পানির সুরক্ষায় প্লাস্টিকের বল

‘শেড বল’ পানিকে ময়লা-আবর্জনা, বন্যপ্রাণী ও অন্যান্য রাসায়নিক বিক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। লস এঞ্জেলস শহরে পানি নিরাপদ রাখার জন্য এদের ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় ৯৬ মিলিয়ন প্লাস্টিকের বল কাজে লাগানো হয়েছে সেখানে।

এত এত প্লাস্টিকের বল দিয়ে বোঝাই জলাধারগুলোকে দেখলে হয়তো বল দিয়ে বানানো বিশালাকৃতির একটা কূপ তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে হবে। এই শেড বলগুলো ক্ষতিকর রাসায়নিক বিক্রিয়া প্রতিরোধ করে সূর্যরশ্মিকে পানির নাগাল পাওয়া থেকে বাধা দেয়।

জলাধারগুলোর নিম্নদেশের পানিতে ব্রোমাইড এবং ক্লোরিন উভয় বিদ্যমান যেগুলো সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে এসে বিক্রিয়া করে ‘ব্রোমেট’ গঠন করে। ব্রোমেট একটি যৌগিক পদার্থ যা মানবদেহে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বলগুলো বাষ্পীভবন প্রতিরোধেও সাহায্য করার মাধ্যমে প্রতি বছর এক বিলিয়ন লিটার পানি সঞ্চয় করতে পারে।

featured image: inhabitat.com

শূন্যে শাক-সবজি চাষ

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের নভোচারীগণ মহাশূন্যে তাদের জন্মানো সবজির স্বাদ পরীক্ষা করে দেখেছেন। সবজি জন্মানোর এ পদ্ধতিতে লেটুস জন্মানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল কিছু বীজতলা, লাল, সবুজ ও নীল রঙের LED আর পানি। লাল আর নীল LED ব্যবহার করা হয়েছিল যেন তারা তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বিচ্ছুরিত করতে পারে। এটি উদ্ভিদের বৃদ্ধি সাধনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। সবুজ LED সেগুলোকে খাওয়ার জন্য আরো উপযোগী করে তুলতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

হয়তো একদিন মঙ্গলের দীর্ঘ অভিযানের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি পুষ্টিকর ও দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যের উৎস তৈরি করা যাবে।

featured image: gossipsociety.com

পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র বাতি

গ্রাফিন, কার্বনের এক প্রকার রূপভেদ যা ইস্পাতের চেয়ে শক্তিশালী আর তামার চেয়ে বেশি পরিবাহী। গ্রাফিনের বিস্ময়ের তালিকায় যুক্ত হয়েছে তার আলোক তৈরি করার ক্ষমতা। গবেষকরা আলোক নিঃসরক গ্রাফিন ট্রানজিস্টর তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। ফিলামেন্ট বাল্বগুলো যেরকম কাজ করে এগুলোও সেরকমই কাজ করে।

প্রকৌশলী ও পদার্থবিজ্ঞানীরা অনেকদিন ধরেই এমন এমন একটা কিছু খুঁজছিলেন যা আলো নিঃসরণ করবে এবং যার আকৃতি হবে অনেক ক্ষুদ্র। এই ধরনের ক্ষুদ্র আলোক নিঃসরকদের খুব সহজেই ইলেকট্রনিক চিপের মাঝে স্থাপন করা যাবে। এই ধরনের নিঃসরকদের বলা হবে ‘ফোটনিক সার্কিট (Photonic circuit)’। কোয়ান্টাম কম্পিউটার সহ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনেক ন্যানো যন্ত্রপাতির বেলায় এই ধরনের ‘বাল্ব’ খুব কাজে আসবে।

কিন্তু এই ধরনের ক্ষুদ্র বাল্ব নির্মাণে কিছু সমস্যার দেখা দেয়। প্রথমত এত ক্ষুদ্র আকৃতির বাল্ব নির্মাণ করা খুব চ্যালেঞ্জিং দ্বিতীয়ত তাপমাত্রা সমস্যা। প্রকৌশল বিদ্যায় কোনো বস্তু হতে তখনই আলোক নিঃসৃত হয় যখন বস্তুটি প্রচণ্ড পরিমাণ উত্তপ্ত হয়। ক্ষুদ্র বস্তুতে এত উত্তাপ প্রদান করলে বস্তুটি গলে যাবে যা বড় ধরনের সমস্যা।

গ্রাফিন যেহেতু ইস্পাতের চেয়ে শক্তিশালী, তামার চেয়ে বেশি পরিবাহী ও তাপ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন তাই গ্রাফিন এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে। সেই লক্ষে বিজ্ঞানীরা কাজে নেমে পড়লেন এবং সফলও হলেন। তারা জানান গ্রাফিনের এই জিনিসটি উদ্ভাবনের ফলে খুব ক্ষুদ্র স্কেলে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার প্রতিবন্ধকতা দূর হবে।

বাস্তব জীবনেও প্রচুর উপকার বয়ে আনতে পারে এই উদ্ভাবন। যেমন নিত্যদিনের ব্যবহার করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ক্ষুদ্র চিপ ব্যবহার করতে হয়। এটি এই ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলে সমস্ত মানবজাতির উপকারে আসবে। বিজ্ঞানীদের এই প্রচেষ্টা হয়তো ক্ষুদ্র স্কেলের গবেষণা তথা ন্যানো প্রযুক্তিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তথ্যসূত্রঃ লাইভ সায়েন্স

featured image: nyerogep.co

অটোকী সাইফার- গোপন বার্তা আদান-প্রদান এবং ‘কী’ না জেনেও তা ভাঙ্গার কৌশল

আজ থেকে প্রায় পাঁচশ বছর আগেকার কথা। ইতালীয় আইনজ্ঞ ফাজিও কার্দানো ও চিয়ারা মিচেরির ভালোবাসার ফলস্বরুপ ১৫০১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর অধিবাসীদের তালিকায় নাম যোগ হয় এক ছেলের, বাবার নামের সাথে মিলিয়ে যার নাম রাখা হয় জিরোলামো কার্দানো। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, জিরোলামো তার বাবা-মায়ের বৈধ সন্তান ছিল না। জন্মগত এ অবৈধতা তার বাকি জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও বিরুপ প্রভাব ফেলেছে বিভিন্নভাবে।

মানুষের ভেতরে যদি আসলেই কোনো গুণ থাকে তাহলে একদিন যে তা ঠিকই প্রকাশ পায়, মানুষের জন্ম নয় বরং কর্মই যে অমর করে রাখে, বাকি জীবন জুড়ে এ কথাগুলোর বাস্তব প্রমাণই দিয়ে গেছেন জিরোলামো কার্দানো।

রেনেসাঁ যুগের সেরা গণিতবিদ বলে স্বীকৃত কার্দানো ছিলেন একাধারে একজন গণিতবিদ, চিকিৎসক, জীববিজ্ঞানী, পদার্থবিজ্ঞানী, রসায়নবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, জ্যোতিষী, দার্শনিক, লেখক ও জুয়াড়ি! পরবর্তী সময়ে তার কাজের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন ব্লেইজ প্যাসকেল, পিয়েরে দ্য ফার্মা, আইজ্যাক নিউটন, গটফ্রেড লিবনিজ, মারিয়া অ্যাগনেসি, জোসেফ লুইস ল্যাগ্রাঞ্জ ও কার্ল ফ্রেডরিখ গাউসের মতো মানুষেরা।

অনাগত ভবিষ্যতের বুকে নিজের নামটি খোঁদাই করে রাখতে মানুষের প্রচেষ্টার কোনো অন্ত নেই। জিরোলামো কার্দানোও ছিলেন এমনই একজন। জীবদ্দশায় মোট ২৪২ টি বই লিখেছিলেন তিনি! এর মাঝে ১৩১ টি বই তাঁর জীবিত অবস্থাতেই প্রকাশিত হয়। বাকি ১১১ টি পান্ডুলিপিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। দুই শতাধিক বইয়ে তিনি কী নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তা জিজ্ঞেস না করে বরং কী নিয়ে আলোচনা করেননি তা জিজ্ঞেস করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যোতিষশাস্ত্র, দাবা, পদার্থবিজ্ঞান, জুয়া, আত্মার অমরত্ম, সক্রেটিসের ভাবধারা, রত্ন, বিষ, বাতাস, পানি, পুষ্টিবিদ্যা, স্বপ্ন, মূত্র, দাঁত, সঙ্গীত, নীতিশাস্ত্র ইত্যাদি বহুবিধ বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেছেন তিনি।

মজার ব্যাপার হলো, আমাদের আজকের আলোচ্য ক্রিপ্টোলজির অটোকী সাইফার (Autokey Cipher) নিয়ে কিন্তু কার্দানোর আলাদা কোনো বই নেই। তার সর্বাধিক বিক্রিত দুটি বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ে তিনি ক্রিপ্টোলজি সম্বন্ধে অল্প বিস্তর আলোচনা করেছিলেন অবশ্য।

এর মাঝে প্রথমটি ছিল De Subtilitate। এ বইটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৫৫০ সালে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে কার্দানোর চমৎকার উপস্থাপনা পাঠক সমাজকে সহজেই আকৃষ্ট করতে পেরেছিল। বইটির সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাই ছয় বছর পর তিনি বের করেন এর দ্বিতীয় খন্ড- De Rerum Varietate। বিপুল জনপ্রিয়তার ফলে দুটি বই-ই বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয় এবং নকল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে গোটা ইউরোপ জুড়ে।

অটোকী সাইফারকে অটোক্লেভ (Autoclave) সাইফারও বলা হয়ে থাকে। এ সাইফারে Key বানানো হয় Plain Text এর উপর ভিত্তি করে অর্থাৎ অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চলতে থাকে এর Key। এজন্য Key-এর আগে Auto বসিয়ে সাইফারটির নাম হয়েছে Autokey সাইফার। এ সাইফারের সাহায্যে কোনো মেসেজকে এনক্রিপ্ট করতে আমাদের দরকার একটি টেবুলা রেক্টা (Tabula Recta) টেবিল।

এনক্রিপশন

ধরা যাক, আমরা যে মেসেজটি এনক্রিপ্ট করবো সেটি হলো- “To be prepared is half the victory”। এটি মিগুয়েল ডি সার্ভেন্টেসের উক্তি। ধরে নিই, আমাদের Key হলো Miguel। যেহেতু অটোকী সাইফারে আমাদের দরকার Keystream, তাই Plain Text এর সাথে Keystream-কে সাজাতে হবে নিচের মতো করেঃ

ভালো করে একবার Keystream সাজানোর পদ্ধতিটি দেখুন। প্রথমে আমি Key Miguel লিখেছি। এরপর থেকে Plain Text এর মেসেজটিই হুবহু লিখে গিয়েছি। এভাবে Plain Text এর শেষ পর্যন্ত Keystream লিখে যেতে হবে। এখানে Key নিজে বারবার না এসে Plain Text-ই Keystream এ রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে।

এবার আসা যাক দ্বিতীয় ধাপে। এখন আমাদের টেবুলা রেক্টার সাহায্য লাগবে। পাশের চিত্র দ্রষ্টব্য। আমরা প্রথম যে বর্ণটি এনক্রিপ্ট করবো তা হলো ‘t’। তাহলে টেবুলা রেক্টার একেবারে উপরের সারি থেকে (গাঢ় কাল অক্ষর) প্রথমেই t এর নিচে থাকা Keystream ‘m’ কে খুঁজে বের করতে হবে। তারপর একেবারে বামের কলাম থেকে (গাঢ় কালো অক্ষর) Plaintext ‘t’ কে খুঁজতে হবে।

m ও t থেকে যদি আমরা যথাক্রমে উপর থেকে নিচে এবং বাম থেকে ডানে এগোই তাহলে তারা পরস্পরকে F এ ছেদ করবে। অর্থাৎ F হলো t এর এনক্রিপ্ট করা রূপ।

এবার আসা যাক Plaintext এর ২য় বর্ণ ‘o’তে। এর নিচে থাকা Keystream হলো ‘i’। এবারও আগের মতোই টেবুলা রেক্টার সবার উপরের সারি থেকে i এবং একেবারে বামপাশের কলাম থেকে o-কে খুঁজে বের করতে হবে। তারপর I থেকে নিচে এবং o থেকে ডানে এগোতে থাকলে একসময় তারা পরস্পরকে W-এ ছেদ করবে। অর্থাৎ W হলো o এর এনক্রিপ্ট করা রূপ।

এভাবে Plain Text এর বাকি বর্ণগুলোকেও টেবুলা রেক্টা ও Keystream এর সাহায্যে এনক্রিপ্ট করা যাবে। পুরো মেসেজটি এনক্রিপ্ট করলে তাহলে আমরা পাচ্ছিঃ

ডিক্রিপশন

ধরা যাক, আমাদের কাছে এনক্রিপ্ট করা একটি মেসেজ এসেছে যেখানে লেখা আছে- BIOXJZA BG FSZK”। প্রেরক আমাদের জানিয়েছে, এ মেসেজের Key হলো ‘Game’। এবার মেসেজটি ডিক্রিপ্ট করে মূল মেসেজ বের করাই আমাদের লক্ষ্য। প্রথমেই তাহলে আগের মতো করে একটি টেবিলে Keystream ও Cipher Text সাজিয়ে নেয়া যাক। যেহেতু আমরা Keystream-এর কেবল ‘game’ অংশটুকু জানি, তাই বাকি ঘরগুলো ফাঁকা রাখতে হবে।

এখন আবারো যেতে হবে টেবুলা রেক্টার কাছে। Cipher Text এ আমাদের প্রথম বর্ণ ‘B’। অন্যদিকে Keystream-এ প্রথম বর্ণ ‘g’। টেবুলা রেক্টার একেবারে উপরের সারি থেকে প্রথমে তাই g-কে খুঁজে বের করতে হবে। এরপর g-এর কলাম ধরে নিচে নামতে হবে যতক্ষণ না B-কে পাওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ। B পাওয়া গেলে এরপর সেখান থেকে একেবারে বামের কলামে যে বর্ণটি আমরা পাবো সেটিই হবে B এর ডিক্রিপ্ট করা বর্ণ। এক্ষেত্রে এটি V। নিচের চিত্রে পুরো ব্যাপারটি দেখানো হয়েছে।

যেহেতু আমরা Plain Text এর একটি বর্ণ পেয়েছি তাই টেবিলকে নিচের মতো করে আপডেট করে নিতে হবে। এনক্রিপশনের সময় আমরা দেখেছিলাম, Keystream এ Key এর পর থেকেই Plain Text শুরু হচ্ছে। এবারও তাই ‘game’ এর পরই এসেছে ‘V’।

এবার আসা যাক Cipher Text এর দ্বিতীয় বর্ণ I এর কাছে। এক্ষেত্রে Keystream হলো ‘a’। তাহলে আগের মতো করেই প্রথমে টেবুলা রেক্টার উপরের সারি থেকে ‘a’ খুঁজে সেখান থেকে নিচে নেমে ‘I’ কে বের করতে হবে। I থেকে একেবারে বামের কলামে গেলে আমরা পাবো এর ডিক্রিপ্ট করা রূপ। এক্ষেত্রে সেটি ‘I’।

আবারো আগের মতো করে টেবিলকে নিচের মতো করে আপডেট করতে হবেঃ

এভাবে Cipher Text এর বাকি বর্ণগুলোকেও Keystream আর টেবুলা রেক্টার সাহায্যে ডিক্রিপ্ট করলে আমরা মূল মেসেজটি পেয়ে যাবো।

গল্প করতে করতে কখন যে আপনাকে একজন পলিম্যাথের আবিষ্কার করা একটি সাইফার সিস্টেম শিখে নিলাম তা নিজেও খেয়াল করিনি! তবে ঠান্ডা মাথায় পুরো পদ্ধতিটুকু যদি আপনি পড়ে থাকেন, তাহলে নিঃসন্দেহে মাথা খাটানোর অনেক কিছুই আছে এখানে।

দুর্গে ফাটল

এতক্ষণ ধরে অটোকী সাইফার নিয়ে পড়ার পর যে কেউই মেনে নিতে বাধ্য যে এ সাইফারটি বেশ সুরক্ষিত। কিন্তু সুরক্ষিত এ দুর্গের কি কোনো ফাটল নেই? অবশ্যই আছে। এবার সেই ফাটলেই সাথেই পরিচিত হওয়া যাক।

অটোকী সাইফারের Keystream বানানো হয় Plain Text কে ব্যবহার করে। Plain Text এ কোনো বহুল ব্যবহৃত শব্দ আসতেই পারে; যেমন- AND, THE ইত্যাদি। এ শব্দগুলোকে ক্লু হিসেবে ব্যবহার করেই পুরো অটোকী সিস্টেমকে ডিক্রিপ্ট করা সম্ভব।

ধরে নিচ্ছি, আমাদের কাছে একটি একটি মেসেজ এসেছে যাতে লেখা আছে PKBNEOAMMHGLRXTRSGUEWX। আমাদেরকে এটাও বলে দেয়া হয়েছে যে, এখানে অটোকী সাইফার ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু Key জানা না থাকায় আমরা Plain Text পর্যন্ত যেতে পারছি না। কাজে এগোনোর স্বার্থে ধরে নিই, Plain Text এ ‘THE’ শব্দটি অন্তত একবার হলেও এসেছে। তাহলে ‘THE’ Keystream-এও এসেছে ধরে নিয়ে এগোনো যাক।

Keystream এর প্রতিটি ঘরে THE বসালে আমাদের হাতে থাকে Keystream ও Cipher Text। তখন একটু আগেই আলোচনা করা ডিক্রিপশনের নিয়মটি অনুসরণ করলে আমরা নিচের টেবিলটি পাবোঃ

Keystream এ THE এর অবস্থান সামনে-পেছনে নিয়ে আমরা নিচের আরো দু’ধরনের বিন্যাস পেতে পারি।

এখন এ তিনটি টেবিল ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা যাক। আমরা মূলত এখন ঘোরাঘুরি করবো Plain Text এর ঘরগুলোতে। সেখানে কোনো অর্থপূর্ণ শব্দাংশ খুঁজে বের করাই আমাদের লক্ষ্য।

যেমন- ২য় টেবিলের ‘ihw’ কিংবা ৩য় টেবিলের ‘skt’ একেবারেই নিরর্থক। কিন্তু ৩য় টেবিলেরই ‘tac’ কিংবা ‘ako’ এর কোনো শব্দাংশ হবার সম্ভাবনাকে একেবারে নাকচ করে দেয়া যায় না। আমরা তাই ‘tac’ নিয়ে এগোবো। যেহেতু অটোকী সাইফারে একই জিনিস Plain Text ও Keystream এ থাকে, তাই আমাদের আলোচ্য THE ও tac এ দু’জায়গায়ই আছে বলে ধরে নিচ্ছি।

প্রথমে মনে করি, আমাদের অজানা Key এর দৈর্ঘ্য ৪ অর্থাৎ এটি ৪টি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত। তাহলে Plain Text এ থাকা the এর t থেকে Keystream এর THE এর T ৪ বর্ণ পরিমাণ দূরে থাকবে। একই কথা বলা যাবে tac এর ক্ষেত্রেও।

Plain Text ও Keystream এর ঘরগুলো যথাক্রমে ‘the’, ‘tac’, ‘THE’ ও ‘TAC’ দিয়ে পূরণ করার পর যে ঘরগুলো বাকি থাকবে সেগুলোকে পূর্বে আলোচনা করা এনক্রিপশন-ডিক্রিপশনের পদ্ধতিতে টেবুলা রেক্টার সাহায্যে ভরাট করতে হবে। যে ঘরগুলো এভাবে ভরাট করতে হবে, পরবর্তী টেবিলে সেগুলো ডিম্বাকৃতির বক্সের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।

এখান থেকে পাওয়া ‘yxr’ Plain Text শব্দাংশ হিসেবে গ্রহণযোগ্য না। তাই নিচের টেবিল দুটোতে যথাক্রমে ৫ ও ৬ বর্ণবিশিষ্ট Key ধরে এগোনো হয়েছে। এ টেবিল দুটোতেও যে ঘরগুলো ফাঁকা থাকবে তা টেবুলা রেক্টা দিয়ে পূরণ করতে হবে।

উপরের টেবিল দুটি থেকেও আমরা কোনো গ্রহণযোগ্য শব্দাংশ (‘etp’ ও ‘arq’) পেলাম না। তাই এখন আমরা ‘tac’ বাদ দিয়ে এখন ‘ako’ দিয়ে এগোতে থাকবো। তাহলে আবার এ অংশের শুরুতে আলোচনা করা তিনটি টেবিলের মাঝে তৃতীয়টির শরণাপন্ন হতে হবে। Key এর দৈর্ঘ্য এক এক করে বৃদ্ধি করে এগোনো যাক।

প্রথমে Key এর দৈর্ঘ্য ৪। তখন Plain Text হিসেবে পাওয়া ‘uui’ কোনো গ্রহণযোগ্য শব্দাংশ হতে পারে না। তবে Keystream অংশে থাকা ‘NEN’ এর সেই সম্ভাবনা আছে।

অনুসন্ধান চলতে থাকুক আগের মতোই। নিচের টেবিল দুটিতে Key এর দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ৫ ও ৬।

শেষের টেবিলের Keystream এ পাওয়া ‘TAC’ ও Plain Text এ পাওয়া ‘wn’ দুটোরই অর্থপূর্ণ শব্দাংশ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন আগের মতোই এগোতে হবে আমাদের। যেহেতু ‘TAC’ Keystream এ আছে, সুতরাং এটি Plain Text-এও থাকবে। সেক্ষেত্রে আমরা নিচের টেবিলটি পাবো। এ টেবিলে কিন্তু ঠিক আগের টেবিলের তথ্যগুলোই আছে। ফলে এখানেও Key এর দৈর্ঘ্য ৬-ই থাকছে।

দুর্গের ফাটল এতক্ষণে ধরা দিতে শুরু করেছে। আমরা ধরেছিলাম, Keystream এ Key এর দৈর্ঘ্য ৬। উপরের টেবিলের Keystream এ ‘INC’ দখল করেছে যথাক্রমে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম স্থান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ‘INC’ এর সামনে-পেছনে বর্ণ বসিয়ে একে ৬ বর্ণের একটি Key-তেই রূপান্তর করা সম্ভব! কীভাবে?

‘Prince’ কিংবা ‘Flinch’ এর মতো শব্দ যে ঠিকই আছে ইংরেজী শব্দের ভান্ডারে! রাজপুত্র অর্থাৎ Prince কে দিয়েই তাহলে সম্ভাব্য জয়যাত্রা শুরু করা যাক। Key হিসেবে Prince লেখার পর এর উপরের Plain Text এর ফাঁকা জায়গাগুলো টেবুলা রেক্টার সাহায্য নিয়ে পূরণ করা হয়েছে।

কী আনন্দ! আরেকটি অর্থপূর্ণ শব্দ পেয়ে গেলাম আমরা, ‘attack’! আক্রমণ আরো জোরদার করা দরকার এখন। দূর্গের দেয়াল ভেঙে পড়তে বুঝি আর বেশি দেরি নেই আমার ক্লান্ত সৈনিকেরা। ঐ তো দেয়ালের পাথরগুলো এক এক করে খসে পড়ছে। যেহেতু Key পাওয়া গেছে, তাহলে এখন Plain Text কে Keystream এ বসানো শুরু করতে পারি আমরা। এভাবে PRINCE এর পর ATTACK আসলে নিচের টেবিলটি পাবো আমরা।

এভাবে Plain Text এর ফাঁকা জায়গাগুলো টেবুলা রেক্টার সাহায্যে এবং Keystream এর ফাঁকা জায়গাগুলো আবার Plain Text এর সাহায্যে ভরাট করলেই একসময় আমরা পেয়ে যাবো আমাদের কাঙ্ক্ষিত মেসেজ- ‘attack at the break of dawn’।

মারহাবা, মারহাবা! শত্রুপক্ষের দুর্গ একেবারেই ভেঙে পড়েছে। অনেক মাথা খাটিয়ে বিজয়ের সন্ধান পেলাম আমরা অবশেষে।

প্রকৃতপক্ষে অটোকী সাইফারের Key জানা না থাকলেও কীভাবে তার মর্মোদ্ধার করা যায় তার খুব সহজ উদাহরণ ছিল এটি। এখানে এমন একটি মেসেজই দেয়া হয়েছে যাতে ‘THE’ শব্দটি ছিল। বাস্তবে কিন্তু অনেক শব্দ ঘাটাঘাটি করে পরেই পাওয়া যেতে পারে কাঙ্ক্ষিত শব্দটি!

আবার আমরা কিন্তু ‘tac’ দিয়ে কাজ না হবার পরপরই সোজাসুজি ‘ako’-তে চলে এসেছি। বাস্তব জগতের সমস্যা এতটা সহজ হবে এমন আশা করা বৃথা! Key হিসেবে আমরা এ উদাহরণে পেয়েছি Prince যা একটি শব্দ। কিন্তু তথ্যের সুরক্ষার জন্য কেউই প্রকৃতপক্ষে চেনা-পরিচিত কোনো শব্দ ব্যবহার করবে না। বরং অর্থহীন কোনোকিছু এক্ষেত্রে বেশি সুরক্ষা দিবে।

ক্রিপ্টোলজির নিয়মিত পাঠকেরা আজকের এ লেখার মাধ্যমে অনেক উঁচু কোনো পাহাড়কে ছোঁয়ার আনন্দ পেয়েছেন বলেই আমার বিশ্বাস। সাথেই থাকুন, কারণ সামনে আসছে আরো অসাধারণ সব সাইফার, অসাধারণ অনেক ঐতিহাসিক কাহিনী যার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অ্যাডভেঞ্চার।

featured image: disneydude-94.deviantart.com

অতীত জলবায়ু পুনর্গঠন

পৃথিবী অত্যন্ত জটিল একটা সিস্টেম। এই সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ একটা আরেকটার সাথে সম্পর্কযুক্ত। যখন জলবায়ুর সমস্যার কথা আসে তখন তো প্রত্যেকটা অংশ বারবার পরীক্ষা করে দেখতে হয় যে আসলে কোথায় গণ্ডগোল। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন কয়েকটি জিনিসের পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে। সেগুলো হচ্ছে, বায়ুমণ্ডল, পানিমণ্ডল, পৃথিবীর কাঠিন্যতা, জীবমণ্ডল এবং Cryosphere।

শেষেরটা অনেকের কাছে অপরিচিত লাগতে পারে। Cryosphere হচ্ছে তুষার, গ্লেসিয়ার, বরফ ভূমি ইত্যাদির সন্নিবেশ। এই ৫ টি অংশের মধ্যে শক্তি এবং আর্দ্রতার বিনিময় ঘটে। আর এই কয়েকটা পরিমণ্ডল নিয়ে গঠিত পৃথিবীর জলবায়ু সিস্টেম।

কীভাবে আমরা জলবায়ু পরিবর্তন বুঝতে পারব? কেন এই পরিবর্তন? পৃথিবীর জলবায়ুর আগের অবস্থা কেমন ছিল? ভবিষ্যৎ অবস্থা কীভাবে আমরা অনুমান করতে পারি এমন সব প্রশ্ন চলে আসে। বিজ্ঞানীরা প্রথমেই পৃথিবীর বর্তমান সময়ের আগের সময়কার জলবায়ু অবস্থা সম্পর্কে জেনে নেন। আগের জলবায়ুর উপাত্ত যদি কোনোভাবে বের করা যায় তাহলে জলবায়ু সিস্টেমের বিভিন্ন অংশ বুঝতে অসুবিধা হবে না।

আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে গত কয়েক শতকের উপাত্ত পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু ফলপ্রসূ বা ফলাফল এতে পাওয়া যায় না। মনে রাখতে হবে উপাত্ত (data) যত বেশি হবে ফলাফল তত বেশি নিখুঁত হবে। এজন্য বিজ্ঞানীরা কিছু Proxy Data-র উপর নির্ভর করেন।

এইসব উপাত্ত আসে সমুদ্রের নিচের মাটিতে থাকা পলিমাটি থেকে। কিছু আসে দুই মেরু অথবা অন্য কোথাও জমাটবাধা বরফ (হিমবাহ), ফসিল রেনু ইত্যাদি থেকে। কিছু আমরা বুঝতে পারি গাছের বর্ষবলয় থেকে। এই ধরনের বিষয়গুলো যেখানে আলোচিত হয় তাকে বলে Paleoclimatology।

