ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ঘুমের অনিয়মের জন্য দায়ী

তথ্য ও যোগাযোগ বিপ্লবের দুনিয়ায় ২৪ ঘন্টা উচ্চগতির ইন্টারনেট পাওয়া বেশ বড়সড় সুযোগ। কিন্তু এ সুযোগের অপর পিঠে অনেক কিছু বিসর্জনেরও ব্যাপার জড়িত। নতুন এক গবেষণা বলছে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট আধুনিক যুগের জনজীবনে ঘুমের একটি ক্ষতিকারক। নিদ্রাহীনতা এবং নিম্নমানের ঘুমের সাথে রয়েছে এর নিবিড় সম্পর্ক। বিছানায় যাবার নিকট সময়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ব্যবহার এই সমস্যার দিকে সহজে ঠেলে দেয়।

আধুনিক যুগে এসে অপর্যাপ্ত ঘুম খুবই সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ইতোমধ্যেই অপর্যাপ্ত ঘুম যে জনস্বাস্থ্য এবং জনগণের মানসিক দক্ষতায় নেতিবাচক প্রভাব রাখছে তা স্পষ্ট। এ সংক্রান্ত বেশ কিছু গবেষণার ফলাফলে তা উঠে এসেছে।

খারাপ খবর হল, এ সমস্যা দিন যত যাচ্ছে আগের চেয়েও গুরুতর হচ্ছে। বহু উন্নত দেশেও মানুষ কম ঘুমের সমস্যার সম্মুখীন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় ৭ থেকে ৯ ঘন্টার ঘুম দেয়ার সংকট দেখা দিচ্ছে। আর এই ঘুমের ঘাটতির সমস্যা বড় হয়ে উঠছে দিনকে দিন।

যখন এ ঘুমহীনতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, একই সাথে বেড়ে চলছে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার। আমাদের ঘুমের চক্র ভেঙে দিচ্ছে যন্ত্রপাতির ব্যবহার। এখন পর্যন্ত খুব কমই প্রামাণ্য উপাত্ত রয়েছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটকে ঘুমের সমস্যার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত দেখানোর ক্ষেত্রে।

ইন্টারনেটের কাছে নাচের পুতুল হয়ে গেলেন না তো? | Image Source: salon.com

ঘুম এবং উচ্চগতির ইন্টারনেটের মধ্যকার সম্পর্ক ও প্রভাব নির্ণয় করতে জার্মান একদল বিজ্ঞানী তাদের দেশের মানুষের উপর একটি জনজরিপ পরিচালনা করেছেন। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটকে তুলন্নামূলকভাবে যাচাই করা হয়েছে ঘুমের  সাথে কতটা সম্পর্কিত সেদিকটা খেয়াল রেখে। গবেষণা থেকে উঠে এসেছে যে, যারা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকেন তারা অন্যান্যদের তুলনায় গড়পড়তায় ২৫ মিনিট দেরীতে ঘুমিয়ে থাকেন। আরো উল্লেখ্য, এরা ৭ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুমের প্রতি খেয়াল রাখতে পারেন না। ফলশ্রুতিতে, ঘুম পরিপূর্ণ হয় না এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে অসন্তুষ্টি থেকে যায়। উল্লেখ্য, ২৫ মিনিটের হিসেব একটি গড় মান। আপাতদৃষ্টে বেশ কম মনে হলেও অনেকের ক্ষেত্রেই আশংকার জন্য যথেষ্ঠ।

ইন্টারনেট এমনিতেই একটি বহুমুখী জগৎ। একে তো বহুমুখী, তার পরে আবার এ জগতের কোন শেষ নেই। আবার উচ্চগতির ইন্টারনেট সে বহুমুখী জগতের সবগুলো দুয়ার খুলে দেয়। ফলত, উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রলুদ্ধ করে অধিক রাত পর্যন্ত জেগে থেকে ভিডিও গেমস, ওয়েবে ঘোরাঘুরি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটাতে।

মোবাইলের ভিতর কী থাকে? সারাদিন পড়ে থাকে কেন? | Image Source: dailymail.co.uk

ইতিপূর্বের প্রতি প্রজন্মের জন্যই, প্রযুক্তির মোহের ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ ছিল। টিনেজারদের মধ্যে উদাহরণস্বরূপ, ভিডিও গেমস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে টেলিভিশন দেখার প্রবণতা রাতের ঘুম কেড়ে নেয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা গিয়েছে। তবে, বয়স্ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে কম্পিউটার এবং স্মার্টফোনের ব্যবহারকে ঘুমের সময়ের সাথে অধিক শক্তিশালীভাবে সম্পর্কিত পাওয়া গিয়েছে।

মিলানের বক্কোনি ইউনিভার্সিটির জনসংখ্যা তত্ত্বের অধ্যাপক ফ্রান্সেস্কো বিল্লারি ব্যাখ্যা করেন, ব্যক্তি ডিজিটাল দুনিয়ার প্রলোভনে বিছানায় যেতে দেরী করায় ঘুম শুরু করতে দেরী হচ্ছে। যাদের দেরীতে ওঠার সুযোগ নেই তারা সেই ক্ষতিপূরণও করতে পারছে না সকালে দেরীতে ঘুম থেকে উঠে। ফলত, ঘুমের দৈর্ঘ্য প্রয়োজনীয় মাত্রার আগেই কেটে যাচ্ছে।

মোটের উপর, গবেষণার তথ্য সংগৃহীত হয়েছে অপেক্ষাকৃত তরুণ সমাজের কাছ থেকে যারা রাতে ঘুমের আগে ইন্টারনেট সুবিধাযুক্ত প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করে থাকে। ফলে সর্বসাধারণের জন্য বিষয়ভিত্তিকভাবে এ তথ্য পরিবেশন করা  যাচ্ছে না।

গবেষণাটি যেমন আকর্ষণীয় তেমনি এই মুদ্রার অপর পিঠের অবাক করা ব্যাপার হল টিনেজারদের ঘুমের আচরণের উপরও তথ্য সীমিত। অর্থাৎ ঘুমের আচরণ এবং প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহারের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার তথ্যের ফারাক রয়েছে। কারণ, ঘুমের চাহিদার বয়সভেদে ভিন্ন, আবার বয়সভেদে ইন্টারনেট আসক্তির ধরণও ভিন্ন। এর সাথে গবেষণা লক্ষ্য ধরে রেখে ইন্টারেনেটের কারণে প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহারের বৃদ্ধির হার ও এই বহুমাত্রিক রাশির উর্ধ্বমুখী লেখচিত্রের সাথে ব্যক্তির ঘুমের আচরণের পরিবর্তন যাচাই করতে হচ্ছে।

গবেষকরা ইন্টারনেট আসক্তির ভিত্তিতে টিনেজারদের ঘুমের আচরণের উপর গবেষণা করার আহবান জানাচ্ছেন। যেহেতু ইন্টারনেট জড়িত প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধিতে, তাই এখন প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও ইন্টারনেটমুখী হয়ে উঠছে পণ্যের মধ্যে সেই ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত রাখার দিক থেকে। একটি আরেকটির সম্পূরক হয়ে ক্রেতাকে ঠেলে দিচ্ছে সার্বক্ষণিক ব্যবহারের দিকে।

ডিজিটাল দুনিয়ার ব্যস্ততা বাড়ছে যেমন হড়হড়িয়ে তেমনি প্রতিযোগিতার পৃথিবীতে সুস্থভাবে টিকে থাকতেও মানুষকে রাখতে হচ্ছে নানান দুনিয়ার খবর। ইন্টারনেটের কাছে যে স্বাস্থ্যের সতর্কতা রাখতে হবে এ আন্দাজ কেউ করেনি। তবে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে এবং একই সাথে আমাদের স্বাস্থ্য এবং কর্মদক্ষতার উপরও নজর রাখতে হচ্ছে।  প্রযুক্তিপণ্যের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকির তথ্য যত বেশি পাওয়া যাবে তত সহজে সচেতনতার জন্য, সাবধানতার জন্য পদক্ষেপ নেয়া যাবে।

যন্ত্রের যন্ত্রণায় ঘুমকে বাঁচাতে যা করা যেতে পারে:

  • ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার সন্ধ্যায় সীমিত রাখা।
  • প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া।
  • বিভিন্ন কাজের মধ্যেঅগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে গিয়ে ডিভাইসে বুঁদ হয়ে না যাওয়া। এক্ষেত্রে বারবার সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে ঢুঁ না মেরে একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার করা।
  • যন্ত্রের বাইরে জীবন উচ্ছ্বল– একথা মাথায় রাখা ও নিজের শরীর মনের সুস্বাস্থ্যের জন্য নিজেকে অনুপ্রাণিত করা। ইন্টারনেট ব্যবহার করতে করতে দেরীতে ঘুমাতে যাবার চেয়ে বরং শীঘ্র ঘুমানোর নিয়ত করা যাতে সকালে উঠে ঢুঁ মেরে দেখে নেয়া যায়।
ইন্টারনেট যুগের সবচেয়ে ক্রমাগত ব্যক্তিগত সমস্যা সবদিকে মন গড়ানো। এটা মাথায় রাখুন, পৃথিবীর সব ঘটনা উপভোগ করার দরকার নেই, বরং সুস্থ থাকা উপভোগ করুন। আনন্দ সর্বোচ্চ উপভোগের জন্য সুস্থতা সবচেয়ে বড় শর্ত। | Image Source: gojessego.com

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব ইকোনমিক বিহেইভিওর এন্ড অর্গানাইজেশন গবেষণাপত্রে।

 

— ScienceAlert অবলম্বনে।

রাত জাগা ব্যক্তিদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি ১০ শতাংশ

যারা রাত জাগতে পছন্দ করেন আর সকাল হলে নিজেকে টেনেও বিছানা থেকে নামানো যায় না তাদের জন্য দুঃসংবাদ। রাতজাগা পাখিদের রয়েছে শীঘ্র মৃত্যুর ঝুঁকি, যাদের স্বাভাবিকভাবে দ্রুত বিছানায় যাবার এবং সকাল সকাল জেগে ওঠার অভ্যাস রয়েছে তাদের তুলনায়। এ বিষয়ক গবেষণা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন এবং ইউনিভার্সিটি অব সারে

এ গবেষণায় ৪ লক্ষ ৩৩ হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য নেয়া হয়েছে যুক্তরাজ্যের বায়োব্যাংক থেকে। সাড়ে ছয় বছর ধরে পর্যবেক্ষণের অধীন ছিল আর ফল হচ্ছে পেঁচার অনুসারীরা সকালের চড়ুইদের তুলনায় ১০ শতাংশ অধিক মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বেঁচে থাকে। গবেষণা নমুনায় এমন ৫০,০০০ লোক ছিল যারা মৃত্যুঝুঁকি, অন্যান্য রোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে ভুগছিল।

চোখের আলোয় রাতের অন্ধকার, রাত বাড়ে ঘুম কেড়ে; image source: Huffington Post

রাত জাগানিয়া ব্যক্তিরা যখন ভোর থেকে কাজ শুরু করা ব্যক্তির মত কাজ শুরু করেন তাদের ক্ষেত্রেও দৈহিক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়ে গেছে বলে জানান এই গবেষণার সহদলনেতা ক্রিস্টেন নুটসন। তিনি নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ফেইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনে স্নায়ুবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক।

এই বিষয়ে পূর্ববর্তী গবেষণাগুলো দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল বিপাকীয় ক্রিয়ার ত্রুটি এবং হৃদযন্ত্র সম্পর্কিত সমস্যার হার বৃদ্ধির উপর। বলা যায়, প্রথমবারের মত ক্রিস্টেনের গবেষণাই ঘুমের অভ্যাসের ভিত্তিতে মৃত্যুহার নিয়ে কাজ করছে। এটি প্রকাশিত হয়েছে ক্রোনোবায়োলজি ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে।

বিজ্ঞানীরা রাত জাগানিয়াদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসমস্যা নিয়ে কাজ করেছেন। এরপরও মৃত্যু ঝুঁকির হার তাদের ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত ছিল।

প্রশ্ন জনস্বাস্থ্যের বলে এটা এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই বলে মন্তব্য  করেন ইউনিভার্সিটি অব সারে এর ক্রোনোবায়োলজির অধ্যাপক ম্যালকম ভন শান্টজ। ঘুমের সাথে দেহঘড়ির ব্যাপার সম্পৃক্ত। যারা রাতে কাজ করেন তাদের জন্য তারা কিভাবে দিনের আলোর সাথে দেহঘড়ির মিল ঘটিয়ে কাজ করতে পারেন এ ব্যাপারে সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। যেখানে সম্ভব অন্তত রাতের কাজ পরবর্তী সময়ের জন্য স্থগিত রাখা যেতে পারে। ক্ষুদ্র সময় ও ব্যক্তির বিচারে হয়ত এটা আমাদের কাছে সমস্যা মনে হচ্ছে না, কিন্তু বড় স্কেলে তা জনজীবনের লাইফস্টাইল ও জনস্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর।

নুটসনের মতে, হতে পারে যারা রাত জেগে থাকেন তাদের একটি অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি রয়েছে যা তাদের বাহ্যিক পরিবেশের সাথে মিলে না। মানসিক চাপ, ভুল সময়ে খাদ্য গ্রহণ, যথেষ্ঠ শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের অভাব, ঘুমের অভাব, একা রাত জাগা ইত্যাদি কারণে দেহঘড়ির গোলমাল লেগে থাকতে পারে। একা রাত জাগার ক্ষেত্রে মাদক, এলকোহল, এমনকি অধুনা ডিজিটাল আসক্তিও দায়ী। রাতের অন্ধকারকে সময় দেয়ার সাথে স্বাস্থ্য পরিপন্থী বহু আচরণ সম্পর্কিত।

আরো ভয়ংকর ব্যাপার হল রাত জাগাদের ক্ষেত্রে তিনটি গুরুতর অসুস্থতার হার বেশি লক্ষ্য করা গেছে: ডায়াবেটিস, মানসিক বৈকল্য এবং স্নায়বিক বৈকল্য।

রাত জাগুনিয়ারা কি ভোরের পাখি হতে পারে?

