উদ্ভিদজগতের অজানা দশ

১. ৮০ হাজারেরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ খাবার যোগ্য

আশ্চর্য হলেও সত্য। ৮০ হাজারেরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ খাওয়ার জন্য উপযোগী। যদি কখনো নতুন কোনো সবজি বা ফল খাওয়ার শখ হয় তাহলে চিন্তা করার কিছু নেই, পৃথিবীর আনাচে কানাচে আপনার জন্য এখনো অনেক সুস্বাদু সবজি ও ফল অপেক্ষা করছে। সেসবের অধিকাংশ আপনি চোখেও দেখেননি।

২. মানুষের ৯০ শতাংশ খাবার আসে মাত্র ৩০টি গাছ থেকে

এটিও যথেষ্ট আশ্চর্যজনক। যেখানে খাওয়ার মতো প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে সেখানে আমরা খাদ্য নির্বাচন করছি মাত্র ৩০টি গাছ থেকে। এক্ষেত্রে আপনি যদি ভেবে থাকেন এই ৩০টি উদ্ভিদের খাদ্য গুনাগুণ সবচেয়ে বেশি তাই আমরা এগুলো বেশি খেয়ে থাকি, তাহলে সেটিও কিন্তু আপনার সম্পূর্ণ ভূল ধারণা। কারণ…

৩. খদ্য গুনাগুণ নয়, সহজলভ্যতার ভিত্তিতে উৎপাদিত হয় শস্য

অধিকাংশ কৃষকই ফসল উৎপাদনের সময় খাদ্যগুণের কথা চিন্তা করে না, করে আর্থিক লাভ লোকসানের হিসাব। যে ফসলগুলো সহজে এবং সল্প সময়ে বেশি উৎপাদন করা যায় সেগুলোই সাধারণত উৎপাদিত হয়ে থাকে। ফলে অধিকাংশ পুষ্টিকর ফল ও শাকসবজিই আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

৪. ৭০ হাজারেরও বেশি উদ্ভিদে রয়েছে ভেষজ গুনাগুণ

রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রেও উদ্ভিদকূলের বৈচিত্র্য কোনো অংশে কম নয়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এদের অবদান অনেক। চিকিৎসার জন্য বর্তমানে যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে তাদের অর্ধেকেরও বেশি আসে কোনো না কোনো উদ্ভিদ থেকে। এসব ওষুধী উদ্ভিদের বেশির ভাগই হলো রেইন ফরেস্ট অঞ্চলের। কিন্তু রেইন ফরেস্ট থেকে অধিকাংশ ভেষজ উদ্ভিদ এসে থাকলেও সেগুলো সম্পর্কে এখনো জানার আছে অনেক কিছু। কারণ…

৫. রেইন ফরেস্টের মাত্র ১শতাংশ উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে

চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য রেইনফরেস্টগুলো স্বর্গস্বরূপ। সঠিকভাবে গবেষণা করতে পারলে এখনো এমন সব ওষুধ তৈরি করা সম্ভব যা দিয়ে নতুন এবং পুরাতন অসংখ্য রোগের চিকিৎসা ত্বরান্বিত হবে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো এ সম্ভাবনা দিন দিন কমেই যাচ্ছে। কারণ…

৬. ইতোমধ্যে বিশ্বের ৮০ শতাংশ প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে

৮ হাজার বছর আগেও যেসব বনাঞ্চল সারা বিশ্ব জুড়ে কর্তৃত্ব করতো তার অধিকাংশই আজ বিলুপ্ত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের ৫ ভাগের ৪ ভাগই মানুষ নিজ হাতে ধ্বংস করেছে। এখান থেকে একটি ব্যাপার অনুধাবন করা যায়। ঐ ৮০ শতাংশ বনাঞ্চল ধ্বংস করার সাথে সাথে আমরা এমন অসংখ্য প্রজাতির উদ্ভিদ ধ্বংস করেছি যাদের সাথে আমরা হয়তো ঠিকমতো পরিচিতও হতে পারিনি। মাঝে মাঝে এক্ষেত্রে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কথা বলা হয়। কিন্তু তা-ও ফলপ্রসূ নয়। কারণ…

৭. মাত্র ১০ শতাংশ প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সংরক্ষণ করা হয়েছে

পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য মাত্র ১০ শতাংশ প্রাকৃতিক বনাঞ্চলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখানেও রয়েছে কিছু সমস্যা। মানবসৃষ্ট বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ দূষণ প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তন করছে। এসব দূষণের প্রভাব সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোতেও পড়ছে। ফলে সংরক্ষণ করার পরও বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়াও উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতিকে টিকিয়ে রাখা আরো কঠিন। কারণ…

. অর্ধেকেরও বেশি প্রজাতি কেবলমাত্র তার নিজস্ব অঞ্চলে টিকতে পারে

বেশিরভাগ উদ্ভিদের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যে উদ্ভিদ পৃথিবীর এক প্রান্তে পাওয়া যায় সেটি অন্য প্রান্তে পাওয়া যায় না। এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে নিলে তারা টিকেও থাকতে পারে না। যে হারে উদ্ভিদের বাসস্থান ধ্বংস করা হচ্ছে তাতে কমই আশা করা যায় যে তারা অন্য কোনো এলাকায় হলেও টিকে থাকবে।

৯. পরিচিত উদ্ভিদের ৬৮ শতাংশ আজ বিলুপ্তির হুমকিতে

বিজ্ঞানীরা মোট উদ্ভিদের ক্ষুদ্র একটি অংশ নিয়ে গবেষণা করতে পেরেছেন। সেই ক্ষুদ্র অংশেরই ৬৮ শতাংশ উদ্ভিদ নিকট ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হয়ে যাবার হুমকির মুখে রয়েছে। উদ্ভিদরা চলাচল করতে পারে না, তাই তাদের বাসস্থানগুলো যখন ধ্বংস করে দেয়া হয় তখন তারা এক স্থান থেকে উঠে গিয়ে অন্য স্থানে আশ্রয়ও নিতে পারে না। তাই প্রাণীকূলের তুলনায় উদ্ভিদকূলের জন্য টিকে থাকা যথেষ্ট কঠিন। আর এ কারণেই…

১০. উদ্ভিদ তার স্বাভাবিক প্রকৃতি থেকে প্রায় ৫ হাজার গুণ দ্রুত গতিতে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে

কেউ কেউ হয়তো বলে থাকবেন, মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া এমনিতেও একসময় না একসময় উদ্ভিদ প্রজাতিগুলো বিলুপ্ত হতো। যেমনটি আগেও হয়ে এসেছে। কথাটি আসলেই সত্য। উদ্ভিদ প্রজাতিগুলো সময়ের সাথে সাথে হয়তো একসময় বিলুপ্ত হতো। এটাই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু চিন্তার বিষয় সেটি নয়, চিন্তার কারণ হলো বিলুপ্তির হার।

বর্তমানে উদ্ভিদ প্রজাতিগুলো তাদের স্বাভাবিক নিয়মের তুলনায় কয়েক হাজার গুণ দ্রুতগতিতে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এটি পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের জন্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখার জন্য বড় ধরনের হুমকি। আর দুঃখজনক হলেও সত্য, এই পরিস্থিতির জন্য আমরা মানুষেরাই দায়ী।

তথ্যসূত্র- ইকোওয়াচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *