প্রাপ্তবয়ষ্ক মস্তিষ্ক কি সত্যিই নতুন নিউরন তৈরি করতে পারে?

গত বিশ বছর যাবৎ ধারণা করা হচ্ছে একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্ক অসংখ্য নতুন নিউরন বা কোষ তৈরি করতে পারে, আর এই ধারনাটিই মানুষকে আশা জাগাচ্ছে যে কৃত্রিম উপায়ে কোষ উৎপাদন সম্ভব। স্নায়ুবিজ্ঞানের উন্নতি , নতুন স্নায়ুকোষ তৈরির জন্য গবেষকদের গবেষণা – এ সব কিছুই হতাশা বা অ্যালজেইমার ব্যাধি ( Alzheimer’s Disease)  এর মত অসুখ বিসুখের চিকিৎসা বা প্রতিরোধ করতে পারে।

কিন্তু নেচার (Nature)  জার্নালে প্রকাশিত একটি বিতর্কিত গবেষণার কারণে উপরোক্ত আশাটি প্রায় মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী নতুন নিউরন তৈরির প্রক্রিয়াটি পরিপুর্ণ মানুষ হিসেবে ক্রমবিকাশ লাভের পর অর্থাৎ মায়ের পেটে থাকাকালীন সময়েই কমতে শুরু করে এবং প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়ার পর পুরোপুরিভাবে থেমে যায়।

হসপিটাল ফর সিক চিলড্রেন, টরেন্টো, কানাডা এর স্নায়ুতত্ত্ববিদ Paul Frankland বলেন, “প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানুষ এবং বানরের ব্রেইনে নতুন স্নায়ুকোষ খোঁজার গবেষণার ফলাফল অনেককেই হতাশ করবে”।

“নতুন নিউরন বা স্নায়ুকোষ তৈরির প্রক্রিয়াটি কার্যগতভাবে আসলে খুবই দূর্বল”, বলেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী Rene Hen.

তবে সকলের মতেই এ গবেষণাগুলোতে আসলে অনেক ভুলত্রুটি রয়েছে। টিস্যুগুলো পরিক্ষানীরিক্ষা করার পদ্ধতি, রোগীর মানসিক অবস্থার ঘটনা কাহিনী, তাদের ব্রেইনে কোনো ধরনের প্রদাহ ছিল কিনা, এসবের দ্বারা হয়তো ব্যাখ্যা করা সম্ভব কেন গবেষকরা এখনো পুরোপুরিভাবে সফল হতে পারেননি।

 

সূত্রপাতঃ

নিউরন বা স্নায়ুকোষ সৃষ্টির প্রথম ঘটনা দেখা যায় ১৯৯৮ সালে। ক্যান্সার রোগীদের উপর জীবিত অবস্থাতেই একটি রাসায়নিক উপাদান ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। নাম ছিল- ব্রোমোডিঅক্সিইউরিডিন (Bromodeoxyuridine)। রাসায়নিকটি প্রয়োগের পর তাদের মস্থিষ্কে নতুন বিভাজিত কোষ দেখা যায়। মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসে যেমন নতুন কোষগুলো ছড়ানো অবস্থায় থাকে এটা কিছুটা সেরকম। স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের Jonas Frisen’s ল্যাবের একটি গবেষণা এই বিষয়টি কে আর শক্তিশালী করে। ৫৫ জন রোগ্রাক্রান্ত মানুষের প্রত্যেকের ব্রেইন টিস্যুর প্রতিটি নিউরনের ‘কার্বন ডেটিং’ করা হয়। এ পদ্ধতিতে নিউরনের বয়স নির্ধারণ করার পর সিদ্ধান্তে আসা হয় ঐ মানুষগুলোর মস্তিষ্কের ডেন্টেট জাইরাস (Dentate gyrus)এ প্রায় ৭০০টি পুরাতন নিউরন নতুন নিউরন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

Arturo Alvarez-Buylla (ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকো) ১৯৮০ সাল থেকে গবেষণা করছেন মস্তিষ্কের নতুন কোষ উৎপাদনের ক্ষমতার উপর। কিন্তু তিনিও সন্দেহপ্রবণ। তিনি দেখিয়েছিলেন (Rodent) বা নিচু শ্রেণীর তীক্ষ্ণ দাঁত বিশিষ্ট কিছু প্রাণীদের মস্তিষ্কে স্টেম সেল কীভাবে নতুন অংশ পুনরুৎপাদন করে। কিন্তু কার্বন ডেটিং এ প্রাপ্ত ফলাফল এটি প্রমাণ করে না যে, মানব মস্তিষ্কেও ঠিক একই বিষয়টিই ঘটে।

মানব মস্তিষ্কের বিষয়টির ক্ষেত্রে অনেক ধাপ রয়েছে। আবার অনেক ধাপে ধারণা করে নেওয়া হয়েছে এমন বিষয়ও রয়েছে। যার কারনে আসল ব্যাপারটিতে পৌঁছানোর আগে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক।

Buylla এবং তাঁর দল ৫ বছর ধরে ৫৯ জন মানুষের ব্রেইন টিস্যু সংগ্রহ করেন। যাদের কেউ বা মারা গিয়েছিলেন, কারও আবার বিভিন্ন বয়সে সার্জারি করে খিঁচুনীর জন্য দায়ী টিস্যু ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এ মানুষগুলোর বয়স ছিল মোটামুটি জন্মের আগ থেকে শুরু করে ৭৭ বছর পর্যন্ত। নিউরনের পূর্ণতা প্রাপ্তির বিভিন্ন ধাপে নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন থাকে, এগুলোকে স্পেসিফিক প্রোটিন নামেই ডাকা হয়ে থাকে। এই প্রোটিন গুলোকে চিহ্নিত করতে ফ্লুরোসেন্ট এন্টিবডি ব্যবহার করা হয়েছিল। আর ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ নিয়ে বসা হয়েছিল কোনও লম্বা সহজ সরল আকৃতির বাচ্চা নিউরনকে খুঁজে পাওয়া যায় কিনা।

[ইঁদুরের রেটিনায়  নতুন কোষ বিভাজন]

গবেষণাকারী এই দলটি দেখতে পেলেন, নবজাতকের ব্রেইনে একটি বড় সংখ্যায় জন্মদাতা কোষ অর্থাৎ প্রোজেনিটর সেল (progenitor cell) এবং স্টেম সেলের উপস্থিতি আছে। জন্মের সময় এই সংখ্যাটি মোটামুটি প্রতি মিলিমিটার ব্রেইন টিস্যুতে ১৬১৮টি নতুন নিউরন এরকম। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই কোষগুলো নতুন কোষ তৈরিতে অংশ নেয় না। এক থেকে সাত বছরের মধ্যে নতুন নিউরন সৃষ্টি প্রায় ২৩ শতাংশ কমে যায়। পূর্ণবয়ষ্ক হতে হতে নতুন নিউরনের জোগান প্রায় পুরোপুরিভাবেই থেমে যায়।

Alvarez-Buylla এর মতে, “অন্যরা এ নিয়ে কী দাবী করছে তা আমাদের দেখার বিষয় নয়”

অপরদিকে আবার Frisen এর মতে, এন্টিবডি মার্কার পদ্ধতিটি পুরোপুরিভাবে নির্ভরযোগ্য নয়, কারন এতে ব্যবহৃত ফ্লুরোসেন্স ফলাফলকে ঘোলাটে করে দিতে পারে। তিনি দাবী করেন এ পদ্ধতি ব্যবহার করে অন্যান্য গবেষকেরা প্রাপ্ত বয়ষ্ক ব্রেইনে নতুন কোষ উৎপাদন দেখেছেন। Frankland এর মতে ,”এ তর্ক চলতেই থাকবে, আরো অনেক কিছু এখনো বাকি”।

 

 

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আসছে নেচারের নতুন জার্নাল

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর বিশিষ্ট জার্নালগুলোর মাঝে নেচার-এর অবস্থান সবার উপরে। নেচার থেকে প্রকাশিত প্রায় সবগুলো জার্নালই উঁচু দরের। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে নেচার কর্তৃপক্ষ থেকে আগে কোনো গবেষণাপত্র প্রকাশ পেতো না। সামান্য কিছু পেলেও সেগুলো অন্য জার্নালগুলোতে পেতো। আলাদা করে একক কোনো জার্নাল ছিল না।

কিন্তু এবার নেচার থেকে আসলো সুসংবাদ। নেচার মেশিন ইন্টেলিজেন্স নামে একটি জার্নাল নেচার থেকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছর অর্থাৎ, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এই জার্নালটির যাত্রা শুরু হতে হচ্ছে। বিগ ডাটা এবং এআই এর যুগে প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে নতুন নতুন গবেষণা করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু নেচারের মতো খ্যাতনামা প্রকাশনীর এ বিষয়ের উপর কোনো একক গবেষণা সাময়িকী বা জার্নাল প্রকাশিত হতো না। এবার থেকে সেই দরজা খুলে গেলো।

image source: medium.com

মূলত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, রোবটিক্স, ডাটা মাইনিং ইত্যাদি বিষয়ে মৌলিক গবেষণা সংবলিত গবেষণাপত্র ছাপা হবে এখানে। তাছাড়া মানুষ এবং রোবটের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার অন্যান্য বিষয়ের উপর কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এগুলো নিয়েও গবেষণা প্রকাশ করা যাবে।

সম্পাদক লিজবেথ ভেনামা; Image Source: twitter.com

এই জার্নালে মৌলিক গবেষণা, রিভিউ আর্টিকেল, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার তত্ত্ব বিষয়ক গবেষণা, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক সংবাদ, মতামত, চিঠিপত্র কিংবা মন্তব্য ইত্যাদি বিষয়াদিও প্রকাশ করা যাবে। লিজবেথ ভেনামা হচ্ছেন এই জার্নালের সম্পাদক। এর আগে তিনি নেচার ফিজিক্স-এর সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন।

ফিচার ইমেজ: The Economist

জিকা ভাইরাসঃ পৃথিবীবাসীর নতুন আতঙ্ক

মানুষ আর প্রকৃতি এক অটুট বন্ধনে আবদ্ধ। প্রকৃতি সর্বদাই মানুষের জীবনকে প্রাণপ্রাচুর্যে পরিপূর্ণ করে রেখেছে। মানুষের উপর প্রকৃতির ঋণাত্মক প্রভাবও হয় খুব ভয়ংকর। প্লেগ, কলেরা, বসন্তের মতো দুর্যোগগুলো মানব সম্প্রদায়কে যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন করেছিল, জিকা ভাইরাস যেন তার স্মৃতি মনে করিয়ে দিতেই নতুন এক আতংকের নাম হিসেবে পদার্পণ করেছে পৃথিবীর বুকে।

জিকা ভাইরাস কী?

জিকা ইনফেকশন রোগটি আমাদের অতি পরিচিত ডেঙ্গু রোগের মতো। এটি ছড়ায়ও এডিস মশার মাধ্যমেই। আজকাল এ রোগের কথা সংবাদমাধ্যমে, টিভি মিডিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শোনা গেলেও এমন কিন্তু না যে এ রোগের উৎপত্তি হয়েছে অল্প কয়েকদিন হলো। ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা ফরেস্টে এ রোগ সর্বপ্রথম রেসাস বানরের মধ্যে থেকে মশাদের শরীরে ছড়ায়।

সর্বপ্রথম এ রোগে আক্রান্ত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৪৮ সালে নাইজেরিয়ায়। আফ্রিকায় এ রোগ কিছু কিছু সময় দেখতে পাওয়া গেলেও পশ্চিমা বিশ্বে এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয় গত মে মাস থেকে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কোনো সুদূরপ্রসারী ক্ষতির চিহ্ন নিয়ে আসেনি। কিন্তু গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এ রোগ মহামারীর থেকেও বেশি ভয়ানক। কেন? সেই কথায় আসছি কিছুক্ষণ পরেই।

জিকা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?

জিকা ভাইরাস ছড়ায় মূলত মশার মাধ্যমে। তবে সব ধরনের মশা নয়, শুধু এডিস গণের (genus) মশাই এ রোগের জন্য দায়ী। এ মশা যেমন একটি বড়সড় পুলের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারে, ঠিক তেমনি একটি বোতলের মুখের মধ্যে রাখা পানিতেও বংশবিস্তার করতে পারে।

এডিস মশা সাধারণত দিনে কামড়ায়। এদের গোত্রের সবচেয়ে ভয়াবহ সদস্য হলো এডিস এজিপ্টি যারা জিকা রোগের প্রধান বাহক। এদের বিচরণ আমেরিকায় শুধুমাত্র ফ্লোরিডা, গালফ কোস্ট আর হাওয়াই-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে খুব গরমের সময় এদের ওয়াশিংটনেও দেখা যায়। এশিয়ার টাইগার মশা এডিস এল্বোপিকটাসও এ রোগ ছড়ায়, কিন্তু পরিসরে এজিপ্টির থেকে কম।

এসব মশা যখন কোনো আক্রান্ত মানুষকে কামড়ায়, তখন রোগীর কাছ থেকে মশা জিকা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। পরবর্তীতে সংক্রমিত মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে সে আবার জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায়। জিকা ভাইরাস এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সবার মনে কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চলুন এ প্রশ্নের জটগুলো খোলার চেষ্টা করে দেখি।

১. জিকা ভাইরাস কি মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে ছড়ায়?

এখন পর্যন্ত এক কথায় উত্তর হলো, হ্যাঁ! সন্তান প্রসবের পূর্ব মুহূর্তে মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে এ রোগ প্রবেশ করতে পারে। মাইক্রোফেলি নামক ভয়ংকর ধরনের এক জন্মগত ত্রুটি নিয়ে অনেক শিশু জন্ম নেয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে সম্প্রতি। এ রোগাক্রান্ত শিশুদের মাথা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় ছোট আর এ সমস্ত শিশুদের মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

মাইক্রোফেলি রোগে যেসব শিশুরা আক্রান্ত হয় এদের মধ্যে সৌভাগ্যবান ১৫% থাকে যাদের শুধু মাথাটাই ছোট হয়, কিন্তু অভাগা বাকি ৮৫% শিশুর মস্তিষ্কের উপর মাইক্রোফেলি ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে এদের বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না এবং এরা বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী হয়। জিকা ভাইরাস আর অদ্ভুত এ সমস্যার একদম ঠিকঠিক যোগসূত্রটা যে কোথায় তা এখনো আবিষ্কৃত না হলেও বিশেষজ্ঞগণ গর্ভবতী মায়েদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

ব্রাজিলে এ রোগে আক্রান্ত প্রায় ৪,০০০ শিশুর রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং এর মধ্যে ৩৮ জন মারা গেছে। এমনকি ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদরে আপাতত সন্তান ধারণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

২. রক্ত বা শুক্রাণু কি জিকা ভাইরাস বহন করে?

সম্প্রতি মানুষের রক্ত আর শুক্রাণুতেও এর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। রক্ত নেয়া বা শারীরিক সম্পর্কের ফলে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে এমন রোগীর রিপোর্ট পাওয়া গেলেও সংখ্যায় তা অতি নগণ্য। আবার ভেবে দেখুন, যদি রক্তের মাধ্যমে রোগ আসলেই ছড়াত তাহলে রোগীকে কামড়ালে যেকোনো ধরনের মশাই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতো। এমনটি কিন্তু হচ্ছে না। তাই আপাতত সঠিকভাবে এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না গেলেও সাবধানতা অবলম্বন করতে তো মানা নেই।

. জিকা ভাইরাস কি জিবিএস এর জন্ম দেয়?

জিবিএস (Guillain–Barré Syndrome) নামের এক বিশেষ ধরনের রোগ আছে যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শরীরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়। তখন এরা রোগজীবাণু ধ্বংস করা বাদ দিয়ে স্নায়ুকোষগুলোকে ধ্বংস করা শুরু করে। এর ফলে মাংসপেশির দুর্বলতা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্যারালাইসিসও দেখা যায়। সাধারণত এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত থাকে। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মানুষ এর প্রভাব সারাজীবন বয়ে নিয়ে বেড়ায়, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

আসলে জিকা কিংবা অন্য কোনো ভাইরাস এ রোগের উৎপত্তি ঘটায় কিনা তা এখনও বলা সম্ভব হয়নি। তবে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ার সাথে সাথে ব্রাজিলে জিবিএসও তীব্র আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই গবেষকরা মাথা চুলকাতে বসে গেছেন- আসলেই কি জিকা ভাইরাস টেনে আনছে জিবিএস এর মতো মারাত্মক রোগকেও?

জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষ্মণ

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচ জনের একজন মানুষের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়। কিছু সাধারণ লক্ষণের মধ্যে আছে জ্বর, শরীরে র‍্যাশের সৃষ্টি, হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথার অনুভূতি, চোখ ওঠা ইত্যাদি। এছাড়াও এ সময় মাথা ব্যথা আর মাংসপেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সাথে সাথেই কিন্তু এসব উপসর্গ দেখা যায় না, বেশ কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর রোগীর মধ্যে এ লক্ষণগুলো দেখা যেতে থাকে।

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অসুস্থতা বড়জোর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। হাসপাতালে যাবার মতো অবস্থাও কিন্তু তৈরি হয় না। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পরিমাণ খুবই নগণ্য। আপনার অসুস্থতা কমে গেলেও রক্তের মধ্যে এ ভাইরাস কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত তার উপস্থিতি জানান দিতে পারে। র‍্যাশ ওঠার কারণে অনেকেই এ অসুখটিকে ডেঙ্গু বা হামের সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারে। তাই সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরী।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার

জিকা ভাইরাস আপাতদৃষ্টিতে খুব ভয়ংকর না হলেও এর ক্ষতিকর দিক কিন্তু অনেক। এখন পর্যন্ত এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক তৈরি হয়নি। কিন্তু তাই বলে আমরা তো আর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। যেহেতু এডিস মশা যেকোনো জায়গায় জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয়, তাই আশেপাশের কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল করতে হবে। এরা দিনের বেলাতেই আপনাকে আক্রমণ করবে। তাই দিনের বেলা ঘুমালেও মশারী টানাতে ভুলবেন না।

খেয়াল রাখবেন যে, কোনো মশা যেন আপনাকে না কামড়ায়। জানালার চারিদিকে আলাদা করে এমন জালিকা স্থাপন করতে পারেন যাতে মশা ঘরে না ঢুকতে পারে। যেকোনো রোগে আক্রান্ত হবার আগেই সবথেকে ভালো উপায় হলো নিজেকে সতর্ক রাখা। এলাকার মানুষজন মিলে কিছুদিন পরপর বিভিন্ন কীটনাশক দূরীকরণের স্প্রে প্রয়োগ একটি ভালো উদ্যোগ। তবে ঝুঁকি আছে এমন এলাকায় যদি আপনি ভ্রমণ করতে চান তাহলে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।

জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক আমাদের হাতের নাগালে আসতে আসতে পার হয়ে যাবে আরও প্রায় দেড় বছর। প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান এ দৌড়ে সামিল হয়ে থাকলেও তাদের কাজ একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে। জেনেভার এক সম্মেলনে এ সংস্থার মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রে খুব শীঘ্রই এর পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হলেও তা পুরোপুরি স্বীকৃত হয়ে মানুষের নাগালে পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অনেকটা সময়।

বাংলাদেশ এবং জিকা ভাইরাসঃ আমরা কি হুমকির মুখে?

জিকা ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। বাংলাদেশে কি এই রোগে আক্রান্ত হবার কোনো সম্ভাবনা আছে? চিন্তার বিষয়। প্রতিষেধকবিহীন এ রোগ খুব দ্রুত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আমরা যে একেবারে হুমকির সম্মুখে না, তা বলা যায় না।

তবে আশার কথা এই যে, দক্ষিণ এশিয়াতে এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তাই আশা করা যায় আমাদের সেই খারাপ দিন দেখার সম্ভাবনা খুব কম, যেখানে ফুটফুটে একটি শিশুকে অপরিণত মস্তিষ্ক আর ছোট্ট একটি মাথা নিয়ে চলাচল করতে দেখতে হবে।

জিকা ভাইরাসের গোপন নথি!

এতক্ষণ যা বললাম তা নিত্যদিনের খবর হয়ে গেছে। কিন্তু আপনার আমার জানার বাইরেও কিছু খবর আছে, যা হয়তো ইচ্ছে করেই রাখা হচ্ছে সবার অগোচরে। বিল গেটস-মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নিশ্চয় সবাই শুনেছেন। এ ফাউন্ডেশনের ব্রিটিশ বায়োটেক কোম্পানি ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিশেষ ধরনের জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ার্ড এক ধরনের মশার উদ্ভাবন করে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বিশেষ ধরনের মশাই আসলে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী।

হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। যে ভাইরাস মানুষের জীবনে আতংক বয়ে নিয়ে এসেছে, যে রোগ নিয়ে নিত্যদিন মিডিয়া এত বিপুল পরিমাণে মেতে উঠেছে তা প্রাকৃতিক কোনো রোগ নয়! ২০১১ সাল থেকে অক্সিটেক নামের এ কোম্পানি ব্রাজিলের গহীন অরণ্যে এ মশার বংশবিস্তার করে চলেছে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য। এক সপ্তাহে তারা প্রায় দুই মিলিয়ন মশা উৎপাদন করে ব্রাজিলের ক্যম্পিনাসে অবস্থিত ফ্যাক্টরিতে।

আরেকটি রহস্যময় তথ্য জেনে নিন। ২০১৫ সাল থেকে ব্রাজিল সরকার গর্ভবতী মায়েদের একটি নতুন ভ্যাক্সিন নেয়া অত্যাবশ্যক করেন। টিডিএপি নামক এ ভ্যাক্সিনের সঠিকভাবে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই হঠাৎ এভাবে আবশ্যকীয় করে দেয়া আর ঠিক একই সময়ে এরকম অদ্ভুত শিশু জন্মের হার হুহু করে বেড়ে যাওয়াটা আসলে কাকতালীয় ঘটনা থেকে একটু বেশি কিছুই বলে মনে হয়।

এ ভ্যাক্সিনের উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে একটু খোঁজ নিতে শুরু করলেই একটি নাম আবার সামনে পেয়ে যাবেন- বিল গেটস-মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। এমনকি এ ভ্যাক্সিন লাইসেন্সড হবার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে অর্থাৎ গর্ভবতী মায়ের শরীরে গিয়ে আসলেই কাজ করে কিনা সেই ব্যাপারে পরীক্ষা করার কোনো নথিপত্রও পাওয়া যায়নি।

একটু যদি অন্যভাবে ব্যাপারটা নিয়ে ভেবে দেখি তাহলে কি এটাই মনে হয় না, জন্মগত এ ত্রুটি আর জিকা ভাইরাসকে একই সময়ে সামনে আনা হয়েছে? ব্রাজিলই বা কেন আমেরিকা থেকে এমন একটি ভ্যাক্সিন কিনে তার দেশে অত্যাবশ্যক করে দিলো যার কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার ইতিহাস নেই? নাকি এজন্য তারা উপযুক্ত পরিমাণে পকেট গরম করার সুযোগ পেয়েছে?