জিনতত্ত্ব এবং পরিবেশ সমান সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আমরা কি রাতের না ভোরের পাখি হব। কী ধরনের হবে কোন ব্যক্তি এ ব্যাপারে উক্ত দুই বিষয়ের ভিত্তিতে বিভিন্ন লেখক প্রতিবেদন প্রকাশও করেছেন।

রাতের ঘুমের সাথে সমস্যার দায় সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তির নয়। কিছু কিছুর উপর ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরেও সব নয়। ঘুমের অভ্যাসের সময়সূচি পরিবর্তনের একটি ভাল উপায় আলোতে সাড়া দেয়া। আলো বলতে অবশ্য দিনের আলোর কথাই বলা হচ্ছে। সকালে আলো ফোটার সাথে বিছানা ছেড়ে দেয়া এবং রাতের অন্ধকার গভীর হলে বিছানার সাথে নীরব হয়ে যাওয়ার শুরু করা যেতে পারে। এর সাথে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়মিত সময় মেনে ঘুম চর্চা করা। রাতের নির্দিষ্ট সময়ে নিজেকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করা এবং পরবর্তী দিন যেন সময়টা পিছিয়ে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা।

নিয়মিত সময়ে ঘুম না হলে দিনের সময়সূচি খাপ খাবে না; image source: Phd Comics

নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে অভিযোজিত হতে হবে। আপনার কখন ঘুমাতে যাওয়া উচিত এ ব্যাপারে নিজের মতকে গুরুত্ব দিতে হবে, বদঅভ্যাসের কাছে হেরে যাওয়া যাবে না।

সমাজও যেভাবে সহায়ক হতে পারে

আমরা যদি দেহঘড়ির ঘুমের এ ধরণের সময়সূচির ব্যাপার ধরতে পারি, অংশত, যাদের ক্ষেত্রে জিনগতভাবে নির্ধারিত এবং অভ্যাসের বশে এমন হচ্ছে না তবে তাদের জন্য কাজকর্ম, চাকরির সময়সূচি নমনীয়তা হয়ত উপকারে আসবে। তাদের হয়ত সকাল ৮টার আগেই ঘুম ভাঙার জন্য চিন্তায় থাকতে হবে না। কাজের সময়বণ্টনের মাধ্যমে তাদের সে সুযোগ দেয়া যায়। কিছু মানুষ রাতেই কাজের সাথে বেশি মানিয়ে নিতে পারে।

ভবিষ্যত গবেষণায়, নুটসন এবং তার সহকর্মীরা রাত জাগুনিয়াদের নিয়ে একটি পরীক্ষা করতে চাচ্ছেন। তাদের দেহঘড়ি একটু এগিয়ে আসলে কেমন আচরণ করে তাই যাচাইয়ের লক্ষ্য। মূলত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়াদি— দৈহিক ও মানসিক উন্নতি, রক্তচাপ ইত্যাদির উপর বিশেষ নজর থাকবে।

দিনের আলো সংরক্ষণ কর্মসূচির একটি উপজাত সংকট; image source: someecards.com

দিনের আলোর ব্যবহার বাড়াতে শীতপ্রধান দেশগুলোতে যখন ডে-লাইট সেভিং কর্মসূচি চালু হয় অথবা যখন গ্রীষ্ম চলে দেখা গেছে তখন সাধারণভাবেই এ ধরনের লোকেদের অধিক সমস্যা হয়।

গ্রীষ্মকালীন সময়সূচির সময় ইতোমধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্তের হার বেশি পাওয়ার প্রতিবেদন রয়েছে বলে জানান ভন শান্টজ। আমাদের আরো স্মরণে রাখা দরকার যে প্রতিবছর এই পরিবর্তন ছোট ঝুঁকি হলেও প্রভাবিত করছে ১৩০ কোটি মানুষের মধ্যে। তিনি মনে করেন এ ব্যাপারটি গুরুতরভাবে চিন্তার অবকাশ রয়েছে যে এই সময়সূচির লাভ উক্ত ঝুঁকির চেয়েও বেশি কিনা।

যেভাবে গবেষণাটি করা হয়েছে

এ গবেষণার জন্য ইউনিভার্সিটি অব সারে এবং নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একেক জন ব্যক্তির সকালের এবং রাতের কাজকর্মের ঝোঁকের সূত্র খুঁজেছেন। এর সাথে হিসেব করেছেন তাদের সম্যক অবস্থার সাথে মৃত্যুঝুঁকির হার। তারা যে ৪,৩৩,২৬৮ জন ব্যক্তির তথ্য নিয়েছেন তাদের সকলের বয়স ছিল ৩৮ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে এটা ভাগ করতে যে তারা ভোরের পাখি নাকি প্রায় রাতের পাখি নাকি ঘোরতর হুতুম পেঁচার দলে। নমুনা ব্যক্তিদের মৃত্যুর তথ্য সাড়ে ছয় বছর ধরে নেয়া হয়েছে।

গবেষণাটির সহায়তায় ছিল ইউনিভার্সিটি অব সারে ইনস্টিটিউট অব এডভান্সড স্টাডিজ স্যান্টান্ডার ফেলোশিপ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ থেকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিজ এন্ড ডাইজেস্টিভ এন্ড কিডনী ডিজিজ গ্র্যান্ট R01DK095207.

