আগামী ২০০ বছরের মাঝে হয়ত গরুই হবে ভূ-পৃষ্ঠের সর্ববৃহৎ স্তন্যপায়ী

১৩,০০০ বছর পূর্বে উত্তর আমেরিকায় ছিল বর্তমান আফ্রিকার চেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ স্তন্যপায়ীর সমাহার। ছিল বহু সংখ্যক প্রজাতির ঘোড়া, উট, লামা আর বর্তমানে বিলুপ্ত এক প্রাণী গ্লিপ্টোডন যা ছিল আর্মাডিলোর আকারের। ছিল স্মাইলোডন নামের এক ধরনের বাঁকানো লম্বাটে দাঁতের বিড়াল— আমাদের দেখা আফ্রিকান সিংহের মত বড় হবে। এরা তৃণভূমি জুড়ে স্লথ আর ম্যামথের খোঁজে গুপ্তভাবে বিচরণ করত। সাত ফুট দীর্ঘ ভোঁদড় তাদের খাবার সারত বড় বড় গাছে। আর এমন বড় প্রাণী কেবল উত্তর আমেরিকাতেই ছিল না। প্লাইস্টোসিন যুগের শেষের দিকে প্রতি মহাদেশেই গড়পড়তার চেয়ে বৃহত্তর স্তন্যপায়ীর বিচরণ ছিল। এ যুগ বিদ্যমান ছিল ২৫ লক্ষ বছর পূর্ব থেকে ১১,৭০০ বছর পূর্ব পর্যন্ত।

আর্মাডিলোর মত দেখতে গ্লিপ্টোডন
লম্বাটে দাঁতের শিকারী- স্মাইলোডন

বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে কী কারণে এ সকল অতিকায়দেহী স্তন্যপায়ীরা বিলুপ্ত হয়ে গেছে যেখানে তাদের চেয়ে ক্ষুদ্রতর আকারওয়ালারা ঠিকই টিকে গেছে। ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকো একদল গবেষক জীববিজ্ঞানী ফেলিসা স্মিথের নেতৃত্বে কয়েক মিলিয়ন বছরের স্তন্যপায়ীদের বিলুপ্তির কারণ, প্রামাণ্য তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। আর একটু অবাক করে দিয়েই বিশ্লেষণ থেকে বেরিয়ে এল মানুষের সংশ্লিষ্টতার গল্প। প্রতিটি মহাদেশে অতিকায় স্তন্যপায়ীদের বিলুপ্তি ঘটতে থাকার সময় আর মানুষের ঐ মহাদেশীয় ভূখণ্ডে প্রতাপ অর্জন সমসাময়িক। তাদের এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় সায়েন্স জার্নালে। [অত্যুৎসাহীরা এখান থেকে পড়তে পারেন।]

গণবিলুপ্তি যদি দ্রুতগতিতে ঘটতে থাকে আধুনিক হাতি, গণ্ডার, জিরাফ, জলহস্তী, বাইসন, বাঘ আর এমন বহু বৃহদাকার স্তন্যপায়ী শীঘ্রই হারিয়ে যাবে। প্রাথমিক শংকা তৈরি হয়ে গেছে মানুষ যখন থেকে অধিক পরিমাণে পশু শিকার, ধ্বংস ও বিবিধ কারণে হত্যায় নেমেছে তখন থেকেই। শিকারের বাইরে রয়েছে বাসস্থান ধ্বংস, বিচ্ছিন্ন করে দেয়া ইত্যাদি। ফেলিসা স্মিথের গবেষণা বলছে এখন থেকে ২০০ বছর পর স্থলজ বৃহত্তম স্তন্যপায়ী প্রাণী হবে গৃহপালিত গরু।

কোনো কোনো বিজ্ঞানী এই দায় সম্পূর্ণরূপে মানুষের ঘাড়ে আরোপ করেন, অধিক পরিমাণে শিকার এ পৃথিবীর প্রাণীজগতকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের হোমিনিড গোত্রের আত্মীয় হোমো ইরেকটাসরা (Homo erectus) আফ্রিকা থেকে ইউরেশিয়ায় চলে এসেছিল দুই মিলিয়ন বছর আগে। সেই বিস্তরণে বিচরণের পথ অনুসরণ করেছি আমরা হোমো সেপিয়েন্সরা (Homo sapiens) ৬০,০০০ থেকে ৮০,০০০ বছর আগে। এই বিস্তরণ মিশে যায়  আমাদের নিকটভাতৃকুল নিয়ানডার্থাল (Homo neanderthalensis) এবং ডেনিসোভান্সদের (Denisovans) সাথে। এটা ধরে নেয়া হয়, হোমো সেপিয়েন্সরা ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ বছর পূর্বে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে যায় আর ১৩,০০০-১৫,০০০ বছর পূর্বে আমেরিকা মহাদেশে বসতি স্থাপন করে ফেলে।

মানুষের মহাদেশীয় বিস্তরণপথ; Source: Wikipedia, User:Altaileopard. 

স্তন্যপায়ীদের বিলুপ্তির সময়কালে বৃহদাকার প্রাণীরা হারিয়ে যেতে শুরু করে যখন মানুষ বা তাদের সগোত্রীয়রা শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকে। কিন্তু এ ব্যাপারটি কি কাকতালীয় হতে পারে? হয়ত দু’পক্ষের ঘটনাই সমসাময়িকভাবে হচ্ছিল কিন্তু একটির ওপর আরেকটির দায় ছিল না। এ ধারণার মূলে যুক্তি দেয়া হয় গণবিলুপ্তির পেছনে সবচেয়ে বড় দায় জলবায়ুর পরিবর্তনকে।

তাদের নতুন গবেষণায় স্মিথ এবং তার দল ৬৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে অর্থাৎ যখন পৃথিবীর প্রানীজগতের নিশ্চিত গণবিলুপ্তি ঘটেছে তখন থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল স্থলজ প্রাণীর বিস্তার-বিচরণের তথ্যউপাত্ত তৈরি করেছেন। আর প্রতি এক মিলিয়ন বছরকে বিশ্লেষণের জন্য সাজিয়ে নিয়েছেন। অর্থাৎ সব ধরণের প্রাণীর তথ্য উপাত্ত ধারাবাহিক সময়ের সাথে তুলনা করেছেন। অতএব যদি কোনো আকস্মিক জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে থাকে এই ৬৫ মিলিয়ন বছরের মধ্যে তবে সেটা ধরা পড়বে। কিন্তু বিশ্লেষণে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে স্তন্যপায়ী বিলুপ্তির লক্ষণ খুঁজে পাননি।

কিন্তু ১,২৫,০০০ বছর পূর্ব থেকে এখন পর্যন্ত বৃহদাকার প্রাণীদের বিলুপ্তি ক্ষুদ্রাকারদের তুলনায় বেশি। ফলত, স্তন্যপায়ীদের টিকে থাকার গড় আকার কমেছে। সুতরাং ঐ বড় স্তন্যপায়ী বিলুপ্তির সাথে মানুষের রাজ্যগ্রাস আবির্ভাবকে সম্পর্কিত করার প্রশ্ন আবার উঠে আসছে।

উত্তর আমেরিকায় মানুষের পা রাখার পূর্বে স্তন্যপায়ীদের গড় ওজন ছিল ৯৮ কেজি। এখন গড় মাত্র ৮ কেজি! আমাদের উপমহাদেশের লাল বাঁদরের (Rhesus Monkey) সমতুল আকারের। অর্থাৎ আমরা বেশ বড়সড় মানের কয়েক ধাপ স্তন্যপায়ীর সংস্থান হারিয়ে যাওয়ার তথ্য পাচ্ছি। অধিকাংশ স্তন্যপায়ীদের বিবর্তনীয় ইতিহাস কিন্তু এর বিলুপ্তির জন্য এর এর আকারের কথা বলে না। বিবর্তনবাদে এটা স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত। সে হিসেবে বড় স্তন্যপায়ীদের সাথে মানুষের সহাবস্থানের সূত্রই উঠে আসে।

এই গবেষণা আবার এটাও কিন্তু বোঝাচ্ছে না যে, জলবায়ু সংক্রান্ত পরিবর্তনে বন্যপ্রাণীর সংকট তৈরি করবে না। বরং পূর্বের ঘটনার কারণ যে জলবায়ুর পরিবর্তন নয় তাই প্রতীয়মান করে, অর্থাৎ বর্তমানে মানুষের আগ্রাসন ও জলবায়ু ক্রমশ পরিবর্তন প্রাণীজগতের পতনকে আরো ত্বরান্বিত করে। যে কয়েকদল প্রাণী ইউরেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকায় বিবর্তিত হতে পেরেছিল অস্ত্র-সস্ত্রে শিকারী, আগুন দক্ষতা, দলবেঁধে বাস করা মানুষের কাছে তারাও নতুন হুমকি হয়ে উঠল। সোজাসুজিভাবে এই দু-পেয়ে মানুষের সক্ষমতার সাথে তাদের বিবর্তনীয় টিকে থাকার লড়াই দ্রুত অভিযোজিত হতে পারেনি।

স্মিথের গবেষণায় আফ্রিকার সাথে ইউরেশিয়ার হোমিনিডদের বিস্তরণের তুলনায় স্তন্যপায়ীদের আকারের বণ্টনের বিশ্লেষণও রয়েছে। দেখা যায়, আফ্রিকায়ও যখন হোমিনিডরা আবির্ভূত হতে শুরু করে মহাদেশের বিভিন্ন অংশে সেখানেও স্তন্যপায়ীদের গড় আকার ক্রমশ ছোট হতে থাকে। প্রত্নবাস্তুবিদরাও হোমো সেপিয়েন্সের সাথে স্তন্যপায়ীদের বণ্টনের উপর প্রভাব থাকার প্রমাণের কথা বলেন। কোনো প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি হুট করে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া নয় সাধারণত। বড় প্রাণীদের প্রকৃতি থেকে নাশ করার হার উৎপাদনের হার থেকে খানিক বেশি হলেই বিলুপ্তির জন্য যথেষ্ট। হাজার বছরের ব্যবধানে ঐ ক্ষতিপূরণ সাধন আর হয় না বড় প্রাণীদের ক্ষেত্রে। ফলে, প্রাকৃতিকভাবেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির ঋণাত্মক হার প্রজাতিটিকে বিলুপ্ত করে দেয়।

বড় আকারের স্তন্যপায়ীরা বিশেষত অধিক বিপদে থাকে কারণ এদের প্রজনন ধীর। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ম্যামথ এবং ম্যাস্টোডনের গর্ভকাল ছিল দুই বছর আর মাত্র একটাই বাচ্চা দিত। [ম্যামথ এবং ম্যাস্টোডন দেখতে প্রায় একই রকমের হলেও এরা আসলে ভিন্ন প্রজাতি। কাছাকাছি হিসেবে বললে এরা দেখতে বর্তমান হাতিদের মত, আকারে আরো বড়।] কিন্তু, খরগোশ মাত্র ৩০দিনে বাচ্চা দেয় একেকবারে ২-১২টি। বাচ্চা দেয়ার পরদিনই এরা আবার পুনরায় গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। সুতরাং দেখাই যাচ্ছে, ১ লক্ষ ম্যামথের জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ার সুযোগ ১ লক্ষ খরগোশের তুলনায় বেশ সুলভ।

বৃহদাকার প্রাণীদের অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব রয়েছে তাদের বাস্তুতন্ত্রের উপর। তারা বীজ ধ্বংস করে, গাছ উপড়ে ফেলে, আবার চলাফেরায় মাটির পরিবর্তন করে দেয়। দলবেঁধে ভ্রমণে তারা পাহাড়ের পাদদেশে পানির স্রোত এবং মাটিক্ষয়ের জন্যও প্রভাব রাখতে পারে। আবার এরা অন্য ছোট প্রাণীদের জন্য থাকার স্থানের সংকুলানও করে। উদাহরণস্বরূপ, হাতিরা যখন কাদায় গর্ত করে তাদের পায়ের চাপে সেখানটা জলজ অমেরুদন্ডীদের জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে।