এখন আবার আমেরিকা জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধকের পেছনে ছুটছে। চেষ্টা করে দেখুন তো এমনই কোনো ঘটনার কথা স্মৃতিতে আসে কি না? হ্যাঁ, একইভাবে মিডিয়া ইবোলা ভাইরাস নিয়েও মানুষের মনে আতংক সৃষ্টি করেছিল।

যেমনটি আগেই বলেছি অনেক দেশে গর্ভধারণ এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে আসলেই বিল গেটস এর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি মাত্র একজন মানুষের শুক্রাণুতে এ ভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথেই একে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো রোগের কাতারে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে মানব মনে শারীরিক সম্পর্ক এবং সন্তান ধারণের প্রতি আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকেই বিল গেটস জোরপূর্বক ভ্যক্সিনাইজেশন করে জন্মনিয়ন্ত্রণের সপক্ষে কথা বলেছেন।

তবে এ রহস্যের কূলকিনারা এতো সহজে সম্ভব নয়। বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তিত্বের বিপক্ষে বা সপক্ষে কথা বলার মানুষের অভাব কখনোই ছিল না। তাই আমরা শুধু আপনাদের চলতি বিশ্বের পরিস্থিতির কাছাকাছিই নিয়ে যেতে পারি। সত্য-মিথ্যা জানার জন্য আমাদের হয়ত অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ কিছু সময়।

কিন্তু উন্নত বিশ্বের অনেক ঘটনার সুরাহা যে আমাদের কান পর্যন্ত আসে না, এ নতুন কিছু নয়। তাই আপাতত এসব কোন্দলে না পড়ে আমরা নিজেদের ও নিজ নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা প্রদানের দিকেই বেশি মনোযোগী হওয়া উচিৎ। আশা করি বিশ্বে বিরাজমান এ জিকা ভাইরাস আতঙ্ক আমাদের দ্বারপ্রান্তে এসে কখনোই হানা দেবে না।

featured image: blog.muipr.com

পর্যায় সারণীর চারটি নতুন মৌলের স্বীকৃতি

পর্যায় সারণীতে নতুন ৪ টি মৌল যুক্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সংস্থা IUPAC যা পর্যায় সারণী সংক্রান্ত সবরকমের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে সেই ৪ টি মৌলের আবিষ্কারের সত্যতা যাচাই করার পরে এ সিদ্ধান্ত নিলেন। এর মাধ্যমে ২০১১ সালের পরে এই প্রথম পর্যায় সারণীতে মৌল অন্তর্ভুক্তির ঘটনা ঘটল। এর মাধ্যমে সারণীর ৭ম সারিটি সম্পূর্ণ হলো।

সকল মানবসৃষ্ট মৌলকে আপাতত পর্যায় সারণীতে স্থানদখলকারী সংখ্যার ভিত্তিতে নামকরণ করা হবে। ১১৩ নং মৌল আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেয়া জাপানের হচ্ছে RIKEN ইনস্টিটিউটকে। মৌল ১১৫,১১৭, ১১৮ নম্বরের আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেয়া হচ্ছে জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ ইন ডুবনা, রাশিয়া এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স রিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির একদল বিজ্ঞানীকে।

অত্যধিক ভারী মৌল আবিষ্কার কষ্টসাধ্য, কারণ এগুলো খুবই ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু এই ভারী মৌল আবিষ্কার করতে গিয়ে দেখা গেছে এগুলো আগের মৌলগুলো থেকে একটু বেশিই স্থায়ী হয়েছে।

রাইকেন ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী কসুকে মরিতা ১১৩ তম মৌলের আবিষ্কারের সময় জানিয়েছিলেন,“তার দলটি এখন পর্যায় সারণির অজানা এলাকা ১১৯ তম মৌল ও তার চেয়েও ভারী মৌলের আবিষ্কারের জন্য চেষ্টা করবেন।” (বিবিসি)

জিকা ভাইরাসঃ পৃথিবীবাসীর নতুন আতঙ্ক

মানুষ আর প্রকৃতি এক অটুট বন্ধনে আবদ্ধ। প্রকৃতি সর্বদাই মানুষের জীবনকে প্রাণপ্রাচুর্যে পরিপূর্ণ করে রেখেছে। মানুষের উপর প্রকৃতির ঋণাত্মক প্রভাবও হয় খুব ভয়ংকর। প্লেগ, কলেরা, বসন্তের মতো দুর্যোগগুলো মানব সম্প্রদায়কে যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন করেছিল, জিকা ভাইরাস যেন তার স্মৃতি মনে করিয়ে দিতেই নতুন এক আতংকের নাম হিসেবে পদার্পণ করেছে পৃথিবীর বুকে।

জিকা ভাইরাস কী?

জিকা ইনফেকশন রোগটি আমাদের অতি পরিচিত ডেঙ্গু রোগের মতো। এটি ছড়ায়ও এডিস মশার মাধ্যমেই। আজকাল এ রোগের কথা সংবাদমাধ্যমে, টিভি মিডিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শোনা গেলেও এমন কিন্তু না যে এ রোগের উৎপত্তি হয়েছে অল্প কয়েকদিন হলো। ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা ফরেস্টে এ রোগ সর্বপ্রথম রেসাস বানরের মধ্যে থেকে মশাদের শরীরে ছড়ায়। সর্বপ্রথম এ রোগে আক্রান্ত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৪৮ সালে নাইজেরিয়ায়। আফ্রিকায় এ রোগ কিছু কিছু সময় দেখতে পাওয়া গেলেও পশ্চিমা বিশ্বে এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয় গত মে মাস থেকে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কোনো সুদূরপ্রসারী ক্ষতির চিহ্ন নিয়ে আসেনি। কিন্তু গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এ রোগ মহামারীর থেকেও বেশি ভয়ানক। কেন? সেই কথায় আসছি কিছুক্ষণ পরেই।

জিকা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?

জিকা ভাইরাস ছড়ায় মূলত মশার মাধ্যমে। তবে সব ধরনের মশা নয়, শুধু এডিস গণের (genus) মশাই এ রোগের জন্য দায়ী। এ মশা যেমন একটি বড়সড় পুলের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারে, ঠিক তেমনি একটি বোতলের মুখের মধ্যে রাখা পানিতেও বংশবিস্তার করতে পারে। এডিস মশা সাধারণত দিনে কামড়ায়। এদের গোত্রের সবচেয়ে ভয়াবহ সদস্য হলো এডিস এজিপ্টি যারা জিকা রোগের প্রধান বাহক। এদের বিচরণ আমেরিকায় শুধুমাত্র ফ্লোরিডা, গালফ কোস্ট আর হাওয়াই-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে খুব গরমের সময় এদের ওয়াশিংটনেও দেখা যায়। এশিয়ার টাইগার মশা এডিস এল্বোপিকটাসও এ রোগ ছড়ায়, কিন্তু পরিসরে এজিপ্টির থেকে কম।

এসব মশা যখন কোনো আক্রান্ত মানুষকে কামড়ায়, তখন রোগীর কাছ থেকে মশা জিকা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। পরবর্তীতে সংক্রমিত মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে সে আবার জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায়। জিকা ভাইরাস এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সবার মনে কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চলুন এ প্রশ্নের জটগুলো খোলার চেষ্টা করে দেখি।

১. জিকা ভাইরাস কি মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে ছড়ায়?2

এখন পর্যন্ত এক কথায় উত্তর হলো, হ্যাঁ! সন্তান প্রসবের পূর্ব মুহূর্তে মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে এ রোগ প্রবেশ করতে পারে। মাইক্রোফেলি নামক ভয়ংকর ধরনের এক জন্মগত ত্রুটি নিয়ে অনেক শিশু জন্ম নেয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে সম্প্রতি। এ রোগাক্রান্ত শিশুদের মাথা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় ছোট আর এ সমস্ত শিশুদের মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। মাইক্রোফেলি রোগে যেসব শিশুরা আক্রান্ত হয় এদের মধ্যে সৌভাগ্যবান ১৫% থাকে যাদের শুধু মাথাটাই ছোট হয়, কিন্তু অভাগা বাকি ৮৫% শিশুর মস্তিষ্কের উপর মাইক্রোফেলি ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে এদের বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না এবং এরা বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী হয়। জিকা ভাইরাস আর অদ্ভুত এ সমস্যার একদম ঠিকঠিক যোগসূত্রটা যে কোথায় তা এখনো আবিষ্কৃত না হলেও বিশেষজ্ঞগণ গর্ভবতী মায়েদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন। ব্রাজিলে এ রোগে আক্রান্ত প্রায় ৪,০০০ শিশুর রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং এর মধ্যে ৩৮ জন মারা গেছে। এমনকি ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদরে আপাতত সন্তান ধারণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

২. রক্ত বা শুক্রাণু কি জিকা ভাইরাস বহন করে?

সম্প্রতি মানুষের রক্ত আর শুক্রাণুতেও এর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। রক্ত নেয়া বা শারীরিক সম্পর্কের ফলে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে এমন রোগীর রিপোর্ট পাওয়া গেলেও সংখ্যায় তা অতি নগণ্য। আবার ভেবে দেখুন, যদি রক্তের মাধ্যমে রোগ আসলেই ছড়াত তাহলে রোগীকে কামড়ালে যেকোনো ধরনের মশাই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতো। এমনটি কিন্তু হচ্ছে না। তাই আপাতত সঠিকভাবে এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না গেলেও সাবধানতা অবলম্বন করতে তো মানা নেই।

. জিকা ভাইরাস কি জিবিএস এর জন্ম দেয়?

জিবিএস (Guillain–Barré Syndrome) নামের এক বিশেষ ধরনের রোগ আছে যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শরীরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়। তখন এরা রোগজীবাণু ধ্বংস করা বাদ দিয়ে স্নায়ুকোষগুলোকে ধ্বংস করা শুরু করে। এর ফলে মাংসপেশির দুর্বলতা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্যারালাইসিসও দেখা যায়। সাধারণত এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত থাকে। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মানুষ এর প্রভাব সারাজীবন বয়ে নিয়ে বেড়ায়, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। আসলে জিকা কিংবা অন্য কোনো ভাইরাস এ রোগের উৎপত্তি ঘটায় কিনা তা এখনও বলা সম্ভব হয়নি। তবে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ার সাথে সাথে ব্রাজিলে জিবিএসও তীব্র আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই গবেষকরা মাথা চুলকাতে বসে গেছেন- আসলেই কি জিকা ভাইরাস টেনে আনছে জিবিএস এর মতো মারাত্মক রোগকেও?

জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষ্মণ

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচ জনের একজন মানুষের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়। কিছু সাধারণ লক্ষণের মধ্যে আছে জ্বর, শরীরে র‍্যাশের সৃষ্টি, হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথার অনুভূতি, চোখ ওঠা ইত্যাদি। এছাড়াও এ সময় মাথা ব্যথা আর মাংসপেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। 3জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সাথে সাথেই কিন্তু এসব উপসর্গ দেখা যায় না, বেশ কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর রোগীর মধ্যে এ লক্ষণগুলো দেখা যেতে থাকে।

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অসুস্থতা বড়জোর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। হাসপাতালে যাবার মতো অবস্থাও কিন্তু তৈরি হয় না। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পরিমাণ খুবই নগণ্য। আপনার অসুস্থতা কমে গেলেও রক্তের মধ্যে এ ভাইরাস কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত তার উপস্থিতি জানান দিতে পারে। র‍্যাশ ওঠার কারণে অনেকেই এ অসুখটিকে ডেঙ্গু বা হামের সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারে। তাই সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরী।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার

জিকা ভাইরাস আপাতদৃষ্টিতে খুব ভয়ংকর না হলেও এর ক্ষতিকর দিক কিন্তু অনেক। এখন পর্যন্ত এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক তৈরি হয়নি। কিন্তু তাই বলে আমরা তো আর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। যেহেতু এডিস মশা যেকোনো জায়গায় জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয়, তাই আশেপাশের কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল করতে হবে। এরা দিনের বেলাতেই আপনাকে আক্রমণ করবে। তাই দিনের বেলা ঘুমালেও মশারী টানাতে ভুলবেন না। খেয়াল রাখবেন যে, কোনো মশা যেন আপনাকে না কামড়ায়। জানালার চারিদিকে আলাদা করে এমন জালিকা স্থাপন করতে পারেন যাতে মশা ঘরে না ঢুকতে পারে। যেকোনো রোগে আক্রান্ত হবার আগেই সবথেকে ভালো উপায় হলো নিজেকে সতর্ক রাখা। এলাকার মানুষজন মিলে কিছুদিন পরপর বিভিন্ন কীটনাশক দূরীকরণের স্প্রে প্রয়োগ একটি ভালো উদ্যোগ। তবে ঝুঁকি আছে এমন এলাকায় যদি আপনি ভ্রমণ করতে চান তাহলে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।

জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক আমাদের হাতের নাগালে আসতে আসতে পার হয়ে যাবে আরও প্রায় দেড় বছর। প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান এ দৌড়ে সামিল হয়ে থাকলেও তাদের কাজ একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে। জেনেভার এক সম্মেলনে এ সংস্থার মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রে খুব শীঘ্রই এর পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হলেও তা পুরোপুরি স্বীকৃত হয়ে মানুষের নাগালে পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অনেকটা সময়।

বাংলাদেশ এবং জিকা ভাইরাসঃ আমরা কি হুমকির মুখে?

জিকা ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। বাংলাদেশে কি এই রোগে আক্রান্ত হবার কোনো সম্ভাবনা আছে? চিন্তার বিষয়। প্রতিষেধকবিহীন এ রোগ খুব দ্রুত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আমরা যে একেবারে হুমকির সম্মুখে না, তা বলা যায় না। তবে আশার কথা এই যে, দক্ষিণ এশিয়াতে এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তাই আশা করা যায় আমাদের সেই খারাপ দিন দেখার সম্ভাবনা খুব কম, যেখানে ফুটফুটে একটি শিশুকে অপরিণত মস্তিষ্ক আর ছোট্ট একটি মাথা নিয়ে চলাচল করতে দেখতে হবে।

জিকা ভাইরাসের গোপন নথি!

এতক্ষণ যা বললাম তা নিত্যদিনের খবর হয়ে গেছে। কিন্তু আপনার আমার জানার বাইরেও কিছু খবর আছে, যা হয়তো ইচ্ছে করেই রাখা হচ্ছে সবার অগোচরে। বিল গেটস-মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নিশ্চয় সবাই শুনেছেন। এ ফাউন্ডেশনের ব্রিটিশ বায়োটেক কোম্পানি ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিশেষ ধরনের জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ার্ড এক ধরনের মশার উদ্ভাবন করে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বিশেষ ধরনের মশাই আসলে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। যে ভাইরাস মানুষের জীবনে আতংক বয়ে নিয়ে এসেছে, যে রোগ নিয়ে নিত্যদিন মিডিয়া এত বিপুল পরিমাণে মেতে উঠেছে তা প্রাকৃতিক কোনো রোগ নয়! ২০১১ সাল থেকে অক্সিটেক নামের এ কোম্পানি ব্রাজিলের গহীন অরণ্যে এ মশার বংশবিস্তার করে চলেছে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য। এক সপ্তাহে তারা প্রায় দুই মিলিয়ন মশা উৎপাদন করে ব্রাজিলের ক্যম্পিনাসে অবস্থিত ফ্যাক্টরিতে। আরেকটি রহস্যময় তথ্য জেনে নিন। ২০১৫ সাল থেকে ব্রাজিল সরকার গর্ভবতী মায়েদের একটি নতুন ভ্যাক্সিন নেয়া অত্যাবশ্যক করেন। টিডিএপি নামক এ ভ্যাক্সিনের সঠিকভাবে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই হঠাৎ এভাবে আবশ্যকীয় করে দেয়া আর ঠিক একই সময়ে এরকম অদ্ভুত শিশু জন্মের হার হুহু করে বেড়ে যাওয়াটা আসলে কাকতালীয় ঘটনা থেকে একটু বেশি কিছুই বলে মনে হয়। এ ভ্যাক্সিনের উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে একটু খোঁজ নিতে শুরু করলেই একটি নাম আবার সামনে পেয়ে যাবেন- বিল গেটস-মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। এমনকি এ ভ্যাক্সিন লাইসেন্সড হবার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে অর্থাৎ গর্ভবতী মায়ের শরীরে গিয়ে আসলেই কাজ করে কিনা সেই ব্যাপারে পরীক্ষা করার কোনো নথিপত্রও পাওয়া যায়নি।

একটু যদি অন্যভাবে ব্যাপারটা নিয়ে ভেবে দেখি তাহলে কি এটাই মনে হয় না, জন্মগত এ ত্রুটি আর জিকা ভাইরাসকে একই সময়ে সামনে আনা হয়েছে? ব্রাজিলই বা কেন আমেরিকা থেকে এমন একটি ভ্যাক্সিন কিনে তার দেশে অত্যাবশ্যক করে দিলো যার কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার ইতিহাস নেই? নাকি এজন্য তারা উপযুক্ত পরিমাণে পকেট গরম করার সুযোগ পেয়েছে? এখন আবার আমেরিকা জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধকের পেছনে ছুটছে। চেষ্টা করে দেখুন তো এমনই কোনো ঘটনার কথা স্মৃতিতে আসে কি না? হ্যাঁ, একইভাবে মিডিয়া ইবোলা ভাইরাস নিয়েও মানুষের মনে আতংক সৃষ্টি করেছিল।4

যেমনটি আগেই বলেছি অনেক দেশে গর্ভধারণ এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে আসলেই বিল গেটস এর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি মাত্র একজন মানুষের শুক্রাণুতে এ ভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথেই একে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো রোগের কাতারে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানব মনে শারীরিক সম্পর্ক এবং সন্তান ধারণের প্রতি আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকেই বিল গেটস জোরপূর্বক ভ্যক্সিনাইজেশন করে জন্মনিয়ন্ত্রণের সপক্ষে কথা বলেছেন।

তবে এ রহস্যের কূলকিনারা এতো সহজে সম্ভব নয়। বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তিত্বের বিপক্ষে বা সপক্ষে কথা বলার মানুষের অভাব কখনোই ছিল না। তাই আমরা শুধু আপনাদের চলতি বিশ্বের পরিস্থিতির কাছাকাছিই নিয়ে যেতে পারি। সত্য-মিথ্যা জানার জন্য আমাদের হয়ত অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ কিছু সময়। কিন্তু উন্নত বিশ্বের অনেক ঘটনার সুরাহা যে আমাদের কান পর্যন্ত আসে না, এ নতুন কিছু নয়। তাই আপাতত এসব কোন্দলে না পড়ে আমরা নিজেদের ও নিজ নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা প্রদানের দিকেই বেশি মনোযোগী হওয়া উচিৎ। আশা করি বিশ্বে বিরাজমান এ জিকা ভাইরাস আতঙ্ক আমাদের দ্বারপ্রান্তে এসে কখনোই হানা দেবে না।

 

ফাহমিদা ফারজানা অনন্যা
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন প্রজাতির ভিন্নধর্মী খোঁজে

পৃথিবীতে ১ ট্রিলিয়ন প্রজাতির জীবের অস্তিত্ব আছে বলে ধারণা করা হয়। এদের মাঝে ১ শতাংশের মাত্র এক হাজার ভাগের এক ভাগ বৈজ্ঞানিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। কিছু গবেষণা অনুযায়ী এ পর্যন্ত প্রায় ১.৯ মিলিয়ন প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কোনো কোনো গবেষকের মতে সংখ্যাটি ১.৫ মিলিয়ন। প্রতি বছরই নতুন নতুন প্রজাতির জীব উত্তরোত্তর আবিষ্কৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বছরে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার পরিমাণ নতুন নতুন প্রজাতি শনাক্ত ও নামকরণ করা হচ্ছে।

এরিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি ফর সায়েন্স এক্সপ্লোরেশন কর্তৃক ২০০৮ সালে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ২০০৬ সালেই ১৬ হাজার ৯৬৯ টি নতুন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী শনাক্ত ও বর্ণিত হয়েছে। তবে সংখ্যাটি আরো বড় হবে, কেননা সেখানে নব-আবিষ্কৃত অণুজীব প্রজাতির সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতি বছরে প্রায় ২ হাজার প্রজাতির নতুন উদ্ভিদই আবিষ্কৃত হচ্ছে। এছাড়াও জীবাশ্ম (ফসিল) থেকে আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির সংখ্যাও প্রতি বছরে প্রায় ২ হাজারের মতো। বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্র জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হলেও বিজ্ঞানীরা যে হারে নতুন নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করে চলেছে তা বিগত ২৫০ বছরের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। এমনও হতে পারে যে, যতক্ষণ সময়ে আপনি লেখাটি পড়ে শেষ করবেন ততক্ষণে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও কোনো একটি নতুন প্রজাতি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করে ফেলেছেন।

নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিগুলোর বেশিরভাগই পোকামাকড় ও অণুজীব। গবেষকরা যতই পৃথিবীর প্রান্তীয় অঞ্চলগুলোতে গবেষণা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন, ততই নতুন নতুন উদ্ভিদ ও প্রাণীর সন্ধান পাচ্ছেন। আবার এমন অনেক নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতি রয়েছে যা ভুলবশত অন্য কোনো গোত্র (Family) বা গণ (Genus)-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মনে করা হতো। গণ ও প্রজাতিগত এমন ভুল হয়েছে কারণ তাদের

মধ্যে পার্থক্য ছিল খুব সূক্ষ্ম। এদের জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে সূক্ষ্ম গবেষণা করার পর তাদের প্রকৃত প্রজাতিগত পরিচয় উদ্ঘাটিত হয়েছে। এধরনের প্রজাতিগুলোকে বলা হয় ‘দুর্বোধ্য প্রজাতি’ বা ক্রিপটিক স্পিসিস। এছাড়া জাদুঘরে সংরক্ষিত নমুনা থেকেও নতুন নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।

কখনো কখনো গবেষকরা দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে অনেক অনুসন্ধানের পর নতুন কোনো প্রজাতির সন্ধান পান। আবার কখনো নতুন কোনো প্রজাতি খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটি ঘটে একদমই অলৌকিকভাবে। নতুন প্রজাতি খুঁজে পাওয়ার এমনই কিছু ভিন্নধর্মী ঘটনা নিয়ে আলোচনা থাকছে আজকের লেখায়।

ফেসবুকে নতুন প্রজাতির সন্ধান

কোনো উদ্ভিদবিদই ভিন্ন এই প্রজাতিটির কথা জানতেন না। বিরল ও অপরিচিত এই উদ্ভিদটির একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পরই জানতে পারেন উদ্ভিদবিদেরা। রেজিনাল্ড নামের একজন শখের উদ্ভিদবিজ্ঞানী, ২০১৩ সালের কোনো এক সময় দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলে তার বাড়ির কাছে একটি পাহাড়ে ভ্রমণ করতে যান। সেখানে তিনি বেশ কিছু উদ্ভিদের সাথে এই উদ্ভিদটিরও একটি ছবি তোলেন এবং সেটি ফেসবুকে পোস্ট করেন। এর প্রায় ১ বছর পরে উদ্ভিদ গবেষক পাউলো গনেলা ফেসবুকে ছবিটি লক্ষ্য করেন। তিনি উপলব্ধি করেন, উদ্ভিদটি তার জানা সকল উদ্ভিদ থেকে আলাদা। পরবর্তীতে পাউলো গনেলা পাহাড়টিতে চলে যান এবং নিশ্চিত হন যে এটি একটি ব্যতিক্রমী প্রজাতি যা উদ্ভিদজগতে নতুন। পরে জার্মানির বোটানিক্যাল স্টেট কালেকশনের অন্যান্য গবেষকদের নিয়ে গবেষণা করার পর তারা উদ্ভিদটির নামকরণ করেন ড্রসেরা ম্যাগনিফিকা (Drosera magnifica)।

উদ্ভিদটির অবয়বের একটি আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর ঝাড়বাতি সদৃশ পুস্পবিন্যাস। এটি আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম মাংসাশী উদ্ভিদ যা প্রায় ৫ ফুট লম্বা। এটি ফড়িংয়ের মতো বড় বড় পোকাকেও আটকে ফেলতে পারে। কিন্তু IUCN Red List অনুযায়ী উদ্ভিদটি অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় আছে।

বাজারে নতুন প্রজাতি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ লাওস। ধারণা করা হয়, লাওসের অরণ্যে এখনো অনেক প্রজাতি অনাবিষ্কৃত অবস্থায় আছে। এমনই একটি প্রাণী পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ২০ বছর আগে। তবে গহীন অরণ্যে নয়, স্থানীয় এক বাজারে।

চিত্রঃ ড্রসেরা ম্যাগনিফিকার প্রথম ছবি যেটি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছিল।

বাজারের এক দোকানে শাকসবজির পাশেই বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল প্রাণীটিকে। স্থানীয়দের নিকট এটি ‘খাঁইয়’ নামে পরিচিত। প্রাণিবিদ রবার্ট টিমিন্সের-এর চোখে পড়ে এই প্রাণীটি, এবং এর মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি আবিষ্কার করেন তিনি। গবেষকরা দেখলেন, এটি Rodentia বর্গের অন্তর্ভুক্ত, তবে এই বর্গের অন্যান্য জীবিত প্রাণীদের তুলনায় এটি স্বতন্ত্র। তাই তারা একটি নতুন গোত্রের নাম দেন এবং প্রাণীটিকে সেই গোত্রের একটি প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। বৈজ্ঞানিক নাম দেয়া হয় Laonastes aenigmamus। তবে পরবর্তীতে ২০০৬ সালে গবেষক মেরি ডাওসন জানান যে, এটি নতুন কোনো গোত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং একটি প্রাচীন গোত্রের সদস্য যার অন্তর্ভুক্ত প্রাণীগুলো ১১ মিলিয়ন বছর পূর্বেই বিলুপ্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হতো। প্রাণীটির বৈশিষ্ট্য এবং জীবাশ্মবিদ্যার বিভিন্ন তথ্যের উপর নির্ভর করে এরূপ শ্রেণিকরণ করা হয়েছে। এ থেকেই প্রাণীটির গুরুত্ব কত বেশি তা উপলব্ধি করা যায়।

ঢাকাইয়া ব্যাঙ

নাম দেখার পরে আর বোঝার বাকি থাকার কথা নয় যে, প্রাণীটির আবিষ্কার দূরের কোনো দেশে নয়, এই দেশেরই প্রাণকেন্দ্র ঢাকাতে হয়েছিল এর আবিষ্কার। ঢাকার মতো একটি শহরে একটি নতুন প্রজাতির উভচর প্রাণীর আবিষ্কার কিছুটা আশ্চর্যজনকই বটে। এ বছরের মার্চে তরুণ প্রাণীবিজ্ঞানী সাজিদ আলী হাওলাদার প্রাণীটিকে শনাক্ত ও নামকরণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে University of Helsinki-তে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনে অধ্যয়নরত। তিনি প্রাণীটির নাম দেন Zakerana Dhaka। Zakerana নামটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাকের হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাখা হয়েছিল। এভাবে ঢাকার রাস্তার ব্যাঙ বিজ্ঞানের জগতে এক নতুন পরিচয় পায়।

সংগ্রহের ১৮০ বছর পরে নামকরন

নতুন কোনো প্রজাতি খুঁজে পাওয়া সবসময়ই উত্তেজনাপূর্ণ। আর সেটি যদি চার্লস ডারউইনের সংগ্রহ করা কোনো নমুনা থেকে পাওয়া যায়, তাহলে তা সত্যিই আশ্চর্যজনক। ১৮৩২ সালে এইচএমএস বিগল জাহাজে ভ্রমণের সময় ডারউইন আর্জেন্টিনার একটি উপকূলীয় শহর থেকে কিছু জীবাশ্ম ও পোকার নমুনা

সংগ্রহ করেছিলেন। তার সংগ্রহে একটি গুবরে পোকা ছিল যেটি প্রায় ১৮০ বছরেও বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত ও নামকরণ করা হয়নি। নমুনাটি লন্ডনের Natural History Museumএ অন্তত কয়েক দশক যাবত ভুল লেবেল করে রাখা হয়েছিল।

টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পতঙ্গবিদ ড. স্টাইলিয়ান্স মিউজিয়ামটি থেকে কিছু পতঙ্গের নমুনা ধার করে আনেন। সেখানে তিনি ডারউইনের নাম যুক্ত লেবেল করা একটি নমুনা খুঁজে পান। তিনি আবিষ্কার করলেন যে আসলে এটি বিজ্ঞান জগতে নতুন একটি প্রজাতি যা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে নামকরণ করা হয়নি। পরে ২০১৪ সালে ডারউইনের ২০৫ তম জন্মবার্ষিকীতে এ প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয় Darwinilus sedarisi। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো ডারউইন যেখান থেকে নমুনাটি সংগ্রহ করেছিলেন সেখানে এখন অধিকাংশই আবাদি জমি এবং ১৯৩৫ সালের পর এই প্রাণীটি আর দেখাও যায়নি।

সমুদ্রসৈকতে বিশাল জেলিফিশ

চিত্রঃ সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা নতুন প্রজাতির জেলিফিশ।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জেলিফিশের একটি নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এধরনের জেলিফিশগুলো Cyanea গণের অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে ‘সিংহের কেশর’ ও বলা হয়। এটিকে খুঁজে পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার এক পরিবার, ১২ বছর বয়সী বালক জেভিয়ার লিম প্রথম এ জেলিফিশটি দেখতে পায়। লিমের পরিবার তাসমানিয়ার সমুদ্রতীরে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে শামুকের খোল সংগ্রহের সময় তারা একটি অদ্ভুত জিনিস পড়ে থাকতে দেখে। তাদের কাছে এটি বিরাট আকৃতির শ্লেষ্মা জাতীয় কিছু মনে হয়েছিল। স্থানীয় সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীকে তারা এ সম্পর্কে অবহিত করেন। বিজ্ঞানী ড. লিসা-আন, যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে জেলিফিশ নিয়ে গবেষণা করছেন, তিনি জানান এটি ছিল এক বিস্ময়কর আবিষ্কার, কেননা এটি ছিল আসলেই বিশাল আকৃতির জেলিফিশ যার ব্যাস ছিল প্রায় ৫ ফুট। তার উপর বিজ্ঞান জগতে এটি একদমই নতুন প্রজাতির জেলিফিশ। পরবর্তীতে কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (CSIRO)এর বিজ্ঞানীরা জেলিফিশটি নিয়ে আরো গবেষণা করেন এবং এর নামকরণ করেন।

উৎসব সজ্জায় নতুন প্রজাতির খোঁজ

ব্রমিলিয়াড

মাছের বাজারে বিলুপ্ত প্রজাতি

ব্রমিলিয়াড (Bromeliad) নামে একটি উদ্ভিদ প্রজাতি স্থানীয়দের নিকট বহুদিন ধরে পরিচিত হলেও বৈজ্ঞানিকভাবে তা সম্প্রতি আবিষ্কৃত। মেক্সিকোতে বড়দিন উদযাপনের সময় গ্রামবাসীরা সমবেত হয়ে যিশু খ্রিষ্টের জন্ম রহস্য ব্যাখ্যা করার সময় এই গাছটি দিয়ে বেদি সাজাতো। তবে সম্প্রতি গবেষকরা উপলব্ধি করলেন যে, এ উদ্ভিদটি বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্তকরণ ও নামকরণ করা হয়নি। পরবর্তীতে প্রক্রিয়া শেষে তারা এর নাম দেন Tillandsia religiosa। কাণ্ডবিহীন, গোলাপি রঙের স্পাইক ও সবুজ পাতাওয়ালা উদ্ভিদটির পুস্পবিন্যাস অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলের পাথুরে এলাকায় এদের আবাস।

১৯০২ সালে প্রকৃতিবিজ্ঞানী উইলহেম হেইন ইয়েমেন ভ্রমণ শেষে বেশ কয়েকটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর নমুনা নিয়ে ফেরেন। সেগুলো তিনি ভিয়েনা মিউজিয়ামে দান করে দিয়েছিলেন। নমুনাগুলোর মধ্যে ছিল একটি মসৃণ দাঁতওয়ালা ও কালো অগ্রভাগ বিশিষ্ট হাঙ্গর। এটি প্রায় ৪০ বছর ধরে দৃষ্টির আড়ালে ছিল। ১৯৪৫ সালে এটি প্রথমবারের মতো বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত ও নামকরণ করা হয়, বৈজ্ঞানিক নাম Carcharhinus leiodon। তবে এটিই ছিল একমাত্র নমুনা।

প্রায় শতাব্দীব্যাপী এ প্রজাতির কোনো হাঙ্গরের সন্ধান বিজ্ঞানীরা পাননি। ধারণা করা হয়েছিল এরা হয়তো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে শার্ক কনজারভেশন সোসাইটি অভিযান চালিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে কুয়েতের মাছের বাজারে এই প্রজাতির প্রায় ৪৭ টি হাঙ্গরের খোঁজ পেয়ে যায়। অথচ কুয়েত হচ্ছে প্রথম নমুনাটি সংগ্রহের স্থান থেকে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দূরে। এ ঘটনা সম্পর্কে গবেষক মুর জানান “বিশেষত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোতে সর্বদা ক্যামেরা নিয়ে মাছের বাজারে যান, এতে করে নতুন কিছুর সন্ধান পেয়ে যেতে পারেন।”

বিজ্ঞানের নিকট কখনো কখনো নতুন কোনো প্রজাতি আমাদের চোখের স্বাভাবিক গণ্ডিতেই থাকে। তাই আশপাশটা ভাল করে দেখে নিন। অলৌকিকভাবে পেয়ে যেতেও পারেন ভিন্ন কোনো প্রজাতির সন্ধান।

তথ্যসূত্র

  1. https://en.wikipedia.org/wiki/Global_biodiversity
  2. http://www.smithsonianmag.com/smart-news/no-one-knew-plant-existed-until-it-was-posted-facebook-180956084/?no-ist
  3. https://en.wikipedia.org/wiki/Laotian_rock_rat
  4. http://dailyasianage.com/news/12588/new-frog-species-found-in-dhaka
  5. http://www.isciencetimes.com/articles/6813/20140212/new-beetle-species-named-both-charles-darwin.htm
  6. http://www.bbc.com/news/world-asia-26062303
  7. http://www.esf.edu/top10/2015/09.htm
  8. http://www.scientificamerican.com/article/shark-species-thought-to-be-extinct-found-in-fish-market/

 

নতুন প্রজাতির ভিন্নধর্মী খোঁজে

পৃথিবীতে ১ ট্রিলিয়ন প্রজাতির জীবের অস্তিত্ব আছে বলে ধারণা করা হয়। এদের মাঝে ১ শতাংশের মাত্র এক হাজার ভাগের এক ভাগ বৈজ্ঞানিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। কিছু গবেষণা অনুযায়ী এ পর্যন্ত প্রায় ১.৯ মিলিয়ন প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কোনো কোনো গবেষকের মতে সংখ্যাটি ১.৫ মিলিয়ন। প্রতি বছরই নতুন নতুন প্রজাতির জীব উত্তরোত্তর আবিষ্কৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বছরে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার পরিমাণ নতুন নতুন প্রজাতি শনাক্ত ও নামকরণ করা হচ্ছে।

এরিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি ফর সায়েন্স এক্সপ্লোরেশন কর্তৃক ২০০৮ সালে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ২০০৬ সালেই ১৬ হাজার ৯৬৯ টি নতুন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী শনাক্ত ও বর্ণিত হয়েছে। তবে সংখ্যাটি আরো বড় হবে, কেননা সেখানে নব-আবিষ্কৃত অণুজীব প্রজাতির সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতি বছরে প্রায় ২ হাজার প্রজাতির নতুন উদ্ভিদই আবিষ্কৃত হচ্ছে। এছাড়াও জীবাশ্ম (ফসিল) থেকে আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির সংখ্যাও প্রতি বছরে প্রায় ২ হাজারের মতো। বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্র জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হলেও বিজ্ঞানীরা যে হারে নতুন নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করে চলেছে তা বিগত ২৫০ বছরের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। এমনও হতে পারে যে, যতক্ষণ সময়ে আপনি লেখাটি পড়ে শেষ করবেন ততক্ষণে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও কোনো একটি নতুন প্রজাতি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করে ফেলেছেন।

নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতিগুলোর বেশিরভাগই পোকামাকড় ও অণুজীব। গবেষকরা যতই পৃথিবীর প্রান্তীয় অঞ্চলগুলোতে গবেষণা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন, ততই নতুন নতুন উদ্ভিদ ও প্রাণীর সন্ধান পাচ্ছেন। আবার এমন অনেক নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতি রয়েছে যা ভুলবশত অন্য কোনো গোত্র (Family) বা গণ (Genus)-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মনে করা হতো। গণ ও প্রজাতিগত এমন ভুল হয়েছে কারণ তাদের

মধ্যে পার্থক্য ছিল খুব সূক্ষ্ম। এদের জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে সূক্ষ্ম গবেষণা করার পর তাদের প্রকৃত প্রজাতিগত পরিচয় উদ্ঘাটিত হয়েছে। এধরনের প্রজাতিগুলোকে বলা হয় ‘দুর্বোধ্য প্রজাতি’ বা ক্রিপটিক স্পিসিস। এছাড়া জাদুঘরে সংরক্ষিত নমুনা থেকেও নতুন নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।

কখনো কখনো গবেষকরা দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে অনেক অনুসন্ধানের পর নতুন কোনো প্রজাতির সন্ধান পান। আবার কখনো নতুন কোনো প্রজাতি খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটি ঘটে একদমই অলৌকিকভাবে। নতুন প্রজাতি খুঁজে পাওয়ার এমনই কিছু ভিন্নধর্মী ঘটনা নিয়ে আলোচনা থাকছে আজকের লেখায়।

ফেসবুকে নতুন প্রজাতির সন্ধান

কোনো উদ্ভিদবিদই ভিন্ন এই প্রজাতিটির কথা জানতেন না। বিরল ও অপরিচিত এই উদ্ভিদটির একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পরই জানতে পারেন উদ্ভিদবিদেরা। রেজিনাল্ড নামের একজন শখের উদ্ভিদবিজ্ঞানী, ২০১৩ সালের কোনো এক সময় দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলে তার বাড়ির কাছে একটি পাহাড়ে ভ্রমণ করতে যান। সেখানে তিনি বেশ কিছু উদ্ভিদের সাথে এই উদ্ভিদটিরও একটি ছবি তোলেন এবং সেটি ফেসবুকে পোস্ট করেন। এর প্রায় ১ বছর পরে উদ্ভিদ গবেষক পাউলো গনেলা ফেসবুকে ছবিটি লক্ষ্য করেন। তিনি উপলব্ধি করেন, উদ্ভিদটি তার জানা সকল উদ্ভিদ থেকে আলাদা। পরবর্তীতে পাউলো গনেলা পাহাড়টিতে চলে যান এবং নিশ্চিত হন যে এটি একটি ব্যতিক্রমী প্রজাতি যা উদ্ভিদজগতে নতুন। পরে জার্মানির বোটানিক্যাল স্টেট কালেকশনের অন্যান্য গবেষকদের নিয়ে গবেষণা করার পর তারা উদ্ভিদটির নামকরণ করেন ড্রসেরা ম্যাগনিফিকা (Drosera magnifica)।

উদ্ভিদটির অবয়বের একটি আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর ঝাড়বাতি সদৃশ পুস্পবিন্যাস। এটি আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম মাংসাশী উদ্ভিদ যা প্রায় ৫ ফুট লম্বা। এটি ফড়িংয়ের মতো বড় বড় পোকাকেও আটকে ফেলতে পারে। কিন্তু IUCN Red List অনুযায়ী উদ্ভিদটি অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় আছে।

বাজারে নতুন প্রজাতি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ লাওস। ধারণা করা হয়, লাওসের অরণ্যে এখনো অনেক প্রজাতি অনাবিষ্কৃত অবস্থায় আছে। এমনই একটি প্রাণী পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ২০ বছর আগে। তবে গহীন অরণ্যে নয়, স্থানীয় এক বাজারে।

চিত্রঃ ড্রসেরা ম্যাগনিফিকার প্রথম ছবি যেটি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছিল।

বাজারের এক দোকানে শাকসবজির পাশেই বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল প্রাণীটিকে। স্থানীয়দের নিকট এটি ‘খাঁইয়’ নামে পরিচিত। প্রাণিবিদ রবার্ট টিমিন্সের-এর চোখে পড়ে এই প্রাণীটি, এবং এর মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি আবিষ্কার করেন তিনি। গবেষকরা দেখলেন, এটি Rodentia বর্গের অন্তর্ভুক্ত, তবে এই বর্গের অন্যান্য জীবিত প্রাণীদের তুলনায় এটি স্বতন্ত্র। তাই তারা একটি নতুন গোত্রের নাম দেন এবং প্রাণীটিকে সেই গোত্রের একটি প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। বৈজ্ঞানিক নাম দেয়া হয় Laonastes aenigmamus। তবে পরবর্তীতে ২০০৬ সালে গবেষক মেরি ডাওসন জানান যে, এটি নতুন কোনো গোত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং একটি প্রাচীন গোত্রের সদস্য যার অন্তর্ভুক্ত প্রাণীগুলো ১১ মিলিয়ন বছর পূর্বেই বিলুপ্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হতো। প্রাণীটির বৈশিষ্ট্য এবং জীবাশ্মবিদ্যার বিভিন্ন তথ্যের উপর নির্ভর করে এরূপ শ্রেণিকরণ করা হয়েছে। এ থেকেই প্রাণীটির গুরুত্ব কত বেশি তা উপলব্ধি করা যায়।

ঢাকাইয়া ব্যাঙ

নাম দেখার পরে আর বোঝার বাকি থাকার কথা নয় যে, প্রাণীটির আবিষ্কার দূরের কোনো দেশে নয়, এই দেশেরই প্রাণকেন্দ্র ঢাকাতে হয়েছিল এর আবিষ্কার। ঢাকার মতো একটি শহরে একটি নতুন প্রজাতির উভচর প্রাণীর আবিষ্কার কিছুটা আশ্চর্যজনকই বটে। এ বছরের মার্চে তরুণ প্রাণীবিজ্ঞানী সাজিদ আলী হাওলাদার প্রাণীটিকে শনাক্ত ও নামকরণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে University of Helsinki-তে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনে অধ্যয়নরত। তিনি প্রাণীটির নাম দেন Zakerana Dhaka। Zakerana নামটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাকের হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাখা হয়েছিল। এভাবে ঢাকার রাস্তার ব্যাঙ বিজ্ঞানের জগতে এক নতুন পরিচয় পায়।

সংগ্রহের ১৮০ বছর পরে নামকরন

নতুন কোনো প্রজাতি খুঁজে পাওয়া সবসময়ই উত্তেজনাপূর্ণ। আর সেটি যদি চার্লস ডারউইনের সংগ্রহ করা কোনো নমুনা থেকে পাওয়া যায়, তাহলে তা সত্যিই আশ্চর্যজনক। ১৮৩২ সালে এইচএমএস বিগল জাহাজে ভ্রমণের সময় ডারউইন আর্জেন্টিনার একটি উপকূলীয় শহর থেকে কিছু জীবাশ্ম ও পোকার নমুনা

সংগ্রহ করেছিলেন। তার সংগ্রহে একটি গুবরে পোকা ছিল যেটি প্রায় ১৮০ বছরেও বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত ও নামকরণ করা হয়নি। নমুনাটি লন্ডনের Natural History Museumএ অন্তত কয়েক দশক যাবত ভুল লেবেল করে রাখা হয়েছিল।

টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পতঙ্গবিদ ড. স্টাইলিয়ান্স মিউজিয়ামটি থেকে কিছু পতঙ্গের নমুনা ধার করে আনেন। সেখানে তিনি ডারউইনের নাম যুক্ত লেবেল করা একটি নমুনা খুঁজে পান। তিনি আবিষ্কার করলেন যে আসলে এটি বিজ্ঞান জগতে নতুন একটি প্রজাতি যা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে নামকরণ করা হয়নি। পরে ২০১৪ সালে ডারউইনের ২০৫ তম জন্মবার্ষিকীতে এ প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয় Darwinilus sedarisi। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো ডারউইন যেখান থেকে নমুনাটি সংগ্রহ করেছিলেন সেখানে এখন অধিকাংশই আবাদি জমি এবং ১৯৩৫ সালের পর এই প্রাণীটি আর দেখাও যায়নি।

সমুদ্রসৈকতে বিশাল জেলিফিশ

চিত্রঃ সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা নতুন প্রজাতির জেলিফিশ।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জেলিফিশের একটি নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এধরনের জেলিফিশগুলো Cyanea গণের অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে ‘সিংহের কেশর’ ও বলা হয়। এটিকে খুঁজে পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার এক পরিবার, ১২ বছর বয়সী বালক জেভিয়ার লিম প্রথম এ জেলিফিশটি দেখতে পায়। লিমের পরিবার তাসমানিয়ার সমুদ্রতীরে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে শামুকের খোল সংগ্রহের সময় তারা একটি অদ্ভুত জিনিস পড়ে থাকতে দেখে। তাদের কাছে এটি বিরাট আকৃতির শ্লেষ্মা জাতীয় কিছু মনে হয়েছিল। স্থানীয় সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীকে তারা এ সম্পর্কে অবহিত করেন। বিজ্ঞানী ড. লিসা-আন, যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে জেলিফিশ নিয়ে গবেষণা করছেন, তিনি জানান এটি ছিল এক বিস্ময়কর আবিষ্কার, কেননা এটি ছিল আসলেই বিশাল আকৃতির জেলিফিশ যার ব্যাস ছিল প্রায় ৫ ফুট। তার উপর বিজ্ঞান জগতে এটি একদমই নতুন প্রজাতির জেলিফিশ। পরবর্তীতে কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (CSIRO)এর বিজ্ঞানীরা জেলিফিশটি নিয়ে আরো গবেষণা করেন এবং এর নামকরণ করেন।

উৎসব সজ্জায় নতুন প্রজাতির খোঁজ

ব্রমিলিয়াড

মাছের বাজারে বিলুপ্ত প্রজাতি

ব্রমিলিয়াড (Bromeliad) নামে একটি উদ্ভিদ প্রজাতি স্থানীয়দের নিকট বহুদিন ধরে পরিচিত হলেও বৈজ্ঞানিকভাবে তা সম্প্রতি আবিষ্কৃত। মেক্সিকোতে বড়দিন উদযাপনের সময় গ্রামবাসীরা সমবেত হয়ে যিশু খ্রিষ্টের জন্ম রহস্য ব্যাখ্যা করার সময় এই গাছটি দিয়ে বেদি সাজাতো। তবে সম্প্রতি গবেষকরা উপলব্ধি করলেন যে, এ উদ্ভিদটি বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্তকরণ ও নামকরণ করা হয়নি। পরবর্তীতে প্রক্রিয়া শেষে তারা এর নাম দেন Tillandsia religiosa। কাণ্ডবিহীন, গোলাপি রঙের স্পাইক ও সবুজ পাতাওয়ালা উদ্ভিদটির পুস্পবিন্যাস অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলের পাথুরে এলাকায় এদের আবাস।

১৯০২ সালে প্রকৃতিবিজ্ঞানী উইলহেম হেইন ইয়েমেন ভ্রমণ শেষে বেশ কয়েকটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর নমুনা নিয়ে ফেরেন। সেগুলো তিনি ভিয়েনা মিউজিয়ামে দান করে দিয়েছিলেন। নমুনাগুলোর মধ্যে ছিল একটি মসৃণ দাঁতওয়ালা ও কালো অগ্রভাগ বিশিষ্ট হাঙ্গর। এটি প্রায় ৪০ বছর ধরে দৃষ্টির আড়ালে ছিল। ১৯৪৫ সালে এটি প্রথমবারের মতো বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত ও নামকরণ করা হয়, বৈজ্ঞানিক নাম Carcharhinus leiodon। তবে এটিই ছিল একমাত্র নমুনা।

প্রায় শতাব্দীব্যাপী এ প্রজাতির কোনো হাঙ্গরের সন্ধান বিজ্ঞানীরা পাননি। ধারণা করা হয়েছিল এরা হয়তো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে শার্ক কনজারভেশন সোসাইটি অভিযান চালিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে কুয়েতের মাছের বাজারে এই প্রজাতির প্রায় ৪৭ টি হাঙ্গরের খোঁজ পেয়ে যায়। অথচ কুয়েত হচ্ছে প্রথম নমুনাটি সংগ্রহের স্থান থেকে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দূরে। এ ঘটনা সম্পর্কে গবেষক মুর জানান “বিশেষত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোতে সর্বদা ক্যামেরা নিয়ে মাছের বাজারে যান, এতে করে নতুন কিছুর সন্ধান পেয়ে যেতে পারেন।”

বিজ্ঞানের নিকট কখনো কখনো নতুন কোনো প্রজাতি আমাদের চোখের স্বাভাবিক গণ্ডিতেই থাকে। তাই আশপাশটা ভাল করে দেখে নিন। অলৌকিকভাবে পেয়ে যেতেও পারেন ভিন্ন কোনো প্রজাতির সন্ধান।

তথ্যসূত্র

  1. https://en.wikipedia.org/wiki/Global_biodiversity
  2. http://www.smithsonianmag.com/smart-news/no-one-knew-plant-existed-until-it-was-posted-facebook-180956084/?no-ist
  3. https://en.wikipedia.org/wiki/Laotian_rock_rat
  4. http://dailyasianage.com/news/12588/new-frog-species-found-in-dhaka
  5. http://www.isciencetimes.com/articles/6813/20140212/new-beetle-species-named-both-charles-darwin.htm
  6. http://www.bbc.com/news/world-asia-26062303
  7. http://www.esf.edu/top10/2015/09.htm
  8. http://www.scientificamerican.com/article/shark-species-thought-to-be-extinct-found-in-fish-market/

 

জিকা ভাইরাসঃ পৃথিবীবাসীর নতুন আতঙ্ক

মানুষ আর প্রকৃতি এক অটুট বন্ধনে আবদ্ধ। প্রকৃতি সর্বদাই মানুষের জীবনকে প্রাণপ্রাচুর্যে পরিপূর্ণ করে রেখেছে। মানুষের উপর প্রকৃতির ঋণাত্মক প্রভাবও হয় খুব ভয়ংকর। প্লেগ, কলেরা, বসন্তের মতো দুর্যোগগুলো মানব সম্প্রদায়কে যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন করেছিল, জিকা ভাইরাস যেন তার স্মৃতি মনে করিয়ে দিতেই নতুন এক আতংকের নাম হিসেবে পদার্পণ করেছে পৃথিবীর বুকে।

জিকা ভাইরাস কী?

জিকা ইনফেকশন রোগটি আমাদের অতি পরিচিত ডেঙ্গু রোগের মতো। এটি ছড়ায়ও এডিস মশার মাধ্যমেই। আজকাল এ রোগের কথা সংবাদমাধ্যমে, টিভি মিডিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শোনা গেলেও এমন কিন্তু না যে এ রোগের উৎপত্তি হয়েছে অল্প কয়েকদিন হলো। ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা ফরেস্টে এ রোগ সর্বপ্রথম রেসাস বানরের মধ্যে থেকে মশাদের শরীরে ছড়ায়। সর্বপ্রথম এ রোগে আক্রান্ত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৪৮ সালে নাইজেরিয়ায়। আফ্রিকায় এ রোগ কিছু কিছু সময় দেখতে পাওয়া গেলেও পশ্চিমা বিশ্বে এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয় গত মে মাস থেকে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কোনো সুদূরপ্রসারী ক্ষতির চিহ্ন নিয়ে আসেনি। কিন্তু গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এ রোগ মহামারীর থেকেও বেশি ভয়ানক। কেন? সেই কথায় আসছি কিছুক্ষণ পরেই।

জিকা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়?

জিকা ভাইরাস ছড়ায় মূলত মশার মাধ্যমে। তবে সব ধরনের মশা নয়, শুধু এডিস গণের (genus) মশাই এ রোগের জন্য দায়ী। এ মশা যেমন একটি বড়সড় পুলের মধ্যে বিস্তার লাভ করতে পারে, ঠিক তেমনি একটি বোতলের মুখের মধ্যে রাখা পানিতেও বংশবিস্তার করতে পারে। এডিস মশা সাধারণত দিনে কামড়ায়। এদের গোত্রের সবচেয়ে ভয়াবহ সদস্য হলো এডিস এজিপ্টি যারা জিকা রোগের প্রধান বাহক। এদের বিচরণ আমেরিকায় শুধুমাত্র ফ্লোরিডা, গালফ কোস্ট আর হাওয়াই-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে খুব গরমের সময় এদের ওয়াশিংটনেও দেখা যায়। এশিয়ার টাইগার মশা এডিস এল্বোপিকটাসও এ রোগ ছড়ায়, কিন্তু পরিসরে এজিপ্টির থেকে কম।

এসব মশা যখন কোনো আক্রান্ত মানুষকে কামড়ায়, তখন রোগীর কাছ থেকে মশা জিকা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। পরবর্তীতে সংক্রমিত মশা সুস্থ মানুষকে কামড়ালে সে আবার জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায়। জিকা ভাইরাস এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সবার মনে কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চলুন এ প্রশ্নের জটগুলো খোলার চেষ্টা করে দেখি।

১. জিকা ভাইরাস কি মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে ছড়ায়?2

এখন পর্যন্ত এক কথায় উত্তর হলো, হ্যাঁ! সন্তান প্রসবের পূর্ব মুহূর্তে মায়ের শরীর থেকে সন্তানের শরীরে এ রোগ প্রবেশ করতে পারে। মাইক্রোফেলি নামক ভয়ংকর ধরনের এক জন্মগত ত্রুটি নিয়ে অনেক শিশু জন্ম নেয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে সম্প্রতি। এ রোগাক্রান্ত শিশুদের মাথা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় ছোট আর এ সমস্ত শিশুদের মায়েরা গর্ভকালীন সময়ে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। মাইক্রোফেলি রোগে যেসব শিশুরা আক্রান্ত হয় এদের মধ্যে সৌভাগ্যবান ১৫% থাকে যাদের শুধু মাথাটাই ছোট হয়, কিন্তু অভাগা বাকি ৮৫% শিশুর মস্তিষ্কের উপর মাইক্রোফেলি ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে এদের বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না এবং এরা বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী হয়। জিকা ভাইরাস আর অদ্ভুত এ সমস্যার একদম ঠিকঠিক যোগসূত্রটা যে কোথায় তা এখনো আবিষ্কৃত না হলেও বিশেষজ্ঞগণ গর্ভবতী মায়েদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছেন। ব্রাজিলে এ রোগে আক্রান্ত প্রায় ৪,০০০ শিশুর রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং এর মধ্যে ৩৮ জন মারা গেছে। এমনকি ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদরে আপাতত সন্তান ধারণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

২. রক্ত বা শুক্রাণু কি জিকা ভাইরাস বহন করে?