চিত্রঃ Bristlecone pine গাছ

আসলে একেকটা রেখা পূর্ণ হতে একটা পুরো বছর লাগে। তাই রেখা গুলো যদি আমরা গুনে যেতে থাকি তাহলে আমরা ওই গাছের বয়স জানতে পারব। পাশাপাশি ঐ সময়কার জলবায়ু সম্পর্কেও ধারণা নিতে পারবো।Bristlecone pine নামের গাছগুলো প্রায় ৪০০০ বছরের পুরনো। বিজ্ঞানীরা এই গাছের বর্ষবলয় বিশ্লেষণ করে পৃথিবীর আগেকার জলবায়ু অবস্থা বুঝতে পেরেছেন। একটা গাছের কাণ্ড কেটে এর তল বরাবর পর্যবেক্ষণ করলে অনেকগুলো গোল রেখা দেখতে পাওয়া যায়। রেখাগুলো ছোট থেকে ধীরে ধীরে বড় হয়।

উল্লেখ্য বর্ষবলয় শুধু spring wood- এর মাঝেই দেখা যায়। যদি গাছের রিং প্রশস্ত হয় তাহলে বুঝতে হবে তখনকার জলবায়ু অনুকূলে ছিল, কিন্তু যদি গাছের রিং যদি সরু হয় তাহলে ধ্রে নিতে হবে জলবায়ু প্রতিকূলে ছিল। গাছের এই বলয়গুলো বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। তাই ঐ সময়কার আবহাওয়া সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া যায়। যে শাখায় এই ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে Dendrochronology বলে।

চিত্রঃ Bristlecone pine গাছের বর্ষবলয় (annual ring)।

সমুদ্রের নিচের মাটিতে থাকা পলল গুলো জলবায়ু সংক্রান্ত উপাত্ত সংগ্রহের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এসব পললে বিভিন্ন organism থাকে যেগুলো সমুদ্র তলদেশের মাটির খুব কাছাকাছি থাকে। যখন organism-গুলো মারা যায় তখন এদের দেহের চারপাশে এক ধরনের খোলসের মতো আবরণ তৈরি হয় যা মাটিতে তলানি হিসেবে জমা হয়। এগুলোকে sedimentary record হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

এই organism-গুলো সমুদ্রের তাপমাত্রা, পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। এদের সংখ্যা, এদের কার্যকলাপ জলবায়ুর পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। বরফ যুগের সময়কার তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার তারতম্য এখান থেকেই বার করা হয়েছে। অনেক গুলো বিশ্ববিদ্যালয় মিলে CLIMAP (Climate: long range investigation mapping and prediction) নামের একটা প্রজেক্ট করে যেখানে এইসব sediment সংগ্রহ করে অতীত জলবায়ু নিয়ে গবেষণা করা হয়।

আগেকার দিনের জলবায়ু সম্পর্কে জানার জন্য অক্সিজেন আইসোটোপ হচ্ছে আরেকটি উপায়। বিশেষ করে গ্লেসিয়ারগুলো থেকে এই পদ্ধতিতে আমরা পরিবর্তন অনুমান করতে পারি। অক্সিজেন-১৬ এবং অক্সিজেন-১৮ এই দুই ধরনের আইসোটোপই H2O গঠন করতে পারে। এর মধ্যে অক্সিজেন-১৬ হচ্ছে হালকা এবং সমুদ্রের পানি থেকে বাষ্পীভূত হয়ে পারে। এজন্য সাগরে ভাসমান বরফগুলতে এই আইসোটোপ বেশি পাওয়া যায়। অপরদিকে অক্সিজেন-১৮ ভারী। এটা সমুদ্রে থেকে যায়। এজন্য শীতকালে বেশিরভাগ অক্সিজেন-১৬ বরফে আবদ্ধ থেকে যায়। কিন্তু যখনই গরমকাল চলে আসে তখন বরফ গলে যায়। অক্সিজেন ১৬ সমুদ্রে চলে আসে। অক্সিজেন-১৬ এবং ১৮ এর অনুপাতের তারতম্য ঘটে।

কথা হচ্ছে এখান থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের আমরা কী বুঝবো? যদি আমাদের কাছে আগের অক্সিজেন-১৮ বা অক্সিজেন-১৬ এর অনুপাতের data থাকত তাহলে আমরা বলতে পারতাম কখন glacier যুগ ছিল, জলবায়ুর অবস্থা কখন কেমন হতো এইসব।

মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের কাছে এসবের উপাত্ত আছে। ঐ যে আগে বলেছিলাম, সমুদ্রের তলদেশের পলিমাটি ও সেখানকার organism-গুলোর মৃতদেহের উপরে যে শক্ত আবরণ থাকে ওখান থেকে আমরা এই দুটি অক্সিজেন আইসোটোপের অনুপাতের তারতম্য বুঝতে পারি।

এই অনুপাত তাপমাত্রার সাথেও পরিবর্তিত হয়। যদি অক্সিজেন-১৬ বেশি বাষ্পীভূত হয় এবং অক্সিজেন-১৮ যদি বেশি পরিমাণে সাগরে থেকে যায় তাহলে বুঝতে হবে ঐ সময় গরম ছিল। আবার ঠাণ্ডা হলে ঠিক এর বিপরীতটা ঘটবে। বিজ্ঞানীরা এখন বরফের বিভিন্ন স্তর নিয়ে গবেষণা করছেন যেন করে আগেকার কয়েক হাজার বছরের তাপমাত্রার একটা উপাত্ত তৈরি করতে পারেন।

চিত্রঃ গত ৪০,০০০ বছরের তাপমাত্রার পরিবর্তন।

উদ্ভিদের ফসিল রেণু বা স্পোর থেকে আমরা অনেক আগেকার গাছপালার বর্ধন, vegetation অবস্থা বের করতে পারি। যদি কোনো sediment-এ কোনো ছোট উদ্ভিদ পাওয়া যায় এবং ঐ sediment এর বয়স ঠিকভাবে বের করা হয় তাহলে অনেক ভালো মানের উপাত্ত আমরা পেতে পারি। প্রকৃতিতে রেণু বা স্পোর প্রচুর পরিমাণে থাকে এবং খুব সহজে শনাক্ত করা যায়। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে আমরা রেণুগুলোর পৃষ্ঠের আকার-আকৃতি, তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তন ইত্যাদি তথ্য থেকে এতোদিন কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন হলো তা সম্পর্কে জানতে পারি।

একবার নিউ ইংল্যান্ডে পলিমাটি থেকে তুন্দ্রা গাছের ফসিল রেণু পাওয়া যায়। পরীক্ষা করে দেখা গেছে এটা প্রায় ১২ হাজার বছর আগের এবং ঐ স্থানের তাপমাত্রা ১২ হাজার বছর আগে এখনকার তাপমাত্রা থেকে অনেক ঠাণ্ডা ছিল।

এতটুকুই ছিল আজকের পর্বের জন্য। যদি ভালো লাগে তো এরপর জলবায়ুর উপর তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ইত্যাদির প্রভাব, ফলাফল ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করবো।

featured image: progressivereform.org

প্রতিকণার অন্তরালে

কোয়ান্টাম মেকানিক্সে অবদানের জন্য যে কয়জন বিজ্ঞানীর নাম প্রথমদিকে উঠে আসে, তাদের মধ্যে পল ডিরাক একজন। রাদারফোর্ড ও বোরের তত্ত্বের পর মানুষ এটা বুঝতে পেরেছিল যে ইলেকট্রনের অবস্থান কোয়ান্টায়িত। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। এত কম ভরের ইলেকট্রনের চার্জ কীভাবে এত ভরযুক্ত প্রোটনের সমান হয়?

এটা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ডিরাক বুঝতে পারেন যে, ইলেকট্রন, দুটি বিপরীত শক্তি দশায় অবস্থান করতে পারে। মানে ইলেকট্রন একইসাথে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জবিশিষ্ট হতে পারে। ডিরাক প্রথমে ভেবেছিলেন, এর একটি হয়তো ইলেকট্রন এবং অপরটি প্রোটন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি অনুধাবন করেন যে ইলেকট্রনের বিপরীত দশার যে কণাটি রয়েছে তার ভর অবশ্যই ইলেকট্রনের সমান হতে হবে। তখন তিনি প্রস্তাব করলেন প্রতিপদার্থের। অর্থাৎ এমন একটি কণা, যার সকল বৈশিষ্ট্য ইলেকট্রনের মতো, শুধুমাত্র চার্জ বিপরীত।

প্রতিপদার্থের আবিষ্কার

এর আবিষ্কার কীভাবে হলো সেটা জানতে হলে একটু পেছনের দিকে যেতে হবে। স্কুলে আমরা সবাই তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের কথা পড়েছি। কিন্তু এখানে খুব বেশীক্ষণ চার্জ ধরে রাখা যায় না। বিজ্ঞানীরা চিন্তা করলেন ভূমি থেকে হয়তো চার্জ এসে তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের চার্জকে প্রশমিত করে।

এজন্য বিজ্ঞানীরা তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রকে মাটি থেকে অনেক উপরে নিয়ে পরীক্ষা করলেন। তখন বিস্ময়ের সাথে দেখলেন যে, তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের চার্জ আরো দ্রুত প্রশমিত হচ্ছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে বাইরে থেকে কোনো চার্জ তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের চার্জকে প্রশমিত করে দিচ্ছে।

এই চার্জ উচ্চ ভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন। এই চার্জের প্রকৃতি কেমন? ধনাত্মক নাকি ঋণাত্মক? বিজ্ঞানীরা বললেন, যদি এই রশ্মি ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয়, তাহলে পশ্চিম দিক থেকে এই রশ্মি বেশি আসবে এবং ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হলে বেশী আসবে পূর্ব দিক থেকে। এটা কেন আসবে তা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

একটি U আকৃতির চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিকে এবং দক্ষিণ মেরু দক্ষিণ দিকে রেখে দুই মেরুর মাঝখানে একটি তারের মাধ্যমে নিচের দিকে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করুন। দেখবেন তারটি পুর্ব দিকে সরে গিয়েছে। কণার পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা দেখলেন রশ্মিটি পশ্চিম দিক থেকে বেশী আসছে। এর মানে রশ্মিটি ধনাত্মক চার্জযুক্ত।

১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী এন্ডারসন এই রশ্মির প্রকৃতি সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য এই রশ্মিকে একটি ক্লাউড চেম্বারের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করান। ক্লাউড চেম্বার হলো এমন এক যন্ত্র যার ভিতরে কোনো চার্জিত আয়ন প্রবেশ করলে আয়নটির গতিপথ দৃশ্যমান হয়।

চিত্রঃ ক্লাউড চেম্বারে প্রতিপদার্থের প্রমাণ

ইলেকট্রনের গতি বেশি বলে লেডের প্রতিবন্ধক দেয়া হয়েছে, যেন ইলেকট্রনের গতি কমে যায়। আর ইলেকট্রনের গতি কমে গেলে তার গতিপথ খুব সহজেই ধরা যাবে।কিন্তু তিনি এতে কোনো আয়নের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করতে পারলেন না। এর একটিই কারণ থাকতে পারে। তা হলো আয়নের গতি অনেক বেশী হওয়ায় এটিকে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। তখন তিনি আয়নের গতি কমানোর জন্যে ক্লাউড চেম্বারের মাঝে একটি লেড (Pb) নির্মিত প্রতিবন্ধক রেখে দেন। তখন তিনি পাশের চিত্রের মতো একটি বক্ররেখা দেখতে পান। যেখানে দেখা যাচ্ছে লেডের প্রতিবন্ধকের দুই পাশেই রেখাটি একই দিকে সরে যাচ্ছে। অবাক করার মতোই ব্যাপার।

ইলেকট্রনের গতিপথ তো পাওয়া গেল। কিন্তু লেডের অন্যপাশে কেন রেখা দেখা যাচ্ছে? লেডের পাতকে অতিক্রম করার আগে তো কণার গতিপথ দেখতে পাবার কথা না। এছাড়া লেডের এক পাশে কণার (ইলেকট্রন) গতিপথ ও অপর পাশে কণার গতিপথ একই। শুধু একটি আরেকটির মিরর ইমেজ। এখান থেকে প্রমাণ হলো এদের চার্জ বিপরীত কিন্তু অন্যান্য বৈশিষ্ট একই, যা মুলত ডিরাকের পূর্ব ঘোষিত প্রতি-পদার্থের বৈশিষ্ট বহন করে।

প্রতিপদার্থের বৈশিষ্ট্য

১) কোনো কণা এবং তার প্রতিকণার চার্জ সর্বদা বিপরীত হবে। যেমনঃ ইলেকট্রনের চার্জ -১ এবং পজিট্রনের চার্জ +১।

২) চার্জ ব্যতীত কণা ও প্রতিকণার অন্য সকল বৈশিষ্ট্য একই থাকবে।

৩) প্রতিকণার গতিপথ সর্বদা মূল কণাটির গতিপথের উল্টো হবে।

৪) কণা ও প্রতিকণার মাঝে যদি কখনো সংঘর্ষ হয়, তবে কণা ও প্রতিকণা উভয়ই ধ্বংস হয়ে যাবে। আইনস্টাইনের E=mc^2 সূত্র অনুযায়ী সমস্ত ভর, শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।

৫) পদার্থ ও প্রতিপদার্থ কি একে অন্যকে মহাকর্ষ বলের প্রভাবে আকর্ষণ করবে, নাকি বিকর্ষণ করবে এই ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে দুটি প্রতিপদার্থ যে একে অপরকে অবশ্যই আকর্ষণ করবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত।

৬. মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় সমান সংখ্যক পদার্থ ও প্রতিপদার্থ সৃষ্টি হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ মনে করেন আমাদের এই মহাবিশ্বের মতো কোনো প্রতিপদার্থের মহাবিশ্ব থাকতে পারে (যদিও এটি প্রমাণিত নয়)।

পল ডিরাক

ডিরাক হিসাব করে দেখলেন, প্রতিকণার জন্যে আইন্সটাইনের সমীকরণ, E=mc^2 । তিনি আরো দেখলেন, প্রতিকণার জন্য তাদের এনার্জি ব্যান্ড থাকবে জিরো লেভেল এনার্জির নিচে। অর্থাৎ ঋণাত্মক লেভেলে। ডিরাক যখন প্রতিপদার্থের কথা বললেন, তখন বিজ্ঞানী মহলের একটি প্রশ্ন তাকে বিপদে ফেলে দিয়েছিল। প্রতিপদার্থের যদি অস্তিত্ব থেকেই থাকে, তাহলে আমরা কেন এটাকে দেখতে পাচ্ছি না?

