in

সঙ্গীর হাতে হাত রেখে কমে যেতে পারে শরীরের ব্যথা

বলা হয়ে থাকে ভালোবাসলে কোনো কষ্টকেই আর কষ্ট মনে হয় না। আসলেই কি তাই? আপনি যাকে ভালোবাসেন তার হাত ধরলে শুধুমাত্র ভালো লাগার অনুভুতিই হবে এমন নয়। পাশাপাশি আরো বেশি কিছু হয়, এমনটাই বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা। এমনকি সঙ্গীর হাত ধরা শরীরের ব্যথা লাঘবেও সহায়তা করে। শুনে অবাক লাগলেও এটা কিন্তু পরীক্ষালব্ধ ফলাফল। ২২ জন দম্পতির ওপরে এক পরীক্ষা চালানোর পর দেখা গেছে যে শুধু হাত ধরা ছাড়াও আরো বিভিন্ন পদ্ধতি আছে যা হলে আমাদের শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে একে অপরের মধ্যে ছন্দ সমতায় চলে আসে।

তবে এর আগেও এক গবেষক এ বিষয়ের উপর আগ্রহী হন। তার জীবনের এক ঘটনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। তিনি হচ্ছেন কলোরাডো বোল্ডার ইউনিভার্সিটির প্যাভেল গোল্ডেস্টেইন। তার স্ত্রীর সন্তান প্রসবের সময় তিনি সার্বক্ষণিক হাত ধরে ছিলেন। পরবর্তীতে তার স্ত্রী বলেছিলেন এতে তার প্রসব বেদনা কিছুটা লাঘব হয়েছিল। “আমি এটা ল্যাবে পরীক্ষা করতে চেয়েছি। দেখতে চেয়েছি কীভাবে স্পর্শের মাধ্যমে ব্যথা কম লাগা সম্ভব। আর যদি এটা সত্যিও হয় তাহলে তার কারণ কী তা দেখাও ছিল আমার উদ্দেশ্য” বলেন গোল্ডেস্টাইন।

এ গবেষণার জন্য ২২ জন দম্পতিকে বেছে নেয়া হয়েছিল। এদের বয়স ২৩ থেকে ৩২ এর মধ্যে এবং তারা কমপক্ষে ১ বছর ধরে একসাথে আছেন। তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্রম ইলেক্ট্রো-এনসেফালোগ্রাফি (ইইজি) ক্যাপ এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। বেশ কয়েকটি পরিস্থিতিতে রেখে এটি বারবার করা হয়। দম্পতিকে একই রুমে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হয় যে তারা একে অপরকে স্পর্শ করে এবং না করে তাদের মস্তিষ্কে কী ধরনের পরিবর্তন আসে। দেখা যায় পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি ছিল যখন তারা একে অপরের হাত ধরে রেখেছিল এবং সে মুহূর্তে কোনো নারী কোনো ব্যথা পেয়েছিল।

সঙ্গীর হাত ধরলে দুজনের মধ্যে ছন্দসমতা তৈরি হয়; image source: pexles.com

যেসব ক্ষেত্রে নারীরা ব্যথায় ভুগছিলেন কিন্তু হাত না ধরে এমনি এমনি তার সঙ্গীর সাথে বসে ছিলেন সেসব ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ছন্দসমতা ছিল কম। যার ফলে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় ব্যথা লাঘবের ক্ষেত্রে একসাথে বসে থাকাই যথেষ্ট নয়। ব্যথা লাঘবের ক্ষেত্রে প্রয়োজন একে অপরের স্পর্শ বা হাত ধরে থাকা। “দুজনের ছন্দসমতার মধ্যে শারীরিক ব্যথা বাধা দেয়, আর স্পর্শ সেই ব্যথাকে সরিয়ে দিয়ে ছন্দসমতা ফিরিয়ে আনে” বলেন গোল্ডেস্টাইন। আরো আশচর্যের ব্যাপার হচ্ছে যখন পুরুষ সঙ্গীটি নারী সঙ্গীর ব্যথার প্রতি বেশী সহাভূতিশীল হচ্ছে তখন দুজনের মস্তিষ্কের মধ্যে ছন্দসমতা আরো বেড়ে যাচ্ছে এবং ব্যথাও দ্রুত লাঘব হচ্ছে।

এটা এখনই বলা যাচ্ছে না যে কেন এমনটা হচ্ছে। সেজন্য আরো বেশি গবেষণার প্রয়োজন। এমন হতে পারে যে, আমরা একে অপরের ব্যথা ভাগ করে নিচ্ছি বলে অনুভব করার কারণে এমন মনে হয়। তবে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে এখনও অনেক বাকি।

image source: unsplash.com

নতুন এ গবেষণায় একই লিঙ্গের ক্ষেত্রে বা অন্য কোনো সম্পর্কের মধ্যে কোনো পরীক্ষা করা হয়নি, যেমন পিতা ও পুত্রের মধ্যে সম্পর্কের বেলায় এর ফলাফল কী পাওয়া যাবে তা পরীক্ষা করা হয়নি। “আমাদের এই পরীক্ষালব্ধ প্রমাণই বলে দেয় মানুষের একে অপরের মধ্যে সংস্পর্শে আসা কতটা জরূরী” বলেন গোল্ডেস্টেইন। যান্ত্রিকতায় ছুটে হয়তো আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের আপন মানুষের সংস্পর্শ কিন্তু ভালো থাকার জন্য এই সংস্পর্শের কোনো বিকল্প নেই।

fetaured image: pexels.com

পাওয়া গেল হারিয়ে যাওয়া পেঙ্গুইনের ১৫ লক্ষ সদস্য

নিদ্রাহীনতা দূর করে যেসব খাদ্য