জীবজগৎ

নতুন প্রজাতির ভিন্নধর্মী খোঁজে

পৃথিবীতে ১ ট্রিলিয়ন প্রজাতির জীবের অস্তিত্ব আছে বলে ধারণা করা হয়। এদের মাঝে ১ শতাংশের মাত্র এক হাজার ভাগের এক ভাগ বৈজ্ঞানিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। কিছু গবেষণা অনুযায়ী এ পর্যন্ত প্রায় ১.৯ মিলিয়ন প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কোনো কোনো গবেষকের মতে সংখ্যাটি ১.৫ মিলিয়ন। প্রতি বছরই নতুন নতুন প্রজাতির জীব উত্তরোত্তর আবিষ্কৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বছরে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার পরিমাণ নতুন নতুন প্রজাতি শনাক্ত ও নামকরণ করা হচ্ছে।

এরিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি ফর সায়েন্স এক্সপ্লোরেশন কর্তৃক ২০০৮ সালে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ২০০৬ সালেই ১৬ হাজার ৯৬৯ টি নতুন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী শনাক্ত ও বর্ণিত হয়েছে। তবে সংখ্যাটি আরো বড় হবে, কেননা সেখানে নব-আবিষ্কৃত অণুজীব প্রজাতির সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতি বছরে প্রায় ২ হাজার প্রজাতির নতুন উদ্ভিদই আবিষ্কৃত হচ্ছে। এছাড়াও জীবাশ্ম (ফসিল) থেকে আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির সংখ্যাও প্রতি বছরে প্রায় ২ হাজারের মতো। বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্র জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হলেও বিজ্ঞানীরা যে হারে নতুন নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করে চলেছে তা বিগত ২৫০ বছরের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। এমনও হতে পারে যে, যতক্ষণ সময়ে আপনি লেখাটি পড়ে শেষ করবেন ততক্ষণে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও কোনো একটি নতুন প্রজাতি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করে ফেলেছেন।

নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিগুলোর বেশিরভাগই পোকামাকড় ও অণুজীব। গবেষকরা যতই পৃথিবীর প্রান্তীয় অঞ্চলগুলোতে গবেষণা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন, ততই নতুন নতুন উদ্ভিদ ও প্রাণীর সন্ধান পাচ্ছেন। আবার এমন অনেক নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতি রয়েছে যা ভুলবশত অন্য কোনো গোত্র (Family) বা গণ (Genus)-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মনে করা হতো। গণ ও প্রজাতিগত এমন ভুল হয়েছে কারণ তাদের

মধ্যে পার্থক্য ছিল খুব সূক্ষ্ম। এদের জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে সূক্ষ্ম গবেষণা করার পর তাদের প্রকৃত প্রজাতিগত পরিচয় উদ্ঘাটিত হয়েছে। এধরনের প্রজাতিগুলোকে বলা হয় ‘দুর্বোধ্য প্রজাতি’ বা ক্রিপটিক স্পিসিস। এছাড়া জাদুঘরে সংরক্ষিত নমুনা থেকেও নতুন নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।

কখনো কখনো গবেষকরা দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে অনেক অনুসন্ধানের পর নতুন কোনো প্রজাতির সন্ধান পান। আবার কখনো নতুন কোনো প্রজাতি খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটি ঘটে একদমই অলৌকিকভাবে। নতুন প্রজাতি খুঁজে পাওয়ার এমনই কিছু ভিন্নধর্মী ঘটনা নিয়ে আলোচনা থাকছে আজকের লেখায়।

