in

নিজে নিজে কথা বলা পাগলামী নয়, প্রতিভা!

‘আত্মকথন’ অর্থাৎ একা একা কথা বলার কারণে অনেকের নামের সাথেই ‘পাগল’ তকমাটা পাকাপাকীভাবে জুড়ে যায়। অনেকেই হয়তো খেয়াল করে থাকবেন, কিছু মানুষ মাঝে মাঝে শূন্যে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে একা একা আপনমনে বিড়বিড় করে যাচ্ছে। আলবার্ট আইনস্টাইনও কিন্তু নিজের সাথে কথা বলতেন। এমন অদ্ভুত স্বভাবের যেসব মানুষ দেখলেই তাদের পাগলের তালিকায় ফেলে দেয়া হয়, তাদের জন্য একটা সুখবর আছে। একা একা কথা বলা সম্পূর্ণ স্বাভাবিকতার লক্ষণ না হলেও এটা একটা প্রতিভা!

‘দ্য কোয়ার্টারলি জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজি’তে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সুইগলি এবং গ্যারি লুপ্‌য়্যা মনে করেন, একা একা কথা বলা প্রকৃতপক্ষে উপকারী। তারা এর কিছু উপকারিতা সম্পর্কে বলেছেন, এগুলোর সামান্য আলোকপাত করছি।

নিজের সাথে কথা বলার ফলে মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়

যখন কোনো মানুষ একটা কিছু চিন্তা করে এবং আপনমনেই বিড়বিড় করে, তখন তার চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়, যার ফলে স্মৃতি অধিকতর কর্মক্ষম হয়। চিন্তা করা এবং চিন্তার বিষয়বস্তু আপনমনে বিড়বিড় করা- এই অনবরত চর্চার কারণে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজ করার সামর্থ্য বাড়ে যা ব্যক্তিকে প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন হতে সাহায্য করে।

image source: slate.com

এ অভ্যাস প্রয়োজনীয় বস্তু দ্রুত খুঁজে পেতে সাহায্য করে

গবেষণা চালানোর সময় মনোবিজ্ঞানীরা কিছু মানুষকে বলেছিলেন সুপার মার্কেট থেকে দুটি জিনিস নিয়ে আসতে। পরীক্ষার প্রথম ধাপে তারা অংশগ্রহণকারীদের বলেছিলেন মার্কেটে নির্দেশিত জিনিসগুলো খোঁজার সময় তারা যেন মুখ দিয়ে কোনো শব্দ না করে নীরবে খুঁজতে থাকে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে তাদেরকে বলেছিলেন খোঁজার সময় তারা যেন আওয়াজ করে জিনিসগুলোর নাম বলতে থাকে। এর ফলাফল, দ্বিতীয়বারে তারা প্রথমবারের চেয়ে কম সময়ের মধ্যে জিনিসগুলো খুঁজে পেয়েছিল।

এই গবেষণা আরো বলে ‘আত্ম-কথন’ ব্যক্তিকে তার চিন্তাভাবনার সুষ্ঠু বিন্যাস ঘটাতে সাহায্য করে। একজন মানুষ সারাদিন অজস্র বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে। নিজের সাথে কথা বলার ফলে একজন একটা নির্দিষ্ট ব্যাপারে স্পষ্টভাবে চিন্তা করতে পারে এবং গুরুত্ব অনুযায়ী চিন্তাভাবনাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, এ অভ্যাস ব্যক্তিকে তার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে। প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং সুবিন্যস্ত চিন্তাভাবনা একজন মানুষকে তার পরিকল্পিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

image source: ngozionwukwe.blogspot.com/

তাহলে এখন বলা যায়, ‘আত্মকথক’দের আসলে পাগল বলা উচিত নয়। যাদের এমন অভ্যাস আছে, তাদের মন খারাপ করার কিছু নেই। তার উপরে এটা তো ‘প্রতিভা’ বলে সনদ দিচ্ছে!

featured image: krxmedia.com

সকল নীল চোখের মানুষের আছে একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ

জিকা ভাইরাসঃ পৃথিবীবাসীর নতুন আতঙ্ক