লেজার দিয়ে নিউরনের জোড়া-তালি!

আমার আপনার স্নায়বিক উদ্দীপনা বৈদ্যুতিক সংকেত হিসেবে মস্তিষ্কে প্রেরণকারী শারীরিক অংশটিই হচ্ছে নিউরন বা স্নায়ু। এ স্নায়ুগুলো আবার একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং তাদের সংযোগস্থলকে বলা হয় সিন্যাপ্স। নিউরনের প্রধান অংশ সোমা থেকে এ সংকেতগুলোকে দূরে বহন করে নিয়ে যায় লম্বা দন্ডাকার অ্যাক্সন। এ অ্যাক্সন আবার অন্য আরেক নিউরনের সিন্যাপ্সের সাথে যুক্ত হয়। নিউরনের এ সকল অংশ ফ্যাটি এসিড দিয়ে গঠিত মায়োলিন নামক আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে। এ কারণে নিউরন সুরক্ষিত থাকে এবং সংকেত দ্রুত পরিবাহিত হয়।

image source: kurzweilai.net

এই মায়োলিন আবরণ যদি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা নিউরনের অন্য যে কোনো অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তবে তা সংকেত পরিবহণ প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিতে পারে। ফলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা হতে পারে। নিউরন বিভাজিত হয় না। ফলে আমাদের স্নায়বিক যে কোনো রোগের সমাধান করা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু আশার কথা হলো, ইউনিভার্সিটি অব অ্যালবার্টার এক দল ইঞ্জিনিয়ার লেজার রশ্মির মাধ্যমে নিউরনের মাঝে সংযোগ স্থাপন করার পদ্ধতির উন্নত সংস্করণ উদ্ভাবনে সক্ষম হয়েছেন। যদিও এ পদ্ধতির গণ্ডি এতদিন যাবৎ গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষকেরা আশা করছেন, বিভিন্ন স্নায়বিক জটিল রোগের সমস্যার সমাধানে এ পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে।

image source: iflscience.com

স্নায়ু জোড়া লাগানোর উদ্দেশ্যে গবেষকেরা ফেমটোসেকেন্ড নামক এক রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার করেছেন। ফেমটোসেকেন্ড লেজার থেকে নিঃসৃত স্পন্দন ফ্যাটি অ্যাসিডের আবরণের অণু এবং তাদের বন্ধনগুলো ভেঙে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং এ অবস্থায় তাদেরকে বাধ্য করে পার্শ্ববর্তী স্নায়ুর অবরণের অণুর সাথে নতুন বন্ধন গঠন করতে।

তথ্যসূত্রঃ www.iflscience.com

featured image: wonderfulengineering.com