ফেসবুকে নতুন প্রজাতির সন্ধান

কোনো উদ্ভিদবিদই ভিন্ন এই প্রজাতিটির কথা জানতেন না। বিরল ও অপরিচিত এই উদ্ভিদটির একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পরই জানতে পারেন উদ্ভিদবিদেরা। রেজিনাল্ড নামের একজন শখের উদ্ভিদবিজ্ঞানী, ২০১৩ সালের কোনো এক সময় দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলে তার বাড়ির কাছে একটি পাহাড়ে ভ্রমণ করতে যান। সেখানে তিনি বেশ কিছু উদ্ভিদের সাথে এই উদ্ভিদটিরও একটি ছবি তোলেন এবং সেটি ফেসবুকে পোস্ট করেন। এর প্রায় ১ বছর পরে উদ্ভিদ গবেষক পাউলো গনেলা ফেসবুকে ছবিটি লক্ষ্য করেন। তিনি উপলব্ধি করেন, উদ্ভিদটি তার জানা সকল উদ্ভিদ থেকে আলাদা। পরবর্তীতে পাউলো গনেলা পাহাড়টিতে চলে যান এবং নিশ্চিত হন যে এটি একটি ব্যতিক্রমী প্রজাতি যা উদ্ভিদজগতে নতুন। পরে জার্মানির বোটানিক্যাল স্টেট কালেকশনের অন্যান্য গবেষকদের নিয়ে গবেষণা করার পর তারা উদ্ভিদটির নামকরণ করেন ড্রসেরা ম্যাগনিফিকা (Drosera magnifica)।

উদ্ভিদটির অবয়বের একটি আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর ঝাড়বাতি সদৃশ পুস্পবিন্যাস। এটি আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম মাংসাশী উদ্ভিদ যা প্রায় ৫ ফুট লম্বা। এটি ফড়িংয়ের মতো বড় বড় পোকাকেও আটকে ফেলতে পারে। কিন্তু IUCN Red List অনুযায়ী উদ্ভিদটি অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় আছে।

বাজারে নতুন প্রজাতি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ লাওস। ধারণা করা হয়, লাওসের অরণ্যে এখনো অনেক প্রজাতি অনাবিষ্কৃত অবস্থায় আছে। এমনই একটি প্রাণী পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ২০ বছর আগে। তবে গহীন অরণ্যে নয়, স্থানীয় এক বাজারে।

চিত্রঃ ড্রসেরা ম্যাগনিফিকার প্রথম ছবি যেটি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছিল।

বাজারের এক দোকানে শাকসবজির পাশেই বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল প্রাণীটিকে। স্থানীয়দের নিকট এটি ‘খাঁইয়’ নামে পরিচিত। প্রাণিবিদ রবার্ট টিমিন্সের-এর চোখে পড়ে এই প্রাণীটি, এবং এর মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি আবিষ্কার করেন তিনি। গবেষকরা দেখলেন, এটি Rodentia বর্গের অন্তর্ভুক্ত, তবে এই বর্গের অন্যান্য জীবিত প্রাণীদের তুলনায় এটি স্বতন্ত্র। তাই তারা একটি নতুন গোত্রের নাম দেন এবং প্রাণীটিকে সেই গোত্রের একটি প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। বৈজ্ঞানিক নাম দেয়া হয় Laonastes aenigmamus। তবে পরবর্তীতে ২০০৬ সালে গবেষক মেরি ডাওসন জানান যে, এটি নতুন কোনো গোত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং একটি প্রাচীন গোত্রের সদস্য যার অন্তর্ভুক্ত প্রাণীগুলো ১১ মিলিয়ন বছর পূর্বেই বিলুপ্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হতো। প্রাণীটির বৈশিষ্ট্য এবং জীবাশ্মবিদ্যার বিভিন্ন তথ্যের উপর নির্ভর করে এরূপ শ্রেণিকরণ করা হয়েছে। এ থেকেই প্রাণীটির গুরুত্ব কত বেশি তা উপলব্ধি করা যায়।

ঢাকাইয়া ব্যাঙ

নাম দেখার পরে আর বোঝার বাকি থাকার কথা নয় যে, প্রাণীটির আবিষ্কার দূরের কোনো দেশে নয়, এই দেশেরই প্রাণকেন্দ্র ঢাকাতে হয়েছিল এর আবিষ্কার। ঢাকার মতো একটি শহরে একটি নতুন প্রজাতির উভচর প্রাণীর আবিষ্কার কিছুটা আশ্চর্যজনকই বটে। এ বছরের মার্চে তরুণ প্রাণীবিজ্ঞানী সাজিদ আলী হাওলাদার প্রাণীটিকে শনাক্ত ও নামকরণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে University of Helsinki-তে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনে অধ্যয়নরত। তিনি প্রাণীটির নাম দেন Zakerana Dhaka। Zakerana নামটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাকের হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাখা হয়েছিল। এভাবে ঢাকার রাস্তার ব্যাঙ বিজ্ঞানের জগতে এক নতুন পরিচয় পায়।

