in

বানরের নতুন প্রজাতি আবিষ্কার

প্রজাতি কী? খুব সহজ করে বললে, প্রজাতি হলো সর্বাধিক মিল সম্পন্ন একদল জীবগোষ্ঠী। এ গোষ্ঠীর সদস্যরা নিজেদের মাঝে প্রজননের ফলে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম। প্রতিটি প্রজাতি অন্য একটি প্রজাতি থেকে প্রজননগতভাবে আলাদা হয়। এর মানে হলো একটি প্রজাতির প্রাণী অন্য একটি প্রজাতির প্রাণীর সাথে প্রজনন করে স্বাভাবিক সন্তান উৎপাদন করতে পারে না।

প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসে প্রজাতি হলো সর্বনিম্ন একক। শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যায় কোনো একটি প্রাণীকে তার বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কিছু ক্যাটাগরীতে ভাগ করা হয়। তাছাড়া কোনো একটি প্রাণীর বিবর্তন তাত্ত্বিক ইতিহাস এবং বংশ পরিচয়ের উপর ভিত্তি করেও প্রজাতি ব্যাখ্যা করা হয়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় জাতিজনি (Phylogenetics)।

যে প্রক্রিয়ায় ক্রমাগত বিবর্তনের ফলে পূর্ববর্তী কোনো প্রজাতি থেকে নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয় তাকে বলা হয় প্রজাতিকরণ বা Speciation।

চিত্রঃ পিগমি মারমোসেট (Cebuella pygmae); image source: www.certapet.com

পিগমি মারমোসেট পৃথীবির সবচেয়ে ক্ষুদ্রকায় বানর। এই প্রজাতির বানর পৃথিবীতে একটিই আছে বলে মনে করা হতো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের মাঝে আছে দুটি আলাদা প্রজাতি। যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানীরা বেশ কিছু পিগমি মারমোসেটের জিনোম নিয়ে গবেষণা করে এর প্রমাণ করেছেন।

তাদের উদ্দেশ্য ছিল এই বানর প্রজাতির বিবর্তনিক ইতিহাস উন্মোচন করা। কাজ করতে গিয়ে তারা আবিষ্কার করলেন, পিগমি পারমোসেটের দুটি প্রজাতি প্রায় ৩ মিলিয়ন বছর আগে পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়। আমাজান নদী প্রজাতি দুটির একটিকে ভৌগলিকভাবে উত্তর দিকে এবং অন্যটিকে দক্ষিণ দিকে বিভক্ত করে দেয়।

আমাজান বনের পশ্চিমাংশে পিগমি মারমোসেটদের বসবাস। এরা পতঙ্গভোগী প্রাণী। প্রতিটি বানর ভরে প্রায় ১০০ গ্রাম হয়ে থাকে।

প্রকৃতপক্ষে, জিনোমিক প্রমাণের উপর ভিত্তি করে বর্তমান পিগমি মারমোসেটে দুটি আলাদা প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। খালি চোখেও এদের মাঝে কিছু বাহ্যিক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। আমাজন নদীর উত্তর পাশের মারমোসেটদের গায়ে হালকা ডোরাকাটা দাগ থাকে। অন্যদিকে দক্ষিণ পাশের মারমোসেটদের গায়ে থাকে গাড় রঙের ডোরাকাটা দাগ।

মাঝে মাঝে, নদী বা ভৌগলিক কোনো বাঁধার কারণে কোনো প্রজাতির একটি পপুলেশন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পরে। বিভক্তির ফলে সৃষ্ট দুটি পপুলেশনের মাঝে ভৌগলিক বাঁধার কারণে প্রজনন করা সম্ভব হয় না। পপুলেশন দুটির মাঝে জিনের আদানপ্রদান বন্ধ হয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে প্রতিটি পপুলেশন স্বাধীনভাবে বিবর্তিত হতে থাকে। ক্রমবিবর্তনের ফলে এদের মাঝে নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন আসে। একটা সময় পর ভৌগলিক বাঁধা অতিক্রম করতে পারলেও দুটি পপুলেশনের কেউ কারো সাথে প্রজনন করতে পারে না। তখন দুটি পপুলেশনকে দুটি ভিন্ন প্রজাতি হিসেবে গণ্য করা হয়। এভাবে কোন একটি প্রজাতি থেকে দুটি প্রজাতি উদ্ভবের প্রক্রিয়াকে এলোপেট্রিক প্রজাতিকরণ (Allopatric Speciation) বলে।

 

চিত্রঃ এলোপেট্রিক প্রাজতিকরণ প্রক্রিয়ায় নতুন প্রজাতির উদ্ভব image source : evolution.berkeley.edu

এ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ হলো শিম্পাঞ্জী ও বনোবো। বহুকাল আগে এরা একটিমাত্র প্রজাতি ছিল। ২ মিলিয়ন বছর পূর্বে কঙ্গো নদী গঠনের ফলে সেই প্রজাতির পপুলেশনটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ২ মিলিয়ন বছরব্যপী চলা বিবর্তনের ফলে দুটি পপুলেশনের একটি আজকের শিম্পাঞ্জী এবং অন্যটি বনোবো তে পরিণত হয়েছে।

পিগমি মারমোসেটের সদ্য আবিস্কৃত দুটি প্রজাতি এই এলোপেট্রিক প্রজাতিকরণের মাধ্যমেই বিবর্তিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: IFLScience

Feature image: philadelphiazoo.org

কুকুর সম্পর্কে কিছু অবাক করা তথ্য

কংক্রিটের ফাটল সারাবে ছত্রাক