অনেক ভেবে ডিরাক বললেন, আসলে ঋণাত্মক এনার্জি লেভেল পজিট্রন দিয়ে কানায় কানায় পূর্ণ। একে মুক্ত করে বের করে আনতে অনেক অনেক শক্তি দরকার। তবে মাঝে মাঝে একটি ইলেকট্রন যথেষ্ট পরিমাণ শক্তি গ্রহণ করে ধনাত্মক শক্তিস্তরে আসতে পারে, কিন্তু সেক্ষেত্রে সে পেছনে ফেলে আসে একটি কণা। যার আচরণ হবে ইলেকট্রনের মতো। শুধু চার্জ হবে বিপরীত। এটিই সেই পজিট্রন। এই ঘটনা খুব কম ঘটে বলেই আমরা প্রতিপদার্থ দেখতে পাই না সহজে।ডিরাক হিসাব করে দেখলেন, প্রতিকণার জন্যে আইন্সটাইনের সমীকরণ, । তিনি আরো দেখলেন, প্রতিকণার জন্য তাদের এনার্জি ব্যান্ড থাকবে জিরো লেভেল এনার্জির নিচে। অর্থাৎ ঋণাত্মক লেভেলে। ডিরাক যখন প্রতিপদার্থের কথা বললেন, তখন বিজ্ঞানী মহলের একটি প্রশ্ন তাকে বিপদে ফেলে দিয়েছিল। প্রতিপদার্থের যদি অস্তিত্ব থেকেই থাকে, তাহলে আমরা কেন এটাকে দেখতে পাচ্ছি না?

প্রতিকণা সম্পর্কে আধুনিক কিছু মতবাদ প্রসঙ্গে আসি। এই মতবাদগুলো কোনোটিই প্রমাণিত নয়। তবে এই তত্ত্ব বিজ্ঞান মহলে অনেক সমাদৃত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন মনে করছেন প্রতিকণা আসলে চলে সময়ের উল্টো দিকে। এদের চার্জ এবং সময়ের দিক আমাদের চার্জ ও সময়ের। আমরা যদি ভবিষ্যতের দিকে যাই তাহলে প্রতিকণা যাবে অতীতের দিকে।

একটি ঋণাত্মক চার্জের ইলেকট্রন একটি ধণাত্মক চার্জের কোনো কণার কাছে আসলে কী হবে? এরা একে অন্যকে আকর্ষণ করবে এবং ইলেকট্রন ধণাত্মক চার্জিত কণার দিকে ছুটে যাবে। আর পজিট্রন কিন্তু সম-আধানের কারণে বিপরীত দিকে ছুটে যাবে।

এখন আমি যদি বলি, ইলেকট্রন ও পজিট্রন একই কণা, কিন্তু একটি চলে সময়ের দিকে ও অন্যটি চলে সময়ের বিপরীত দিকে তাহলে আমাকে ভুল মনে করার কোনো উপায় নেই। বিশ্বাস হচ্ছে না? ভাবছেন, এভাবে তো ইচ্ছা করলেই যে কেউ অতীতকে পরিবর্তন করতে পারবে। অতীতে একটি কণা ছিল না, কিন্তু আপনি প্রতিকণা তৈরী করে অতীতে কণাটি পাঠিয়ে দিতে পারবেন। তবে মজার ব্যাপারটা কি জানেন? আমরা কিন্তু কোয়ান্টাম লেভেলে অন্যভাবেও অতীতকে পরিবর্তন করতে পারি।

ধরুন আপনি একটি কণাকে ছুড়ে মারলেন। এখন কণাটি সকল জায়গাতেই থাকবে, যেখানে যেখানে তার থাকার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু যখনই সেই কণাটিকে কোনোভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন তখনই দেখবেন, কণাটি কোনো একটি স্থানে অবস্থান করছে। অন্য কোনো স্থানে কণাটির পূর্বে অবস্থানের কোনো চিহ্নও পাবেন না। তারমানে কি এই দাড়াচ্ছে না, আপনি কণাটির অতীতকে পরিবর্তন করে দিচ্ছেন?

বিজ্ঞানীরা হিসাব নিকাশ করে বের করেছেন, অতীত ভ্রমণ করার জন্য আপনার দরকার হবে নেগেটিভ এনার্জী। যেটি প্রতিকণার কাছে রয়েছে জন্মলগ্ন থেকেই। কীভাবে বিজ্ঞানীরা হিসাব করলেন? সে না হয় অন্য কোনোদিন বলবো।

featured image: australiascience.tv

হেনরিয়েটা ল্যাক্সঃ ‘অমর’ বিজ্ঞানের নায়িকা

‘শুধু বিষ, শুধু বিষ দাও, অমৃত চাই না,

অমরত্বের লোভ করুক বিক্ষোভ,

জীবনকে যদি দাও নীল বিষাক্ত ছোপ

থাকবে না, থাকবে না, থাকবে না ক্ষোভ

আমার মৃত দেহে ঝুলবে নোটিশ বোর্ড, কর্তৃপক্ষ দায়ী না।’

 

প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তীর এই গানটি শুনতে শুনতে মনে পড়ে গেল একজন নারী বিজ্ঞানীর কথা। তিনি কোনো প্রভাবশালী বা তারকা ব্যক্তিত্ব ছিলেন না। জীবনের নীল বিষাক্ত ছোপে জর্জরিত হয়েছিলেন বারংবার। তাই, অমরত্বের লোভও হয়ত তিনি কখনো করেননি। কিন্তু, পৃথিবীর ইতিহাসে তিনিই হয়ে রইলেন অমরত্বের প্রতীক। বলছিলাম ‘অমর’ বিজ্ঞানের নায়িকা হেনরিয়েটা ল্যাক্স এর কথা।

হেনরিয়েটা ল্যাক্স এর জন্ম ১৯২০ সালের ১ আগস্ট, আমেরিকার ভার্জিনিয়া প্রদেশের রোয়ানোকি গ্রামে। জন্মের সময় নাম ছিল লরেটা। ডাকনাম হ্যানি। হ্যানি থেকে হেনরিয়েটা।

হেনরিয়েটা ল্যাক্স

কিন্তু, না। হেনরিয়েটার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সবটা কিন্তু শেষ হয়ে গেল না। বরং, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। হেনরিয়েটা ল্যাক্স এর তেজস্ক্রিয় চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে কর্তব্যরত সার্জন তাঁকে না জানিয়ে কোনোরকম অনুমতি ছাড়াই তাঁর গর্ভাশয়ের কিছু সুস্থ কোষ এবং গর্ভাশয় টিউমারের কিছু ক্যান্সারের নমুনা কোষ সংগ্রহ করে নেন গবেষণাগারে পরীক্ষা করার জন্য।১৯৫১ সালের ২৯ জানুয়ারি হেনরিয়েটা হঠাৎ তলপেটে প্রচণ্ড যন্ত্রণা অনুভব করেন। ছুটে গেলেন জন হপকিন্স হাসপাতালে। তখনকার সময়ে তার মতো কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য এটিই ছিল সবচেয়ে নিকটবর্তী হাসপাতাল। শনাক্ত হলো তিনি গর্ভাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসা হিসেবে আক্রান্ত স্থানে তেজস্ক্রিয় রশ্মি প্রয়োগ করা হলো। কিন্তু, শেষ রক্ষা হলো না। ১৯৫১ সালের ৪ অক্টোবর মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলেন হেনরিয়েটা। শেষ হলো হেনরিয়েটার ইহলৌকিক জীবন।

সেই নমুনাগুলোকে নিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে বিস্ময়ে তাজ্জব বনে গেলেন গবেষকরা। সুস্থ, স্বাভাবিক কোষ সাধারণত উপযুক্ত পরিবেশ পেলে কয়েক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে, এর পরে মরে যায়। কিন্তু গবেষকরা দেখলেন, হেনরিয়েটার টিউমার কোষগুলো মরছে না। উপযুক্ত খাদ্য এবং পরিবেশে সেগুলো শুধু বেঁচেই থাকছে না, বরং বংশবৃদ্ধিও করে চলেছে।

হেনরিয়েটার সুস্থ কোষগুলো যেখানে গবেষণাগারে জন্মানোর কিছু দিনের মধ্যেই মারা যায়, সেখানে তার টিউমার কোষগুলো প্রতি ২৪ ঘণ্টায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছিল। স্বাভাবিক কোষের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ দ্রুত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হচ্ছিল টিউমার কোষগুলো।

ব্যস, পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা পেয়ে গেলেন মানুষের অমর কোষের খোঁজ। এখান থেকে গবেষণার জন্য তৈরি হলো immortal cell line। হেনরিয়েটা ল্যাক্স এর ইংরেজি নাম থেকে সেল লাইনটির নামকরণ করা হলো হিলা (HeLa) সেল লাইন। Henrietta থেকে He এবং Lacks থেকে La নিয়ে একসাথে HeLa।

অবশেষে, ২০১০ সালে হেনরিয়েটা ল্যাক্স এর অমরত্বের কাহিনী নিয়ে লেখিকা রেবেকা স্ক্লুট রচনা করেন The Immortal Life of Henrietta Lacks নামের বই। গবেষণাগারের টেস্টটিউব ছাড়িয়ে বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হয় তার অমরত্বের ইতিহাস। অচিরেই বেস্টসেলার তালিকায় স্থান করে নেয় লেখিকা রেবেকার এই বইটি।

হেনরিয়েটা ল্যাক্সের টিউমার কোষগুলো শুধুমাত্র ক্যান্সার গবেষণায় সীমাবদ্ধ ছিল না। জিরো গ্রাভিটিতে মানুষের কোষের অবস্থা কেমন হয় তা দেখার জন্য প্রথম মহাশূন্য অভিযানে পাঠানো হয়েছিল তাঁর কোষ। তাঁর কোষ ব্যবহার করে বিজ্ঞানী জোনাস স্যাক (Jonas Salk) তৈরি করেছিলেন পোলিও ভ্যাক্‌সিন।

এছাড়াও, ক্লোনিং, জিন ম্যাপিং, ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন এর মতো বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতেও ব্যবহৃত হয়েছে তাঁর কোষ। আর এভাবে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের নানা কর্মকাণ্ডেরর মধ্য দিয়ে অমর হয়ে রইলেন হেনরিয়েটা ল্যাক্স, বেঁচে রইলেন পৃথিবীর অজস্র গবেষণাগারে।

তথ্যসূত্রঃ

১. Rebecca Skloot (2010) “The Immortal Life of Henrietta Lacks”

২. https://en.wikipedia.org/wiki/Henrietta_Lacks

featured image: hackaday.com

হ্যাকিং এর বিভিন্ন পদ্ধতি এবং অন্যান্য

ধরুন, আপনি কোনো একটা কোম্পানির সিইও। একদিন সকালবেলা কম্পিউটার নিয়ে বসলেন কোম্পানির বর্তমান ব্যাংক ব্যালেন্স চেক করাতে। কেমন হবে যখন দেখলেন আপনার ব্যাংক ব্যালেন্স শুন্য? এই ঘটনার পেছনের কারণ হলো হ্যাকিং।

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বেশ কিছু এটিএম কার্ড জালিয়াতি ও ব্যাংক ডাকাতির খবর শুনেছি। এই ব্যাংক ডাকাতি এবং এটিএম কার্ড জালিয়াতিও  হ্যাকিং-এর সাথে যুক্ত। হ্যাকিং এবং হ্যাকার- এখনকার তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয় দুটি শব্দ। কেমন জানি শিহরণ জাগায়। হ্যাকিং নিয়ে আমাদের আগ্রহের কমতি নেই। অনেকের হ্যাকিং নিয়ে ভুল ধারণা আছে। হ্যাকার মানেই শুধু আইডি চোর না, হ্যাকার অনেকাংশে একটা ব্র্যান্ড। হ্যাকিং ও হ্যাকারের এদিক সেদিক নিয়ে আজকের আলোচনা।

হ্যাকিং এবং হ্যাকার

হ্যাকিং হলো একটি প্রক্রিয়া যেখানে কেউ কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে। যারা হ্যাকিং করে তারা হ্যাকার।

উইকিপিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যাকার হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি নিরাপত্তা/অনিরাপত্তার সাথে জড়িত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বল দিক খুঁজে বের করায় বিশেষভাবে দক্ষ অথবা অন্য কম্পিউটার ব্যবস্থায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম বা এর সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী। সহজ কথায়, কোনো কম্পিউটার সিষ্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে দুর্বলতা খুঁজে বের করে সেটির নিরাপত্তা ভাঙ্গাই হ্যাকারদের কাজ।

এবার আসি হ্যাকারদের প্রকারভেদ সম্পর্কে। কার্যকলাপের উপর ভিত্তি করে হ্যাকারদের মূলত ৩ ভাগে করা হয়।

. হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার হলো সেই ব্যক্তি যিনি কোনো সিকিউরিটি সিস্টেমের দুর্বলতা বা ত্রুটি খুঁজে বের করে ঐ সিকিউরিটি সিস্টেমের মালিককে বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ত্রুটিগুলো সম্পর্কে অবহিত করে। এই সিকিউরিটি সিস্টেমটি হতে পারে কোনো কম্পিউটার, বা কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ওয়েবসাইট, বা কোনো প্রোগ্রাম। হোয়াইট হ্যাট হ্যাকাররা মূলত সাইবার ওয়ার্ল্ডে নিরাপত্তা প্রদান করে। এদেরকে ইথিক্যাল হ্যাকারও বলা হয়। কোনো সিস্টেমে নিরাপত্তা প্রদান করাই এদের কাজ।

. ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার হ্যাকার বলতে মূলত এদেরকেই বুঝানো হয়। এরা বিভিন্ন সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বেড়ায় শুধুমাত্র নিজেদের আর্থিক অথবা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য।

এরা কোনো সিকিউরিটি সিস্টেমের ত্রুটিগুলো বের করলে সেটিকেকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগায়। ঐ সিস্টেমের ডাটাবেজ নষ্ট করে। কখনোবা বিভিন্ন ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়। অথবা কোনো নতুন ত্রুটি তৈরি করে রাখে যাতে ভবিষ্যতে নিজে আবার সেই সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে। কতভাবে অন্যকে নাকানি চুবানি দেয়া যায়- এটা হিসাব নিকাশ করাই এদের একমাত্র লক্ষ্য।

৩. গ্রে হ্যাট হ্যাকারঃ এরা হলো হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার এবং ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারের মাঝামাঝি অবস্থা। অর্থাৎ, এরা ভাল এবং খারাপ দুইটাই করে থাকে। বেশিরভাগ হ্যাকারই এই ক্যাটাগরিতে পড়ে। এরা কোনো সিস্টেমের ত্রুটি বের করে সেটি কখনও ঐ সিস্টেমের মালিকে জানায়, আবার কখনও নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে, সিস্টেমের ক্ষতিসাধন করে। দিনে ভাল, রাতে খারাপ- এরা হলো এই টাইপের। এখন হ্যাকার সংশ্লিষ্ট আরও কিছু টার্মের সাথে পরিচিত হওয়া যাক।

এলিট হ্যাকার (Elite hacker): এরা খুবই দক্ষ হ্যাকার। কোনো সিস্টেমকে হ্যাক করার পাশাপাশি দক্ষতার সাথে লুকায়িতও হতে পারে। নিত্যনতুন হ্যাকিং কৌশল আবিষ্কার করে। একই সাথে কোনো মেথডকে আরো নিখুঁত করার চেষ্টায় থাকে। এরা প্রোগ্রামিংয়ে বিশেষ দক্ষ। বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিং টুলস এবং এক্সপ্লয়েট মূলত এরাই তৈরি করে থাকে।

ক্র্যাকারঃ ব্ল্যাক হ্যাটরাই মূলত ক্র্যাকার (cracker)। এদের কাজ হলো বিভিন্ন ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম তৈরি করা এবং অনুমতি ছাড়া কোনো কপিরাইট প্রটেক্টেট সফটওয়্যারের কোড ভেঙ্গে ফেলা।

স্ক্রিপ্ট কিডি এরা প্রোগ্রামিংয়ে তেমন দক্ষ নয়। নিজেরা কোনো টুলস তৈরি করতে পারে না, অন্যের বানানো টুলস বা স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে থাকে। কোনো সিস্টেম হ্যাক করার পর এরা সঠিকভাবে নিজেদের লুকিয়ে নিতেও করতে পারে না।

নিওফাইট এরা হলো বিগিনার। হ্যাকিং এর নতুন শিক্ষার্থী। হ্যাকিং এর প্রয়োজনীয় জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা কোনোটাই এদের নেই। এদেরকে নিউবি বা নুবও বলা হয়।

কি কি হ্যাক করা সম্ভব?

অনেকেই হ্যাকিং বলতে শুধু ফেসবুক আইডি বা মেইল আইডি হ্যাকিং এবং ওয়েবসাইট হ্যাকিংকেই বুঝে থাকেন। বাস্তবে হ্যাকিং কিন্তু শুধু এই সামান্য গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ না। গাড়ির ট্র্যাকিং সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করা, সিম ক্লোনিং, বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করাটাও হ্যাকিং-এর মধ্যে পড়ে। একজন হ্যাকার আপনার স্কাইপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আপনার কথা শুনতে পারে। অনলাইন ওয়েব ক্যাম হ্যাক করে আপনাকে সরাসরি দেখতে পারে। কম্পিউটার এবং মোবাইল কন্ট্রোল করতে পারে। ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করা তো প্রতিদিনের ঘটনা। হ্যাকাররা এরকম আরও অনেক কিছুই করতে পারে যা আপনি ভাবেননি আগে!

কেন করা হয় হ্যাকিং?

অনেক কারণেই হ্যাকিং করা হয়। অযৌক্তিক এবং যৌক্তিক দুই ধরনের কারণই হ্যাকিং এর সাথে জড়িত। যেমনঃ ১. নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে; ২. অনেকের কাছে হ্যাকিং করাটা একধরনের বিনোদন; ৩. নিজেদের স্কিল প্র্যাকটিস করা; ৪. তথ্য চুরি; ৫. আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে, যেমন- ক্রেডিট কার্ড হ্যাকিং; ৬. কোনো কাজের প্রতিবাদ করার উদ্দেশ্যে।

একজন হ্যাকার বিভিন্নভাবে হ্যাক করে থাকে। হ্যাকিং-এর প্রক্রিয়া নির্ভর করে কোন ধরনের হ্যাকিং করা হচ্ছে তার উপর। যেমন- ইমেইল আইডি হ্যাক করার জন্য এক ধরনের প্রক্রিয়া, ওয়েবসাইট বা ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক হ্যাক করার জন্য আরেক ধরনের। নিচে কিছু বিখ্যাত হ্যাকিং মেথড সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা দেয়া হলো।

ফিশিংঃ ফিশিং (Phishing) সম্পর্কে মোটামুটি সবারই কমবেশি ধারণা আছে। ফিশিং হলো কোনো বিশ্বস্ত মিডিয়ার ছদ্মবেশে ভিকটিমের ইউজার, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি হাতিয়ে নেয়ার একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। ফিশিং সাইটের লিঙ্কগুলো সাধারণত ইমেইল বা ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং এর মাধ্যমে পাঠানো হয়। ইমেইলে কোনো নকল ওয়েবসাইটের লিংক দেয়া হয়, যেখানে ক্লিক করলেই তাদের বানানো নকল ওয়েবসাইটটিতে কোনো ইউজার প্রবেশ করে যেটি দেখতে আসল ওয়েবসাইটের মতো। নিচের চিত্রটা লক্ষ করুন।

কি, ফেসবুকের লগইন পেজের মতো লাগছে? কিন্তু আদৌ এটি ফেসবুকের লগইন পেজ নয়। এটা একটা ফিশিং পেজ। লিঙ্কটি খেয়াল করুন। Address-টি হলো http://nshahriar.netau.net/?id=facebook যদি এটি ফেসবুকের লগইন পেজ হতো, তাহলে লিঙ্কটি হতো https://www.facebook.com।

এখানে দেখা যাচ্ছে, প্রথম লিঙ্কের শুরুতে http এবং ফেসবুকের আসল লিঙ্কটিতে https লেখা। http-এর পূর্ণরূপ Hypertext Transfer Protocol, আর https হচ্ছে Hypertext Transfer Protocol Secure. http বা https হলো একটি অ্যাপ্লিকেশন প্রটোকল; ইন্টারনেটে হাইপারমিডিয়ার মাধ্যমে তথ্য বন্টনের বহুল প্রচলিত পদ্ধতি। http এবং https-এর মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে http কোনো নিরাপদ সংযোগ না, অন্যদিকে https হলো সিকিউর কানেকশন যাতে তৃতীয় পক্ষের সার্ভারের সাথে আপনার আদান প্রদান করা তথ্যগুলো অবজার্ভ করা না যায়। যেহেতু, ফেসবুক ভেরিফাই করা নিরাপদ সংযোগ, তাই এখানে https ব্যবহার করা হয়েছে।

উপরের ফিশিং পেজের লিঙ্কটি যদি আপনি ফেসবুকে কাউকে ইনবক্স করেন, ফেসবুক লিঙ্কটিকে ফিশিং লিঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করে রিমুভ করে দিবে। ফেসবুক যাতে এই ধরনের ফিশিং পেজকে চিহ্নিত করতে না পারে, এটির জন্য এই লিঙ্কগুলোকে মাস্কিং করা হয়। এভাবে ফিশিং-এর মাধ্যমে ফেসবুক আইডি, মেইল আইডি, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি হ্যাক করা হয়।

ম্যালওয়্যার Malicious software-এর সংক্ষিপ্ত রূপ ম্যালওয়্যার (Malware)। অল্প কথায়, যে সব ক্ষতিকারক সফটওয়্যার, কম্পিউটার সিস্টেমের স্বাভাবিক কাজকে বাঁধা দেয়, অনুমতি ছাড়া কম্পিউটারের বিভিন্ন তথ্য পাচার করে, কোনো সিস্টেমের সেনসিটিভ তথ্য জমা রাখে, সেগুলোকেই ম্যালওয়্যার বলে। আমাদের কম্পিউটার ভাইরাসও এক ধরনের ম্যালওয়্যার। ম্যালওয়্যারের আরো অনেক রূপ আছে। Worms, Trojans, Rootkits, Adware, Spyware এগুলো সবই একপ্রকার ম্যালওয়্যার।

এদের প্রত্যেকের কাজও ভিন্ন ভিন্ন। যেমন, Trojan বা Trojan horses আপনার অজান্তে কোনো বিশ্বস্ত প্রোগ্রামের সাথে কম্পিউটারে প্রবেশ করে গোপনে হ্যাকারের সার্ভারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। এর মাধ্যমে একজন হ্যাকার ভিকটিমের কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। Spyware মূলত ভিকটিমের ইন্টারনেট সার্ফিং-এর উপর নজরদারি করে, একইসাথে এটি ভিকটিমের বিভিন্ন তথ্য, যেমন কোনো ওয়েবসাইটে তার আইডির তথ্য, তার ছবি এগুলো হ্যাকারের কাছে পাঠিয়ে দেয়।

এতসব ম্যালওয়্যারের মধ্যে Worms-কে সবচেয়ে বিপদজনক বলা যায়। এটি কোনো কম্পিউটারে প্রবেশ করে নিজের প্রতিরূপ তৈরি করে, সেই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত অন্য সিস্টেমগুলোতেও এই প্রতিরূপ পাঠায়। যার কারণে ঐ কম্পিউটারের পাশাপাশি তার সাথে যুক্ত সিস্টেমের নেটওয়ার্কেও ত্রুটির সৃষ্টি হয়। একজন হ্যাকার এই ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে কোনো ওয়েবসাইট হ্যাক করতে পারে। পাশাপাশি ঐ সিস্টেমের সাথে যুক্ত ব্যবহারকারীদের কম্পিউটারের উপরও নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

কিলগার কি-লগার (Keylogger) হচ্ছে এমন একটি প্রোগ্রাম যেটি আপনার অজান্তে কম্পিউটারে আপনি কি-বোর্ডে কোন কোন বাটন বা key চাপছেন সেটি সংরক্ষণ করে। কারো ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেবার জন্য এটি সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।

কি-লগার দিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত সাইবার ক্রাইমের ঘটনাটি ঘটে সম্ভবত ২০০৫ সালে। জাপানি ব্যাংক Sumitomo Mitsui-এর লন্ডন অফিস থেকে কিলগার ব্যবহার করে ২২০ মিলিয়ন ইউরো (৪২৩ মিলিয়ন পাউন্ড) হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে ধরা খান কিলগারটির কোডার Yeron Bolondi!

XSS: Cross-site Scripting এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো XSS। এর মাধ্যমে একজন হ্যাকার তার ভিকটিমের ক্লায়েন্ট সাইড স্ক্রিপ্টের আসল ওয়েব পেজ সংক্রমিত করে। এটি web application vulnerability-র সবচেয়ে জনপ্রিয়গুলোর একটি। এই vulnerability দিয়ে একজন হ্যাকার ভিকটিমের ওয়েবসাইটে malicious code, phishing, malware ইত্যাদি প্রবেশ করাতে পারে। বড় বড় ওয়েবসাইট হ্যাক করতে XSS attack সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে FBI, Apple, Microsoft, CNN এর মতো খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান।

SQL Injection: SQL এর পূর্ণ রূপ হলো Structured Query Language। এটি একটি বিশেষ ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ যার মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইটের ডাটাবেস সংরক্ষণ করে রাখা হয়। আর SQL injection বা SQLi হলো কোড ইনজেক্ট করার একটি বিশেষ পদ্ধতি, যার ফলে কোনো ওয়েবসাইটের ডাটাবেসে পাসওয়ার্ড ছাড়াই প্রবেশ করা যায়। সব ওয়েবসাইট এই প্রক্রিয়ায় হ্যাক করা সম্ভব না অবশ্য। SQLi তখনই প্রয়োগ করা যাবে যখন SQL দিয়ে তৈরি কোনো ওয়েবসাইটের ডাটাবেসে ত্রুটি (error) থাকবে। এই পদ্ধতিতে প্রথমে একজন হ্যাকার SQL vulnerable ওয়েবসাইটটির ডাটাবেসের কলাম সংখ্যা বের করে। এরপর বের করে vulnerable কলামের ডাটাবেস ভার্সন। এরপর একে একে ডাটাবেসের টেবিল, এডমিন টেবিলের কলামের নাম, সেখান থেকে এডমিনের ইউজার নেম, পাসওয়ার্ড এবং সবশেষে এডমিন লগইন প্যানেল বের করে কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে। অধিকাংশ ওয়েবসাইটের ডাটাবেসই SQL দিয়ে তৈরি। তাই এটি হ্যাকারদের অন্যতম পছন্দের একটি পদ্ধতি।

DoS/DDos attack: DoS বা DDoS attack হলো ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের আরো একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। DoS হলো Denial of Service আর DDoS হলো Distributed Denial of Service. DoS বা DDoS attack হলো কোনো কম্পিউটার সিস্টেমের সেবার (service) প্রকৃত ব্যবহারকারীদের বাধা দিয়ে সিস্টেমকে ডাউন করার একটি কৌশল। এক্ষেত্রে হ্যাকারের কম্পিউটার বা সিস্টেম থেকে ভিকটিমের সার্ভারে অনবরত অসংখ্য TCP/UDP/ICPM প্যাকেট পাঠানো হয়। DoS attack এর ক্ষেত্রে এই বার্তা পাঠানোর কাজটা করা হয় একটিমাত্র কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ থেকে। আর DDoS আক্রমণে একাধিক কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে। সাধারণত botnet ব্যবহার করে DDoS আক্রমণ চালান হয়। DDoS আক্রমণের কৌশল বুঝতে পরবর্তী চিত্রটি লক্ষ্য করুন।

ধরা যাক, কোনো ওয়েবসাইটের দৈনিক ১ গিগাবাইট ব্যান্ডউইড্থ কেনা আছে। সেখানে প্রতিদিন ১০ হাজার হিট হয় এবং ৫০০ মেগাবাইটের বেশি ব্যান্ডউইড্থ প্রয়োজন হয় না। এখন কোনো হ্যাকার যদি একটি স্ক্রিপ্ট লিখে ঐ সাইটে অজস্র ভুয়া হিট করে খুব অল্প সময়ে দৈনিক ১ গিগাবাইটের সীমা অতিক্রম করে ফেলে, তখন ঐ ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের কেউই আর ঐ সাইটে যেতে পারবেন না। DDoS attack একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ব্রিটিশ আইনে DDoS আক্রমণকারীর ১০ বছর জেলের বিধান আছে।

সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এক ধরনের মনোবৈজ্ঞানিক কৌশল যেখানে অত্যন্ত চতুরতার সাথে ভিকটিমের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে আনা হয়। এই তথ্য দেয়ার কাজটা ভিকটিম নিজের অজান্তেই করে থাকে। শুনতে অবাক লাগছে? ভিকটিম নিজেই কেন হ্যাকারকে তার আইডির বিস্তারিত তথ্য বা মেইলের পাসওয়ার্ড দিবে? আসলে সে সরাসরি এই তথ্যগুলো দেয় না। একজন হ্যাকার এই তথ্য যোগাড় করার কাজটা হয়তো করতে পারে আপনার সাথে সরাসরি কথা বলে। সেটা হতে পারে আপনার ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে, আপনার টাইমলাইন ঘেঁটে! ধরুন, আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের security ques-এ ‘আপনার মায়ের জন্মস্থান কোথায়?’ এর সঠিক উত্তর হলো খুলনা। এখন আপনি যদি এই প্রশ্নের উত্তর ‘খুলনা’ দিয়েই সেভ করে রাখেন, তাহলে একজন হ্যাকারের পক্ষে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে খুব সহজেই এই উত্তরটা অনুমান করা সম্ভব।

জটিল কথাবার্তা তো অনেক হলো। এবার চলুন পরিচিত হই কিছু বিশ্ববিখ্যাত ব্ল্যাক হ্যাটদের সাথে, যাদের কারণে বর্তমান সাইবার স্পেস আগের থেকে অনেক নিরাপদ হয়েছে।

কেভিন মিটনিক হ্যাকিং জগতের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তি সম্ভবত কেভিন মিটনিক। তাকে বলা হয় ‘ফাদার অফ অল হ্যাকার’। তার হ্যাকিং জীবন শুরু হয় সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসে পাঞ্চ কার্ড হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে। তিনি মটোরোলা, নকিয়া, ফুজিৎসুর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করেছিলেন। আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি সিস্টেমেও তার অবৈধ বিচরণ ছিল। ২০০০ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তার উপর কম্পিউটার, সেল ফোন এবং ইন্টারনেটযুক্ত ডিভাইস ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। মিটনিকের জীবনী নিয়ে ২০০০ সালে তৈরি হয় ‘ট্রেকডাউন’ চলচ্চিত্র।

গ্যারি ম্যাককিননঃ বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মিলিটারি কম্পিউটার হ্যাকের সাথে জড়িয়ে ছিলেন এই ব্যক্তি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি, নৌবাহিনী, নাসার মতো বড় বড় সরকারি দপ্তরের ৯৭ টি কম্পিউটার হ্যাক করেন।

চিত্রঃ ক্যাভিন মিটকিন ও গ্যারি ম্যাককিনন।

জনাথন জেমস জনাথন জেমস মাত্র ১৬ বছর বয়সে সাইবার ক্রাইমের অভিযোগে জেলে গিয়েছিলেন। ১৫ বছর বয়সে বেল-সাউথ, মিয়ামি ডেড, আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং নাসার ওয়েবসাইট হ্যাক করেন। জেমস নাসার ওয়েবসাইট হ্যাক করে সেখান থেকে প্রায় ১.৭ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ মূল্যের একটি সফটওয়্যারের সোর্সকোড ডাউনলোড করেন।

নাসার মতে জেমস যে সফটওয়্যারগুলো চুরি করেছিল সেগুলো দিয়ে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। জেমস নাসার ওয়েবসাইটে যে ক্ষতি করেছিলেন সেটি ঠিক করতে নাসার ওয়েবসাইট তিন সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হয়। ২০০৮ সালের ১৮ মে মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে এই প্রতিভাবান হ্যাকার আত্মহত্যা করেন।

ভ্লাদিমির লেভিন রাশিয়ান এই হ্যাকার ১৯৯৪ সালে সিটি ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্পোরেট ইউজারের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে ফেলেন ১০.৭ মিলিয়ন ডলার। ১৯৯৫ সালে লেভিন ধরা পড়েন এবং বিচারে তার ৩ বচরের জেল ও ২.৫ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়।

আদ্রিয়ান লামোঃ ‘দ্য হোমলেস হ্যাকার’ হিসেবে বিখ্যাত আদ্রিয়ান লামো মাইক্রোসফট, ইয়াহু সহ বড় বড় কোম্পানির ওয়েবসাইট হ্যাক করেন। এছাড়া তিনি হ্যাক করেছেন ব্যাংক অফ আমেরিকা, সিটি গ্রুপ, নিউ ইয়র্ক টাইমস, এমসিআই ওয়ার্ল্ডকমের মতো বিখ্যাত সব ওয়েবসাইট।

চিত্রঃ জনাথন জেমস ও আদ্রিয়ান লামো।

মাইকেল কেল্সঃ ইন্টারনেট দুনিয়ার ‘মাফিয়া বয়’ হিসেবেই তার পরিচিতি। এই কানাডিয়ান ‘মাফিয়া বয়’ DoS attack এর মাধ্যমে আমাজন, ডেল, ইবে, ফিফা, সিএনএনের মতো বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিকে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছিলেন। এত কিছুর পরেও তাকে মাত্র আট মাসের জেল দেয়া হয়। মাত্র আট মাসের জেল দেয়ার কারণ কি বলতে পারেন? তিনি যে তখন মাত্র ক্লাস এইটে পড়তেন!

অ্যাস্ট্রাঃ অ্যাস্ট্রা একজন গ্রিক গণিতবিদ যার আসল নামখানা কখনোই প্রকাশিত হয়নি। তিনি ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওয়েবসাইট হ্যাক করে সমস্ত অস্ত্রের ডিজাইন সংক্রান্ত ডাটা নিজের দখলে নিয়ে আসেন এবং সারা বিশ্বের বিভিন্ন কাস্টমারের কাছে সেই ডাটা ৩৬১ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন। গ্রিসের এথেন্স শহরের একটি এপার্টমেন্ট থেকে ২০০৮ সালে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন।

আলর্বাট গঞ্জালেজঃ ক্রেডিট কার্ড হ্যাকিংয়ের জন্য কুখ্যাত। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল, মাত্র ২ বছরে গঞ্জালেজ ও তার গ্রুপ ১৭০ মিলিয়ন ক্রেডিট কার্ড এবং এটিএম নম্বর জালিয়াতি করেন। ২০১০ সালে তাকে ২০ বছরের জন্য জেলে পাঠানো হয়।

ডেভিড স্মিথঃ ম্যালিসা ভাইরাসের স্রষ্টা। ভাইরাসটি ইন্টারনেটে ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে এবং প্রায় ৩০০ টি বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে হামলা চালায়। এর মধ্যে মাইক্রোসফট, ইন্টেল, লুসেন্ট টেকনোলজির মতো কোম্পানিও ছিল।

ম্যাথিউ বেভান রিচার্ড প্রাইসঃ ১৯৯৬ সালে গ্রেফতার হবার পর যখন মিডিয়াতে আসেন তখন দুজনের বয়স ছিল যথাক্রমে ২১ এবং ১৭ বছর। সেই সময় তারা হ্যাক করেন ইউএস মিলিটারি কম্পিউটার সিস্টেম। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার সরকারি নিরাপত্তা কাজে নিয়জিত কম্পিউটারও হ্যাক করেছিলেন।

Hacking is a crime!

কোনো সন্দেহ নেই যে হ্যাকিং অবশ্যই একটি অপরাধ। অন্যের প্রাইভেসিতে হাত দেয়ার কোনো অধিকার নেই আপনার। যারা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি করে, আইনের চোখে তারা সাইবার ক্রিমিনাল হিসেবে পরিচিত।

সবদেশেই সাইবার অপরাধের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। আমাদের দেশেও সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত নীতিমালা রয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী একজন সাইবার অপরাধীর সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেলের বিধান করা হয়েছে, সাথে রয়েছে মোটা অঙ্কের জরিমানাও। এছাড়া অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী রয়েছে ন্যূনতম ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা।

কীভাবে হবো ইথিক্যাল হ্যাকার

ইথিক্যাল হ্যাকার শব্দটা ব্যবহার না করে আমরা সিকিউরিটি প্রোফেশনাল টার্মটা ব্যবহার করতে পারি। হ্যাকার হওয়া আর দশটা পেশার মতো না যেখানে ডিগ্রিটাই মুখ্য। একজন কম্পিউটার সায়েন্স পড়ুয়া ছাত্র হ্যাকার হওয়ার যোগ্যতা নাও রাখতে পারে। আবার স্কুল পড়ুয়া কিশোরও অনেক বড় মাপের হ্যাকার হতে পারে। হ্যাকিং জিনিসটা হচ্ছে সম্পূর্ণ ‘স্কিল’ নির্ভর। এই ‘স্কিল’টা হচ্ছে কম্পিউটার এবং প্রোগ্রামিংয়ের উপর দক্ষতা। অনেক ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজই তো আছে, কোনোটা দিয়ে শুরু করবো?

শুরু করতে পারেন html দিয়ে। এরপর একে একে C, C++, java, javascript, php, python শিখে ফেলুন। প্রোগ্রামিং না শিখেও কিন্তু হ্যাকার হওয়া সম্ভব। কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনি সারাজীবন স্ক্রিপ্ট কিডিই থেকে যাবেন, নতুন কিছু আর তৈরি করতে পারবেন না। লিনাক্স ব্যবহার করা শুরু করুন। মনে রাখবেন, কোনো কোড ভাঙ্গার আগে আপনার সেই কোডটা তৈরি করার যোগ্যতা থাকতে হবে। আপনাকে গুগল ঘাঁটার অভ্যাস করতে হবে।

এলিট হ্যাকার বা একজন সিকিউরিটি প্রোফেশনাল হবার মতো যাবতীয় উপকরণ ইন্টারনেটে আছে। শুধু প্রয়োজন ধৈর্য, অনুশীলন আর ঘাঁটাঘাঁটি। প্রত্যেকটা অপারেটিং সিস্টেমেই দুর্বলতা আছে। নিজের অপারেটিং সিস্টেমকেই হ্যাক করার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিং মেথড শিখুন। XSS, RFI, LFI, SQLi, DoS/DDoS attack, CSRF, DNS Cache Poisoning, Penetration testing, server rooting… শেখার কোনো শেষ নেই।

শতভাগ নিখুঁত সিস্টেম বলে কিছু নেই। প্রত্যেকটা জিনিসেরই ত্রুটি থাকে। আপনি সেই ত্রুটির সমাধান করা যায় কিংবা সেই ত্রুটি কাজে লাগিয়ে অন্যের ক্ষতিও সাধন করা যায়।  তথ্যপ্রযুক্তির এই জয়োৎসবে বিজয়ী হিসেবে থাকতে হলে অবশ্য আপনাকে প্রথমটাই বেছে নিতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ

১. https://en.wikipedia.org/wiki/Hacker_%28computer_security%29

২. http://searchenterprisedesktop.techtarget.com/tip/The-difference-between-hackers-and-crackers

৩. https://en.wikipedia.org/wiki/Phishing

৪. https://en.wikipedia.org/wiki/Malware

৫. http://news.bbc.co.uk/2/hi/uk/4356661.stm

৬. https://en.wikipedia.org/wiki/Cross-site_scripting

৭. https://en.wikipedia.org/wiki/SQL_injection

৮. https://en.wikipedia.org/wiki/Denial-of-service_attack

৯. http://www.webopedia.com/TERM/D/DDoS_attack.html

১০. https://en.wikipedia.org/wiki/Social_engineering_%28security%29

featured image: fossbytes.com

যে গাছের রক্ত আছে

আমার শৈশব কেটেছে মায়ের মুখে চমকপ্রদ গল্প শুনে। কাহিনীগুলো ভাবাতো। ভাবতাম এমনও সম্ভব? অনেক কুসংস্কারকে ভৌতিক কাণ্ড বলে মনে করতাম। যখন বড় হলাম, তখন এদের পেছনে যে বিজ্ঞান আছে তা ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম।

আমার নানার বাড়ি দেশের উত্তরাঞ্চলের এক গ্রামে। সীমান্তবর্তী এই গ্রামটির পাশে রয়েছে বিশাল এক শালবন। ১৯৪৭ সালের আগে গ্রামের এক কোণে ছিল পরিত্যক্ত এক মন্দির। মন্দিরের পাশে ছিল প্রচুর গাছপালা। পাকিস্তান আমলে মন্দিরের পাশের গাছগুলো কাটতে গেলে হঠাৎ দেখা যায় একটি গাছ থেকে রক্ত নিসৃত হচ্ছে! কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ মনে করেছিল মন্দিরের গাছ কাটার কারণে এমন হচ্ছে। তারপর থেকে ঐ মন্দিরের চৌহদ্দীতে কেউ ভিড়তো না।

কিছু উদ্ভিদের রেজিনে প্রচুর পরিমাণে আয়রন অক্সাইড বিদ্যমান থাকায় এদের রেজিন রক্তের মতো লাল হয়। লক্ষ্যণীয় যে একই কারণে মানুষের রক্তও লাল হয়। মানুষের রক্তের হিমোগ্লোবিনে প্রচুর পরিমাণে আয়রন অক্সাইড থাকে যা রক্তকে লাল করে। এ ধরনের গাছকে কাটলে দ্রুত বেগে রেজিন বের হয় যা রক্তের ধারার মতো দেখায়। এমন বৈশিষ্ট্যধারী কিছু গাছ সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

চিত্রঃ কাটা গাছের কান্ড হতে নিসৃত রক্তের মতো রেজিন।

ড্রাগন ব্লাড ট্রিঃ এটি অতি বিরল প্রজাতির গাছ। গ্রীক উপকথা অনুসারে, হারকিউলিস যখন ভয়ঙ্কর ড্রাগন লাডনকে হত্যা করেন তখন ঐ ড্রাগনের রক্ত থেকে এ গাছের উৎপত্তি। এ উপকথার কারণে গাছটির এমন নামকরণ। বিজ্ঞানীদের মতে, এ গাছ একসময় সারা বিশ্বের সাবট্রপিক্যাল তথা কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী অঞ্চলের বনভূমিতে পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে ইয়েমেনের দ্বীপ সকোত্রা ও কেনারী আইল্যান্ডে সামান্য কিছু গাছের দেখা মিলে।

চিত্রঃ ড্রাগন ব্লাড ট্রি

Desert bloodwood tree: এ গাছের কান্ডের ফাটল থেকে রক্তের মতো রেজিন বের হয়। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মরুভূমিতে এদের দেখা মিলে। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী গোষ্ঠী এ রেজিন সংগ্রহ করে রাখে। এ ধরনের রেজিনের শক্তিশালী জীবাণুনাশক গুণ রয়েছে। তাই আদিবাসীরা এ রেজিন ক্ষত নিরাময়ে ব্যবহার করে।


