পার্কার সোলার প্রোব: ১২ আগস্ট উৎক্ষেপিত যে মহাকাশযান অর্জন করবে মহাকাশ অভিযাত্রার ইতিহাসের রেকর্ড বেগ

নাসা এবং United Launch Alliance মিলে উৎক্ষেপণ করল সবচেয়ে দ্রুতগামী মহাকাশযান পার্কার সোলার প্রোব। নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে এই স্পেসপ্রোবটি যাত্রা করে সূর্যের দিকে। সম্মিলিত উৎক্ষেপণ জোট বা ইউএলএ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মহাকাশে যান উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অভিজ্ঞ। এই কোম্পানির রয়েছে একাধারে ১২০টি উৎক্ষেপণ পরিচালনা করার রেকর্ড এবং উৎক্ষেপণে ১০০% সফলতা। এ প্রকল্পটির আর্থিক খরচ ১.৫ বিলিয়ন ডলার।

মহাকাশযানটি গতকাল (১১ই আগস্ট ২০১৮) উৎক্ষেপণের কথা ছিল, কিন্তু উৎক্ষেপণের শেষ মিনিটে ত্রুটি ধরা পড়ায় সময় পিছিয়ে দেয়া হয়। উৎক্ষেপণের নতুন সূচি ঠিক করা হয় আজ রবিবার (১২ আগস্ট ২০১৮) ফ্লোড়িডার কেপ ক্যানাভারালের স্থানীয় সময় রাত ৩:৩১ এ। অর্থাৎ, বাংলাদেশের সময় দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে এর উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য সময় এটি উৎক্ষেপিত হয়েছে। পার্কার সোলার প্রোব উৎক্ষেপণের ভিডিও অবলোকন করা যাবে এখানে

এই প্রোবকে মহাকাশে নিয়ে গেছে ইউএলএ এর শক্তিশালী রকেট ডেল্টা IV। আর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৪ এর ডিসেম্বরে পার্কার সোলার প্রোব হবে ইতিহাসের দ্রুততম মহাকাশযান। এ ঘটনাটি ঘটবে যখন প্রোবটি সূর্যের সবচেয়ে কাছে পৌঁছুবে। এ অভিযানের রূটম্যাপ বলছে এটি সূর্য থেকে ৩.৮৩ মিলিয়ন মাইল (৬ মিলিয়ন কিলোমিটার) দূর দিয়ে যাবে। ঐ বিন্দুতে গিয়ে প্রোবটির গতি হবে ৬৯২,০০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। অর্থাৎ সেকেন্ডে ১৯২ কিলোমিটারেরও বেশি।

এ দূরত্ব কত বড় আন্দাজ করতে পৃথিবীর সাথে তুলনা করে দেখা যেতে পারে। এই গতিতে প্রোবটির ওয়াশিংটন ডিসি থেকে টোকিওতে যেতে ১ মিনিটেরও কম সময় লাগত। আর টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া যেতে চার সেকেন্ডের চেয়ে একটু বেশি সময়!

নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে পার্কার সোলার প্রোব টিম প্রোবের পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন তাপীয় বায়ুশূন্য চেম্বারে; Image Credit: Ed Whitman/Johns Hopkins APL/Nasa

পার্কার স্পেসপ্রোবের পেছনে কাজ করা দলটি অবশ্য নির্বিকার এই রেকর্ডভাঙা কাজে। তাদের মনোযোগ নিবদ্ধ অভিযানের খুঁটিনাটিতে। এই প্রজেক্টের ম্যানেজার এন্ড্রু ড্রিসম্যান নিযুক্ত আছেন জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ল্যাবরেটরিতে। তিনি বলেন, “মহাকাশে কোনো কিছু দ্রুতবেগে ছোটার জন্য সেটার ডিজাইন করা যতটা কঠিন তেমনি ধীরে ছোটার ডিজাইন করাও সমান মাত্রার কঠিন। কারণ হল, মহাশূন্যে তো একটা চালু দশাকে ঠেকানোর মত কিছু নেই।”

এ ব্যাপারগুলো অরবিটাল মেকানিক্সে ধারণা থাকলে খুব স্পষ্ট হয়ে যায়। গতি বাড়ানো যেমন সমস্যা, তেমনি মহাকাশযান টিকিয়ে রেখে এমন গতিপথ বাছাই করাও সমস্যা যা ঐ গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে মহাকর্ষের আকর্ষণে বিচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করবে। উল্লেখ্য মহাকাশে কোনো মহাকাশযানের গতিবৃদ্ধির এখনো পর্যন্ত সেরা উপায় হল কোনো গ্রহের বা সূর্যের মাধ্যাকর্ষণক্ষেত্রকে কাজে লাগানো। ড্রিসম্যান অবশ্য মজা করে বলেন, “মহাকাশযান কেবল জানে না এটি যে দ্রুতগতিতে ছুটছে।”

পার্কার সোলার প্রোবের অভিযানের গতিপথ | Image Credit: HORIZONS System, JPL, NASA

যাই হোক, এটা যে নিতান্ত ঝামেলাবিহীন অভিয়ান নয় তা স্পষ্ট। স্পেসপ্রোব না জানলেও, বিজ্ঞানীদের ঠিকই স্পেসপ্রোবকে সম্মুখীন হতে হবে এমন বিবিধ পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখতে হয়। পার্কার সোলার প্রোব অতিদ্রুতবেগে ছোটার সাথে হিসেবে রাখতে হচ্ছে কোন মহাকাশীয় পরিবেশের মধ্য দিয়ে এটি গমন করছে। এটির অভিযানপথে রয়েছে এমন ধুলোময় পরিবেশ যাকে বলা হয় হাইপারভেলোসিটি ডাস্ট এনভায়রনমেন্ট। অর্থাৎ, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বহু ধুলিকণাময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাবে পার্কার।

হাইপারভেলোসিটি অর্থাৎ উচ্চগতি বলতে প্রচলিতভাবে ধরা হয় ৩ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড বেগকে। এই বেগের ফলে দ্রুত ছোটা কণাগুলোর ভরবেগও যথেষ্ঠ মাত্রায় বেশি। ফলে এরা প্রবল ভরবেগে আঘাত করবে পার্কার সোলার প্রোবকে যার কারণে প্রোবের বেগের দিক বিদিকও হয়ে যেতে পারে। আসলে মহাকাশে অল্প আঘাতই বিশাল দূরত্বে ছোটা বস্তুর জন্য যথেষ্ঠ দিক বিদিকের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। এ সমস্যা নিরসণে বিজ্ঞানীরা স্পেসক্রাফটে ব্যবহার করবেন কেভলার কম্বল। এ বিশেষ কম্বল অধিক তাপসহ আর সিন্থেটিক ফাইবারের তৈরি। এ ধরণের ফ্যাব্রিকের বহুল ব্যবহার রয়েছে বুলেট প্রতিরোধী জ্যাকেট, শরীরের বর্ম, বোমার চাদর ইত্যাদি নির্মাণে। অর্থাৎ এই সমাধান বহু আঘাতে টেকসই থাকার সুবিধা দিতে পারছে।

শুক্রের অভিকর্ষকেও পার্কার সোলার প্রোব কাজে লাগাবে। শুক্রের কাছ দিয়ে পার্কার সোলার প্রোব ৭ বার অতিক্রম করবে। সূর্যের দিকে পাঠিয়ে সূর্য ওপাশ দিয়ে প্রোবকে ফেরত আনার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পৃথিবী নিজেই সেকেন্ডে ৩০ কিলোমিটার বেগে দৌড়াচ্ছে, সে অনুসারে এই আদিবেগ পেয়ে যাচ্ছে প্রোব। কিন্তু এটি সূর্যের দিকের সাথে সমকোণে হলে পথ বেঁকে বড় হয়ে যাবে। ফলে সময় লাগবে আরো বেশি, উদ্দিষ্ট লক্ষ্যও টিকবে না। বেগ সংক্রান্ত সমস্যা বুঝতে দেখতে পারেন এই ভিডিওটি।

 

অভিযানের পথ অনুযায়ী, পার্কার সোলার প্রোব যখন সূর্যের সবচেয়ে নিকট বিন্দু দিয়ে যাবে তখন এর বেগ হবে ভয়েজার ১ এর বেগেরও দশগুণের বেশি। ভয়েজার ১ উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল ১৯৭৭ এ, পাঁচ বছর আগে এটি সৌরজগতের বাইরে চলে গিয়েছে। প্রক্সিমা সেন্টরাইয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঘণ্টায় ৬১,০০০ কিলোমিটার বেগে

 

পার্কার সোলার প্রোবের গতিপথে শুক্রের এবং সূর্যের অভিকর্ষ যেভাবে ব্যবহার করে উচ্চগতি অর্জিত হবে; Image Credit: Guardian graphic | Source: The Johns Hopkins University Applied Physics Laboratory

স্বাভাবিক হিসেবে গতি অর্জনের কৌশলের দিক থেকে ভয়েজার ১-ই ইতিহাসখ্যাত। তবে ২০১৬ এর জুলাইতে নাসার জুনো প্রোব বৃহস্পতির অভিকর্ষের প্রভাবে কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে বৃহস্পতির গ্যাসীয় জমিনে পড়ে ধ্বংস হয়। তখন এর বেগ পৌঁছে গিয়েছিল ঘণ্টায় ২৬৬,০০০ কিলোমিটারে। এ গতিবেগ কাজে না লাগলেও কতদূর অর্জনযোগ্য এটার একটা নমুনা পাওয়া গিয়েছিল।

গ্রহের অভিকর্ষকে ব্যবহার না করে, কেবল সূর্যের অভিকর্ষকে ব্যবহার করে রেকর্ডধারী স্পেসক্রাফট দুটি হল হেলিওস I এবং II. ১৯৭০ এর দশকে এরা উৎক্ষেপিত হয়েছিল। বুধ সূর্যের যত কাছে হেলিওস মহাকাশযান-যুগল তার চেয়েও কাছে প্রবেশ করেছিল। এরা অর্জন করেছিল ঘণ্টায় ২৪১,০০০ কিলোমিটার বেগ বা সেকেন্ডে ৭০ কিলোমিটার।

পার্কার সোলার প্রোব দৃশ্যমান সৌরপৃষ্ঠ থেকে চার মিলিয়ন মাইল (৬.৪ মিলিয়ন কিলোমিটার) নিকট দিয়ে যাবে। ফলে হেলিওসের চেয়েও প্রায় তিনগুণ বেগে দৌঁড়াবে এটি। সূর্যের উত্তাপকে আরেক ধাপ এগিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথে অভিযাত্রা শুরু হয়ে গেছে… গতি অর্জন মানে তো আমাদের স্বপ্নে আশার সঞ্চার… বহুদূর ছুটে যেতে।

 

তথ্যসূত্র:

  1. https://www.space.com/41447-parker-solar-probe-fastest-spacecraft-ever.html
  2. https://www.theguardian.com/science/2018/aug/10/mission-to-touch-the-sun-nasa-to-launch-parker-solar-probe
  3. https://blogs.scientificamerican.com/life-unbounded/the-fastest-spacecraft-ever/
  4. https://www.space.com/41461-parker-solar-probe-launch-delayed.html
  5. https://voyager.jpl.nasa.gov/mission/status/

জীবন্ত কম্পিউটারেরাঃ যাদের হাত ধরে আমাদের মহাকাশ বিজয়

বিজ্ঞানের সবচাইতে বড় সাফল্য সম্ভবত আমাদের এই সভ্যতার পরিধিকে এই পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে অনন্ত অসীম মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত করা। মহাকাশে আজ আমরা হাজার হাজার আলোকবর্ষ নিয়ে কাজ করছি,মহাকাশযান পাঠিয়ে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধান করছি,উপনিবেশ স্থাপনের চিন্তা করছি, ভিনগ্রহের প্রাণিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। এসবের পিছনে রয়েছে হাজার মানুষের অবিশ্রান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ,মেধা। তাদের অনেকেই ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয়। দুর্ভাগ্যক্রমে অনেককেই ভুলে গেছি আমরা, অনেকেই পাননি তাদের প্রাপ্য মর্যাদা।

আজ আমরা কিছু ভুলে যাওয়া মানুষের কথা বলব যাদের অবদান ছাড়া বর্তমান অবস্থায় আমরা মহাকাশ প্রযুক্তিকে নিয়ে আসতে পারতাম না।

মহাকাশ যাত্রার জন্য হাজার হাজার জটিল গাণিতিক হিসাবের প্রয়োজন হয় যা আজকের দিনে সুপার কম্পিউটার দিয়ে অনায়াসে করা যায়। কিন্তু যখন কম্পিউটার মাত্র বিকাশের পথে, নির্ভরযোগ্য ছিল না, ক্যালকুলেটরগুলো সামান্য কিছু ফাংশন ছাড়া কিছুই হিসাব করতে পারত না, তখন কীভাবে সম্ভব হয়েছিল মহাকাশ যাত্রা?

scientists calculating trajectories manually

১৯৪০ এবং পঞ্চাশের দশকে এই কাজগুলা করতেন একদল “কম্পিউটার”, যারা কোনো যন্ত্র ছিলেন না, কিছু পুরুষ এবং মহিলা যারা দ্রুত হিসাব করতে পারদর্শী ছিলেন তারাই এই কাজগুলা করতেন। তাদের কাজ ছিল মহাকাশযানের গতিপথ ও বেগ নির্ণয় করা, পেন্সিল আর কাগজ নিয়ে সেইগুলা লেখচিত্রে বসানো, রকেটের ডিজাইন পরিবর্তন ইত্যাদি।এদের কারণেই সম্ভব হয়েছিল প্রথম আমেরিকান স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা

Group photo, 1953, rocket girls or “computresses” courtesy: JPL,NASA

পরবর্তীতে নারীদের জন্য আলাদা দল গঠন করা হয়।এরা কাজ করতেন নাসার Jet Propulsion Laboratory(JPL),Pasadena, California তে।এই নারীদের একজন ছিলেন Macie Roberts।তাকে ১৯৪২ সালে গ্রুপ তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। ঘরোয়া পরিবেশ সৃষ্টি, ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি আর পুরুষদের সেই যুগের অসহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

এই মেয়েরা সবাই কিন্তু ব্যাচেলর ডিগ্রি ধারী ছিলেন না।কেউ কেউ স্নাতক শেষ করেন নি আবার Janez Lawson(JPL এ কাজ করা প্রথম আফ্রো আমেরিকান মহিলা) ছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক কিন্তু তাকে নেয়া হয়েছিল কম্পিউটার হিসাবে।তার অবদানে আর উৎসাহে Sylvia Miller এর মত নারীরা উঠে আসতে পেরেছিলেন যিনি শেষ পর্যন্ত Mars Program Office এর ডিরেক্টর হয়েছিলেন।

Susan Finley(নাসার সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের মহিলা কর্মী ),Barbara Pulson, Elenor Frances (১৯৫৯ সালে পুরস্কৃত হয়েছিলেন), Helen Ling( মহাকাশযান Mariner এ কাজ করেন computing supervisor হিসাবে),Dana Uleiri( ইঞ্জিনিয়ার,Mars mission tracking team), Katherine Johnson(চাঁদে যাওয়ার প্রথম গতিপথ হিসাব করেছিলেন )

SYLVIA MILLER

মেয়েদের এখানে কাজ করা সহজ ছিল না, পরিবেশ ছিল প্রতিকূল, গর্ভাবস্থা জানতে পারলেই ছাঁটাই করা হত, ফিরে আসার নিশ্চয়তা ছিল না।পরিবার আর সন্তানদের সামলে কাজ করতেন অক্লান্তভাবে। তারা ছুটির সময় জমিয়ে রাখতেন যাতে সন্তান জন্মের পর কোনো অতিরিক্ত ছুটি ছাড়াই কাজে যোগদান করতে পারেন।সেসময় সন্তানসহ নারীরা বাইরে তেমন কাজ করতে পারতেন না।এই মহীয়সী মেয়েরা Werner Van Braun, Carl Sagan, Richard Feinmann এর মত মানুষদের পাশে কাজ করে গেছেন নিরবে।

Macie Roberts এর ভাষায় “They had to look like a girl, act like a lady, think like a man, and work like a dog”.

A human computer tracking spacecraft position on graph

কিন্তু তাদের এই অবদান স্বীকৃতি পায়নি, IBM কম্পিউটার আসার পর বেশিরভাগই চাকরি হারান। আর নাসা নতুন নিয়ম করে যে ব্যাচেলর ডিগ্রী ছাড়া কেউ চাকরি করতে পারবেন না। তাদের তথ্য আর্কাইভ jet propulsion laboratory রাখা হয়নি।এমনকি ২০০৮ সালে আমেরিকান স্পেস স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ৫০ তম বার্ষিকীতে তাদের আমন্ত্রন করতে ভুলে গিয়েছিল !

Human computers in workplace, standing one behind all is supervisor Macie Roberts; COURTESY :JPL,NASA.