 

সায়েন্স ডেইলি অবলম্বনে।

দুপুরের হালকা ঘুম— বাড়িয়ে দেয় পড়াশোনার কার্যকারিতা

“ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ারের গবেষকদের করা গবেষণা বলছে দুপুরের ঘুম হতে পারে স্নায়বিক কার্যক্ষমতা ও দক্ষতার সহায়ক যা উপকারে আসতে পারে কিশোরদের বয়ঃসন্ধিকালীন ক্লান্তির সমাধান হিসেবে।” 

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের অর্থায়নে সহকারী অধ্যাপক জিয়াওপেঙ জি এবং প্রধান অনুসন্ধানকারী জিয়াংহং লিউ (ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া) চীনা ক্লাসরুমগুলোর উপর একটি গবেষণা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। জিনতান থেকে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের দুপুরের হালকা ঘুম আর রাতের ঘুমের স্থিতিকাল পরিমাপ করেন। একই সাথে ঘুমের মান অর্থাৎ গভীরতা ও কার্যকারিতা কেমন তাও টুকে নেয়া হয়। কার্যকারিতা পরিমাপে বহুবিধ স্নায়ুভিত্তিক কাজকর্ম করতে দেয়া হয়েছিল শিক্ষার্থীদের।

জিয়াওপেঙ জির মূল লক্ষ্য নিবদ্ধ ছিল ঘুম এবং চেতনা বা বোধশক্তির মধ্যকার সম্পর্ক নির্ণয়ের। যেকোনো নিবিড় শিক্ষা এবং শিক্ষার চাহিদার জন্য তরুণ সম্প্রদায়ই মূল উৎস। স্নায়বিক চেতনার কার্যক্রমগুলো ভূমিকা রাখে কোনো কিছু শেখা, আবেগ প্রকাশ এবং কেউ কিভাবে আচরণ করবে এ সংক্রান্ত ঘটনায়। তার গবেষণা থেকে দুপুরের হালকা ঘুম আর স্নায়বিক কাজকর্মগুলোর মধ্যে সহায়তা করার বৈশিষ্ট্যে প্রাসঙ্গিকতা পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষত, চীনে দুপুরের দিকে হালকা একটা ঘুম দেয়া তাদের সংস্কৃতি চর্চার অংশ। বাংলাদেশেও কিন্তু গ্রামে ব্যাপারটা প্রচলিত। দুপুরের ভাত খাওয়ার পর আমাদের দেশে এই হালকা ঘুমকে বলে ভাতঘুম।

ঘুমের পৃথিবী কিশোর-দুপুরের। চীনে দুপুরের ঘুম একটি সংস্কৃতি। ; source: asiapacificglobal.com

কিন্তু পশ্চিমাবিশ্বে আবার বিপরীত সংস্কৃতি লক্ষ্যণীয়। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর কোনো বালাই নেই। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে, একটানা ঘুমের ধরণকে মস্তিষ্কের পূর্ণতার জন্য সহায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়। চীনে দুপুরঘুমের ব্যাপারটির চল রয়েছে অফিস আদালতে কর্মচারী এবং বিদ্যাপীঠগুলোয় শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার পরবর্তী সময়ে।

জি গবেষণা করেছেন মানুষের ২৪ ঘন্টার দেহঘড়ির সাথে ঘুমের ছন্দ কিভাবে তাল খেলে। বয়ঃসন্ধি বা কৈশোরের ক্রমবিকাশের সময় দেহঘড়ির ছন্দের তাল-লয়ের পরিবর্তন হয়। টিনেজারদের ক্ষেত্রে তাদের প্রাক-কৈশোরের অবস্থার সাপেক্ষে দেহঘড়ির তাল-লয় এক থেকে দুই ঘন্টা পিছিয়ে পড়ে।

আব্বু !উঠে পড়, সারারাত ঘুমিয়েছ! স্কুল আছে!; source: New Scientist

এই দশা পরিবর্তনে দায়ী আসলে কিশোরদের জৈবিক পরিবর্তন। এ দশা পরিবর্তনের সময়, দেহঘড়ির কারণে শারীরিক কিছু অভ্যাস সময়ের সাথে বদলে গিয়ে প্রভাব ফেলতে থাকে দৈনন্দিন জীবনে। যেমন বাচ্চাদের (প্রাক-কৈশোরে) বেশ সকালে ঘুম থেকে উঠতে হয়। কিন্তু এই জৈবিক পরিবর্তনের কারণে দেহঘড়ির যে বিলম্ব যুক্ত হয় প্রতিদিনিকার রুটিনে, তার কারণে এ বয়সীদের (১৩-১৯ বছর) বিছানায় ঘুমাতে যেতেও দেরী হয়। সকালের ঘুম ভাঙার সময় একই থাকায় ধীরে ধীরে ঘুমের ঘাটতি নিয়মিত হতে থাকে।

