প্রজাপতির পাখা কেন রঙিন?

হঠাৎ করে যদি কেউ প্রশ্ন করে রঙ-বেরঙের কোনো প্রাণীর নাম বলতে, তাহলে নিঃসন্দেহে সবার মনেই প্রজাপতির ছবি ভেসে উঠবে। কারণ এতো বেশি রঙের সমাহার প্রজাপতি ছাড়া আর কোন প্রাণীরই বা আছে? এই গুনের কারণে এদের দেখলে মুহূর্তের মধ্যেই চোখ জুড়িয়ে যায়,মনে হয় একবার ছুঁতে পারলে দারুণ হতো।

মেলানিন বা এমন ধরনের কিছু ধরনের রঞ্জকের উপস্থিতির কারণে আমরা বিভিন্ন প্রাণীকে বিভিন্ন রঙে দেখে থাকি। কিন্তু শুনলে অবাক হতে হয় যে, প্রজাপতির শরীরে এমন ধরনের কোনো বর্ণকণিকা নেই। অর্থাৎ প্রজাপতির নিজস্ব কোনো রঙ নেই! ব্যাপারটি আসলেই অবাক করে দেবার মতো। তাহলে প্রজাপতির পাখাতে রঙে এতো ভিন্নতা আসলো কীভাবে?

সকল প্রজাপতি ‘লেপিডপ্টেরা’ বর্গের অন্তর্গত। লেপিডপ্টেরা হচ্ছে একটি ল্যাটিন শব্দ যা দুটি গ্রীক শব্দ ‘লেপিস’ ও ‘টেরন’ এর সমন্বয়ে গঠিত। ‘লেপিস’ অর্থ স্কেল বা আঁশ এবং ‘টেরন’ অর্থ উইং বা পাখা। অর্থাৎ শাব্দিকভাবে লেপিডপ্টেরা মানে হচ্ছে আঁশযুক্ত পাখা। এ বর্গের অধীনে আরো একধরনের পতঙ্গ আছে যেগুলো হচ্ছে মথ। মথেরা হচ্ছে প্রজাপতির জাত ভাই।

আমরা অনেক সময় খেলার ছলে কিংবা অন্য কোনো কাজে প্রজাপতি ধরেছি বা পাখাতে হাত লেগেছে। সবাই-ই হয়তো একটি ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন,ঐ সময়ে হাতে এক ধরনের রঙিন কিছু লেগে গেছে। এগুলোই হচ্ছে প্রজাপতির শরীরের আঁশ। এদের আঁকার এতটাই ক্ষুদ্র যে, একটি ছোট প্রজাপতির পাখাতে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি আঁশ থাকে।

মূলত এদের উপস্থিতির কারণেই প্রজাপতিকে বিভিন্ন রঙে দেখে থাকি। প্রজাপতির রঙের উৎস হচ্ছে এসব আঁশ। প্রজাতিভেদে এসব আঁশের সজ্জাতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। এ কারণে যখন পাখাতে আলো এসে পড়ে তখন তাতে প্রতিসরণ ও বিচ্ছুরণের মাত্রার অনেক বেশি হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে। ভিন্ন ভিন্ন এজন্যই আমরা একেক প্রজাতির প্রজাপতিকে একেক রঙে দেখে থাকি। আলোর এ ধর্মকে ইরিডিসেন্ট বলে।

প্রকৃতপক্ষে প্রজাপতির পাখা হচ্ছে স্বচ্ছ,বর্ণহীন পর্দা যাতে বিভিন্ন ধরনের আঁশ বিভিন্নভাবে সজ্জিত হয়ে আলোর ইরিডিসেন্ট ধর্মের মাধ্যমে নানা রঙের সৃষ্টি করে। গড়ে এ আঁশগুলো লম্বায় ১০০ মাইক্রোমিটার ও প্রস্থে ৫০ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আলো যখন বিভিন্ন স্তরে সজ্জিত এসব আঁশের ওপরে এসে পড়ে তখন বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বিচ্ছুরণ করে। ফলে আমাদের চোখে বিভিন্ন রঙ এসে ধরা পড়ে।

অনেক সময় দেখা যায়,একই প্রজাতির প্রজাপতি মূককীট থেকে বের হবার পরে এক রঙ, আবার কিছুদিন যাবার পরে আরেকটু গাঢ় রঙের হয়ে থাকে। এটাও এসব আঁশের কারণেই হয়ে থাকে। বয়সের সাথে সাথে এদের পাখাতে আঁশের পরিমাণ কমতে থাকে। আবার সূর্যের আলোর তীব্রতার কারণে এদের বিচ্ছুরণ ক্ষমতার অনেক হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *