জীবজগৎ

পাখি বিজ্ঞানী সালিম আলি ও ভারতবর্ষে পাখিচর্চা

হিমালয়ের পাদদেশে ছোট্ট এক বালক মনের সুখে পাখি শিকার করতো এয়ারগান দিয়ে। একদিন তার গুলিতে ঘায়েল হয়েছিল এক আজব ধরনের চড়ুই পাখি। এর মাংস হালাল (বৈধ) কিনা তা জানার জন্য সোজা চলে গেলো চাচা

আমিরুদ্দিনের কাছে। তখন ১৯০৮ সাল। আমিরুদ্দিন ছিলেন বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির আদি সদস্যদের একজন। তিনি বালকটিকে পাঠিয়ে দিলেন সোসাইটির সেক্রেটারি ওয়াল্টার স্যামুয়েল মিলার্ডের কাছে। মিলার্ডের অমায়িক ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে গেল বালকটি। এখানে উপলব্ধি করতে পেরেছে ছোট বলে নেই কোনো অবহেলা। সেইসাথে প্রথম দর্শনেই পাখিটির ঠিকুজি জানা হয়ে গেল- হলুদ কণ্ঠী চড়ুই (Petronia xanthocollis)

শুধু তা-ই নয়, সেক্রেটারি সাহেব তার বিশাল সংগ্রহশালা উম্মুক্ত করে কৌতূহলী বালককে দেখালেন নানা ধরনের চড়ুই পাখির স্টাফ করা মৃতদেহ। খুলে গেলো বালকের মনের দরজা, শুরু হলো এক নতুন যুগের। খামোখা এয়ার গান দিয়ে গুলি করে বেড়ানো বালকটি ঝুঁকে পড়লো পাখি এবং প্রকৃতি নিয়ে বিশদভাবে জানতে।

বালকটি আর কেউ নয়। ১৮৯৬ সালের ১২ নভেম্বর ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম নেয়া বিখ্যাত পক্ষীবিদ এবং প্রকৃতিপ্রেমী সালিম মঈজুদ্দীন আব্দুল আলী বা সংক্ষেপে সালিম আলী।

মিলার্ড সালিমকে পাখি সম্পর্কিত কিছু বই ধার দেন। তার মধ্যে কমন বার্ডস অব বোম্বে ছিল অন্যতম। সালিমকে পাখির একটি সংগ্রহ সৃষ্টির জন্য তিনি উৎসাহ দেন আর কীভাবে পাখির চামড়া ছাড়াতে হয় ও সংরক্ষণ করতে হয় সে ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। মিলার্ড ছোট্ট সালিমের সাথে নরম্যান বয়েড কিনিয়ারের পরিচয় করিয়ে দেন। কিনিয়ার ছিলেন বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির সর্বপ্রথম বেতনভুক্ত কিউরেটর।

চিত্রঃ সালিম আলী

ভারতীয় পাখিদের তুলে ধরতে সালিম আলি ব্যবহার করেছিলেন তার লেখনী ও বক্তৃতার মঞ্চ। সালিম আলি প্রথম তুলে আনলেন ভারতবর্ষের পক্ষীচর্চার ইতিহাস। সারা পৃথিবী জানলো ভারতবর্ষেও পাখি নিয়ে গবেষণা হয়।চড়ুইয়ের সেই ঘটনাটিই তার পক্ষীবিদ হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা রাখে। জীবনের প্রথম দিকে তিনি শিকার সম্পর্কিত বইপত্র পড়তেন এবং ঐ সময় তার ঝোঁক ছিল শিকারের দিকেই। তার আশেপাশের এলাকায় প্রায়ই শিকার প্রতিযোগিতা হতো। তার শিকারের অন্যতম সহচর ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা, যিনি নিজে খুব ভাল শিকারী ছিলেন।

মুঘল আমলের আগে পাখিদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনার বিক্ষিপ্ত চেষ্টা হলেও সেগুলো তেমন নির্ভরযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক চেষ্টা শুরু হয় মহামতি বাবরকে দিয়ে। সালিম আলির মতে, প্রচলিত ধারণাকে আশ্রয় করে পাখির বর্ণনা তৈরি করতেন না সম্রাট বাবর। তার আলাদা একটি দৃষ্টিভঙ্গীর প্রয়োগ করতেন তিনি। একটি উদাহরণ দেয়া যাক। শীতকালে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মোনাল ফিজ্যান্ট (Monal pheasant) নেমে আসে পাহাড়ের পাদদেশে। উড়ার পথে ফিজ্যান্টের দল যদি কোনো আঙুর ক্ষেতের উপর দিয়ে যায়, তখন চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়ে যায় সেখানেই।