চিত্রঃ ডেজার্ট ব্লাড উড ট্রি ও এই গাছের ফাটল হতে নিঃসৃত লাল রেজিন।

Rainforest dragon blood tree: সম্প্রতি অ্যামাজন বনের গভীরে এক ধরনের গাছ আবিষ্কৃত হয়েছে যা থেকে ড্রাগন ব্লাড ট্রির মতো রেজিন বের হয়। রেইন ফরেস্টের মধ্যে পাওয়া এবং ড্রাগন ব্লাড ট্রি-র মত হওয়ায় এর নাম দেয়া হলো Rainforest dragon blood tree।

চিত্রঃ বামে ড্রাগন ব্লাড ট্রি কাটার ফলে রক্তের ধারার মত নিসৃত লাল রেজিন ও ডানে ডেজার্ট ব্লাড উড ট্রির কর্তিত কাণ্ড।

ক্ষুদে বড়লা বাংলাদেশ হতে বিলুপ্ত এ গাছ থেকে লাল রংয়ের রস নিসৃত হয়। এ গাছটি বাংলাদেশের এন্ডেমিক উদ্ভিদ ছিল। এন্ডেমিক প্রাণী বা উদ্ভিদ বলতে বুঝায় ঐ প্রাণী বা উদ্ভিদ কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না। যেমন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার ভারত উপমহাদেশের এন্ডেমিক প্রাণী।

তথ্যসূত্রঃ

  1. en.wikipidia.org/wiki/Ladon_(mythology)
  2. en.wikipidia.org/wiki/Dracaena_draco
  3. আবুল হাসান রচিত উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ১ম পত্র

অদ্ভুত উদ্ভিদ ভেনাস ফ্লাইট্রাপ

ভেনাস ফ্লাইট্রাপ, একপ্রকার উদ্ভিদ, আহারের জন্য পোকামাকড়কে ফাঁদে ফেলাই এর কাজ। জলাবদ্ধ মাটিতে জন্মায়। টিকে থাকার জন্য নির্ভর করতে হয় নিজ নিজ পত্র-পল্লবের উপর। সালোকসংশ্লেষণ নয়, পাতাকে কাজে লাগায় পোকামাকড় শিকার করতে। পাতার খাঁজের ভিতরে আছে ছয়টি সংবেদনশীল ট্রিগার হেয়ার। কোনো বস্তু এই সংবেদনশীল অঙ্গটি স্পর্শ করা মাত্রই ভিতরে আটকে ফেলে। জীবন্ত খাদ্যটি কিছু বুঝতেও পারে না তার সাথে আসলে কী হতে যাচ্ছে। বুঝার আগেই জীবন শেষ

ফাঁদটি পুরোপুরি বন্ধ হতে কয়েক সেকেন্ড সময় নেয়। খুব ছোট ছোট পোকামাকড় যেন বের হয়ে যেতে পারে। কারণ এদের থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া যাবে না। দয়ালুও বটে!

যদি বস্তুটি খাবার উপযোগী না হয় অর্থাৎ যদি পাথর বা এরকম কিছু পড়ে তাহলে উদ্ভিদটি অনুপযোগী খাদ্যকে বারো ঘণ্টার ভিতরেই বাইরে বের করে দেয়।

featured image: flytrapcare.com

বায়োনিক কান

প্রতিদিনই নানা রকম শব্দের সম্মুখীন হই। কিন্তু সব শব্দই কি শুনতে ভালো লাগে? গান কিংবা কোনো মধুর কন্ঠস্বর শুনতে হয়তো কোনো সমস্যা নেই কারো কিন্তু সেটা যদি হয় বাস, ট্রাক বা ট্রেনের হুইসেল কিংবা কোনো সমাবেশে লোকজনের অবাঞ্চিত চিৎকার-চেঁচামেচি, তাহলে সেটা বিরক্তির জন্ম দেয়। এরকম অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা প্রতিনিয়তই। আর আমরা যারা বাংলাদেশের বিশেষ করে ঢাকার নাগরিক তাদের কথা নাই বললাম।

কেমন হতো যদি আমরা এই শ্রুতিকটু শব্দকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম? আপনার বাসায় উচ্চ শব্দে টেলিভিশন চলছে বা গান বাজছে, তখন আপনি কী করবেন? হয়তো টিভিসেটের সাউন্ড কমিয়ে দিবেন। তেমনি, আমরা যখন হট্টগোলে পরে যাই যা শুনতে আমাদের বিরক্তি লাগে, তখন যদি সেই শব্দগুলোর ভলিউম কমিয়ে শুনতে পারতাম কিংবা যে শ্রুতিমধুর শব্দের ভলিউম কম সেটাকে যদি বাড়িয়ে শুনতে পারতাম তাহলে ব্যাপারটা দারুণ হতো না?

ঠিক তেমনই একটা যুগান্তকারী যন্ত্র আবিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান ডপলার ল্যাব। এর নাম বায়োনিক কান (Bionic ears)। এই যন্ত্রটির সাহায্যে আমরা চাইলেই যেকোনো শব্দের ভলিউম কমাতে বা বাড়াতে পারব।

যারা কানে শুনতে পায় না অথবা কম শুনে তাদের জন্য এটি আরো খুশির বার্তা নিয়ে এসেছে। যন্ত্রটি নিয়ে যারা গবেষণা করছেন তাদের প্রধান জেফ গ্রেইনারের মতে এই যন্ত্রটি দ্বারা বধিররা আগের তুলনায় ১০-৫০ গুণ পরিষ্কারভাবে শুনতে পারবে।

সংক্ষেপে এই যুগান্তকারী যন্ত্রটির গঠনকৌশল এবং এর কার্যপ্রণালী জেনে নেয়া যাক। এই যন্ত্রটিকে দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথমটি internal part এবং দ্বিতীয়টি external part। এই প্রধান অংশগুলোর আবার বিভিন্ন উপাংশ রয়েছে।

Internal part ভিতরের অংশ এই অংশটুকু একটা ছোট অপারেশনের মাধ্যমে কানের অভ্যন্তরে ককলিয়ার সাথে বসানো হয় এবং ককলিয়ার স্নায়ুর সাথে সংযুক্ত করা হয়। এই অংশে glutamate নামক একটা যন্ত্র থাকে যার মাধ্যমে ককলিয়ার স্নায়ুকে উদ্দীপিত করা হয় যার ফলে উক্ত স্নায়ু external part থেকে প্রাপ্ত শব্দকে মস্তিস্কে প্রেরণ করে এবং মস্তিষ্ক শ্রবণের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে আমরা সেই শব্দগুলো শুনতে পাই, যেগুলো external part থেকে আগেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসে।

External part বাইরের অংশ এটা খুব ছোট একটা যন্ত্র যা আমাদের কানের পিছনের অংশে লাগানো থাকে। এই যন্ত্রটির কয়েকটা উপ-অংশ নিয়ে গঠিত। ১. মাইক্রোফোন, যা পরিবেশ থেকে শব্দকে গ্রহণ করে। ২. শব্দ নিয়ন্ত্রক, যা মাইক্রোফোন থেকে প্রাপ্ত শব্দকে প্রয়োজন অনুসারে কমিয়ে বা বাড়িয়ে শ্রবণ উপযোগী করে তুলে। ৩. একটা প্রেরক যন্ত্র (transmitter) যা তড়িৎ-চুম্বকীয় আবেশের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত শব্দকে কানের অভ্যন্তরে রাখা internal device-এ প্রেরণ করে।

কিন্তু এই আলোচিত যন্ত্রটি ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কতটুকু সফল বা ফলপ্রসূ হতে পেরেছে? সর্বপ্রথম Alex Fitzpatrick নামক একজন ব্যক্তির দেহে এই বায়োনিক কান সফলভাবে লাগানো হয়। ১ ডিসেম্বর, ২০১৩ অবধি পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শুধু যুক্তরাষ্ট্রেরই ৩ লক্ষ ২৪ হাজার জন লোক এই যন্ত্রটি ব্যবহার করছে। যাদের মধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার শিশু। এছারাও যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, ইসরাইল, নিউজিল্যান্ড, চীন সহ আরো অনেক দেশেই এ যন্ত্রটি ব্যাপকভাবে প্রসারলাভ করেছে।

যদিও এ যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছিল শুধুমাত্র মিউজিসিয়ানদের জন্য কিন্ত পরবর্তীতে সাধারণ জনগণও এটা ব্যবহার করতে শুরু করে। এমনটাই বলেছেন ডপলার ল্যাবের CEO জনাব Noah Kraft।

তথ্যসূত্রঃ

১. en.wikipedia.org/wiki/Cochlear_implant

২. http://techfreep.com/bionic-ear-gives-cyborg-like-hearing.htm

featured image: thenextweb.com

নিজেদের ঠাণ্ডা রাখার জন্য গাছেরাও ঘামে

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অংশে সাম্প্রতিককালের গ্রীষ্মের দাবদাহ এতটা অধিক ছিল যে পিচ গলানোর দশা। যেহেতু বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটছে এবং জলবায়ু সংক্রান্ত সংকট ঘন ঘন হচ্ছে। অনেক উদ্ভিদই অভিযোজন করতে না পেরে হারিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ইউক্যালিপটাসের অন্তত একটি প্রজাতি রয়েছে যেটি অত্যধিক তাপেও ঘামতে থাকে, যখন কিনা অন্যান্য প্রক্রিয়া ক্রমশ থেমেও যায়। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

উদ্ভিদ যা করে— সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে খাদ্য তৈরি করে যার নাম ফটোসিন্থেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। পাতায় থাকা পত্ররন্ধ্র দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এ প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে। এ পত্ররন্ধ্রগুলো দিয়ে প্রস্বেদনের মাধ্যমে পানি জলীয়বাষ্প নির্গত হয়, যে পানি উদ্ভিদের অভ্যন্তরভাগে বিভিন্ন অংশে খনিজ পরিবহনের কাজ করে। আর পত্ররন্ধ্রগুলো সে পানিকে জলীয়বাষ্প হিসেবে বের করে দেয়ার ফলে উদ্ভিদদেহ শীতল হতে থাকে বাষ্পীভবনের ফলে। কিন্তু যান্ত্রিকতার মত বিষয়টা তত সরল নয়। সালোকসংশ্লেষণেরও একটি কার্যকরী তাপমাত্রা সীমা রয়েছে ক্রিয়াশীল থাকার ক্ষেত্রে। অত্যধিক তাপমাত্রা সালোকসংশ্লেষণের হার হ্রাস করে দেয়— ফলে অধিকাংশ উদ্ভিদের এই ক্রিয়ার সাথে সংলগ্ন থাকা উপজাত ক্রিয়া প্রস্বেদনও হ্রাস পায়। অর্থাৎ, উদ্ভিদদেহের তাপমাত্রা হ্রাস অধিক তাপমাত্রায় ব্যাহত হচ্ছে! বিবিধ প্রজাতির উদ্ভিদ এই প্রতিকূলতা কিভাবে সামাল দিবে সে ব্যাপারে বিজ্ঞানীদের খুব একটা জানা নেই এই অর্থে একটি প্রাকৃতিক পরিবেশে উদ্ভিদের বৈচিত্র্যতার মাত্রা কেমন হবে তার ভিত্তিতে।

E. parramattensis এর পাতা; source: Peter Woodard

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক কলেজের পরিবেশ ও বনবিদ্যা বিভাগের পরিবেশবিদ জন ড্রেক এবং তার সহকর্মীরা এক ডজন ইউক্যালিপটাস প্রজাতিয় উদ্ভিদ বড় করে তুলেছেন। চলতি নাম প্যারামাটা রেড গাম বা Parramatta red gum (বৈজ্ঞানিক নাম Eucalyptus parramattensis)। তারা এই ইউক্যালিপটাস গাছগুলো রোপন করেছেন নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়াসম্পন্ন প্লাস্টিকের খাঁচায় এক বছরের জন্য অস্ট্রেলিয়ার রিচমন্ডে। এদের ছয়টিকে রাখা হয়েছিল পারিপার্শ্বিক আবহাওয়ার সামঞ্জস্যে এবং বাকি ছয়টি ছিল ঐ তাপমাত্রার চেয়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি আবহাওয়ায়। গবেষকরা ১২টি গাছের ক্ষেত্রেই এদের মাটিতে সেচ দেন নি একমাস যাবৎ যাতে হালকা ধরনের খরা পরিস্থিতিতে গাছগুলোকে রাখা। এরপর টানা চারদিন উষ্ণতা বাড়িয়ে দেন ৩টি-৩টি করে ৬টি খাঁচার গাছে। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় থাকা ৩টি আর ৩ডিগ্রি অধিক তাপমাত্রায় থাকা তিনটির আবহাওয়া নিয়ে যাওয়া হয় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়।

অত্যধিক তাপমাত্রায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া কার্যত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু গবেষকরা চমকে যান এই বিশেষ গাছগুলো প্রায় স্বাভাবিক মাত্রাতেই প্রস্বেদন ঘটিয়ে চলতে থাকায়। অর্থাৎ, এই প্যারামাটা রেড গাম গাছগুলোর বাড়তি ক্ষমতা রয়েছে সালোকসংশ্লেষণের হার হ্রাস পেয়ে যাবার পরও উত্তাপ নির্গমনে প্রস্বেদন চালু রাখতে। গবেষকরা তাদের সিদ্ধান্ত পেয়ে গেলেন— উষ্ণতর স্থানেও স্বাভাবিক আবহাওয়া ও পরিবেশের মত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে এ জাতীয় ইউক্যালিপটাস। শুধু তাই নয়, তাপমাত্রা হ্রাস পেয়ে স্বাভাবিক হলে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াও স্বাভাবিক হয়ে যায়। অর্থাৎ, অধিক তাপমাত্রার প্রতিকূলতায় কেবল সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ করে কেবল প্রস্বেদনে ব্যস্ত থাকছে। ফেব্রুয়ারিতে এ গবেষণার ফল প্রকাশিত হয় মাসিক জার্নাল Global Change Biology এ।

গবেষকরা মনে করেন এ বিশেষ গাছের কার্যকরী মাত্রায় প্রস্বেদনের কারণ— এরা মাটির গভীর থেকে পানি শোষণ করতে পারে। এ কারণে সালোকসংশ্লেষণ প্রায় বন্ধ হয়ে যাবার পরেও তাদের উত্তাপ হ্রাসে প্রস্বেদন প্রক্রিয়া চালু রাখতে পেরেছিল। তবে উত্তাপ, খরা এবং ভূগর্ভস্থ পানির সংকট একই সময়ে হলে এ গাছেদের জন্যও আর উপযোগিতা অবশিষ্ট থাকবে না।

অন্যান্য বিজ্ঞানীদের আশা যোগান দিচ্ছে এ ফলাফল। লরেন্স বার্কলে ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির পরিবেশবিদ ট্রেভর কীনান মনে করেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি সুখবর। অন্যান্য প্রজাতির ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়া কিভাবে কাজ করতে পারে এখন সেটাই দেখার বিষয়। এ গবেষণার প্রধান ড্রেক উত্তর আমেরিকার সুলভ গাছগুলোর উপর অনুরূপ পরীক্ষা করার আশা করেন।

বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা বলতে বাংলাদেশেরও উচিত এ জাতীয় গবেষণায় এগিয়ে আসা। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ একটি দীর্ঘ ও যথেষ্ট অনিশ্চিত প্রক্রিয়া। তাই অন্যান্য প্রক্রিয়ার সাথে আমাদের অঞ্চলের যে সকল অতি প্রচলিত গাছ আছে সেগুলো কতটুকু টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে তা পরীক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। কোনসকল বৃক্ষের টিকে থাকার অভিযোজন ক্ষমতা বেশি সেগুলো নিয়েই বনায়নের দিকে জোর দেয়া উচিত। কারণ টেকসই বনায়নের একটি নির্ণায়ক গাছেদের টিকে থাকার ক্ষমতা।

 

সায়েন্টিফিক আমেরিকান অবলম্বনে।

বয়মের মধ্যে মস্তিষ্ক সংরক্ষণ

প্রশ্নঃ টেলিভিশন ধারাবাহিক বা সিনেমাগুলোতে প্রায় সময়ই বয়ামের মধ্যে সংরক্ষিত মস্তিষ্ক দেখা যায়। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বাস্তবে কি বয়ামে ভরে মস্তিষ্ক জীবিত রাখা সম্ভব?