জি মনে করেন জৈবিক কারণের এ আকস্মিক পরিবর্তনে ঘুমের সময়সূচির সমস্যা কিশোরদের স্নায়বিক কার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করতে পারে। যে কারণে, স্কুলে মনোযোগ দেয়া আরো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ক্ষতি হতে পারে স্মৃতিশক্তি এবং কার্যকারণ দক্ষতারও।

দেহঘড়ি কমজোর হয়ে পড়ে দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যকালে। দিনের এ পর্যায়ে কিশোরদের ঘুমভাব চলে আসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোর সময়সূচির কারণে কিশোরদের সে সুযোগ পাওয়ার উপায় নেই।

শৈশবের পর্যায় এগুতে এগুতে, আমেরিকার বাচ্চাদের হালকা ঘুমের অভ্যাস হ্রাস পাওয়ার অভিজ্ঞতা হতে থাকে। বাচ্চাদের এমন সময়সূচির মধ্য দিয়ে শৈশব অতিবাহিত হতে থাকে যে তারা  দৈনন্দিন এই নিয়মকানুনের কারণে একসময় দুপুরের হালকা ঘুমের চাহিদা থেকে বিরত থাকতে শিখে যায়। বিপরীত দিকে, চীনে, স্কুলগুলোর সময়সূচিতে এ সুযোগটা আছে। তাই নিয়মকানুনের চাপ ঐ নির্দিষ্ট সময়ের উপর পড়ছে না। ফলত, চীনে কিশোরদের দুপুরের হালকা ঘুমের অভ্যাস সময়ের পরিক্রমায় অপরিবর্তিত থাকছে।

হালকা ঘুমের ব্যাপারে গবেষকদের এসপার ওসপার অবস্থান নিতে দেখা যায়। অনেকে মনে করে দিনের হালকা ঘুম রাতের ঘুমের ঘাটতিকে মিটিয়ে দেয়; আরেক দল মনে করে এটি নিয়মিত হলে রাতের ঘুমের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করে। বহু গবেষণায় ল্যাবরেটরিতে ঘুমের পরিবেশ তৈরি করে এধরনের পরীক্ষার তথ্য নেয়া হয়েছে। কিন্তু ঘরোয়া পরিবেশের সাথে নতুন কৃত্রিম পরিবেশে নিয়মিত অভ্যাসের পার্থক্য হ্রাস করা খুব জটিল ব্যাপার। তাই পরীক্ষায় অংশ নেয়াদের আচরণের প্রভাব কতটা বিশুদ্ধ তা নিয়ে শংকা থাকে। কারণ, আসলে যাচাই করা হচ্ছে অভ্যাসগত ঘুমের প্রভাব। তাই সেই অভ্যাসের সাথে আনুষঙ্গিক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজের ঘরের বিছানাসহ ঘুম পরীক্ষার অংশ করে ফেলার কথা ভেবে ফেলেন জি।

পূর্ণবয়স্কদের উপর ঘুম সংক্রান্ত যথেষ্ঠ গবেষণা হলেও, টিনেজারদের ক্ষেত্রে ঘুমসংক্রান্ত গবেষণা অপ্রতুল ছিল। তাই আঁটঘাট বেঁধে নামতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন জি। যেহেতু আমেরিকার স্কুলগুলোর সময়সূচি গবেষণার উদ্দিষ্ট ঘুমের সময়ের পরিপন্থী, সেকারণেই চীনের দ্বারস্থ হতে হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ার এবং ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার যৌথ এ প্রচেষ্টায়।

যা পাওয়া গেল

জি হালকা ঘুমের দুটো পরিমাপক নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন— একটি হল ঘুমের সংখ্যা এবং অপরটি ঘুমের স্থায়ীত্ব। নিয়মিত হালকা ঘুমওয়ালারা— যারা সপ্তাহে ৫ থেকে ৭ দিন হালকা ঘুম ছাড়া থাকতে পারেন না তাদের ওপর কিছু পরীক্ষা করা হয়েছে। দেখা গেছে, তারা দৃষ্টি সংক্রান্ত পরীক্ষা এবং স্থান, পরিপার্শ্বীয় স্মৃতি সংক্রান্ত পরীক্ষায় বেশ ভাল দক্ষতা দেখিয়েছে। এরপর আসে এই হালকা ঘুম কতক্ষণ দীর্ঘ হবে? গবেষণা বলছে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট। এক ঘন্টার চেয়ে দীর্ঘ হয়ে গেলে আবার সে ঘুমের কারণে দেহঘড়ির ছন্দপতন হতে পারে। এ গবেষণার জরিপে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ৩০ থেকে ৬০ মিনিট ঘুমিয়েছে তারা অধিক কর্মদক্ষতা দেখিয়েছে। একই সাথে একই লোকদের ক্ষেত্রে কাজের গতিও বেশি পাওয়া গেছে। তবে বিকেল ৪টার পর এ ঘুম না নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