বাবর লিখছেন “এসব কথার সত্যতা সৃষ্টিকর্তাই জানেন। আমি বুঝি যে এর মাংস বেশ সুস্বাদু।” এসব উদ্ভট কথায় যে বাবরের আস্থা নেই এটি তারই দৃষ্টান্ত। তবে মুঘল সম্রাটদের মধ্যে পাখি সম্পর্কিত জ্ঞানের ভাণ্ডার গড়ে তুলেছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীর। তার সম্পর্কে বলা হয়, সম্রাট না হয়ে তিনি যদি কোনো ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের প্রধান হতেন তাহলে হয়তো অনেক বেশি সুখী হতেন। এমনই ছিল তার পাখিপ্রেম।

রাজসভায় তিনি স্থান দিয়েছিলেন বিখ্যাত চিত্রকর ওস্তাদ মনসুরকে। তার কাজ ছিল নতুন নতুন পাখির ছবি আঁকা। জাহাঙ্গীরের আগ্রহ জানতো তার সাম্রাজ্যের সবাই। এমনকি বিদেশীরাও জানতো। তাই নজরানা হিসাবে তারা নিয়ে আসতো এলাকার বিশেষ প্রজাতির পাখি। সেগুলো সম্রাটের হাতে পৌঁছনো মাত্রই তিনি মনসুরকে নির্দেশ দিতেন পাখির নিখুঁত ছবি আঁকতে। সৌভাগ্যক্রমে, এর মধ্যে বেশ কিছু ছবি আজও সংরক্ষিত রয়েছে। কলকাতার ভারতীয় যাদুঘরেও রয়েছে এগুলোর নমুনা।

ছবির পাশাপাশি পাখির চেহারা, বাসস্থান এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ তৈরি করতেন জাহাঙ্গীর। সেসব বর্ণনা ধরা রয়েছে তার স্মৃতিকথায়। ১৬২৪ পর্যন্ত চলে জাহাঙ্গীরের স্মৃতিকথা রচনা। এ সময়ের মধ্যে কত যে পাখির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন তা ভাবলে আশ্চর্য হতে হয়। সালিম আলি জানিয়েছেন, তার দরবারে বিখ্যাত ডোডো পাখিও পৌঁছেছিল। তবে সেটি ১৬২৪ সালের পরে। ফলে সেটির ছবি থাকলেও স্মৃতিকথায় তার উল্লেখ নেই।

চিত্রঃ সম্রাট জাহাঙ্গীর।

জাহাঙ্গীরের সাম্রাজ্য বা আরো পরে মুঘল সাম্রাজ্য ধ্বংস হবার পরে সম্রাটের সংগৃহীত বহু নমুনা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্লভ পাখি নিয়ে একরকম লুটের খেলা চলছিল সেখানে। যিনি পাখির নমুনা চুরি করছেন, তিনি হয়তো জানেনও না তার গুরুত্ব। লুটেরাদের দলে অবশ্যই ছিল ব্রিটিশরা।

তবে তাদের অপরাধের পাশাপাশি গুনপনাও কিছু কম ছিল না। ব্রিটিশ রাজপুরুষদের অনেকেরই আগ্রহ ছিল পাখিদের সম্পর্কে তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলায়। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ভারতে প্রথম পাখি সম্বন্ধীয় বৈজ্ঞানিক সংকলন তৈরী করেছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক জার্ডন। ১৮৬২ এবং ১৮৬৪ সালে তিনি প্রকাশ করেন ‘বার্ডস অফ ইন্ডিয়া’র দুটি খন্ড। এর পরে যে ঘাটতি ছিল তা পূরণ করেন দুজন ভারতীয় ব্যক্তি- সালিম আলি এবং সিডনি ডিলো রিপলে। দশ খন্ডে তারা প্রকাশ করেন ‘হ্যান্ডবুক অব দ্য বার্ডস অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তান’। প্রকাশকাল ১৯৬৮ থেকে ১৯৭৩। এতগুলো খণ্ড প্রকাশের পরও যে বিষয়টি সালিম আলিকে চির অতৃপ্ত রেখেছিল তা হলো পাখিদের স্থানীয় নামের নির্ভরযোগ্য তালিকা সম্পূর্ণ করতে না পারা।