উত্তরঃ কিছু নীতিগত ব্যাপার জড়িত বলে এ নিয়ে এখনো খুব বেশি গবেষণা হয়নি। একটি জীবন্ত মস্তিষ্ক শরীর থেকে আলাদা করে সংরক্ষণ করা সম্ভব, কিন্তু তা ক্ষণিকের জন্য মাত্র। নৈতিক কিছু বিষয়ের কারণে অনেক বিশেষজ্ঞ এ জাতীয় ব্যাপারগুলো একেবারে পরিহার করে চলেন।

৯০ এর দশকের প্রথম দিকে বিজ্ঞানীরা একটি স্তন্যপায়ী জীবের মস্তিষ্ক আলাদা করে তা সংরক্ষণ করেছিলেন। এটি আট ঘন্টা পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। এটি এবং এর পরে সংগঠিত এই জাতীয় সকল গবেষণাগুলোতে গিনিপিগের মস্তিষ্ক ব্যবহার করা হয়েছিল।

গিনিপিগের মস্তিষ্ক ইঁদুরের মস্তিষ্কের তুলনায় আকৃতিতে বড় এবং গবেষণার জন্য অধিক উপযোগী। শরীর থেকে আলাদা করার পর মস্তিষ্কটি কতক্ষণ সক্রিয় থাকে তা পরীক্ষা করে দেখেন গবেষকরা। শুধুমাত্র সক্রিয়তার সময়কাল পরীক্ষা করাই ইউরোপীয় গবেষণাগুলোর উদ্দেশ্য ছিল না, পাশাপাশি এদের অধিকাংশই সংগঠিত হয়েছিল একটি পূর্ণাঙ্গ মস্তিষ্কের সামগ্রিক আকৃতি সম্বন্ধে অবগত হওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে।

একটি জীবের শরীর থেকে তার মস্তিষ্ক ‘আলাদা’ করে রেখে গবেষণা করার মধ্যে নৈতিকতা-সম্বন্ধীয় কিছু সমস্যা জড়িত, তাই যুক্তরাষ্ট্রে গুটিকয়েকবার মাত্র এ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। এর বেশি এগোনো যায়নি।

তবে বাস্তবসম্মতভাবে এবং নৈতিকতা-বিরোধী কোনো সমস্যা ছাড়া এ কাজ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে মৃত প্রাণীর মস্তিষ্ক ব্যবহার করতে হবে, যা নিষ্ক্রিয় হলেও ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাবে। ২০১৫ সালে বিজ্ঞানীরা একটি ইঁদুরের নিউরাল সার্কিট সংরক্ষণ করেছিলেন। এজন্য তাঁদেরকে রাসায়নিক পদ্ধতিতে চর্বি জাতীয় অণু, প্রোটিন সংযোজন এবং মস্তিষ্কের পানির জায়গায় প্লাস্টিক ব্যবহার করতে হয়েছিল।

চিত্রঃ বয়ামে আইনস্টাইনের মস্তিষ্ক

যতদিন না পর্যন্ত একে স্ক্যান করে এবং পুনরায় এর নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করে কোনো রোবট দেহে বা ভার্চ্যুয়াল এনভায়রনমেন্টে ব্যবহার করার জন্য নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কৃত না যাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত একে বয়মে ভরে একটা শেলফে রেখে অনায়াসে সংরক্ষণ করা যাবে। এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অভিনব এবং ভালো, কেননা অনন্তকালের জন্য বয়মের মতো আবদ্ধ স্থানে জীবন্ত কিছু আটকে রাখার চেয়ে এটা অনেকগুণ কম ভয়াবহ!

তথ্যসূত্রঃ ডিসকভার ম্যাগাজিন

featured image: digitallusions.deviantart.com

শরতের পাতার রঙের রসায়ন

শরতের আগমনের সাথে সাথেই গাছের পাতার রঙের মধ্যে বিচিত্রতা দেখা যায়। এ বিচিত্রতা যদিও আমাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে চোখে পড়ে, কিন্তু এর মধ্যে যে রসায়নের খেলা চলে তা নিয়ে আমরা হয়তো খুব কমই মাথা ঘামাই।

পাতায় বিভিন্ন রঙ প্রদানকারী যৌগ সম্পর্কে জানার আগে করার আগে প্রাথমিক অবস্থায় এদের উৎপত্তি বিষয়ে জেনে নেই। এ উদ্দেশ্যে যে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বন্ধনের উদ্ভব ঘটে। শরতের পাতার রঙ পরিবর্তনের পিছনে একক ও দ্বি-বন্ধনের মিশ্রিণ এবং কনজুগেশন বন্ধনেরও ভূমিকা আছে। কজুগেশন বন্ধনের কারণে পাতায় বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘের দৃশ্যমান আলো শোষিত হতে পারে। চোখে আপতিত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ভিন্নতার কারণে পাতার রঙেও ভিন্নতা দেখা যায়।

ক্লোরোফিল

পাতার সবুজ রঙের জন্য দায়ী ক্লোরোফিল নামের উপাদানটি। পাতার কোষের ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরে থাকে এ ক্লোরোফিল, যা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। ক্লোরোফিল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন উষ্ণ তাপমাত্রা এবং সূর্যালোক।

গ্রীষ্ম শেষ হবার সাথে সাথে যেহেতু উষ্ণতা ও সূর্যালোক উভয়ই প্রতিকূলে যেতে থাকে তাই তখন ক্লোরোফিল উৎপাদনের হারও কমতে থাকে। অন্যদিকে পাতার মাঝে সঞ্চিত ক্লোরোফিল বিয়োজিত হতে থাকে। এ অবস্থায় পাতার রঙ সবুজ থেকে পরিবর্তিত হয়ে আদি হলদেটে রূপ ধারণ করে।

ক্যারোটিনয়েড ও ফ্যাভিনয়েড

রাসায়নিক যৌগের পরিবারের মধ্যে ক্যারোটিনয়েড ও ফ্যাভিনয়েড বিশাল স্থান দখল করে আছে। এরা লাল ও হলুদ রঙের জন্য দায়ী। ক্যারোটিনয়েড এবং ফ্যাভিনয়েড ক্লোরোফিলের সাথে উপস্থিত থাকে। এমনকি এমনকি গ্রীষ্মেও। তবে গ্রীষ্মে ক্লোরোফিল উৎপাদন অপেক্ষাকৃত বেশি ঘটে থাকে বিধায় পাতার মাঝে এদের প্রভাব দেখা যায় না। ফলে পাতা সবুজ দেখায়।

তবে শরতের আগমনের সাথে সাথে আবার ক্যারোটিনয়েড ও ফ্যাভিনয়েডের উপস্থিতি প্রকট হতে থাকে ফলে হলুদ রঙের উদ্ভব ঘটে। এদের মাঝে ক্যারোটিনয়েড লাল আর ফ্যাভিনয়েড কমলা রঙের আবির্ভাব ঘটায়। শরত শেষ হবার সাথে সাথে ক্যারোটিনয়েড ও ফ্যাভিনয়েডের উপস্থিতি কমতে থাকে।

ক্যারোটিনয়েডের আরো কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে বিটা-ক্যারোটিন (গাজরে থাকে), লুটেইন (ডিমের কুসুমের হলুদ রঙের জন্য দায়ী), লাইকোপিন (টমেটোর টকটকে লাল রঙের জন্য দায়ী)।

অ্যান্থোসায়ানিন

ফ্যাভিনয়েড শ্রেণীরই অন্তর্ভুক্ত অ্যান্থোসায়ানিন। কিন্তু ফ্যাভিনয়েডের মতো অ্যান্থোসায়ানিন সারা বছর জুড়ে পাতার মধ্যে থাকে না। বেলা নামার সাথে সাথে পাতার মাঝে অবশিষ্ট শর্করা সূর্যালোকের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যান্থোসায়ানিনের উৎপাদন ঘটায়।

যদিও পাতার মধ্যে অ্যান্থোসায়ানিনের প্রকৃত ভূমিকা জানা যায়নি, ধারণা করা হয় অ্যান্থোসায়ানিন আলোক নিরাপত্তার কাজ করে থাকে। অর্থাৎ পাতাকে অতিরিক্ত সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করে। আর পাতাকে রঙ দানের ক্ষেত্রে অ্যান্থোসায়ানিন লাল, বেগুনি ও অন্যান্য মিশ্রিত রঙের আবির্ভাব ঘটিয়ে থাকে। পাতার রসের মধ্যে অম্লের উপস্থিতির কারণেও রঙের আবির্ভাবের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ কম্পাউন্ড কেমিস্ট্রি, http://www.compoundchem.com/2014/09/11/autumnleaves/

featured image: turningstar.com

শীত ও গ্রীষ্মে ভিন্নভাবে কাজ করে মানুষের মস্তিষ্ক

একটি নতুন গবেষণা বলছে আমাদের মস্তিষ্ক একেক ঋতুতে একেকভাবে কাজ করে। এই গবেষণার সাথে যুক্ত গবেষক গিলস ভেনডেওয়ালের ভাষ্যে, মস্তিষ্কের কার্যকলাপের চলমান প্রক্রিয়া ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন। বেলজিয়ামের গবেষকরা ২৮ জন মানুষেকে নিয়ে বিভিন্ন ঋতুতে এই পরীক্ষাটি করেন।

পরীক্ষায় প্রতিবার একজন ব্যক্তি ৪/৫ দিন শুধুমাত্র একটি গবেষণাগারে কাজ করেন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকেন। এরপর প্রত্যেকের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা হয়। তাদের কর্মদক্ষতা, কাজের প্রতি মনোযোগ বজায় রাখা, তথ্য সংগ্রহ ও তুলনা করার দক্ষতা, স্মৃতিতে তথ্য ধারণ করার ক্ষমতা ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা হয়।

গবেষকরা দেখতে পান বিভিন্ন সময়ে মানুষের কর্মদক্ষতার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু দেখা যায়, এই গবেষণায় কাজগুলো সম্পাদন করতে ‘নিউরাল কস্ট’ ও মস্তিষ্কের কার্যাবলির প্রক্রিয়ার পরিবতর্ন হয়। এটি বছরের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রকম হয়। যেমন, মস্তিষ্কের কাজের মাত্রা মনোযোগ বজায় রাখার সমানুপাতিক।

বছরের জুন মাসের দিকে, অর্থাৎ শীতকালে মস্তিষ্কের কাজের মাত্রা থাকে উপরে। অন্যদিকে ডিসেম্বর মাসে গ্রীষ্মের সময়ে মস্তিষ্কের কাজের মাত্রা থাকে নিচের দিকে। আবার আরেকটি ব্যাপার, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার পর্যায়, স্মৃতিতে ধারণক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত। কার্যক্ষমতা শরতে থাকে শীর্ষে এবং বসন্তে থাকে সর্বনিম্নে।

পূর্ববর্তী কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ঋতুর পরিবর্তনের সাথে মানুষের দৈনন্দিন কার্যাদির সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকেরা মনে করেন, শীতকালে মানুষের ক্যালরি গ্রাস করার ঝোঁক গ্রীষ্মকালের তুলনায় বেশি। ২০১৫ সালে ‘নেচার কমিউনিকেশন’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের জিনের সক্রিয়তা ঋতুর সাথে পরিবর্তিত হয়।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, মানুষের মেজাজ এবং ঋতুর মধ্যে একটা যোগসূত্র আছে। শীতকালে মস্তিষ্কের সিজনেবল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (SAD) এর লক্ষণ দেখা যায়।

গবেষক ভেনডেওয়ালে বলেন, যদিও গবেষকরা মস্তিষ্কের সক্রিয়তা এবং ঋতু পরিবর্তনের সাথে মানুষের মেজাজ পরিবর্তনের সম্ভাব্য সম্পর্ক এই নতুন গবেষণায় পরীক্ষা করেননি, কিন্তু যারা SAD-এ ভুগছেন, তাদের ঋতু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের জ্ঞান সম্বন্ধীয় কার্যাবলীর প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গবেষকরা আরো বলেন, নতুন গবেষণায় পাওয়া ঋতু পার্থক্যের সাথে মস্তিষ্কের কার্যকলাপের পরিবর্তনের পেছনে দায়ী মূল কারণ ও প্রক্রিয়া এখনো স্পষ্ট নয়। তবে আগের গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নিউরোট্রান্সমিটার যেমন সেরোটোনিনের মাত্রা এবং সেই সাথে মস্তিষ্কের শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় জড়িত প্রোটিনের মাত্রা ঋতু পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়।

গবেষকরা এই নতুন গবেষণা থেকে উপনীত হন যে, ঋতুর পরিবর্তনের সাথে মস্তিষ্কের সক্রিয়তার বৈচিত্রময় পরিবর্তন হয়। এই নতুন গবেষণাটি ৮ ফেব্রুয়ারিতে ‘ন্যাশনাল একাডেমী অব সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্রঃ লাইভ সায়েন্স, http://www.livescience.com/53643-your-brain-works-differently-seasons.html

featured image: edition.cnn.com