তাদের এই ভুলে যাওয়া ইতিহাসকে সামনে নিয়ে এসেছেন জীববিজ্ঞানী ও লেখিকা Nathalia Holt।তিনি তার বইতে এই ক্ষণজন্মা, অসীম মানসিক শক্তির অধিকারী, সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে কাজ করা নারীদের কথা তুলে ধরেছেন। তার “The Rise of Rocket Girls, The women Who propelled us from missiles to the moon to mars’’ বইতে স্থান পেয়েছে তাদের ব্যক্তিগত জীবন, প্রতিকূলতা, অদম্য মানবীয় প্রেরনা যা তাদের এই সুবিশাল কর্মযজ্ঞ কে উৎসাহিত করেছে আর যার প্রত্যক্ষ ফল আজকের “মহাকাশ যুগ”।

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন Popular Science লিখেছে,“The [women’s] stories are fun, intense, and endearing, and they give a new perspective on the rise of the space age”

বইটির রিভিউতে Usa Today লিখেছে, “Illuminating… these women are vividly depicted at work, at play, in and out of love, raising children — and making history. What a team — and what a story!”

হয়ত তাদের নাম বড় বড় বিজ্ঞানীদের সাথে উচ্চারিত হবে না,নতুন প্রজন্ম তাদের নিয়ে জানতেও চাইবে না কিন্তু তাদের এই অবদান মানবসভ্যতার অগ্রগমনে মাইলফলক হয়ে থাকবে,অনুপ্রাণিত করবে অনন্তকাল।

তথ্যসূত্রঃ

  1. https//en.wikipedia.org/wiki/Jet_Propulsion_Laboratory
  2. 2.news.national geographic.com/2016/05/160508
  3. The secret history of the woman who got us beyond the moon(18 may,2016)
  4. www.nathaliaholt.com/rise of rocket girl
  5. www.amazon.com/Rise-Rocket –Girls-Propelled- Missile
  6. www.jpl.nasa.gov/jplhistory/early/index.php
  7. www.thinkprogress.org//incredible story and NASA’s forgotten girls

ইউরি গ্যাগারিনঃ মহাকাশের প্রথম নায়ক

ইউরি গ্যাগারিন। একজন সোভিয়েত বৈমানিক এবং নভোচারী। তিনিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ভস্টক নভোযানে করে ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল, পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করেন।

গ্যাগারিন এর ফলে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নায়কে পরিণত হন। দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কার এবং পদক লাভ করেন। ভস্টক ১ তার একমাত্র মহাকাশ যাত্রা হলেও, তিনি সুয়োজ ১ মিশনের ব্যাকআপ হিসেবে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন (যা একটি ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল)। ১৯৬৮ সালে একটি মিগ ১৫ প্রশিক্ষণ বিমান চালনার সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।

featured image: roblox.com

ভ্যালেন্টিনা তারাস্কোভাঃ পৃথিবীর প্রথম নারী মহাকাশচারী

ভ্যালেন্টিনা তারাস্কোভা। বিশ্বের প্রথম নারী হিসেবে তিনি মহাশূন্যে পরিভ্রমণ করেন। ১৯৬৩ সালের ১৬ জুনে উৎক্ষেপণকৃত ভস্তক ৬ মহাকাশযানে তিনি এ কীর্তি গড়েন। চার শতাধিক আগ্রহী নারীদের মধ্য থেকে তিনি ও অন্য চারজন নারী ঐ মহাশূন্য অভিযানে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। নভোচারী দলে যোগদানের ফলে সোভিয়েত বিমানবাহিনীতে একমাত্র সম্মানসূচক ও প্রথম বেসামরিক ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশ গমনের সৌভাগ্য অর্জন করেন।

featured image: women.com

ভয়েজার মহাকাশযানের আদি-অন্ত

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে অবস্থান করেই শত আলোকবর্ষ দূরের নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিন্তু মানুষের প্রেরিত কোনো বস্তু সেই তুলনায় খুব অল্প দূরত্বই অতিক্রম করতে পেরেছে। মানুষের প্রেরিত কোনো বস্তুর মাঝে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে মহাকাশযান ভয়েজার-১ ও ভয়েজার-২। এ দুটি যান সৌরজগতের সীমানা শেষ করে এখন অনন্ত নক্ষত্রবীথির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

ভয়েজার আজ সৌরজগতের সীমানা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শুরুতে এর উদ্দেশ্য একদমই এরকম ছিল না। বৃহস্পতি ও শনি গ্রহ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভয়েজার-১ কে আগস্ট ১৯৭৭ সালে ও ভয়েজার-২ কে একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে উৎক্ষেপণ করা হয়।