পাখির মতোই আরেকটি জিনিস ভালবাসতেন সালিম আলী- মোটরসাইকেল। সময়টা ১৯৫০ সাল। সুইডেনের আপসালাতে বসেছে পক্ষীবিদদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। প্রথম অধিবেশন শুরু হতে তেমন দেরি নেই। সকলে পৌঁছে গিয়েছে। একজন ভারতীয় অবশ্য তখনও পৌঁছায়নি। কোথাও আটকে গেলেন

নাকি? অনুপস্থিত থাকবেন? এমন ভাবনা যখন ঘুরছে আয়োজকদের মনে, তখন হঠাৎ মোটরসাইকেলের গর্জন। একটা সানবীম মডেল ব্রেক কষে দাঁড়াল সভাঘরের বাইরে। নামলেন সেই ভারতীয়। মুহূর্তের মধ্যে খবর চাউর হয়ে গেল যে ভারত থেকে সোজা বাইকে করে আপসালা পৌঁছেছেন এক ভারতীয় পক্ষীবিদ! তিনিই আমদের সালিম আলি, চুয়ান্ন বছর বয়সে ফিল্মি হিরোর মতো বাইকে করে আবির্ভূত হতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই যাঁর। এতটাই আকর্ষণ মোটরবাইকের প্রতি যে একটা মডেল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি তিনি। শুধু হার্লে-ডেভিডসনেরই তিন রকম মডেল ছিল তার কাছে।

চিত্রঃ মোটর বাইকে করে ঘুরে বেরিয়েছেন অনেক দেশ।

 

 

এছাড়াও একটা করে ডগলাস, স্কট, নিউ হাডসন এবং জেনিথ মোটরবাইক চালিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। অবশ্য সানবীমের গল্পটা পুরোপুরি সত্যি নয়। ভারত থেকে গোটা পথ ঐ বাইকে পাড়ি দেননি তিনি। বম্বে থেকে জাহাজে করে ইউরোপে আনান বাইকটা, উদ্দেশ্য ছিল সম্মেলনের আগে সেটাতে করে ইউরোপ চক্কর দেওয়া। এ কাজ করতে গিয়ে ফ্রান্সে ছোটখাটো দুর্ঘটনায় পড়লেন, জার্মানীর মসৃন, বাঁধানো রাস্তায় আছাড়ও খেলেন বেশ কয়েকবার। তাতে কী? ভালবাসার জন্য কত কিছু করা যায়, হাত-পায়ে চোট তো সামান্য ব্যাপার।

সিরিয়াস বিজ্ঞান সালিম আলীকে টানেনি কোনোদিন। পরিণত বয়সে একবার তিনি প্রতিষ্ঠিত পক্ষীবিদ রিপলেকে বেশ রাগ করেই লিখেন, পক্ষীচর্চার সবটাই যদি কাঠ-কঠিন নামকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তিনি ছেড়েই দেবেন বিষয়টি। অরণ্যে পাখিদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ অধ্যয়ন ছেড়ে তিনি এধরনের ট্যাক্সোনমির যুদ্ধ করতে আগ্রহী নন।

মজার কথা, প্রাণিবিজ্ঞানে সালিম আলির প্রশিক্ষণ মাত্র ১ বছরের। ১৯১৭ সালে দুটো কলেজে একসাথে ভর্তি হন। একটিতে পড়াশোনার বিষয় ছিল আইন ও হিসাবশাস্ত্র, আর অন্যটিতে প্রাণিবিজ্ঞান। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান রেভারেন্ড ব্ল্যাটার এবং শিক্ষক প্রফেসর মুল্লানের উৎসাহে ১৯১৭ সালে প্রাণিবিদ্যার উপরে বি.এস.সি পাশ করেন।

নিজের আত্মজীবনী ‘দ্য ফল অফ আ স্প্যারো’তে ৩ বছরের স্মৃতির কথায় বলেছেন পাহাড়ি ঝর্ণার উচ্ছলতায় নানা ধরনের রঙচঙে বার্মিজ পাখি দেখার অভিজ্ঞতা। যদিও তার দূরবীন ছিল না তখনো। মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রবাস জীবনের দীর্ঘ ৬০ বছর পরও সালিম আলী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পাখিগুলো কোনো স্থানের, কোনো গাছের কোনো ডালে কীভাবে বসেছিল তা মনে করতে পারেন! বার্মার সেই চমৎকার