গবেষকরা দুপুরের হালকা ঘুম এবং নিশিতনিদ্রার মধ্যকার ইতিবাচক সম্পর্ক ধরতে পেরে বেশ অবাক হয়েছেন। দেখা গেছে, হুটহাট হালকা ঘুমের চেয়ে যারা নিয়ম করে নির্দিষ্ট সময়ে হালকা ঘুম দিয়ে থাকেন তারা রাতেও ভাল ঘুমাতে পারেন।

পশ্চিম চায়নার একটি স্কুলের দৃশ্য। বাচ্চাদের ডর্মিটরি বা বাসা একটু দূরে বলে ঘুমচর্চা ক্লাসরুমেই সেরে নিচ্ছে যা চীনে দুপুর-ঘুম সংস্কৃতির আবহমানতা প্রকাশ করে।; source: dailymail.co.uk

আমেরিকার সাথে পার্থক্য তৈরি করছে আসলে মানুষের প্রাত্যহিক রুটিন। দিনের ঘুম রাতের ঘুমের ঘাটতিকে পুষিয়ে দিতে পারে আবার পরের রাতের জন্য ঘাটতির কারণ হতে পারে সেখানে। কারণ, তারা তাদের কাজকর্মের সাথে তাল মিলিয়ে এই অভ্যাসে প্রস্তুত নয়। কিন্তু চীনে নিয়মিত ঘুমানোর সংস্কৃতি থাকায় দুপুরের ঘুমও চলছে আবার রাতের ঘুমেরও কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

জি তার এই গবেষণা সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন যে তার কাজ ছিল পর্যবেক্ষণভিত্তিক। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে তিনি এর কার্যকারণের নিগূঢ় তত্ত্ব নিয়ে কিছু বলতে পারছেন না। এতে অবশ্য ফলাফলের পরিবর্তন হতে যাচ্ছে না। তিনি আশা করেন এ কাজ ভবিষ্যত গবেষণায় এবং জনস্বাস্থ্য নীতিতে কাজে লাগতে পারে।

 

— ScienceDaily অবলম্বনে

নিদ্রাহীনতা দূর করে যেসব খাদ্য

ঘুম হলো শান্তির বাহন। ক্লান্তি দূর হয়ে প্রশান্তি ফিরে আসে এই ঘুমে। ঘুম স্মৃতিশক্তি ও মেধাশক্তি বাড়ায়। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের সকল কোষ ও কার্যক্রম ঠিক রাখে। সারাদিনের ক্লান্তিকর খাটুনি বা মানসিক পরিশ্রমের অবসান ঘটে ঘুমের মাধ্যমে। সুস্থতা ও সুন্দর জীবনের জন্য ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বর্তমানে নানা কারণে নিদ্রাহীনতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। হতাশা, দুশ্চিন্তা সহ নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক জটিলতার অন্যতম কারন নিদ্রাহীনতা। ফলে পারিবারিক ও সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তাই ঘুমের সমস্যা সমাধানের কিছু উপকারি টিপস নিয়ে এই আয়োজন।

যে সমস্ত উপাদান ঘুমের জন্য সহায়ক তা হলো-

ম্যাগনেশিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ

Natural-Sleep-Aids-to-Help-You-Fall-Asleep-Faster
TATIANA AYAZO/RD.COM

ঘুমের সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধানে ম্যাগনেশিয়ামের ভূমিকা অপরিসীম। ম্যাগনেশিয়াম পেশির সংকোচন এবং রিলাক্সেশনে বড় ভূমিকা পালন করে। এক গবেষণায় দেখা যায়, ম্যাগনেশিয়াম ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণ বাড়াতে সাহায্য করে। কম ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণের সাথে নিদ্রাহীনতার সম্পর্ক বিদ্যমান। যারা সারা রাত জেগে থাকে, ঘুমাতে পারে না তাদের জন্য কার্যকরী উপায় হলো ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো। ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণ বাড়ালে ঘুম না আসা ও নির্ঘুম রাত কাটানোর সমস্যা দূরীভূত হবে। তাছাড়া নিয়মিত পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণ করলে রেস্টলেসনেস লেগ সিন্ড্রোমের মতো সমস্যাও অনেকটা কমবে।

ক্যালশিয়াম গ্রহণ

দই বানিয়ে ফেলুন। এটি আপনার ভালো বন্ধু হবে। উপকারি ব্যাকটেরিয়ায় ভরপুর ক্যালসিয়ামপূর্ণ খাবার ঘুমাতে সাহায্য করে। এই মিনারেল ব্রেনকে ট্রিপ্টোফ্যান অ্যামাইনো অ্যাসিড ব্যবহারে সহায়তা করে মেলাটোনিন হরমোন উৎপন্ন করে। অপর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের কারণে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কম হয় ফলে ঘুমের ঘাটতি দেখা যায়। ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সম্পন্ন খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভিটামিন ডি গ্রহণ