সম্প্রতি মানুষের রক্ত আর শুক্রাণুতেও এর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। রক্ত নেয়া বা শারীরিক সম্পর্কের ফলে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে এমন রোগীর রিপোর্ট পাওয়া গেলেও সংখ্যায় তা অতি নগণ্য। আবার ভেবে দেখুন, যদি রক্তের মাধ্যমে রোগ আসলেই ছড়াত তাহলে রোগীকে কামড়ালে যেকোনো ধরনের মশাই এ রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতো। এমনটি কিন্তু হচ্ছে না। তাই আপাতত সঠিকভাবে এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না গেলেও সাবধানতা অবলম্বন করতে তো মানা নেই।

. জিকা ভাইরাস কি জিবিএস এর জন্ম দেয়?

জিবিএস (Guillain–Barré Syndrome) নামের এক বিশেষ ধরনের রোগ আছে যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শরীরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেয়। তখন এরা রোগজীবাণু ধ্বংস করা বাদ দিয়ে স্নায়ুকোষগুলোকে ধ্বংস করা শুরু করে। এর ফলে মাংসপেশির দুর্বলতা, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্যারালাইসিসও দেখা যায়। সাধারণত এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত থাকে। তবে অল্প কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মানুষ এর প্রভাব সারাজীবন বয়ে নিয়ে বেড়ায়, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। আসলে জিকা কিংবা অন্য কোনো ভাইরাস এ রোগের উৎপত্তি ঘটায় কিনা তা এখনও বলা সম্ভব হয়নি। তবে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ার সাথে সাথে ব্রাজিলে জিবিএসও তীব্র আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই গবেষকরা মাথা চুলকাতে বসে গেছেন- আসলেই কি জিকা ভাইরাস টেনে আনছে জিবিএস এর মতো মারাত্মক রোগকেও?

জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষ্মণ

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচ জনের একজন মানুষের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়। কিছু সাধারণ লক্ষণের মধ্যে আছে জ্বর, শরীরে র‍্যাশের সৃষ্টি, হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথার অনুভূতি, চোখ ওঠা ইত্যাদি। এছাড়াও এ সময় মাথা ব্যথা আর মাংসপেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। 3জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার সাথে সাথেই কিন্তু এসব উপসর্গ দেখা যায় না, বেশ কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর রোগীর মধ্যে এ লক্ষণগুলো দেখা যেতে থাকে।

জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অসুস্থতা বড়জোর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। হাসপাতালে যাবার মতো অবস্থাও কিন্তু তৈরি হয় না। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পরিমাণ খুবই নগণ্য। আপনার অসুস্থতা কমে গেলেও রক্তের মধ্যে এ ভাইরাস কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত তার উপস্থিতি জানান দিতে পারে। র‍্যাশ ওঠার কারণে অনেকেই এ অসুখটিকে ডেঙ্গু বা হামের সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারে। তাই সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরী।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার

জিকা ভাইরাস আপাতদৃষ্টিতে খুব ভয়ংকর না হলেও এর ক্ষতিকর দিক কিন্তু অনেক। এখন পর্যন্ত এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক তৈরি হয়নি। কিন্তু তাই বলে আমরা তো আর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। যেহেতু এডিস মশা যেকোনো জায়গায় জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয়, তাই আশেপাশের কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল করতে হবে। এরা দিনের বেলাতেই আপনাকে আক্রমণ করবে। তাই দিনের বেলা ঘুমালেও মশারী টানাতে ভুলবেন না। খেয়াল রাখবেন যে, কোনো মশা যেন আপনাকে না কামড়ায়। জানালার চারিদিকে আলাদা করে এমন জালিকা স্থাপন করতে পারেন যাতে মশা ঘরে না ঢুকতে পারে। যেকোনো রোগে আক্রান্ত হবার আগেই সবথেকে ভালো উপায় হলো নিজেকে সতর্ক রাখা। এলাকার মানুষজন মিলে কিছুদিন পরপর বিভিন্ন কীটনাশক দূরীকরণের স্প্রে প্রয়োগ একটি ভালো উদ্যোগ। তবে ঝুঁকি আছে এমন এলাকায় যদি আপনি ভ্রমণ করতে চান তাহলে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।

জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধক আমাদের হাতের নাগালে আসতে আসতে পার হয়ে যাবে আরও প্রায় দেড় বছর। প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান এ দৌড়ে সামিল হয়ে থাকলেও তাদের কাজ একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে। জেনেভার এক সম্মেলনে এ সংস্থার মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রে খুব শীঘ্রই এর পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হলেও তা পুরোপুরি স্বীকৃত হয়ে মানুষের নাগালে পৌঁছাতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অনেকটা সময়।

বাংলাদেশ এবং জিকা ভাইরাসঃ আমরা কি হুমকির মুখে?

জিকা ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। বাংলাদেশে কি এই রোগে আক্রান্ত হবার কোনো সম্ভাবনা আছে? চিন্তার বিষয়। প্রতিষেধকবিহীন এ রোগ খুব দ্রুত বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আমরা যে একেবারে হুমকির সম্মুখে না, তা বলা যায় না। তবে আশার কথা এই যে, দক্ষিণ এশিয়াতে এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তাই আশা করা যায় আমাদের সেই খারাপ দিন দেখার সম্ভাবনা খুব কম, যেখানে ফুটফুটে একটি শিশুকে অপরিণত মস্তিষ্ক আর ছোট্ট একটি মাথা নিয়ে চলাচল করতে দেখতে হবে।

জিকা ভাইরাসের গোপন নথি!

এতক্ষণ যা বললাম তা নিত্যদিনের খবর হয়ে গেছে। কিন্তু আপনার আমার জানার বাইরেও কিছু খবর আছে, যা হয়তো ইচ্ছে করেই রাখা হচ্ছে সবার অগোচরে। বিল গেটস-মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের নাম নিশ্চয় সবাই শুনেছেন। এ ফাউন্ডেশনের ব্রিটিশ বায়োটেক কোম্পানি ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিশেষ ধরনের জেনেটিকালি ইঞ্জিনিয়ার্ড এক ধরনের মশার উদ্ভাবন করে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বিশেষ ধরনের মশাই আসলে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। যে ভাইরাস মানুষের জীবনে আতংক বয়ে নিয়ে এসেছে, যে রোগ নিয়ে নিত্যদিন মিডিয়া এত বিপুল পরিমাণে মেতে উঠেছে তা প্রাকৃতিক কোনো রোগ নয়! ২০১১ সাল থেকে অক্সিটেক নামের এ কোম্পানি ব্রাজিলের গহীন অরণ্যে এ মশার বংশবিস্তার করে চলেছে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য। এক সপ্তাহে তারা প্রায় দুই মিলিয়ন মশা উৎপাদন করে ব্রাজিলের ক্যম্পিনাসে অবস্থিত ফ্যাক্টরিতে। আরেকটি রহস্যময় তথ্য জেনে নিন। ২০১৫ সাল থেকে ব্রাজিল সরকার গর্ভবতী মায়েদের একটি নতুন ভ্যাক্সিন নেয়া অত্যাবশ্যক করেন। টিডিএপি নামক এ ভ্যাক্সিনের সঠিকভাবে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই হঠাৎ এভাবে আবশ্যকীয় করে দেয়া আর ঠিক একই সময়ে এরকম অদ্ভুত শিশু জন্মের হার হুহু করে বেড়ে যাওয়াটা আসলে কাকতালীয় ঘটনা থেকে একটু বেশি কিছুই বলে মনে হয়। এ ভ্যাক্সিনের উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে একটু খোঁজ নিতে শুরু করলেই একটি নাম আবার সামনে পেয়ে যাবেন- বিল গেটস-মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। এমনকি এ ভ্যাক্সিন লাইসেন্সড হবার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে অর্থাৎ গর্ভবতী মায়ের শরীরে গিয়ে আসলেই কাজ করে কিনা সেই ব্যাপারে পরীক্ষা করার কোনো নথিপত্রও পাওয়া যায়নি।

একটু যদি অন্যভাবে ব্যাপারটা নিয়ে ভেবে দেখি তাহলে কি এটাই মনে হয় না, জন্মগত এ ত্রুটি আর জিকা ভাইরাসকে একই সময়ে সামনে আনা হয়েছে? ব্রাজিলই বা কেন আমেরিকা থেকে এমন একটি ভ্যাক্সিন কিনে তার দেশে অত্যাবশ্যক করে দিলো যার কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার ইতিহাস নেই? নাকি এজন্য তারা উপযুক্ত পরিমাণে পকেট গরম করার সুযোগ পেয়েছে? এখন আবার আমেরিকা জিকা ভাইরাসের প্রতিষেধকের পেছনে ছুটছে। চেষ্টা করে দেখুন তো এমনই কোনো ঘটনার কথা স্মৃতিতে আসে কি না? হ্যাঁ, একইভাবে মিডিয়া ইবোলা ভাইরাস নিয়েও মানুষের মনে আতংক সৃষ্টি করেছিল।4

যেমনটি আগেই বলেছি অনেক দেশে গর্ভধারণ এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে আসলেই বিল গেটস এর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্প্রতি মাত্র একজন মানুষের শুক্রাণুতে এ ভাইরাসের উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথেই একে শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়ানো রোগের কাতারে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানব মনে শারীরিক সম্পর্ক এবং সন্তান ধারণের প্রতি আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। ২০০৩ সাল থেকেই বিল গেটস জোরপূর্বক ভ্যক্সিনাইজেশন করে জন্মনিয়ন্ত্রণের সপক্ষে কথা বলেছেন।

তবে এ রহস্যের কূলকিনারা এতো সহজে সম্ভব নয়। বিশ্বের বড় বড় ব্যক্তিত্বের বিপক্ষে বা সপক্ষে কথা বলার মানুষের অভাব কখনোই ছিল না। তাই আমরা শুধু আপনাদের চলতি বিশ্বের পরিস্থিতির কাছাকাছিই নিয়ে যেতে পারি। সত্য-মিথ্যা জানার জন্য আমাদের হয়ত অপেক্ষা করতে হবে আরও বেশ কিছু সময়। কিন্তু উন্নত বিশ্বের অনেক ঘটনার সুরাহা যে আমাদের কান পর্যন্ত আসে না, এ নতুন কিছু নয়। তাই আপাতত এসব কোন্দলে না পড়ে আমরা নিজেদের ও নিজ নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা প্রদানের দিকেই বেশি মনোযোগী হওয়া উচিৎ। আশা করি বিশ্বে বিরাজমান এ জিকা ভাইরাস আতঙ্ক আমাদের দ্বারপ্রান্তে এসে কখনোই হানা দেবে না।

 

ফাহমিদা ফারজানা অনন্যা
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়