in

আশ্চর্য কীট টিউবওয়ার্ম

১৯৯২ সালের কথা। ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর মনিকা ব্রাইট গভীর সমুদ্রবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে চান। সেজন্য ঐ বছরই তিনি গভীর সমুদ্রে ডাইভ দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনি এলভিন নামক একটি সাবমারসিবলে করে গভীর সমুদ্র পর্যবেক্ষণ করতে বেরিয়ে পড়েন। সেখানে একধরনের আশ্চর্য কীট দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে যান। পরে এটি নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেন। সেই কীটটির চোখ, মুখ, পেট কিছুই নেই। এটি বেঁচে থাকে এর ভিতরে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়ার সিম্বায়োটিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। অমেরুদণ্ডী এই কীটটির নাম হচ্ছে টিউবওয়ার্ম। বৈজ্ঞানিক নাম Riftia pachyptila। অ্যানিলিডা বর্গের প্রাণী।

টিউবওয়ার্মটি ব্যাকটেরিয়াকে নিজের দেহে থাকতে দেয় এবং এর বদলে ব্যাকটেরিয়া টিউবওয়ার্মের জন্য খাবার তৈরি করে দেয়। যে প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া খাবার তৈরি করে তাকে কেমোসিন্থেসিস বলা হয়। টিউবওয়ার্মের বিষাক্ত উপাদানকে রূপান্তর করে এই খাদ্য তৈরি করা হয়।

সর্বপ্রথম এই টিউবওয়ার্ম পাওয়া যায় গ্যালাপোগাসে। ফ্রান্স ও আমেরিকা একটা যৌথ অভিযান চালিয়েছিল সেখানে। সেখানে গভীর সমুদ্রে তারা একটি হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট আবিষ্কার করেন। এটি একধরনের খোলা গর্তের মতো যেখান থেকে গরম খনিজ সমৃদ্ধ তরল বের হয়ে আসে। এখান থেকেই প্রথম Riftia pachyptil-এর সন্ধান পাওয়া যায়।

ড. ব্রাইটের অভিযানের পরে একটা প্রশ্নের জন্ম নেয়, এতো এতো ব্যাকটেরিয়া টিউবওয়ার্মগুলোর ভেতরে প্রবেশ করে কীভাবে? ২০০৮ সাল পর্যন্ত এর কোনো উত্তর ছিল না। ড. ব্রাইট এবং তার সহকর্মীরা ২০০৮ সালে বিখ্যাত জার্নাল Nature এ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন যেখানে কখন, কীভাবে, কেন ব্যাকটেরিয়াগুলো টিউবওয়ার্মের ভেতর নিজেদের থাকার ব্যবস্থা করে এবং সিমবায়সিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কীভাবে নিজেরা বেঁচে থাকে এই প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়।

২০০৪ সালে তারা কিছু বাচ্চা টিউবওয়ার্ম স্যাম্পল হিসেবে সংগ্রহ করেন। এরপর এগুলোকে Vestimentiferan Artificial Settlement Device (VASDs) এ প্রয়োগ করা হয় এবং পর্যবেক্ষণ করা হয়। দীর্ঘ ৪ বছর গবেষণা করার পর তারা বুঝতে পারেন যে, ওয়ার্ম এর skin infection মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়াগুলো এর মধ্যে প্রবেশ করে। এখান থেকে হামাগুড়ি দিয়ে এরা ওয়ার্মের টিস্যুর ভেতর চলে যায়। সেখানে ব্যাকটেরিয়াগুলো নিজেদের জন্য ট্রপোসোম বানিয়ে নিয়ে থাকা শুরু করে। ট্রপোসোম হচ্ছে একধরনের অঙ্গ যেটা পোষকরূপে ব্যাকটেরিয়াকে ধারণ করে।

image source: bbc.co.uk

এখান থেকেই সিমবায়সিস প্রক্রিয়া শুরু হয়। ট্রপোসোম কিন্তু একটা উন্নতমানের অঙ্গ। এর ভেতরকার কোষীয় গঠন উন্নতমানের এবং অনেকগুলো লোবযুক্ত। বেশিরভাগ ট্রপোসোমের ভেতর ব্যাকটেরিওসাইট থাকে যেগুলো একটা কোষীয় চক্র মেনে চলে। বলা যায় টিউবওয়ার্মের স্বভাব-বৈশিষ্ট্য বেশ আশ্চর্য রকমের।

পেনসিল কীভাবে বানায়

মানচিত্র : যে সবসময় মিথ্যা বলে এসেছে