in

ঘর্ষণহীন হোভারবোর্ড

‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’ সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্রের আরেকটি ভবিষ্যৎবাণী সত্যি হতে যাচ্ছে। গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘লেক্সাস’ এমন একটি হোভারবোর্ড তৈরি করেছে, যা তড়িতচুম্বক ব্যবহার করে ভূমির ২.৫ থেকে ৫ সেন্টিমিটার উপরে থেকে ভাসাতে পারে।

তবে এখানে কিছু সমস্যা আছে। এই মুহূর্তে এটি একটি প্রোটোটাইপ হিসেবে আছে। বিক্রয়ের জন্য অবমুক্ত করা হয়নি। কেউ চাইলেই এই হোভারবোর্ড দিয়ে শূন্যে ভেসে ভেসে তার গন্তব্যে যেতে পারবে না। বোর্ডটা কেবলমাত্র বিশেষ চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের ওপর কাজ করবে এবং প্রতিবার একে বিশ মিনিটের জন্য ব্যবহার করা যাবে। তবে লেক্সাস যেহেতু দেখিয়েছে এটা সম্ভব, কে জানে ভবিষ্যতে হয়তো সত্যি সত্যি হোভারবোর্ড দিয়ে বাতাসে ভেসে নাটকীয় ভঙ্গীতে স্কুল-কলেজ-গন্তব্যে যেতে পারবে মানুষ!

লেক্সাসের হোভারবোর্ডের ভিতর রয়েছে আলাদা একটি কোর যা উপযুক্ত তাপমাত্রায় অতিপরিবাহী হিসেবে কাজ করে। এগুলো ক্রায়োস্ট্যাটসের মধ্যে অবস্থান করে। ক্রায়োস্ট্যাটস হচ্ছে তরল নাইট্রোজেনের আধার। এটা সুপারকন্ডাক্টর-গুলোকে তাদের উপযুক্ত তাপমাত্রায় উন্নীত হতে সাহায্য করে। তড়িচ্চুম্বকের মতো কাজ করার কারণে, সুপারকন্ডাক্টরগুলো একটি তড়িৎক্ষেত্র তৈরি করে যা ট্র্যাকের নিচে অবস্থানরত স্থায়ী চুম্বকে বাধা দেয়। বিপরীতমুখী দুই বলের সক্রিয়তার ফলে বোর্ডটি ভাসতে থাকে। এ অবস্থায় ২০০ কেজি পর্যন্ত ভর উত্তোলন করতে পারে এই হোভারবোর্ড। পানির নিচে চুম্বকের ট্র্যাক থাকলে হোভারবোর্ড পানির উপরেও কাজ করবে।

image source: autoevolution.com

প্রায় ২০ মিনিট পর তরল নাইট্রোজেন বাষ্পীভূত হয়ে যায়। যার কারণে সুপারকন্ডাক্টরগুলো উত্তপ্ত হয়ে যায়। ফলে হোভারবোর্ড আর ভেসে থাকতে পারে না।

এটা নিয়ে পরীক্ষা করার জন্য লেক্সাস স্পেনের বার্সেলোনায় একটি বিশেষ ‘হোভারপার্ক’ নির্মাণ করেছে যার তলদেশে চৌম্বকীয় ট্র্যাক রয়েছে।

featured image: eedesignit.com

 

পানির সুরক্ষায় প্লাস্টিকের বল

বেলুন চালিত ইন্টারনেট