এ গবেষণা থেকে যে আপাত নিরীহ অথচ ভয়ংকর তথ্যটি বেরিয়ে আসে তা হল, হোমিনিড পরম্পরা সময়ের ভাঁজে ভাঁজে আমাদের দক্ষ হন্তারক হিসেবে প্রস্তুত করেছে। এখনি আমাদের এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ, জীবনমানের উচ্চতার সংজ্ঞায়ন পৌঁছে গেছে ভোগবাদে। আমরা পৃথিবীকে কিভাবে ব্যবহার করব সেটার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ এখনই জরুরী। কেননা, মানুষের মধ্যেই একটা শ্রেণী এমন অবস্থানে আছে যে তাদের কর্মকাণ্ডের ক্ষমতা বলে দিচ্ছে তারা হয়ে উঠেছে পরিবেশের চালক। পরিবেশের স্বার্থ বুঝতে না পারার কারণে পৃথিবীর প্রাণিজগতে পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে তাদের সিদ্ধান্তেই।

 

সায়েন্টিফিক আমেরিকান  অবলম্বনে।

ব্যাঙ যখন বোকা শিকারী

১৯৯৭ সালে বের হওয়া অ্যানাকোন্ডা মুভিতে গল্পের খাতিরে বেশ কিছু অবৈজ্ঞানিক ব্যাপার দেখানো হয়েছিলো। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো যে, অ্যানাকোন্ডা তার গিলে ফেলা শিকারকে জ্যান্ত উগড়ে বের করে দেয় আরেকবার হত্যার রোমাঞ্চ পেতে। প্রকৃতপক্ষে অ্যানাকোন্ডার গেলার সময় শিকারকে যে ধরনের সংকোচন প্রসারণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, বের হবার সময় তাতে আর প্রাণপাখির পালকটাও থাকে না।

bombardier beetle
ফোরসেপ দিয়ে উত্যক্ত করায় বোম্বার্ডিয়ার বিটলের ঘটানো বিস্ফোরন; image source: Nbcnews

তবে কিছু কিছু পান্ডব আছে, যারা শিকারির পেটের ভিতর থেকে ঘুরে আসতে পারে। এরকম একটি হচ্ছে বোম্বার্ডিয়ার বিটল। এরা এক ধরনের জ্বালাময় রাসায়নিক নিক্ষেপ করে বলে তাদের এমন নাম। দুটো আলাদা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত আপাত নিষ্ক্রিয় দুই ধরনের রাসায়নিক উপাদান যখন মিশ্রিত হয় তখন এক ধরনের বিস্ফোরণ হয়। এই বিটলরা সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার এমন বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। যার ফলে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রাসায়নিক তার শরীর থেকে ঘন্টায় ২২ মাইল বেগে বের হয়।

ঘটনার আকস্মিকতায় বেশিরভাগ শিকারি ভয় পেয়ে গেলেও ব্যাঙ এর কাছে বোম্বার্ডিয়ার কিছুটা অসহায়। কারণ ব্যাঙ এত দ্রুত তার জিহবা দিয়ে ছোঁ মারে যে পোকাটি কিছু বুঝে উঠার আগেই পেটের ভিতর চলে যায়। তবে এরপর পোকাটি ব্যাঙের পেটের ভিতরই যখন তার অস্ত্র চালায় তখন বাইরে থেকেও তার শব্দ পাওয়া যায়। এই রাসায়নিক বিষাক্ত না হলেও এতটাই বিচ্ছিরি যে ব্যাং তাকে উগলে দিতে বাধ্য হয়। তবে, ব্যাঙের কিন্তু আমাদের মতো গ্যাগ রিফ্লেক্স নেই যার কারণে সে বমি করতে পারে না। তাদের একমাত্র উপায় পাকস্থলিকে উল্টে ফেলা। যা করতে তার ৪৫ মিনিট সময় লাগে। এই পোকাগুলো নিজেরা কিন্তু বিষাক্ত নয়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, ফোরসেপ দিয়ে বেশ কয়েকবার বিরক্ত করার পর যখন তাদের বিস্ফোরক সম্পুর্ণ্রুপে নিক্ষিপ্ত হয়ে যায়, তারপর কিন্তু ব্যাঙ এদের আরামেই খেয়ে নিতে পারে। অন্যদিকে বোম্বার্ডিয়ারের মধ্যেও কিন্তু পাকস্থলির এসিডপূর্ণ পরিবেশেও বহুক্ষণ টিকে থাকার ক্ষমতা রয়েছে।