মার্চ ১৯৭৯ সালে ভয়েজার-১ বৃহস্পতি গ্রহ ও নভেম্বর ১৯৮০ সালে শনি গ্রহ অতিক্রম করে। জুলাই ১৯৭৯ সালে ভয়েজার-২ বৃহস্পতি গ্রহ ও আগস্ট ১৯৮১ সালে শনি গ্রহ অতিক্রম করে। পরবর্তীতে এটি প্রথম মহাকাশযান হিসেবে ১৯৮৬ সালের জানুয়ারিতে ইউরেনাস এবং ১৯৮৯ সালের আগস্টে নেপচুন পর্যবেক্ষণ করে।

মিশন দুটির সাফল্যও অনেক। এ পর্যন্ত তাদের যাত্রাপথে ২৫ টি নতুন উপগ্রহ শনাক্ত করেছে, বৃহস্পতির চাঁদে আগ্নেয়গিরি আবিষ্কার করেছে, চারটি গ্রহের (বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন) বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক ও ভূত্বাত্তিক গঠনের বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেছে এবং সূর্য হতে নির্গত চার্জিত কণা যা সোলার উইন্ড নামে পরিচিত, সেটির বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেছে। এসকল তথ্য আমাদের নতুন ধারণা দেয়।

এতো সাফল্যের পরও সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যটি এখনো আসেনি। সেটি হলো ভিন গ্রহের প্রাণীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা। ১৯৯০ সালে ভয়েজার-১ ও ভয়েজার-২ কে সৌরজগতের বাইরের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন মিশনে যুক্ত করা হয়। দুটি মহাকাশযানকে দুই ভিন্ন দিকে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য আমরা যেন সৌরজগতের বাইরের বিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারি এবং যদি কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর সন্ধান পাওয়া যায় তাহলে তাদেরকে যেন আমাদের পৃথিবী সম্পর্কে জানাতে পারি।

দুটো মহাকাশযানের ভেতরেই স্বর্ণের ডিস্কের ভেতর সুরক্ষিত গ্রামোফোন রেকর্ড আছে। এতে বাংলা সহ ৫৪ টি ভাষায় শুভেচ্ছা, বিভিন্ন সংষ্কৃতির ভিন্ন ভিন্ন যুগের কিছু গানের নমুনা এবং পৃথিবীতে সৃষ্ট প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট শব্দ অন্তর্ভূক্ত করা আছে। এছাড়াও ১১৭ টি ছবি সংযুক্ত আছে যেখানে পৃথিবী সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেয়া আছে। এই ডিস্কে কিছু ইলেকট্রনিক তথ্যও দেয়া আছে যেন উন্নত প্রযুক্তির প্রাণী থাকলে তারা সেগুলোকে ডায়াগ্রাম ও ছবিতে রূপান্তর করতে পারে।

চিত্রঃ ভয়েজারে স্বর্ণের আবরণ; image source: smithsonianmag.com

ডিস্কগুলো স্বর্ণের প্রলেপ যুক্ত এলুমিনিয়ামের আবরণে সুরক্ষিত। মহাকাশের ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ডের আঘাতে যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য এই ব্যবস্থা। এছাড়াও আবরণের ভেতর ও বাইরে রেকর্ড বাজানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডায়াগ্রাম অংকিত আছে। বাইরের ডায়াগ্রাম সময়ের সাথে ক্ষয় হয়ে যেতে পারে, তাই এই ব্যবস্থা। চাইলে ভয়েজারে প্রদত্ত ছবি ও রেকর্ডগুলো সকলেই দেখতে ও শুনতে পারবে। তার জন্য এই ঠিকানায় যেতে হবে http://voyager.jpl.nasa.gov/

১৯৯৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারিতে ভয়েজার-১ সূর্য হতে ১০.৪ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। এটি মানুষের তৈরি কোনো বস্তুর জন্য প্রথম অতিক্রান্ত সর্বোচ্চ দূরত্ব। মগায়াজিনটি হাতে নিয়ে আমরা ১ থেকে ৩ বলার সাথে সাথে ভয়েজার-১ প্রায় ৫২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ফেলছে।

এটি সূর্যের সাপেক্ষে সেকেন্ডে প্রায় ১৭.৩ কিলোমিটার গতিতে ছুটছে। সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে ভয়েজার-২ সূর্য হতে প্রায় ১৬.৮২ বিলিয়ন কিলোমিটার এবং ভয়েজার-১ প্রায় ২০.৪১ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। সৌরজগৎ থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারিতে পৌছাতে ভয়েজার-১ এর ৭০ হাজার বছর সময় লাগবে!

