা সেন্টারিতে প্রাণের অস্তিত্ব না থাকার সম্ভাবনাই বেশি