ব্যাঙের পেট থেকে ছাড়া পাবার আরো কিছু ঘটনা রয়েছে। ২০০২ সালে পূর্ব তিমুরে অভিযানের সময় মার্ক’ও শেয়া তার ল্যাবের দরজা খোলা রাখার জন্য একটা পাথর খুঁজতে যান। একটাকে সুবিধাজনক মনে হওয়ায় যখন সেটা তুলতে গেলেন দেখা গেলো পেছনে একটা কোলাব্যাঙ এবং তার পিছন দিয়ে বের হয়ে আছে একটা ব্রাহ্মিনি সাপ। এই সাপটি দেখতে অনেকটা কেঁচোর মতো। ফুলের টবে লুকিয়ে থাকার স্বভাবের কারণে এরা সারা দুনিয়াতেই ছড়িয়ে গেছে। অন্ধকার, অক্সিজেন শূন্য কিংবা সংকোচনশীল পরিবেশে এরা টিকে থাকতে পারলেও ব্যাঙের পশ্চাৎদেশ এদের প্রাকৃতিক আবাসন নয়। ব্যাঙটি হয়তো তাকে কেঁচো ভেবে গিলে ফেলেছিল এবং সর্পসাহেব তার ভক্ষকের সম্পূর্ণ পরিপাকতন্ত্র ঘুরে এসে পেছন দিয়ে বের হতে চেষ্টা করছে। ও’শিয়া এদেরকে ধরে নিয়ে আলাদা হতে সাহায্য করেন। সাপটি অবশ্য এর পর আর কয়েক ঘন্টার বেশি বাঁচতে পারেনি।

brahminy blind snake
ব্রাহ্মিনি সাপ, image source: californiaherps.com

কিছু কিছু প্রাণীর জন্য কিন্তু ভক্ষিত হওয়া সুবিধাজনক। বহু শামুক পাখির পেটে গেলেও বেঁচে থাকে আর এভাবে করে দূর দূরান্তে ছড়াতে পারে। যদিও ডাঙ্গার শামুকের চলাচলের প্রকৃতি খুবই ধীর, কিন্তু পাখির মাধ্যমে তারা ভিন্ন মহাদেশেও পৌঁছে যেতে পারে, যে সম্ভাবনার কথা ডারউইন বলে গিয়েছিলেন আর বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন।

epomis beetle infesting on frog
ইপোমিস বিটলের লার্ভা দ্বারা আক্রান্ত ব্যাঙ

কখনো কখনো কিন্তু ভক্ষিত প্রাণী তার ভক্ষনকারীর অবস্থা নাস্তানাবুদ করে দিতে পারে। গিল উইজেন এবং আভিতাল গাসিথ এমনই এক নজির পেয়েছেন ইপোমিস বিটল সম্পর্কে জানতে গিয়ে। এই পোকারা ব্যাঙ ছাড়া কিছু খায় না। ব্যাঙ যখন এদের ধরার জন্য জিভ ছোটায় তখন এরা সুকৌশলে আক্রমণকারীর মুখ কামড়ে ধরে এবং ধীরে ধীরে তাকে খেয়ে নেয়। বিজ্ঞানীদের প্রায় ৪০০ পর্যবেক্ষণে প্রতিটাতেই জিতেছিলো ইপোমিস। শুধু একটা ঘটনায় প্রথমে ইপোমিস হেরে যায়। কিন্তু ২ ঘন্টা পর ব্যাঙটি ইপোমিসকে উগড়ে দেয়ার পর নাটকীয়ভাবে সে তার খাদককে খেতে শুরু করে।