মূত্র থেকে প্লাস্টিক

মহাকাশ নিয়ে মানবজাতির তুমুল আগ্রহ। তারই ধারাবাহিকতায় স্পেস-এক্স এর তত্ত্বাবধায়নে এগিয়ে যাচ্ছে মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের প্রস্ততি। মঙ্গল গ্রহে যাত্রা কিংবা অন্য যেকোনো গ্রহে যাত্রা যথেষ্ট দীর্ঘ হবে। সেখানে অবশ্যই থাকবে বস্তু ও সরঞ্জামের সমস্যা। তাই সকল বস্তু পূণর্ব্যবহা্রের জন্য নভোচারীদের প্রস্তুত থাকতে হয়।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানরত নভোচারীরা মূত্র থেকে বিশুদ্ধকরণের মাধ্যমে প্রাপ্ত পানি পান করে থাকেন। মঙ্গল গ্রহের দীর্ঘ যাত্রায় সফল হতে চাইলে নভোচারীদের কাছে বিদ্যমান সবকিছুর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই সাউথ ক্যারোলিনার ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এমন এক প্রক্রিয়া তৈরি করেছেন যার মাধ্যমে মূত্র ও নিঃশ্বাসের সাথে ত্যাগ করা কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে প্লাস্টিক বানানো সম্ভব।

এ প্রক্রিয়ায় Yarrowia lipolytica  নামক ইস্ট ব্যবহার করা হয়। শুরুতে মূত্র থেকে প্রাপ্ত নাইট্রোজেন ও নিঃশ্বাস থেকে প্রাপ্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড ইস্টকে প্রদান করা হয়। ইস্টকে এমনভাবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারং করা হয়েছে যেন তা নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণের পর পলিএস্টার মনোমার তৈরী করে। এসকল মনোমার থেকে তৈরী হয় প্লাস্টিক পলিমার। প্রাপ্ত প্লাস্টিক একটি থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে ব্যবহার্য বস্তু তৈরীতে ব্যবহৃত হয়।

চিত্র: ঈস্ট ব্যবহার করে মূত্র ও কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে প্লাস্টিক উৎপাদন

উক্ত ইস্টের ভিন্ন একটি স্ট্রেইন অনুরূপ প্রক্রিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে  মূত্র ও কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড উৎপাদনে সক্ষম। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড মানবদেহের জন্য অপরিহার্য এক উপাদান যা আমরা নিজেরা তৈরী করতে পারি না, খাদ্যবস্তু থেকে পাই।

নিঃশ্বাস থেকে প্রাপ্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড ইস্টের গ্রহণ উপযোগী করার জন্য সায়নোব্যাকটেরিয়া বা শৈবাল ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র: BBC Focus