ভিটামিন ডি এর ঘাটতি হলে ঘুমের গুণগত মান ও পরিমাণ কমে যায়। পাশাপাশি দিনের ক্লান্তি ও তন্দ্রাভাব বৃদ্ধি পায়। এক বিশেষজ্ঞের মতে, এই উপাদানের ঘাটতির সাথে মেজাজের ভারসাম্যহীনতার সম্পর্ক আছে ফলে তা ডিপ্রেশন বাড়ায় এবং পরবর্তীতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় ও নিদ্রাহীনতার জন্ম দেয়।

ভিটামিন সি

Natural-Sleep-Aids-to-Help-You-Fall-Asleep-Faster
TATIANA AYAZO/RD.COM

ভিটামিন সি আপনার শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাটকে মেটাবলাইজ করে। কিন্তু এটাও যে আপনার ঘুমের উপকার করে তা কি জানেন? বিজ্ঞানী ওয়েড-এর মতে, ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা যায় রক্তে বেশি মাত্রায় ভিটামিন সি থাকলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের ক্ষরণ কম হয় এবং দ্রুত স্ট্রেস কাটিয়ে প্রশান্তি দিতে পারে। যেহেতু বেশি মাত্রায় কর্টিসল নিদ্রাহীনতার জন্ম দেয় তাই পর্যাপ্ত ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।

আয়রন

শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোমের (আরএলএস) ঝুঁকি বাড়ে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরো বেশি। আরএলএসের অন্যতম লক্ষণ হল ঘুমাতে না পারা ও নির্ঘুম থাকা। খাবারের সাথে আয়রন বেশি খেলে আর এল এস হওয়ার সম্ভাবনা কমে এবং ঘুম ভালো হয়।

মাছ

মাছ খাওয়া ঘুমের পক্ষে ভালো কাজ করে। শুধু তাই নয়, রাতে মাছ খেলে আপনার মেধাশক্তি বৃদ্ধিতেও কাজ করে। গবেষণায় দেখা যায়, মাছ খাওয়ার সাথে ভালো ঘুম, মেধাশক্তি ও আইকিউ-এর একটি ইতিবাচক সম্পর্ক আছে।

চেরি ফলের জুস

চেরি ফলের জুস ঘুমের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন এক গ্লাস চেরি ফলের জুস খেলে অন্তত ৫০ মিনিট বেশি ঘুম হয়। ঘুমের গুণগত মানও বৃদ্ধি পায়। যেকোন জুস খাওয়ানো যেতে পারে এক্ষেত্রে।

রিবোফ্লাভিন

রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি২ গ্রহণের ফলে প্রস্রাবের রঙ উজ্জ্বল হলদে আকার ধারণ করে। রিবোফ্লাভিন আপনার ঘুমে যথেষ্ট সহযোগীতা করে। রিবোফ্লাভিন সমৃদ্ধ গরু ও খাসির কলিজা এবং পর্যাপ্ত দুধ খেলে ঘুমের প্রশান্তি ফিরে আসবে।

অশ্বগন্ধা

Natural-Sleep-Aids-to-Help-You-Fall-Asleep-Faster
TATIANA AYAZO/RD.COM

ইন্ডিয়া সহ অনান্য দেশে হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক মেডিসিন হিসাবে অশ্বগন্ধার বেশ সুনাম রয়েছে। এটাকে নিদ্রাহীনতার উপযুক্ত ওষুধ মনে করেন হার্বাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা। এতে ম্যাজিকের গতিতে ফল পাওয়া যায়। পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা ক্লিনিক্যাল প্রমাণ দিয়ে অশ্বগন্ধার এমন ঘুম বৃদ্ধির ক্ষমতা আছে বলে সমর্থন দিয়েছেন।

তাজা আখের রস

তাজা আখের রসে যে পরিমাণ অক্টাকোসানল উপাদান আছে যা উন্নত ঘুমের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অথচ প্রস্তুতকৃত চিনিতে এ ধরনের উপাদান নেই। সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা যায়, আখের রসের মধ্যে সবুজের মাঝে যে সাদা আবরণ থাকে তা অক্টাকোসানলের উত্তম উৎস। এই উপদান ঘুম বৃদ্ধিতে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে। এটা আপনার শরীরের স্ট্রেস   কমিয়ে  ঘুমাতে সাহায্য করে।

মৌরি

সাধারণ চিকিৎসায় ও মায়েদের স্বাস্থ্য রক্ষায় মৌরির ব্যবহার অতুলনীয়। এটি গর্ভবতী মায়েদের বাচ্চা প্রসবকালীন সমস্যা সমাধান করার পাশাপশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। অন্য গবেষণায় প্রমাণিত যে, মৌরি ঘুমের ঘাটতি পূরণে এবং নিদ্রাহীনতায় টনিকের মত কাজ করে।

তথ্যসূত্র: রিডার ডাইজেস্ট