সৌরজগতে যতদূর পর্যন্ত সূর্যের প্রভাব আছে সেই অঞ্চলকে বলা হয় Heliosphere। এই অঞ্চল প্লুটোর কক্ষপথ থেকেও আরো দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে নাসা ঘোষণা করে, ভয়েজার-১ Heliosphere থেকে বের হয়ে গেছে। সেই থেকে এটি আমাদের সৌরজগতের সীমানা পেরিয়ে অনন্ত নক্ষত্রবীথির পাণে ধাবমান। মানবজাতির জন্য এটি অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

তথ্যসূত্র

  1. http://voyager.jpl.nasa.gov/
  2. http://www.heavens-above.com
  3. http://en.wikipedia.org/wiki/Heliosphere

featured image: irishtimes.com

মহাকাশে নারী মহাকাশচারীর ঋতুস্রাব জটিলতা

নাসার শুরুর দিকের কাহিনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নাসার প্রকৌশলীদের কাছে নারী মহাকাশচারীদের পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব ছিল বড় ধরনের এক চিন্তার বিষয়। স্যালী রাইড ছিলেন আমেরিকার প্রথম নারী মহাকাশচারী যিনি ১৯৮৩ সালে মহাশূন্যে ভ্রমণ করেন। সাধারণত মহাকাশ ভ্রমণ পরিকল্পনার জন্য অসংখ্য বিষয় মাথায় রাখতে হয়। অসংখ্য বিষয়ের মাঝে ছিল না নারী সংক্রান্ত বিষয়। যেমন টেমপন (তুলার পট্টি) বা স্যানিটারী ন্যাপকিনের বিষয়টি কেবল তখনই মাথায় আসে যখন দেখা যায় মহাকাশচারী একজন নারী। ঠিক করা হলো স্যালি রাইডের এ মিশনের জন্য স্যানিটারী প্যাডের একটা বিশাল সরবরাহ পাঠানো হবে (এক সপ্তাহের জন্য ১০০ টেমপন)। কারণ প্রকৌশলীরা জানতেন না মহাশূন্য নারীর ঋতুস্রাব কেমন আচরণ করবে।

Image result for sally ride
স্যালি রাইড

নাসার মেডিকেল কর্মকর্তারা অনেক সন্দিহান ছিলেন মধ্যাকর্ষণ বল পিরিয়ডের উপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে। কী ঘটবে যখন মহাকাশে অবস্থানরত নারীর ঋতুস্রাব হবে? কী কী সম্ভাব্য অসুবিধা ও জটিলতা তৈরি করতে পারে সেখানে? এত ভাবনা ও প্রস্তুতির পর দেখা গেল, পৃথিবীতে ঋতুস্রাব আর মহাকাশে ঋতুস্রাবের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। যুগ যুগ ধরে এখন নারী মহাকাশচারীরা শূন্যে অবস্থান ও কাজ করে আসছেন কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা ছাড়াই।

তবে একটি সমস্যা কিন্তু রয়েই গিয়েছে। আজ পর্যন্ত যত মহাকাশ ভ্রমণ এবং এ সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে সবই অল্প দূরত্বে ভ্রমণের ক্ষেত্রে। গবেষকরা এখন নতুন চিন্তায় পড়েছেন যখন দীর্ঘ যাত্রা হবে তখন কী হবে? ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঋতুস্রাবের রক্ত নেয়ার মতো পরিকল্পনা করে বানানো নয়। কারণ এখানের টয়লেট সিস্টেম Water Reclamation System এর সাথে সংযোগ করা। যেখানে প্রস্রাবকে রিসাইকেল করে আবার খাবার উপযোগী পানিতে পরিবর্তন করা হয়।

Water Reclamation System in space

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাও এখানে খুব একটা উপযোগী নয়। কারণ এখানে নেই গোসলের সুব্যবস্থা, নেই পানির অফুরন্ত যোগান। সুতরাং পৃথিবীর মতো উপায়ে মহাকাশে চিন্তা করলে চলছে না। যার কারণে নারী মহাকাশচারীরা গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট বা বড়ি খাওয়ার দিকেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর ফলে মহাকাশ ভ্রমণ এবং প্রশিক্ষণ উভয় সময়েই তাদের ঋতুস্রাব বন্ধ থাকে।সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ট্যাবলেটগুলোর মাঝে অন্যতম হলো প্রোজেস্টেরন ট্যাবলেট।