সংগ্রহের ১৮০ বছর পরে নামকরন

নতুন কোনো প্রজাতি খুঁজে পাওয়া সবসময়ই উত্তেজনাপূর্ণ। আর সেটি যদি চার্লস ডারউইনের সংগ্রহ করা কোনো নমুনা থেকে পাওয়া যায়, তাহলে তা সত্যিই আশ্চর্যজনক। ১৮৩২ সালে এইচএমএস বিগল জাহাজে ভ্রমণের সময় ডারউইন আর্জেন্টিনার একটি উপকূলীয় শহর থেকে কিছু জীবাশ্ম ও পোকার নমুনা

সংগ্রহ করেছিলেন। তার সংগ্রহে একটি গুবরে পোকা ছিল যেটি প্রায় ১৮০ বছরেও বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত ও নামকরণ করা হয়নি। নমুনাটি লন্ডনের Natural History Museumএ অন্তত কয়েক দশক যাবত ভুল লেবেল করে রাখা হয়েছিল।

টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পতঙ্গবিদ ড. স্টাইলিয়ান্স মিউজিয়ামটি থেকে কিছু পতঙ্গের নমুনা ধার করে আনেন। সেখানে তিনি ডারউইনের নাম যুক্ত লেবেল করা একটি নমুনা খুঁজে পান। তিনি আবিষ্কার করলেন যে আসলে এটি বিজ্ঞান জগতে নতুন একটি প্রজাতি যা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে নামকরণ করা হয়নি। পরে ২০১৪ সালে ডারউইনের ২০৫ তম জন্মবার্ষিকীতে এ প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয় Darwinilus sedarisi। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো ডারউইন যেখান থেকে নমুনাটি সংগ্রহ করেছিলেন সেখানে এখন অধিকাংশই আবাদি জমি এবং ১৯৩৫ সালের পর এই প্রাণীটি আর দেখাও যায়নি।

সমুদ্রসৈকতে বিশাল জেলিফিশ

চিত্রঃ সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা নতুন প্রজাতির জেলিফিশ।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জেলিফিশের একটি নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এধরনের জেলিফিশগুলো Cyanea গণের অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে ‘সিংহের কেশর’ ও বলা হয়। এটিকে খুঁজে পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার এক পরিবার, ১২ বছর বয়সী বালক জেভিয়ার লিম প্রথম এ জেলিফিশটি দেখতে পায়। লিমের পরিবার তাসমানিয়ার সমুদ্রতীরে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে শামুকের খোল সংগ্রহের সময় তারা একটি অদ্ভুত জিনিস পড়ে থাকতে দেখে। তাদের কাছে এটি বিরাট আকৃতির শ্লেষ্মা জাতীয় কিছু মনে হয়েছিল। স্থানীয় সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীকে তারা এ সম্পর্কে অবহিত করেন। বিজ্ঞানী ড. লিসা-আন, যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে জেলিফিশ নিয়ে গবেষণা করছেন, তিনি জানান এটি ছিল এক বিস্ময়কর আবিষ্কার, কেননা এটি ছিল আসলেই বিশাল আকৃতির জেলিফিশ যার ব্যাস ছিল প্রায় ৫ ফুট। তার উপর বিজ্ঞান জগতে এটি একদমই নতুন প্রজাতির জেলিফিশ। পরবর্তীতে কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (CSIRO)এর বিজ্ঞানীরা জেলিফিশটি নিয়ে আরো গবেষণা করেন এবং এর নামকরণ করেন।