বাড়িতে স্ত্রী তাহমিনার সাথে নতুন জীবন শুরু হয় তার। সাথে যোগ দেয় বার্মিজ রূপালি ফেজ্যান্ট পাখির সংগ্রহ করা ডিম ফুটিয়ে বের হওয়া ছানা, বনবিড়াল, গাছ-ছুঁচো, উড়ন্ত লিমার ও পাকরা ধনেশ। তাহমিনা এবং সালিম একসাথে কিন্ডারগার্টেনে পড়তেন শিশুকালে। পরবর্তীতে তাহমিনা বাবার সাথে অনেক বছর বিলেতে কাটিয়ে ভারতবর্ষে ফেরেন। অনেকটা পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয় ১৯১৮ সালের ডিসেম্বরে।

সালিমের বয়স তখন ২২। স্ত্রী সম্পর্কে উজ্জল স্মৃতিচারণ করছেন তিনি- তাহমিনা ভালবাসতেন বই, কবিতা, প্রকৃতিতে হাঁটতে, ফুল এবং বাগানের পরিচর্যা করতে। স্বামীর কাজের সময় পাখি নিয়ে আসলেই উৎসাহী হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

প্রাণীদের সমীক্ষার সাথে মূলত যুক্ত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে বাবুই পাখির সামাজিক জীবন সম্পর্কে তার গবেষণা ও মুক্ত ভাবনা স্পষ্টতার দিক দিয়ে জুলিয়ান হাক্সলির গবেষণার সঙ্গে তুলনীয়। জীবনে পুরোটা সময় পাখি নিয়ে গবেষণা করেছেন ভারত, পাকিস্তান, বার্মা, বিলেতসহ নানা দেশে। এসব করতে করতে ১৯৮৭ সালে ৯১ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

পেয়েছেন ভারতবর্ষের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদকসহ The Birdman of India খেতাব। তার নামে নামকরণ করা হয়েছে রক কোয়েল (Perdicula argoondah salimalii), Finn’s Weaver (Ploceus megarhynchus salimalii)। বিশ্বের বিরলতম বাদুড়দের একটির নামকরণও করা হয়েছে তার নামে (Latidens salimalii)। তার স্ত্রী তাহমিনার নামে নামকরন করা হয়েছে একটি কাঠঠোকরার (Dinopium benghalense tehminae)। জম্মু-কাশ্মীরে তার নামে ন্যাশনাল পার্কের নামকরণও করা হয়েছে। তবে এসব কিছু ছাপিয়ে সালিম আলী আছেন হাজার হাজার পাখিপ্রেমীর হৃদয়ে।

সালিম আলি তার সারা জীবনই নিজেকে দেখেছেন একজন শখের পক্ষীবিদ হিসেবে। অথচ শখের বাইরে থেকে তিনিই তৈরি করেছেন পেশাদারিত্বের সুউচ্চ মান। বিজ্ঞানী মাধব গ্যাডগিলের মতে, তার পর্যবেক্ষণের কৌশল ছিল মুঘল সম্রাট বাবর ও জাহাঙ্গীরের মতো- দ্রুত ধারণা তৈরি করা, কিন্তু যুক্তিনিষ্ঠতা বজায় রাখা। হয়তো আবেগের

বশে কোথাও কোথাও তিনি কিঞ্চিৎ সরে গিয়েছেন যুক্তির নিগড় থেকে। তবে তার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় ছিল পাখিদের সংরক্ষণ।

তথ্যসূত্র

১। পাখিপ্রাণ সালিম আলি, মানস প্রতিম দাস।

২। The fall of a sparrow by Salim Ali.

৩। http://www.famousscientists.org/salim-ali/

৪। http://www.sachalayatan.com/tareqanu/49314

৫। http://www.univnotes.com/2016/10/life-history-of-salim-ali.html

৬। https://en.wikipedia.org/wiki/Salim_Ali
Comments

কপিরাইট © ২০১৬ জিরো টূ ইনফিনিটি। সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত। Powered by Bintel

.

To Top