দ্বিতীয় ব্যবহারবহুল পদ্ধতিটি হচ্ছে IUCD (Intra Uterine Contraceptive Device)। যেটি একজন ডাক্তারের সাহায্যে জরায়ুতে স্থাপন করা হয় এবং ৩-৫ বছর সহজেই সমস্যাবিহীন ভাবে জরায়ুতে থাকতে পারে। তবে সেটি পিরিয়ড বন্ধ করবে কিনা তা নির্ভর করে কোন ধরনের IUCD ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর। ২ ধরনের IUCD রয়েছে। ১) হরমনবিহীন; ও ২) হরমোনযুক্ত। হরমোনযুক্ত IUCD ব্যবহার করলে তা পিরিয়ড বন্ধ রাখতে সক্ষম।

 

এরপর আছে ইনজেকশন পদ্ধতিতে। বিশেষ করে ডেপো শট। ‘ডেপো প্রভেরা’ নামক একটি ইনজেকশন রয়েছে যা প্রজেস্টেরনের সমকক্ষ। এটি প্রতি ১২ সপ্তাহে একবার করে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দিতে হয় এবং ২-৩ বছর পর্যন্ত সমস্যাবিহীনভাবে ব্যবহার করা যায়। ফ্লোরিডার গাইনী বিশষজ্ঞ ‘ক্রিস্টিন জ্যাকসন’-এর মতে বিশেষ ক্ষেত্রগুলোতে পিরিয়ড বন্ধ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো জন্মনিরোধক পিল অথবা IUCD। তিনি বলেন, “মেয়েদের পিরিয়ড বন্ধ রাখার এ দুটিই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। অসংখ্য মেয়েরা তাদের পিরিয়ডের সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং এর এমন কোনো জরুরী কারণ নেই যে প্রতি মাসেই একজন মেয়ের পিরিয়ড হতে হবে”

তবে কোন পদ্ধতিটি অন্য পদ্ধতির তুলনায় ভালো, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কারণ প্রতিটি নারীই একজন আরেকজন থেকে আলাদা। যা একজনের উপর ভালোভাবে কাজ করে তা আরেকজনের উপর নাও করতে পারে। আবার ক্ষেত্র বিশেষে পদ্ধতির পরিবর্তন হয়। যেমনঃ ডেপো শট যারা ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা যায়। মহাকাশে অবস্থানরত ব্যাক্তিদের মধ্যে হাড় ক্ষয়ে যাওয়া এমনিতেই একটি চিন্তার বিষয়, তার উপর কেউ যদি ডেপো শট ব্যবহার করে তাহলে তা আরো বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। তাই মহাকাশচারীদের ক্ষেত্রে ডেপো শট ব্যবহার না করাই ভালো।

লন্ডনের কিংস কলেজের একটি গবেষণাপত্রে লেখক Varsha Jain বলেন, “সামরিক বাহিনীতে যেসব মহিলা কর্মরত থাকেন, তারাই তাদের মিশন বা প্রশিক্ষণের সময় পিরিয়ড বন্ধ রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আর মহাকাশচারীদের ব্যাপার, যেখানে জীবন খুব সুবিধার না সেখানে এটি বন্ধ করতে চাওয়া খুবই স্বাভাবিক”

আরেক দল গবেষক আরেকটি সমস্যা খুঁজে বের করলেন। তিন বছরের সরবরাহের জন্য এতগুলো জন্মনিরোধক ট্যাবলেট বহন করে শূন্যে নিয়ে যাওয়া কিন্তু সহজ বিষয় নয়। তিন বছরের জন্য কম করে হলেও এক হাজার ট্যাবলেট প্রয়োজন এবং সেগুলোর প্যাকেজিং করতে আরো কিছু অতিরিক্ত জিনিসপত্র লাগবে। তাছাড়া জন্মনিরোধক পিলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়। সুতরাং মহাকাশচারী নারীদের জন্য IUCD বা Implant সবচেয়ে ভাল ও কার্যকর উপায়। এগুলোর কোনো অতিরিক্ত ঝামেলা নেই। মহাকাশ মিশনের আগে আগে এগুলো করে ফেললে পৃথিবীতে ফিরে না আসা পর্যন্ত আর কোনো চিন্তাও নেই।

মহাকাশে হাড় ক্ষয়ে যাওয়া বা হরমোনের প্রভাব আরো ভাল করে বোঝার জন্য আরো গবেষণা দরকার। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, এ সম্পর্কে যত তাড়াতাড়ি জানা যায় ততোই ভাল। তাহলে হয়ত মানুষ নতুন একটি পৃথিবীতে বসবাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরো একধাপ এগিয়ে যেতে পারবে।

তথ্যসূত্র: সায়েন্স এলার্ট