উৎসব সজ্জায় নতুন প্রজাতির খোঁজ

ব্রমিলিয়াড

মাছের বাজারে বিলুপ্ত প্রজাতি

ব্রমিলিয়াড (Bromeliad) নামে একটি উদ্ভিদ প্রজাতি স্থানীয়দের নিকট বহুদিন ধরে পরিচিত হলেও বৈজ্ঞানিকভাবে তা সম্প্রতি আবিষ্কৃত। মেক্সিকোতে বড়দিন উদযাপনের সময় গ্রামবাসীরা সমবেত হয়ে যিশু খ্রিষ্টের জন্ম রহস্য ব্যাখ্যা করার সময় এই গাছটি দিয়ে বেদি সাজাতো। তবে সম্প্রতি গবেষকরা উপলব্ধি করলেন যে, এ উদ্ভিদটি বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্তকরণ ও নামকরণ করা হয়নি। পরবর্তীতে প্রক্রিয়া শেষে তারা এর নাম দেন Tillandsia religiosa। কাণ্ডবিহীন, গোলাপি রঙের স্পাইক ও সবুজ পাতাওয়ালা উদ্ভিদটির পুস্পবিন্যাস অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলের পাথুরে এলাকায় এদের আবাস।

১৯০২ সালে প্রকৃতিবিজ্ঞানী উইলহেম হেইন ইয়েমেন ভ্রমণ শেষে বেশ কয়েকটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর নমুনা নিয়ে ফেরেন। সেগুলো তিনি ভিয়েনা মিউজিয়ামে দান করে দিয়েছিলেন। নমুনাগুলোর মধ্যে ছিল একটি মসৃণ দাঁতওয়ালা ও কালো অগ্রভাগ বিশিষ্ট হাঙ্গর। এটি প্রায় ৪০ বছর ধরে দৃষ্টির আড়ালে ছিল। ১৯৪৫ সালে এটি প্রথমবারের মতো বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত ও নামকরণ করা হয়, বৈজ্ঞানিক নাম Carcharhinus leiodon। তবে এটিই ছিল একমাত্র নমুনা।

প্রায় শতাব্দীব্যাপী এ প্রজাতির কোনো হাঙ্গরের সন্ধান বিজ্ঞানীরা পাননি। ধারণা করা হয়েছিল এরা হয়তো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে শার্ক কনজারভেশন সোসাইটি অভিযান চালিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে কুয়েতের মাছের বাজারে এই প্রজাতির প্রায় ৪৭ টি হাঙ্গরের খোঁজ পেয়ে যায়। অথচ কুয়েত হচ্ছে প্রথম নমুনাটি সংগ্রহের স্থান থেকে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দূরে। এ ঘটনা সম্পর্কে গবেষক মুর জানান “বিশেষত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোতে সর্বদা ক্যামেরা নিয়ে মাছের বাজারে যান, এতে করে নতুন কিছুর সন্ধান পেয়ে যেতে পারেন।”

বিজ্ঞানের নিকট কখনো কখনো নতুন কোনো প্রজাতি আমাদের চোখের স্বাভাবিক গণ্ডিতেই থাকে। তাই আশপাশটা ভাল করে দেখে নিন। অলৌকিকভাবে পেয়ে যেতেও পারেন ভিন্ন কোনো প্রজাতির সন্ধান।

তথ্যসূত্র

  1. https://en.wikipedia.org/wiki/Global_biodiversity
  2. http://www.smithsonianmag.com/smart-news/no-one-knew-plant-existed-until-it-was-posted-facebook-180956084/?no-ist
  3. https://en.wikipedia.org/wiki/Laotian_rock_rat
  4. http://dailyasianage.com/news/12588/new-frog-species-found-in-dhaka
  5. http://www.isciencetimes.com/articles/6813/20140212/new-beetle-species-named-both-charles-darwin.htm
  6. http://www.bbc.com/news/world-asia-26062303
  7. http://www.esf.edu/top10/2015/09.htm
  8. http://www.scientificamerican.com/article/shark-species-thought-to-be-extinct-found-in-fish-market/

 

Comments

কপিরাইট © ২০১৬ জিরো টূ ইনফিনিটি। সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত। Powered by Bintel

.

To Top