in

সাইকো জিন

অনেকেই এরকম বলে থাকে যে, মনের কাছে মস্তিষ্কের পরাজয় হয়েছে। মন আর মস্তিষ্ক দুটোকে আলাদা করে ভাবলেও মস্তিষ্কই আসলে মনকে নিয়ন্ত্রণ করে। মস্তিষ্কের কিছু অংশের পরিবর্তনের কারণে মাঝে মাঝে মনের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এরকম কিছু পরিবর্তনের জন্য দায়ী ‘সাইকো জিন’। এটি MAOA (Mono Amine Oxidase A) জিন নামে পরিচিত। এর কাজ হচ্ছে MAOA এনজাইম উৎপাদন করা।

মস্তিষ্কে নানা ধরনের নিউরোট্রান্সমিটার উৎপন্ন হয়। এরা শরীর ও মনের বিভিন্ন কাজ যেমন ঘুম, আবেগ, স্মৃতি, মেজাজ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। এগুলো প্রয়োজনের অধিক উৎপন্ন হতে পারে। MAOA এনজাইমগুলো এই নিউরোট্রান্সমিটারকে ভেঙে প্রয়োজনের অধিক উৎপাদন হওয়া থেকে সমতা রক্ষা করে। কিন্তু যখন MAOA এর মাঝে পরিবর্তন ঘটে তখন আর আগের মতো নিউরোট্রান্সমিটারকে ভাঙতে পারে না। ফলে অধিক পরিমানে নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি হতে থাকে।

অধিক নিউরোট্রান্সমিটারের কারণে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবেগতাড়িত হয়ে যাওয়া, ঘুমতাড়িত হওয়া, মানসিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন, হাইপার সেক্সুয়ালিটি, হিংস্রতা, আক্রমণাত্মক আচরণে জড়িয়ে পড়া ইত্যাদি। এমনও দেখা গেছে যারা এর কারণে মারাত্মক খারাপ কাজে জড়িয়ে গেছে তারা হয়তো এর আগে কখনোই খারাপ কাজ করেনি।

প্রথমে মনে করা হতো মারাত্মক এই আচরণকারীর অর্ধেকই হয়তো জিনগত সমস্যায় আক্রান্ত। পরে দেখা যায় সাধরণত খারাপ কাজের সাথে সম্পর্কিত অর্ধেক পুরুষ এই জিনগত সমস্যায় ভোগছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে এই জিন X ক্রোমজমের সাথে জড়িত। মহিলাদের দুটি X ক্রোমজোম থাকে আর পুরুষদের একটি X এবং একটি Y ক্রমোজোম থাকে। পুরুষদের একটি জিনেই যদি এই বৈশিষ্ট্য উপস্থিত থাকে তাহলে তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে সাথে জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যা মহিলাদের জন্য কম আশংকাজনক।

সাইকোপ্যাথদের শাস্তির ক্ষেত্রে অনেকেই এই জিনগত কারণগুলোকে আমলে নেয়া অর্থহীন বলে মনে করে। আবার কেউ কেউ মনে করে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কেউ কেউ মনে করে সাইকোপ্যাথরা জিনগত সমস্যায় ভুগছে। তবে শুধুমাত্র জীনকেই দায়ী করা যায় না। জীন আর পরিবেশ একসাথেও psychopath তৈরিতে প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকে মনে করেন নিয়ন্ত্রিত আচরণের জন্যে পুরষ্কৃত করে হয়তো এদেরকে খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখা যাবে।

তথ্যসূত্র

দ্য বায়োলজিস্ট, সায়েন্টিফিক আরেরিকান, বিজনেস ইনসাইডার

featured image: selinaargyrou.wordpress.com

 

সমুদ্রের ঘ্রাণ

গণিতের বরপুত্র জন ন্যাশ এবং অনন্য ‘গেম থিওরি’