ব্যাক্টেরিয়ার ন্যানোফাঁদ

পৃথিবীতে সাতশ প্রজাতির মাংশাসী গাছ রয়েছে। তাদেরই মধ্যে অন্যতম ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ। যুগে যুগে এই উদ্ভিদ বিজ্ঞানী, লেখক, শিল্পী এবং আলোকচিত্রকরদের আগ্রহের বস্তু ছিলো। আর কিছুদিন আগে একদন বিজ্ঞানী ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বানিয়েছেন ব্যাক্টেরিয়া ধরার ন্যানোফাঁদ।

venus flytrap
চিত্রঃ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ

যখন ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া রক্তে প্রবেশ করে তখন তারা দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি করে মারাত্বক সব রোগ তৈরি করে। এই অবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিক যদিও কার্যকর সমাধান, তবে আর কতদিন? কিছুদিন পরপরই তো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সুপারবাগের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে। আবার আক্রান্ত রক্ত যদি ডায়ালাইসিস মেশিনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করা হয় তখন ফিল্টারের মাধ্যমে ব্যাক্টেরিয়া আলাদা করা গেলেও দ্রুত প্রবাহমান ধারা অনেকসময় আটকে যাওয়া ব্যাক্টেরিয়াকে আবার রক্তে টেনে নেয়।

dialysis vs nanotrap
চিত্রঃ ডায়ালাইসিসে জীবাণু ছুটে গেলেও ন্যানোফাঁদে ছুটবেনা

চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সের সো টিয়ে এবং তার সহকর্মীরা তাই ফ্লাইট্র্যাপের মত এক ধরনের ন্যানোফাঁদ বানিয়েছেন যা আরো দক্ষভাবে ব্যাক্টেরিয়া ধরতে পারে। এই ফাঁদের চারদিকে রয়েছে বাঁকানো ন্যানো তন্তু, সেই তন্তু গায়ে রয়েছে লেকটিনের আবরণ। লেকটিন এক ধরণের প্রোটিন যা ব্যাক্টেরিয়ার গায়ের কার্বোহাইড্রেটের সাথে সহজেই বন্ধন তৈরি করে। তন্তুগুলো ব্যাক্টেরিয়ার সাথে জড়িয়ে তাকে একটা সূক্ষ্ম খাঁচায় আটকে ফেলে।

টাইফয়েডসহ নানা রোগের জনক সালমোনেলা নিয়ে করা পরীক্ষায় দেখা গেছে এই ন্যানোফাঁদ ৯৭ শতাংশ জীবাণুকে আলাদা করতে পারে। আবিষ্কারকরা বলছেন একই পদ্ধতিতে ভাইরাস, ক্যান্সার কোষ এসবের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এন্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের রিচার্ড স্টলবার বলেন, এই পদ্ধতি অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে কাজে লাগতে পারে। কারণ এরকম জটিল ন্যানোমেশিনকে ফাঁকি দেয়ার উপায় বের করা ব্যাক্টেরিয়ার জন্য অত্যন্ত কঠিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *